"আমার বাংলা ব্লগ" প্রতিযোগিতা ৩৬ : শেয়ার করো তোমার ইউনিক "ক্যান্ডেল তৈরির DIY প্রোজেক্ট"
খুব তাড়াহুড়ো করে এই পোস্ট লিখতে বসেছি । হাতে একদমই টাইম নেই । তাই খুব দ্রুত স্টেপগুলি শেয়ার করবো ।
যখন প্রথম এই প্রতিযোগিতাটি দেখি তখন আমার ছোটবেলাকার কথা মনে পড়ে যায় । খুব ছোটবেলায় আমার মনে আছে কালীপুজোর রাতে অর্থাৎ দীপাবলির সন্ধ্যায় যে সব মোমবাতি জ্বালানো হতো সেগুলো গলে গলে মাটিতে মোম জমাট বেঁধে থাকতো । পরের দিনে অতি প্রত্যুষে ঘুম থেকে উঠেই আমরা ছোটরা ছুটতাম সেই সব জমাট মোম সংগহের জন্য ।
যেহেতু দীপাবলির রাত, তাই প্রচুর পরিমাণে মোমবাতি জ্বালানো হতো, আর তাই আমরা জমাট বাঁধা গলানো মোম পেতাম প্রচুর পরিমাণে । সারা সকাল এই ভাবে মোম সংগ্রহ করতে করতেই কেটে যেতো । এরপরে শুরু হতো মোমবাতি বানানোর পালা ।
সকালে খাওয়ার পরেই আমরা ছোটরা আমবাগানে ভীড় করতাম । নারকোলের মালায় থাকতো মোম । এরপরে শুরু হতো নিজেদের হাতে মোমবাতি তৈরির প্রক্রিয়া । এই কাজের জন্য আমাদের দরকার পড়তো - ঝিনুক, ইঁট, পেঁপের ডগা, ফেট্টি সুতো আর দেশলাই ।
কি ভাবে বানাতাম মোমবাতি ? সেটাই আজ দেখাবো । আমার নস্টালজিয়া :)
উপকরণ :
০১. স্টিলের বাটি - ১ টি
০২. কিচেন নাইফ -১ টি
০৩. আস্ত মোমবাতি - ১ প্যাকেট
০৪. পেঁপের ডগা - ৪-৫ টি
০৫. সুতোর বান্ডিল - ১ টি
০৬. দেশলাই - ১ টি
ধাপ ০১
প্রথমে পেঁপের ডগাগুলো একটি একটি করে গোড়ার দিকের কিছুটা অংশ কেটে সমান করে নিলাম । এর ফলে মোমবাতিগুলো একদম পারফেক্ট দেখতে হবে । এটা না করলে মোমবাতিগুলো উপরের দিকে সরু ও নিচের দিকে মোটা হয়ে যাবে ।
ধাপ ০২
এরপরে ফেট্টি সুতোর এক প্রান্ত ওই পেঁপের ডগার ভিতর দিয়ে ঢুকিয়ে ওপর প্রান্ত বেশ কিছুটা বার করিয়ে রাখতে হবে । এই সুতো হবে আমাদের তৈরী মোমবাতির সলতে । পেঁপের ডগার নিচের দিকের সুতোর প্রান্তের সাথে ছোট্ট একটা নারিকেলের পাতার শলাকা বেঁধে দিলে সুতো একদম মোমবাতির মাঝখানে থাকবে ।
ধাপ ০৩
এরপরে ছোট্ট একটা স্টিলের পাত্রে কয়েকটা ভাঙা মোমের টুকরো নিয়ে সেগুলিকে গলিয়ে তরল মোমে পরিণত করতে হবে । আমি এখানে ভাঙা মোম না পাওয়াতে আস্ত মোম ভেঙে নিয়েছি । ছোটবেলায় আমরা ঝিনুকে করে মোম গলাতাম । ইঁটের তৈরী উনুনে । এখন আর সে সব পাবো কোথায় ? তাই স্টিলের বাটিতে মোমের টুকরো নিয়ে গ্যাস ওভেনে গলিয়ে তরল করে নিলাম ।
ধাপ ০৪
এরপরে সেই তরল মোম ধীরে ধীরে পেঁপের ডগাটি খাড়া করে ধরে তার মধ্যে ঢালতে হবে । প্রথম অল্প একটু ঢেলে নিয়ে ২ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, এর ফলে পেঁপের ডগার নিচের দিকে তরল মোম জমাট বেঁধে দিব্যি ডগাটি নিজে নিজেই দাঁড়িয়ে থাকবে এবং নিচের ছিদ্র দিয়ে আর তরল মোম বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না ।
এরপরে বাকি মোমটুকু ধীরে ধীরে পেঁপের ডগার মধ্যে ঢেলে দিয়ে সুতোটি মাঝের দিকে টেনে এনে রেখে দিতে হবে । মনে রাখবেন এই ধাপটি একটু বিপজ্জনক । তরল মোম হাতে পড়লে উঃ আঃ করবেন কিন্তু । তাই এই সব বিপজ্জনক কাজ নিজের অ্যাসিস্ট্যান্ট এর উপরে ছেড়ে দেওয়াই উত্তম ।
আমি মোম গলিয়ে তরল করা আর পেঁপের ডগার মধ্যে ঢালার কাজটি তনুজার উপর ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে বসে ছিলাম । চিরকালই আমি একটু সাবধানী মানুষ । হে হে :)
ধাপ ০৫
এই ধাপটি একেবারেই সহজ । বসে বসে অপেক্ষা করা আর নজর রাখা । যখনি সুতোটা সরে যাবে তখনি হালকা একটু টেনে ওটাকে ঠিক মাঝখানে নিয়ে আসবেন । ইটা করলে সুতোটা মোমবাতির একদম মাঝখানেই থাকবে, ফলে চমৎকার জ্বলবে । ৪-৫ মিনিটের মতো লাগবে তরল মোম ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধতে । জমাট বাঁধার পরে ঠান্ডা জলে ১-২ মিনিট চুবিয়ে রাখতে হবে পেঁপের ডগা শুদ্ধু ।
ধাপ ০৬
ঠান্ডা হওয়ার পরে ছুরি দিয়ে সাবধানে পেঁপের ডগাটি চিরে মোমবাতিটি বের করে আনতে হবে । দেখবেন যেন মোমবাতির গায়ে ছুরির আঁচড় না পড়ে বা, মোমবাতি ভেঙে না যায় । আমি কাজটি একদম নিখুঁতভাবে করতে পেরেছিলাম ।
ধাপ ০৭
উপরের দিকে একটু পেঁপের ডগা চিরে মোমবাতিটি বের করে ধরে একটু জোরে টান মারলেই পুরোটা বেরিয়ে আসবে ডগা থেকে । এই দেখুন ছবিতে । কি সুন্দর করে পেঁপের ডগা থেকে বের করে এনেছি আমি ।
ধাপ ০৮
সব শেষে দিলাম নিজের তৈরী মোমবাতির সলতেতে আগুন জ্বালিয়ে । বাহ্! কি সুন্দর জ্বলছে নিজের তৈরী মোমবাতিটি ।
------- ধন্যবাদ -------
পরিশিষ্ট
আজকের টার্গেট : ৫১০ ট্রন জমানো (Today's target : To collect 510 trx)
তারিখ : ১৬ মে ২০২৩
টাস্ক ২৬৭ : ৫১০ ট্রন ডিপোজিট করা আমার একটি পার্সোনাল TRON HD WALLET এ যার নাম Tintin_tron
আমার ট্রন ওয়ালেট : TTXKunVJb12nkBRwPBq2PZ9787ikEQDQTx
৫১০ TRX ডিপোজিট হওয়ার ট্রানসাকশান আইডি :
TX ID : 3ca506afb35d15d4315b286cd3a57c71e450f3d3dcdb3bb91954dc687b8b9fa8
টাস্ক ২৬৭ কমপ্লিটেড সাকসেসফুলি
Account QR Code
VOTE @bangla.witness as witness
OR
শেষ পর্যন্ত বিপজ্জনক কাজে বৌদিকে ফাঁসিয়ে দিলেন দাদা 😅😅। বিপজ্জনক কাজ নিজের অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে করিয়ে নিলেন। তবে পেঁপের ডগা দিয়ে মোমবাতি তৈরি করার আইডিয়া আগে কখনো মাথায় আসেনি দাদা। ছোটবেলার সেই দারুন বুদ্ধি কাজে লাগিয়েছেন। দেখতে খুবই সুন্দর হয়েছে দাদা।
দাদা আপনার এই পোস্টটি দেখে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। আমিও ছোটবেলায় বাড়িতে অবশিষ্ট পড়ে থাকা মোম দিয়ে পেঁপের ডগার মধ্যে মোম ভরে এরকম মোমবাতি তৈরি করতাম। আর খুব খুশি হতাম নিজের তৈরি মোমবাতি দেখে। আপনিও খুব সুন্দর ভাবে প্রতিটি ধাপ আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন ।দারুন লাগছে দেখতে, আপনার তৈরি মোমবাতিটি।
অও,অসাধারণ হয়েছে দাদা মোমবাতিটি।ছোটবেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন আপনি।আমরাও পেঁপের ডগায় এভাবে মোম গলিয়ে মোমবাতি বানাতাম।তাছাড়া দীপাবলির রাতের অপেক্ষা করতাম।তবে এটা খুবই রিস্ক কারন মোম গলে হাতে পড়ে ঠুলি কেটে উঠতো।যাইহোক আপনি সুন্দরভাবে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করেছেন দেখে ভালো লাগলো।এছাড়া আপনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন দেখে ভালো লাগলো, ধন্যবাদ দাদা।
দাদা আমি মনে হয় প্রথমবার দেখছি আপনি কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে। বিশেষত এই মোমবাতির কাজগুলো করতে একটু সাবধানে করতে হয়। আর এই সাবধানতা অবলম্বন করে আপনি বৌদির হাতে দিয়ে দিলেন মোম গলানোর কাজটা,এটা তো ভালো ঠেকছে না দাদা। সত্যি বলতে এই প্রথমবার আপনাকে প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করতে দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। আর পেঁপের ডগা দিয়ে এভাবে যে মোমবাতি তৈরি করা যায় তা সত্যিই আমি জানতাম না আজকেই প্রথম দেখলাম। ইউনিকের বড় মাপের কাজ আপনি করেছেন দাদা।
তারমানে দাদা ছোটবেলা থেকেই মোমবাতি বানাতে এক্সপার্ট ছিলেন। যেহেতু দীপাবলির গলানো মোমবাতিগুলো কুড়িয়ে নিয়ে আবার পুনরায় বানাতেন। একটা কথা জানার ছিল দাদা যখন এই মোমবাতি গুলো বানাচ্ছেন তখন টিনটিন আমিও বানাবো আমিও বানাবো বলে ডিস্টার্ব করেছিলো। তবে দাদা এই প্রথমবার দেখলাম আপনাকে কোন কনটেস্ট এ জয়েন করতে অনেক বেশি অনুপ্রেরণা পেলাম দাদা ধন্যবাদ।
আমারও গলা মোমবাতি দেখলেই কালী পুজার পরদিনের কথা মনে পড়ে যায়। কিভাবে ওগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তুলে নিয়ে এসে ভাঙ্গা চোড়া মোমবাতি বানানোর চেষ্টা চালাতাম। যদিও চেষ্টা ব্যর্থ হতো। খিক খিক
আইডিয়া কিন্তু দারুণ দাদা। ক্যান্ডেল তৈরির DIY প্রোজেক্ট দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। এধরনের ডাই প্রজেক্ট দেখতে অসাধারন লাগে। আপনি দাদা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন দেখে ভীষণ খুশি হলাম। অভিনন্দন আপনাকে দাদা। আপনার জন্য শুভ কামনা রইল ভালো থাকবেন।
দাদা ব্লগটি পড়ে যেমন ভাল লেগেছে তেমন হাসিঁও পেয়েছে।সব বিপজ্জনক কাজ নিজের অ্যাসিস্ট্যান্ট এর উপরে ছেড়ে দেওয়াই উত্তম,হা হা,হা। আমরাও ছোট সময় এমন করে মোম বানিয়েছিলাম। আপনার পোষ্ট পড়ে স্মৃতি গুলো মনে পড়লো। ধন্যবাদ দাদা।
দাদা আপনিও এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো। আপনি ছোটবেলার স্মৃতি খুব সুন্দর ভাবে আপনার পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। পেঁপের ডগায় গলানো মোম রেখে খুব সুন্দর মোমবাতি বানিয়েছেন। আপনার এই মোমবাতি আমার কাছে অনেক ইউনিক লেগেছে। প্রতিটা ধাপ খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। দাদা আপনার এই ডাই প্রজেক্ট দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। মোমবাতি জ্বালানোর পর দেখতে আরও বেশি ভালো লেগেছে।
আহ। সেই ছোটবেলায় কত বানানোর চেস্টা করতাম। সেই দিনগুলোই মনে পড়ে গেল। পারটিসিপেট করতে পারলে ভাল লাগত।