পছন্দের মানুষকে পাওয়া হলো না (পর্ব-১)|| ভালোবাসার গল্প || ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

হে লো আমার বাংলা ব্লগ বাসী। কেমন আছেন সবাই। আশা করি ভালো আছেন। আমিও অনেক ভালো আছি। আবার ও হাজির হলাম একটি পোস্ট নিয়ে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।



প্রথমেই সবাইকে জানাই নতুন বছর এর শুবেচ্ছা। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার ভালোবাসার কথা বলতে না পারার এক গল্প। আশা করি সাথেই থাকবেন। তো চলুন শুরু করা যাক।


heart-700141_1920.jpg

Image by Ben Kerckx from Pixabay

images (17).jpeg

ভালোবাসা এর গল্প

আজ যার গল্প বলবো তার নাম রাকিব (ছদ্মনাম)। সবে মাত্র সে ৭ম শ্রেনির এক ছাত্র। তো সেবার ঈদ এর বেলায় একটি মেয়েকে দেখে পাশের বাড়ির। দেখে তার অনেক ভালো লাগে। মনের ভিতর সে কেমন কেমন যেনো অনুভব করে। তবে খুব বেশি ভাবতোনা রাকিব এসব নিয়ে। কারণ ছোট ছিলো। তবে প্রায়ই দেখতে পেতো মেয়েটাকে। এভাবে বছর চলে গেলো। সে সপ্তম শ্রেনি পেড়িয়ে অষ্টম শ্রেনিতে উঠলো। একদিন তারই এক বন্ধু ইয়ালিদ (ছদ্মনাম) আসলো তার এলাকায়। এসেই বলতে লাগলো -

ইয়ালিদঃ- বন্ধু তোদের এলাকার একটা মেয়েরে অনেক পছন্দ হয়েছে রে আমার। খুজে দিবি?
রাকিবঃ- বলিস কি। কি নাম? আর কোন বাসায় থাকে?
ইয়ালিদঃ- নাম জান্নাত (ছদ্মনাম)। তোদের এলাকায় থাকে তবে কোথায় থাকে এটা জানিনা।
রাকিবঃ- তাহলে নাম জানলি কি করে?
ইয়ালিদঃ- আরে আমাদের কোচিং এ এক সাথেই পড়ি আমরা। সেখান থেকে নাম জানলাম।
রাকিবঃ- ও আচ্ছা আচ্ছা ভালোই এগিয়েছিস তাহলে। আচ্ছা যাই হোক একটু আকৃতি বল হয়তো চিনতে পারি।

তখন তার বন্ধু ইয়ালিদ মেয়েটির বিবরণ দিতে থাকে। সব বিবরণ রাকিবের পছন্দ করা সেই মেয়েটির সাথে মিলে যায়। রাকিব ভাবে হয়তো অন্য মেয়ে হতে পারে। তখন ই সেই মেয়েটি কোথা থেকে যেনো তার মায়ের সাথে আসতে ছিলো। ইয়ালিদ তাকে দেখিয়ে বললো ওই যে জান্নাত। তখন রাখিব চেয়ে দেখে এতো তার সেই পছন্দ করা মেয়েটি।

images (17).jpeg

love-3061483_1920.jpg

Image by Ylanite Koppens from Pixabay


রাকিব তখন বলে আরে এটারে তো আমিও পছন্দ করি দোস্ত। ইয়ালিদ বলে না আমি আগে পছন্দ করেছি । তাদের মধ্যে একটি তর্ক লেগে যায় -

রাকিবঃ- বন্ধু ওরে আমি সেই ক্লাস ৭ এ থাকতে পছন্দ করি।
ইয়ালিদঃ- তাতে কি হইছে। আমিও ক্লাস ৬ থেকে পছন্দ করি।
রাকিবঃ- আমার জন্য ছেড়ে দিবি না?
ইয়ালিদঃ- তাহলে তো আমিও বলতে পারি আমার জন্য ছেড়ে দে।
রাকিবঃ- ধুরো কি যে বলিস না। মেজাজ খাড়াপ হয়।
ইয়ালিদঃ- আচ্ছা যাই হোক যে আগে পটাইতে পারবে তারই হবে।

রাকিব তখন কিছু না ভেবেই হ্যা বলে দেয়। তারপর তারা যে যার বাসায় চলে যায়। বাসায় যাওয়ার পর রাকিব ভাবতে থাকে কিভাবে কি করা যায়। চ্যালেঞ্জ তো নিয়ে ফেললাম কিন্তু তাতে জিতব কিভাবে। তার উপর আবার ইয়ালিদ অনেক এগিয়ে আছে। কারন জান্নাত ওদের কোচিং এ একই ক্লাস এ পড়ে আবার মাঝে মধ্যে তাদের এক সাথে কোচিং এর ক্লাস ও থাকে। এগুলো ভেবে রাকিব এর মন খাড়াপ হয়ে যায়। সে তো আর কোচিং এ পড়তে পারবেনা। কারন বাসায় তার স্যার রয়েছে। এভাবেই চলতে থাকে রাকিব এর দিন গুলো। আর সে ভাবতে থাকে কিভাবে কি করা যায়। অঠাৎ তার ভাগ্য সহায় হয়। রাকিব এর স্যার বলে আর পড়াতে পারবেনা। তার এক যায়গায় চাকরি হয়েছে। রাকিব তো শুনেই লাফ দেয় একটা। কি মজা। এখন সে কোচিং এ ভর্তি হতে পারবে আবার এতে জান্নাত এর সাথে ক্লাস করার সুযোগ ও হবে। সে খুব খুশি হয় মনে মনে।

images (17).jpeg

heart-762564_1920.jpg

Image by Karolina Grabowska from Pixabay


সে ইয়ালিদ এর সাথে কথা বলে ওদের কোচিং এ ভর্তি হওয়ার বিষয়ে। ইয়ালিদ বললো হ্যা ভর্তি হওয়া যাবে। তারপর রাকিব বাসায় ফিরে ওর আব্বুকে বললো আর নতুন করে টিচার দেখা লাগবেনা। সে কোচিং এ ভর্তি হতে চায়। ওর বাবা বললো ঠিক আছে। তোমার যেটা ভালো মনে হয় করো। রাকিব বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গিয়ে গোচিং এ ভর্তি হয়ে গেলো। অল্প কিছুদিন এর মধ্যেই রাকিব কোচিং এর সবার সাথে মিশে গেলো। রাকিব ছাত্র হিসেবে মোটামুটি ভালোই ছিলো। কোচিং এর স্যার রাও তাকে অনেক স্নেহ করতো। এর আগে যেটা ইয়ালিদ পেতো। রাকিব অপেক্ষা করতে লাগলো কবে যে মেয়েদের সাথে এক সাথে ক্লাস হবে আর রাকিব জান্নাত কে অনেকটা কাছে থেকে দেখতে পাবে।

images (17).jpeg

love-3091214_1920.jpg

Image by Ylanite Koppens from Pixabay


রাকিব এর অপেক্ষা শুধু দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে থাকে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই রাকিব এর অপেক্ষার অবসান হয়। হঠাৎ একদিন মেয়েদের বাংলা টিচার এসে রাকিব দের বলতে থাকলো যে আজ বিকেলে সবাই আইসো। তোমাদের এক্সট্রা ক্লাস নেওয়া হবে। রাকিব তো শুনেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলো। সে মনে মনে নাচতে লাগলো। আর অপেক্ষা করতে থাকলো সেই বিকেল হওয়ার। তার সময় যেনো কাটেছেই না কোনো ভাবেই। একাজ করে সেকাজ করে কিন্তু সময় আর যায়না

.................চলবে.................

images (17).jpeg



তো এই ছিলো আজকের পর্বে এই টুকুই ছিলো। পরের পর্ব গুলো আপনাদের কমেন্ট পেলেই ধীরে ধীরে পাবলিশ করবো।


░▒▓█►─═ ধন্যবাদ ═─◄█▓▒░

New Project.gif

⋆ 🎀 𝒞😍𝓃𝓃𝑒𝒸𝓉 𝑀𝑒 🏵𝓃 🎀 ⋆
Discord | Twitter | Facebook
Steemit |Instagram | Youtube |
Sort:  
 4 years ago (edited)

দ্বিতীয় পর্ব টি পড়ে প্রথম পর্বটি পড়তে আসলাম । প্রথম পর্বটি পড়ে তো খুবই ভালো লাগছে রাকিব ও ইয়ালিদ এর মধ্যে কে পারবে জান্নাত কে বলতে? খুব সুন্দর করে আপনি লিখেছেন । গল্পটি পড়ে ভাল লাগল ভাই

 4 years ago 

ভাই গল্পটি খুব মনযোগ দিয়ে পড়ছিলাম। ভালোই লাগতেছিলো। রাকিবের মনের আকাঙ্ক্ষা কি এবার পূরন হবে কিনা সেই পার্ট পড়ার জন্য অপেক্ষায় রইলাম। খুব রোমান্টিক স্টোরি হবে আশা রাখছি।

 4 years ago 

সামনে আসবে ভাইয়া। ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।

রাকিবঃ- ধুরো কি যে বলিস না। মেজাজ খাড়াপ হয়।
ইয়ালিদঃ- আচ্ছা যাই হোক যে আগে পটাইতে পারবে তারই হবে।

মেজাজের কোন কাম নাই বুদ্ধিমত্তায় আসল ব্যাপার। ভালো দিয়েই শুরু করেছেন দেখি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়।
উপস্থাপন ভঙ্গি অনেক ভাল ছিল।

 4 years ago 

জ্বি ভাইয়া। আশা করি সাথে থাকবেন।

আসবেন আবার।

 4 years ago 

টাইটেল দেখে আমার কাছে খুব অন্যরকম অনুভূতি মনে হল। আমি পুরো গল্পটি পড়ে খুবই আনন্দিত হলাম। গল্পটি খুব সুন্দর ছিল। আপনি খুবই সুন্দর পোস্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন ।আপনার জন্য শুভকামনা রইল।

 4 years ago 

ধন্যবাদ সুন্দর মতামত এর জন্য।

 4 years ago 

বন্ধু ছোটবেলার সেই রহস্যের উদ্ঘাটন হচ্ছে মনে হয় ,তোমার এই গল্পে, আসলে কি ঘটেছিল আশায় থাকবো জানার।

 4 years ago 

হ্যা বন্ধু। অপেক্ষা করো।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64037.03
ETH 1842.56
USDT 1.00
SBD 0.38