বৃষ্টির দিনে বন্ধুত্বের ভেজার গল্প

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম/🌺

হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।


বর্ষাকালে বন্ধুদের সাথে বৃষ্টির মধ্যে অনেক আনন্দের সাথে মুহূর্তগুলো উপভোগ করেছিলাম। এই দিনের কথা মনে হলে খুবই ভালো লাগে। এখন বৃষ্টির দিন সেই স্মৃতিময় দিনের কথা খুবই মনে পড়ছে। তাই আজকে আপনাদের মাঝে স্মৃতির পাতায় থেকে একটি গল্প শেয়ার করলাম। আশা করছি গল্পটি পড়ে ভালো লাগবে, তো বন্ধুরা চলুন গল্পটি পড়া শুরু করা যাক।


girl-7280577_1280.png

source

বর্ষাকাল আমাদের গ্রামের জন্য এক অন্যরকম আনন্দ বয়ে আনে। গাছগাছালি হয়ে ওঠে একেবারে প্রাণবন্ত, চারপাশে সবুজের সমুদ্র, আর আকাশ যেন রোজ সকালে নতুন করে রং মেখে নামে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় থাকতাম আমরা চারজন,আমি, রাব্বি, সোহেল আর মিলন। আমাদের বন্ধুত্বটা যেন ছিল বর্ষার মতোই, হঠাৎ হঠাৎ ঝুম ঝুম করে, আবার কখনো চুপচাপ।সেবার জুন মাসের শেষ সপ্তাহ। স্কুলে পরীক্ষা শেষ হয়েছে। চারপাশে গরমে হাঁসফাঁস করছে সবাই, কিন্তু আমাদের মন পড়ে আছে বর্ষার দিকে। সকালে আকাশটা একটু গুমোট ছিল, কিন্তু তেমন পাত্তা দিইনি। স্কুল শেষ করে আমরা চারজন সাইকেল নিয়ে বের হলাম,প্রথমে মাঠের দিকে, তারপর নদীর পাড়ে বসে আড্ডা।


আমাদের বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ করেই শুরু হলো বৃষ্টি। না, এক ফোঁটা-দুই ফোঁটা না,একেবারে আকাশ ভেঙে জল নামল! প্রথমে আমরা গাছের নিচে দাঁড়ালাম, তারপর মিলন হঠাৎ করে ছুট লাগাল বৃষ্টির ভেতর দিয়ে। সে যেন পাগলের মতো হাত ছুঁড়ে বলল,এই যে বর্ষা! তোর জন্য তো কতদিন ধরে অপেক্ষা করেছি, আয় রে, আয় পুরো ভিজে যাই!আমরা আর কিসের অপেক্ষা করি! একে একে তিনজনই দৌড়ে গেলাম তার পেছনে। স্কুলব্যাগগুলো পাশের একটা পলিথিনে মুড়ে রাখলাম একটা টং ঘরের নিচে, তারপর শুরু হলো আমাদের বর্ষা অভিযান।


বৃষ্টির জল গায়ে পড়ে শিরশির করছিল, ঠাণ্ডা লাগছিল, কিন্তু আনন্দে সেই ঠাণ্ডা একরকম মাদকতায় পরিণত হয়েছিল। আমরা গিয়েছিলাম পাশের ধানখেতের পাশে ছোট একটা মাঠে, যেখানে সাধারণত ছাগল চরাতে আসে গ্রামের লোকজন। সেখানেই শুরু হলো আমাদের কাদামাখা খেলা।রাব্বি বলল, এই যে কাদা, এইটাই আমাদের বর্ষার মাঠ!আর সোহেল তো চিৎকার করে বলল, চলো ভাই, বিশ্বকাপ খেলি!আমি আর মিলন দুই দলে ভাগ হয়ে খেলতে শুরু করলাম,জুতোর কোনো বালাই নেই, শুধু পা, কাদা আর চিৎকার!


হঠাৎ আমার পা পিছলে আমি মুখ থুবড়ে পড়ে গেলাম কাদায়। সবাই এত জোরে হাসতে লাগল যে তার শব্দে আশেপাশের গরুগুলো পর্যন্ত তাকিয়ে রইল। তারপর তো সবাই ইচ্ছে করে কাদায় পড়ে গেলাম। কে কত কাদা মাখতে পারে, কে সবচেয়ে কুৎসিত দেখতে হয়,এ নিয়ে শুরু হলো হাসির প্রতিযোগিতা।এক পর্যায়ে মিলন বলল, চলো, এবার পুকুরে যাই। একটু ধুয়ে নিই!


সেই পুকুরটা ছিল একটু দূরে, গ্রামের এক কোনায়। ওখানে সাধারণত সন্ধ্যাবেলা বড়রা মাছ ধরে। আমরা গিয়ে একে একে ঝাঁপ দিলাম। ঠাণ্ডা জল শরীর কাঁপিয়ে দিলেও আনন্দটা ছিল অপার। কেউ সাঁতার কাটছে, কেউ পানির নিচে মুখ ঢুকিয়ে বুদ্বুদ তৈরি করছে, কেউ আবার ভিজে চুল মাথার ওপরে তুলে বলছে, আমি রকস্টার!পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধ চাচা আমাদের দিকে তাকিয়ে শুধু মুচকি হাসলেন। তিনি হয়ত ভাবছিলেন তার শৈশবের কথা, কিংবা আমাদের এই পাগলামির মাঝে নিজেকেও খুঁজে পাচ্ছিলেন।


বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা আসতে না আসতেই বৃষ্টি একটু একটু করে থেমে গেল। আমরা পুকুর থেকে উঠে সাইকেল নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলাম,গায়ে ভেজা জামা, কাঁপতে থাকা শরীর, কিন্তু মুখে এক চিলতে হাসি। মাটির পথ দিয়ে সাইকেল চালাতে চালাতে মনে হচ্ছিল, যেন এই পথ আর শেষই হবে না,এই আনন্দের দিনটাও যেন শেষ না হয়।বাসায় ফিরে একটু বকাঝকা অবশ্য খেতে হয়েছিল। মা কড়াভাবে বললেন,এই বৃষ্টিতে এভাবে ভিজে এলে ঠাণ্ডা লাগবে!আমি কিছু বলিনি, শুধু মনে মনে বললাম,এই ঠাণ্ডার ভেতরেই তো সবচেয়ে উষ্ণ স্মৃতিগুলো তৈরি হয়।


আজ এত বছর পরও যখন বৃষ্টি নামে, আমি বন্ধ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করি। তখনই যেন সেই কাদামাখা বিকেল, সেই ভেজা পুকুরঘাট, আর বন্ধুর হাসিগুলো ফিরে আসে মনে।বৃষ্টি শুধু জল ঝরায় না, শৈশবের পাতায় পাতায় বন্ধুত্বের গল্পও লিখে যায়।বৃষ্টির দিন আসলে সেই বন্ধুদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো মনে পড়ে যায়। তাই আজকে আপনাদের মাঝে আমার স্মৃতির পাতায় জমে থাকা গল্পটি শেয়ার করলাম।🙏🤲🙏

আমার পরিচয়

IMG_20211018_182622.jpg

আমার নাম মোঃ রায়হান রেজা।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি পেশায় একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে🌹💖🌹।

Amar_Bangla_Blog_logo_png.png

👉 বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺

Sort:  

@rayhan111, আসসালামু আলাইকুম!

What a beautifully nostalgic piece! Your storytelling truly transported me back to the carefree days of childhood rain adventures. The imagery of playing in the mud, splashing in the পুকুর, and the warmth of friendship radiating through the shivering cold – it's incredibly vivid and relatable. Your narrative is a beautiful reminder of how simple moments create the most cherished memories. The picture you've selected complements the text nicely and adds emotional depth to your story.

Thank you for sharing this heartfelt glimpse into your স্মৃতির পাতা with us. I'm sure many readers will connect with your experience and perhaps even reminisce about their own childhood rainy days.

বন্ধুরা, have you ever had a similar experience? Share your rainy day memories in the comments below! Let's celebrate the joy of friendship and the magic of বর্ষাকাল together.

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 63253.25
ETH 1685.08
USDT 1.00
SBD 0.42