আসসালামু আলাইকুম/🌺
হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।
নৌকায় করে বন্ধুদের সাথে মাছ ধরার মুহূর্ত সত্যি অনেক আনন্দ করছিল। আসলে বর্ষাকাল আসলেই বন্ধুদের সাথে আগে মাছ ধরতে যেতাম। এখন আর ওই ভাবে বর্ষা আসে না, যার কারণে বন্ধুদের সাথে আর মাছ ধরার মুহূর্তগুলো উপভোগ করা হয় না। তাই তো বর্ষাকাল আসলেই স্মৃতিময় এই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। আসলে পুরনো সেই দিনগুলো কতই না আনন্দের ছিল। বিশেষ করে বন্ধুদের সাথে হাসিমাখা দিনগুলো খুবই মনে পড়ে। আর এই দিনগুলো কখনো আমাদের জীবনে আসবে না। শুধু স্মৃতি হয়ে রয়েছে। তাইতো স্মৃতিময় এই গল্পটি আপনাদের মাঝে শেয়ার করতেছিলাম। আজকে সেই গল্পের দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে হাজির হলাম। আশা করছি আজকের পর্বটি পড়ে ভালো লাগবে।

source
তো আমাদের একটি ভোট নৌকা ছিল, অর্থাৎ এই ছোট নৌকাটি নিয়ে আমরা তিন বন্ধু মিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। আমরা গিয়েছিলাম কারেন্ট চাল দিয়ে, পাশের গ্রামে মাছ ধরতে। আর আমরা অনেক মাছ পেয়েছিলাম। আসলে একসাথে অনেকেই দেখতে পেলাম নৌকায় করে মাছ ধরছে। তাদের সাথে মাছ ধরা মুহূর্তটা অনেক আনন্দ করছিল। বিশেষ করে জালে অনেক মাছ যখন আটকাচ্ছিল, এই মাছগুলো ছাড়াতে খুবই ভালো লাগতেছিলো। এভাবে মাছ ধরতে ধরতে আমাদের সন্ধ্যা হয়ে যায় এবং মাগরিবের আজান দেয়, তখন বন্ধুকে বললাম আর আজকে মাছ ধরবো না। আজকে বাড়ি চলে যাই, পরের দিন আবার মাছ ধরবো।
তো আমরা যখন নৌকা নিয়ে বিলের মধ্যে দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তখন মাগরিব হয়ে গেছে, সূর্য অস্ত গিয়েছে। চারদিকে অন্ধকার বিলের মাঝে, অন্য কাউকে দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমরা শুধু নৌকা নিয়ে যাচ্ছিলাম। মনের ভিতরে একটু ভয় হচ্ছিল। আসলে মাছ যখন ধরতেছিলাম তখন মনের ভিতরে কোন ভয় ছিল না। শুধু মাছ ধরার আনন্দটাই যেন কাজ করতে ছিল। কিন্তু যখন আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তখন খুবই খারাপ লাগলো। আর এই বিলের ভিতর অনেক ভয়ানক ঘটনা গল্প আমরা শুনেছি। আমাদের চাচা দাদীদের কাছে। যার কারণে এই গল্পগুলোর কথা যেন আরো মনে পড়ছিলো।

source
বিলের ভিতর মাঝেমধ্যেই অনেক শব্দ হচ্ছিলো পানির। আসলে তখন বন্ধুরা বলতেছিল বিলের ভিতরে অনেক মাছ রয়েছে। যার কারণে এই মাছগুলোই লাফালাফি করছে, কিন্তু যখনই পানির ভিতরে লাফ দেওয়ার শব্দ শুনতে পায় তখনই যেন মনের ভিতরে ধাক্কা লাগে এবং ভয় লাগে। এভাবেই যেন আমরা বিলটা পার হয়ে আসতে ছিলাম এবং আসার পথে সামনে দেখতে পেলাম, আলো জ্বালিয়ে কে যেন আসছে আমাদের দিকে। আসলে এই আলো কিসে করে আসছে সেটা দেখতে পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল অনেক ভয়ানক আলো আমাদের দিকে আসছে। আমি তো ভয় পেয়ে বন্ধুকে বললাম দেখ ওই আলো লাইটের আলো নয়।
তখন আমার অন্য বন্ধু বলল এটি হয়তো ভূতের আলো আমাদের দিকে আসছে। আজকে আর আমাদের রক্ষা নেই। এই কথা শুনেই তো আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আমার হাত পা কাপাকাপি শুরু হয়ে গেল। আসলে ভূত কখনো দেখা হয়নি। আজকে আমরা এই সন্ধ্যার সময় বিলের মাঝে এসে তিন বন্ধু বিপদে পরলাম। যদি আমরা চিৎকার করি তাহলে কাউকে খুঁজে পাবো না। আমাদের আজকে আর রক্ষা নেই। আমাদের এই বিলের ভিতরে মেরে ফেলবে, এটা ভাবতে যেন কেমন লাগছে। শরীরের লোমগুলো যেন খাড়া হয়ে যাচ্ছিলো,আর ওই আলোর দিকে তাকিয়ে আমরা আল্লাহর কাছে বারবার দোয়া করতেছিলাম। আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে দাও। আসলে খুবই ভয় পাচ্ছিলাম।
তারপরেও আমরা বন্ধুরা মিলে ওমনি ভয়ে ভয়ে নৌকা চালিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছিলাম এবং দেখতে পেলাম সেই লাল আলোটি আমাদের দিকে আসতে আসতেই পানির মধ্যে কোথায় যেন হারিয়ে গেল। অনেকটাই তখন ভরসা পেলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে দেখতে পেলাম, সেই আলো আবারও আমাদের দিকে আসছে, তো বন্ধুরা পরবর্তীতে কি হয়েছিল সেই অংশটুকু আপনাদের সাথে আগামী পর্বে শেয়ার করবেন ইনশাআল্লাহ।🙏🤲🙏
আমার পরিচয়
আমার নাম মোঃ রায়হান রেজা।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি পেশায় একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে🌹💖🌹।

👉 বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺
https://x.com/rayhan111s/status/1893976522270081246?t=i2p8mfpMapolbA8LMytzqA&s=19
লোমহর্ষক ভুতের গল্প পড়লাম। এরকম রাতে নদীর ভিতরে মাছ ধরতে তো এমনি ভয় করবে তারপর আপনারা তিনবন্ধু মাছ ধরতে গেছেন।আগের পর্বপড়ে অনেক মজা পেয়েছিলাম এই পর্বটি আরও পরে অনেক আনন্দ পেলাম।পর্ববর্তী পর্বে সেই লাল আলোর কি হলো আর আপনারা কি ঠিক ভাবে বাসায় পৌছাতে পেরেছেন কি না সেই অপেক্ষায় রইলাম।
আসলে আমিও জীবনে কোনদিন ভূত দেখিনি। তবে আপনার ভূতের গল্প পড়ে খুবই ভালো লাগলো।যদিও এগুলো ভয় লাগার গল্প, কিন্তু পড়তে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে ভাই।আপনার জায়গায় যদি আমি থাকতাম তাহলে আমি তো কান্না করে শেষ করতাম।যাইহোক আপনার পরবর্তী পর্ব পড়ার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
মাছ ধরতে গিয়ে অনেকেই নাকি ভূতের কবলে পড়তো, এমন গল্প ছোটবেলায় অনেক শুনেছি। যাইহোক আপনারা তিন বন্ধু মাছ ধরে বাসায় ফেরার সময় বেশ ভালোই বিপদে পড়েছিলেন। আমার মনে হচ্ছে সেই আলোটা ভূতের-ই হবে। আশা করি পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত জানতে পারবো। যাইহোক পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভাই।