🌹আমার বাংলা ব্লগ 🌹/🤝 বন্ধু ছাড়া লাইফ যেন অসম্ভব🤝 /[10% @shy-fox]
আসসালামু আলাইকুম/আদাব🤝
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।
কথায় আছে বন্ধু ছাড়া জীবন অসম্ভব, কথাটি একদম সত্য। শুধু বেঁচে থাকার নামই জীবন না। বেঁচে থেকে আনন্দময় মুহূর্ত উপভোগ করার নামই প্রকৃত জীবন। আর এই আনন্দময় মুহূর্ত উপভোগ করতে হলে জীবনে বন্ধুত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
বন্ধু মানে বিপদে পাশে থাকার অবলম্বন। বিপদে সবসময় বন্ধুরাও পাশে থাকে। বন্ধুদের সাথে যত ঝগড়া মারামারি হোক না কেন। একবার বিপদে পড়লে বন্ধু কখনো চুপ করে থাকতে পারে না। বন্ধুরা ছুটে আসে অন্য বন্ধুকে সাহায্য সহযোগিতা করতে।
প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে বন্ধুত্বের গুরুত্ব রয়েছে। আমারও জীবনে বন্ধুত্বের গুরুত্ব রয়েছে। তাই আজকে আমি আমার স্কুল লাইফের বন্ধুদের গুরুত্ব কতটুকু ছিল, সেগুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি।
আমরা যখন ক্লাস ফাইভ পাস করে ক্লাস সিক্সে হাইস্কুলে ভর্তি হলাম। ভর্তি হওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই আমরা তিনজন বন্ধু সবচাইতে ঘনিষ্ঠ হলাম। তার মধ্যে একজনের নাম রাকিব, একজনের নাম সাজু, একজনের নাম হাসান। আমরা এই তিনজন বন্ধু এবং আমি চারজন সব সময় এক জায়গায় থাকতাম। আমরা একে অপরকে ছাড়া কখনই কোন জিনিস খেতাম না। একই ব্রাঞ্চে বসতাম। আমরা সবসময় প্রথমে বসার চেষ্টা করতাম। যদি আমাদের প্রথমে বসার জায়গা না হতো তাহলে আমরা চারজন একই ব্রাঞ্চে পিছনে বসতামম এভাবে আমাদের বন্ধন শুরু হতে লাগল। আস্তে আস্তে এই বন্ধন আরো বৃদ্ধি পেতে লাগল। স্কুলের সকল স্যার ম্যাডামরা আমাদের এই বন্ধুত্বের নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগল। তারা বলতে লাগল বন্ধুত্বের এত ঘনিষ্ঠ হয় তোমাদের চার জনকে না দেখলে কখনো বুজতাম না।সব সময় একে অপরের সাথে মিলেমিশে থাকতাম।
ক্লাসের দুষ্টুমির দিক দিয়ে আমরা চারজন ছিলাম ফাস্ট। আমরা চারজন অনেক দুষ্টামি করতাম, আবার আমরা ভালো পড়াশোনা করতাম। তাই স্যার, ম্যাডামরা আমাদের নামে খুব একটা কমপ্লেন করতো না। কারণ আমরা পড়ার সময় ঠিকই পড়তাম। আর দুষ্টামি সময় দুষ্টামি।
- স্কুল জীবনের বন্ধুদের সাথে নানা রকমের ঘটনা রয়েছে। তবে আজকে আমি আপনাদের সাথে আমার একটি স্মরণীয় ঘটনা শেয়ার করতে যাচ্ছি, বন্ধুদের সাথে এই ঘটনাটি ছিল ২০১৪ সালে।
২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে আমার সেই দিনটি এখনো খুবই ভালভাবে মনে আছে। আমরা স্কুল থেকে বনভোজনে যাবো।তো স্কুল স্যার বললো এবার আমরা বাংলাদেমের, স্বপ্নপুরীতে ভ্রমণ করবে।তাই আমরা সবাই আনন্দে মেতেছিলাম। সকলেই অনেক আনন্দ উল্লাস করতে ছিলাম।তাই ১০ তারিখ সকাল বেলা, আমরা সকলেই বনভোজনে যাওয়ার জন্য সবকিছু গুছিয়ে সকালবেলায় স্কুলে এসে পৌছালাম।
তখন আমরা ক্লাস নাইনে পড়তাম। আনন্দ মুহূর্তটা খুব ভালোভাবে উপভোগ করার বয়স ছিল। বন্ধুদের সাথে কাটানো মুহূর্তটা অনেক আনন্দ করবো। এটা ভেবে আমরা চার বন্ধু খুবই খুশি হলাম। আমরা চার বন্ধু পাশাপাশি সিটে নিলাম। কারণ আমরা বাসে করে যাচ্ছিলাম, আর আমাদের সেটগুলো পাশাপাশি হওয়াতে আমরা বাসের ভিতর অনেক আনন্দ উল্লাস নাচানাচি করতে করতে যাত্রা শুরু করলাম।
অবশেষে আমরা স্বপ্নপুরী এসে পৌছালাম বিকাল তিনটার দিকে কারণ সিরাজগঞ্জ থেকে স্বপ্নপুরী অনেক দূরে, তাই যেতে যেতেই আমাদের বিকেল হয়ে গেল। বিকাল বেলা আমরা স্বপ্নপুরী নেমে অনেক আনন্দ উল্লাস করলাম। তখন আমাদের কারো কাছে ফোন ছিল না। শুধু আমার বন্ধুর সাজু ছবি তোলার জন্য তার বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোনটি নিয়ে এসেছিল।
তারপরে পাঁচটার দিকে আমরা দুপুরের খাবার খেলাম। দুপুরের খাবার খেয়ে আমাদের স্যার বললো এখান থেকে আমাদের সাতটার মধ্যে রওনা দিতে হবে কারণ যেতে যেতে আমাদের অনেক রাত হয়ে যাবে। তাই আমার বন্ধু ইয়াসিন বলল আমরা তো ঘোরাফেরা করলামই না আমরা ছবি উঠলাম না কিভাবে এত তাড়াতাড়ি আমরা চলে যাব।সে বললো আমরা খাওয়া দাওয়ার পরে আমরা চার বন্ধু মিলে আবার ঘুরতে বেড় হবো। আমরা খাওয়া-দাওয়া শেষে আবারও ঘুরতে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম।
আমরা স্বপ্নপুরীতে ভ্রমণ করতে এসেছি এটা সাজুর বাবা জানতে পেরে স্বপ্নপুরীতে সাজুর বাবারে একজন বন্ধু ছিল তাকে ফোন দিয়ে বলল আমার ছেলে এবং তার বন্ধুরা স্বপ্নপুরী ভ্রমণ করতে গেছে। আপনি যদি ফ্রি থাকেন তাহলে তাদের সাথে একটু দেখা করেবেন।তাই বিকেল পাঁচটার সময় সাজুর বাবার সেই বন্ধু আসলো সাজুর সাথে দেখা করতে। তো আমরা যেহেতু একটু ভ্রমণে বের হব কিন্তু সাজু তার সাথে কথা বলতে লাগল এবং সাজু আমাদের বললো তোরা আপাতত, বেশি দূরে না গিয়ে সামনে কিছু দূরে ভ্রমণ কর।আর আর আমার মোবাইলটা নিয়ে ফটেগ্রাফি করিস। তাই আমি ইয়াসিন এবং রাকিব এই তিনজন আশেপাশের সৌন্দর্য দেখতে বের হলাম।
সন্ধ্যেবেলা আমাদের বের হওয়াটা ঠিক হয়নি কারণ আমাদের কাছে সাজুর ভাইয়ের সেই দামি ফোন ছিল আর এই ফোন দিয়ে আমরা যখন ফটোগ্রাফি করতে ছিলাম তখন স্বপ্নপুরী এলাকার আশেপাশের কিছু খারাপ ছেলে,-পেলে আমাদের এই ফোনটি দেখে। তারা ফোনটি নেওয়ার নানা ধরনের খারাপ ব্যবস্থা পরিকল্পনা করতে লাগল। তাই আমরা যখন সন্ধ্যা সময় একটা গাছের আড়ালে চলে গিয়েছিলাম। তখন তারা ছিল ৭ জন। তারা সাতজন এসে আমাদের অনেক উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করল। যেগুলো প্রশ্ন করার কোন মানেই ছিল না। এমনি একটা প্রশ্ন করে আমাদের কাজ আমাদের ফোনটি কেড়ে নিল। তখন আমরা অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কারণ আমরা তখন জায়গাটিতে নতুন ছিলাম। করবো বুঝতে পারছিলাম না। সাজু কেউ কল দিতে পারছিলাম না। খুবই একটা বিপদে পড়লাম। তখন অনেক টেনশন হচ্ছিল।
ওই খারাপ ছেলে পেলে আমাদের কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে চলে গেল। আমরা ফোন ছাড়া সেখানে বসে রইলাম, কিন্তু সাজুকে কিভাবে বলব এত দামি ফোন এভাবে হারিয়ে ফেলেছি। তাই আমরা তিন বন্ধু মিলে অনেক টেনশন করতে ছিলাম। সাজুর সামনে যেতে পারছিলাম না। কি করবো এখন বুঝতে পারছিলাম না। এটা সাজুর নিজেরও ফোন না। তাই আমরা বসে বসে সেখানে নানান ধরনের পরিকল্পনা করলাম। আমার বন্ধু ইয়াসিন অনেক কান্না করতে লাগলো। এখন কি করা যায়। শেষমেষে আমরা সেখানে বসেই থাকলাম।
আমরা অনেকক্ষণ সেখানে বসে থাকলাম। সাজু সামনে যেতে সাহস পাচ্ছিলাম না। অন্যদিকে আমাদের খোঁজাখুঁজি করছে, কারণ ফোনে কল দিও পাচ্ছে না। ফোনটাও তারা অফ করে ফেলেছে। তো খুঁজতে খুঁজতে যখন আমাদের পেল, তখন বলল কিরে তোরা এখানে বসে আছিস, মন খারাপ করে কী হয়েছে তোদের,স্যার আমাদের বারবার যেতে বলছে। এখন অনেক সন্ধ্যা হয়ে গেছে রাত আটটা বেজে গেছে। আমাদের গাড়ি ছাড়বে সাড়ে আটটায়। তোরা এখনো এখানে বসে আছে, কি বলব আমি বুঝতে পারছিলাম না। ইয়াসিন সাজুকে ধরে কান্না শুরু করে দিল।
সাজু বারবার জিজ্ঞেস করতেছিল কি হয়েছে। রাকিব তখন সকল ঘটনা সাজুকে বলল। তখন বলল আরে এতে মন খারাপ করার কি আছে। ফোনটা আমার ভাইয়ের ঠিক আছে। আমি ভাইকে বলে ম্যানেজ করব। তোরা এটা নিয়ে কান্নাকাটি করছিস। সাজু বললো তোরা আমার বন্ধু না, তোরা আমার ভাই। আমার ভাই যদি আমার ফোনটা হারিয়ে ফেলে তাহলে আমি তাকে কি করতাম।আমি যখন বললাম যে তুই টেনশন করিস না। আমরা তিন বন্ধু মিলে তোকে ফোন কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। তখন সাজু অনেক ক্ষেপে গেল আমাদের অনেক বকাবকি করল। তখন সাজু বললো আমি যদি তোদের সাথে থাকতাম আর আমার কাছ থেকে যদি ওরা ফোনটা নিয়ে নিতো। তাহলে কি হতো, কপাল ভালো যে তোদের কিছু করেনি। তোদের অনেক মারধোর করেনি এটাই আমার জন্য অনেক ভালো। তোরা শুধু আমার বন্ধু না। তোমার আমার ভাই এই কথাটা শোনার পরে আমরা তিন বন্ধু মিলে সাজুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করলাম। আসলে এরকম একটা বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। সাজুর সেই ভালোবাসার কথা আজও মনে পড়ে। সাজু সত্যি অনেক ভালো মনের এবং বড় মনের বন্ধু ছিল আমাদের সবার কাছে।
আজ সেই বন্ধুদের সাথে কাটানো দিনগুলো খুব মনে পড়ছে, কিন্তু এখন আমরা চার বন্ধু,চার জায়গায় বসবাস করছি। সবাই তার কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি, কিন্তু বন্ধুত্বের এই বন্ধন আজও আমাদের মধ্যে রয়েছে।
আসলেই বন্ধুদের ছাড়া লাইফ কখনোই সুন্দর এবং আনন্দময় হতে পারে না। তাই বন্ধুত্বের সেই দিনগুলো আমার খুবই মনে পড়ছে। যদি সময় হয় বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করবেন। তাহলেই খুবই ভালো লাগবে সুন্দর একটি দিন কাটবে। তাই আমরা ঠিক করেছি কিছুদিনের মধ্যে আমরা সকল বন্ধুরা এক হয়ে আনন্দ উল্লাস করবো। আপনাদের সাথে সেদিনর আনন্দময় সময়টা শেয়ার করব। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
*Twitter link
ভাই আপনার স্বপ্ন পুরী যাওয়ার ফোন হারিয়ে যাওয়ার বিষন্নতার গল্পটি পড়ে আমার অনেক ভালো লেগেছে, স্বপ্নপুরীতে লোকাল ছেলেরা অন্যদের থেকে যারা দূর-দূরান্ত থেকে আসে তাদের থেকে এরকম ব্যবহার বরাবরই করে থাকে। আর সাজু নামক এমন প্রকৃত বন্ধু যদি পাশে পাওয়া যায় তাহলে বন্ধুত্বের মর্যাদা বোঝা খুবই সহজ হয়। শুভকামনা রইল ভাই আপনার আপনার বন্ধুদের জন্য।
আমার পোস্টটি সম্পুর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া। আসলেই বন্ধু ছাড়া জীবনটা অসম্ভব সুন্দর এবং আনন্দময় জীবনের জন্য বন্ধুদের গুরুত্ব অপরিসীম।
বন্ধু মানে বিপদ আপদে পাশে দাঁড়ানোর সঙ্গী।বন্ধু মানে সকল বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার সাথি। আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই একাধিক বন্ধু রয়েছে।কারণ বন্ধু ছাড়া কোন মানুষ থাকতে পারেনা।
আপনার সুন্দর মতামতের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া🌻🌹