স্কুল পিকনিকের পাহাড়যাত্রা গল্প//পর্ব-১

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম/🌺

হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।


স্কুল জীবনে পিকনিকের মুহূর্তগুলো সত্যিই অসাধারণ। আর বন্ধুদের সাথে বাহারে ভ্রমন করার মজাটাই যেন অন্যরকম, এই পাহাড়ে ভ্রমণ করতে পেরে আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছিল। তাই তো আপনাদের মাঝে পাহাড়ে ভ্রমণ করার স্মৃতিময় একটি গল্প শেয়ার করতে আসলাম। সত্যিই এই গল্পটি কথা মনে হলেও যেন আমার অনেক বেশি ভালো লাগে।


friend-589830_1280 (1).jpg

source

পাহাড়ে পিকনিক,শুধু একটি শব্দ নয়, আমাদের সবার জীবনের এক দুর্দান্ত স্মৃতি। গত কয়েক বছর আগে ডিসেম্বরের এক শুক্রবার, আমাদের স্কুল থেকে একটি পিকনিক আয়োজন করা হয়েছিল। গন্তব্য ছিল বান্দরবানের নীলগিরি পাহাড়। যাত্রার আগের রাতেই উত্তেজনায় ঘুম আসছিল না। ব্যাগ গোছাতে গোছাতেই কতবার মনে হচ্ছিল, এটা রাখলাম তো? ওটা কি রেখে দিচ্ছি?


সকাল ৬টায় স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হই আমরা সবাই। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে তিনটি বড় বাসে করে রওনা দিই। জানালার পাশে বসে আমি আর আমার বন্ধুরা গান গাইতে গাইতে, হাসতে হাসতে চলছিলাম। রাস্তায় ঢালু পাহাড় আর সবুজ বন দেখে মন জুড়িয়ে যাচ্ছিল।দুপুরের দিকে আমরা নীলগিরি পৌঁছাই। ঠান্ডা বাতাস আর কুয়াশা মোড়ানো পাহাড় যেন স্বপ্নের মতো এক জগৎ। উপরে উঠার সময় সবাই হাঁটছিল ধীরে ধীরে, কিন্তু আমাদের দলটি ছিল একদম উল্লাসে ভরা। হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল আমার বন্ধু আদনান, কিন্তু সে এমনভাবে হেসে উঠল যে সবাই হাসিতে ফেটে পড়ল।


পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে যখন নিচে তাকালাম, তখন মেঘগুলো যেন হাত ছুঁই ছুঁই করছিল। ছবি তুলতে তুলতে সবাই ব্যস্ত। কেউ সেলফি নিচ্ছে, কেউ আবার ল্যান্ডস্কেপের ছবি তুলছে। আমি কিছুক্ষণের জন্য একদম চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলাম। এতটা সুন্দর প্রকৃতি আমার চোখে এই প্রথম।পরে, নির্দিষ্ট জায়গায় আমরা বসে খাবার খেলাম।খিচুড়ি, ডিম ভাজি আর সালাদ। ঠান্ডা আবহাওয়ায় গরম গরম খিচুড়ি খেয়ে যে আনন্দ পেয়েছি, তা বলে বোঝানো যাবে না। খাওয়ার পর শুরু হলো খেলা আর নাচ-গান। স্যারদের মধ্যেও একজন খুব সুন্দর করে রবীন্দ্রসংগীত গাইলেন, সবাই করতালিতে সাড়া দিল।


বিকেলের দিকে সূর্যটা যখন পাহাড়ের গায়ে লাল আভা ছড়াচ্ছিল, তখন আমরা সবাই মুগ্ধ হয়ে সেই দৃশ্য দেখছিলাম। মেঘের ভেতর সূর্যের লুকোচুরি যেন এক স্বর্গীয় অনুভব। সূর্যাস্ত যাওয়ার সেই মুহূর্তটা আমরা বন্ধুরা মিলে দারুন ভাবে উপভোগ করেছিলাম। সত্যি পাহাড় থেকে সূর্য অস্ত যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পেয়ে আরো অনেক বেশি ভালো লাগলো। তারপরে আমরা পাহাড়ে আরো সুন্দরময় কিছু মুহূর্ত উপভোগ করেছি। সেই অংশটুকু আপনাদের সাথে আগামী পর্বে শেয়ার করব। আশা করছি সে পর্বের জন্য আপনারা সবাই অপেক্ষা করবেন, আজকে এখানেই শেষ করছি।🙏🤲🙏

আমার পরিচয়

IMG_20211018_182622.jpg

আমার নাম মোঃ রায়হান রেজা।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি পেশায় একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার ।আমি সর্বদাই গরীব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসি এবং নতুন সৃজনশীলতার মাধ্যমে কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাই আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে🌹💖🌹।

Amar_Bangla_Blog_logo_png.png

👉 বিশেষভাবে ধন্যবাদ সকল বন্ধুদের যারা এই পোস্টকে সমর্থন করছেন🌺🌹🌺

Posted using SteemX

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.083
BTC 63589.00
ETH 1725.23
USDT 1.00
SBD 0.42