দবির মিয়ার অন্তহীন সংগ্রাম (তৃতীয় পর্ব)।

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


দবির মিয়া বলে দেখি কোথাও কোন কাজ পাওয়া যায় কিনা? গত কয়েকদিন ধরে তো কোনো কাজই করতে পারিনি। বছরের এই সময়টাতে মাঠে কাজ কিছুটা কম থাকে। যার ফলে এই সময়ে দবির মিয়ার মতো মানুষদের জন্য কষ্ট হয়ে যায়। দবির মিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে এলাকার যেসব সচ্ছল গৃহস্থ্য আছে তাদের বাড়িতে গিয়ে কাজের খোঁজ করতে থাকে। কয়েক বাড়ি ঘোরার পরে একটা বাড়িতে সে কাজ পায়। তারা বলে পরদিন এসে তাদের বাড়ির আশেপাশের সব ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে দিতে হবে। আর যতো আগাছা হয়েছে সব উঠিয়ে দিতে।

Black and Gold Fancy New Year Card_20240828_213002_0000.png

বিনিময়ে তারা মাত্র ৩০০ টাকা দিতে রাজি হয়। সেই সাথে দুপুরের খাবার দেবে। দবির মিয়া অবাক হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে রয়। মনে মনে চিন্তা করতে থাকে এখন একজন দিনমজুরের বেতন দিনে ন্যূনতম ৬০০ টাকা। আর এরা তাকে মাত্র ৩০০ টাকা দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে চাচ্ছে। তারপরও দবিযর মিয়া রাজি হয়ে যায়। সে চিন্তা করে যেহেতু কোথাও কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এই ৩০০ টাকা হলে ও তার পরিবারের পেটে ভাতের ব্যবস্থা হবে। সে বাড়িতে ফিরে গিয়ে একটা জাল নিয়ে চলে যায় তার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে থাকা একটা খালে।

যদিও খালে পানি বলতে গেলে একেবারেই নেই। তার ভেতরে দবির মিয়া জাল দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করে। সে চিন্তা করে কিছু মাছ পেলে সন্ধ্যার দিকে গ্রামের বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা যাবে। কিন্তু সারা বিকাল ধরে চেষ্টা করেও বিক্রি করার মতো মাছ ধরতে পারে না। যে অল্প কয়েকটা মাছ পায় সে মাছগুলো নিয়ে সে তার স্ত্রীর কাছে দেয় পরের দিন রান্না করার জন্য। তার স্ত্রী তাকে জানাই এরপরে কাজ পেলে একটা মুরগি কিনতে। (চলবে)

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।




ধন্যবাদ

Sort:  
 2 years ago 

আসলেই বর্তমানে একজন দিনমজুরের ন্যূনতম মজুরি ৬০০ টাকার নিচে না। যাইহোক কাজ না পেলে তো কিছুই করার থাকে না। দবির মিয়া তার পরিবার নিয়ে সবমিলিয়ে খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছে। দেখা যাক পরবর্তী পর্বে কি হয়।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 61299.24
ETH 1623.99
USDT 1.00
SBD 0.41