|| একটি ভয়ংকর সত্য ঘটনা || রাতে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া ||
গল্পের যে নাম গুলি ব্যাবহার করা হয়েছে তা কাল্পনিক
রবিন কাকাটা সময় মত দোকানের মালগুলো নিয়ে আসবে, আর উনি কিনা আড্ডা মারছে। রাগে আমার মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। এমন সময় কুলিদের সর্দার মটু কাকা দৌড়ে এসে বলল,,,,,
বাবা সর্বনাশ হয়ে গেছে,
আমি বললাম কি হয়েছে মটু কাকা?
রবিনতো দাঁড়ানো থেকে মাটিতে পড়ে গেছে। দৌঁড়ে গিয়ে দেখি মুখ দিয়ে লালা পড়ছে। কোলে করে উনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। রবিন কাকা প্যারালাইসিস রোগী ছিলেন, অনেক চিকিৎসা করার পর বাঁচানো গেল কিন্তু মুখটা বেকে গেছে দুইটা হাতই অচল হয়ে গেছে হাটতে পারে সেটাও খুব কষ্টে। রবিন কাকার জন্য খুব কষ্ট হতো। প্রত্যেকদিন সকালবেলা এসে আমাকে বলতো যে বাবা দুইটা টাকা দে, আমি তাকে ১০/২০ টাকা দিতাম। হঠাৎ একদিন শুনি তিনি আর নেই, আমি শুনপ অবাক হলাম না কারন তার বয়স অনেক বেশি ছিল এটা বয়স কালে সবারই একদিন না একদিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়। আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি, আকাশে সাদা মেঘের ভেলা অপরুপ চিত্রকর্ম তৈরি করে রেখেছে। এমন দিনে সবাই মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরতে গেলে বুকে সাহস লাগে, কারন তখন নাকি মাছ খেকোদের আনাগোনা বেড়ে যায়। আমার প্রচুর মাছ ধরার শখ ছিলো আর আমার বাসা ছিলো নদী এলাকায় বাড়ির পাশে ছিলো বাঙালি নদী আর একটু দূরেই ছিলো যমুনা নদী ছোট ছোট বিলের কথাতো বলাবাহুল্য। সুযোগ পেলেই মাছ ধরতে চলে যেতাম বিভিন্ন জায়গায়।
সন্ধায় আমাদের বাজারে আড্ডায় মাছ ধরা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রুহুল আমিন ও শামসুল নাকি গতরাতে একটা বিশাল বোয়াল পেয়েছে। মনকে আর বাঁধ মানাতে পারলাম না। রুহুল আমিন আর শামসুল কে বললাম আমাকেও নিয়ে যাওয়ার জন্য। তারা যখন মাছ ধরতে যাবে আমাকেও নিয়ে যেতে। রাতে বাসা থেকে খাওয়া দাওয়া সেরে বাজারে আসার সময় দেখি চরে দুটি বাতি জ্বলছে। বলে রাখা ভালো যে, আমাদের বাসার ঠিক পিছনেই হলো চর। চরকে ঘিরে বয়ে চলেছে বাঙালি নদী।
চরের একদিকে গোরস্থান, আর ডানদিকে নদীর তীরে শ্মশানঘাট। আমি বুঝতে পারলাম কেউ মাছ ধরছে।
আমি বললাম,,,,,,,
কে,,,কে,,,ওইখানে?
ওখানে কে মাছ ধরে?
ঐ আমি আমিন
আমরা সবাই রুহুল আমিনকে শর্টকাটে আমিন বলতাম। আমি বললাম তোদের না আমাকে নিয়ে যাবার কথা। আমিন বলল,, আমরা এইখানেই আছি তুই আয়। আমি বাজারে না গিয়া বাসায় ঢুকলাম। জাল, বাতি, টর্চ এবং খালই,[মাছ রাখার জন্য বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশেষরকম পাত্র] নিয়ে দৌড় দিলাম। গোরস্থানের কাছে যেতে না যেতেই আমাকে দেখে কি যেন সরে গেল। বুকের ভিতর ধপ করে উঠল। টর্চ লাইট দিয়ে দেখলাম দুটি শেয়াল আমার দিকে রাক্ষুসে ভাব করে তাকিয়ে আছে। রাতে গোরস্থানে শেয়াল আসে কবর খুঁরে লাশ খাওয়ার জন্য। আমি সোজা আমিনদের কাছাকাছি চলে আসলাম। ওরা আমার সামনে, আমি পিছনে পিছনে মাছ ধরছি। অন্ধকার রাত খুব অন্ধকার ছিল সেদিন। পানির ওপর টর্চ লাইট ধরে ধরে খুব তীক্ন দৃষ্টি দিয়ে মাছ দেখছিলাম। হঠাৎ একটি শব্দ কি মাছ জানতে চাইলাম। মাগুর, কিছুক্ষণ পর আমিন বলল,,,,
চল শ্মশানঘাটে চলে যায়
হঠাৎ...হঠাৎ..নদীর ভিতর একটি শব্দ হল মনে হচ্ছে কোন দানব একটি কুমিরকে গিলে ফেলার চেষ্টা করছে। আর ঐ কুমির নিজেকে বাচানোর জন্য চেষ্টা করছে। আবারও শব্দটা হলো আমি টর্চ লাইট দিয়ে শব্দের উৎপত্তিটা বুঝার চেষ্টা করলাম। এক জায়গায় পানির কম্পন দেখে বুঝতে পারলাম শব্দটা ঐ জায়গা থেকে আসছে। দূর থেকে মনে হলো বোয়ালের বরশীতে কোন বড় বোয়াল আটকা পড়েছে। এই সময় লোকজন নদীর তীরে সারি বেঁধে বোয়ালের বরশী গেথে যায় এবং রাতে পাহাড়া দেয়। আমি চিন্তা করলাম বোয়ালটা নিতে পারলে ভালই হতো। কিন্তু একলা পানিতে নামতে সাহস পেলামনা। আমি আমিন ও শামসুলকে ডাকলাম। কিন্তু কোন সারাশব্দ পেলাম না। বোয়াল মাছের লোভ আর না করে আমি সামনের দিকে চলতে লাগলাম। মনে হচ্ছে আমার সাথে অনেকেই চলছে। মনে মনে ভাবলাম আমার পায়ের শব্দে নদীর পাড়ে প্রতিধ্বনি হচ্ছে এইজন্য এমন মনে হচ্ছে। কিছুক্ষন পরে খেয়াল করলাম হাজারও পা আমার সাথে এগুচ্ছে। আমি ভয়ে জোড়ে হাটতে লাগলাম। সামনে তাকিয়ে দেখি হাজারও কঙ্কাল সাড়ি বেধে দাড়িয়ে আছে। যেন কোন কঙ্কাল মারা গেছে তাই সবাই মিলে তার জানাযা পড়ছে। ভয়ে আমার হাত পা কাঁপতে লাগল গা দিয়ে অঝড় ধারায় ঘাম ঝড়তে লাগল।
বন্যার পানিতে পাট গাছ পঁচে শোলা হয়ে দাড়িয়ে আছে। আর সাদা পাট শোলাতে লালবাতির আলো পড়ে দূর থেকে ঠিক কঙ্কাল মনে হচ্ছে। আমি কতগুলো পাটশোলা একত্র করললাম একত্র করে পাট দিয়ে বাধলাম। তারপর তাতে কাঁদা মেখে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলাম এবং সেই আলোতে সামনে দৌড়াতে লাগলাম। ধপ ধপ শব্দ হতে লাগল কত খারাপ চিন্তা মনে আসতে লাগল। রবিন কাকার কথা খুব মনে পরে গেল। সামনেই রবিন কাকাকে শ্মশানে পোড়ানো হয়েছিলো। আমি যতটা সম্ভব জোড়ে দৌড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলাম। শ্মশানের সামনে যখন আসলাম শুনতে পেলাম বাপু দুইটা টাকা দিয়া যা। আমি পিছনে না তাকিয়ে দৌড়াতে লাগলাম। দূর থেকে ফযরের আযান শোনা যাচ্ছে। আমার ভয়টা কেটে গেল আমি বাসায় চলে গেলাম। পরদিন সকালে বাজারে যাওয়ার পর আমিন আমাকে বলল আজ মাছ ধরতে যাব তুই রেডী থাকিস। গতকাল অমাবস্যা ছিল তাই যায়নি। আমি চমকে গেলাম এবং সেন্সলেস হয়ে গেলাম। পরে কি হলো বলতে পারিনা আমি নিজেকে আবিস্কার করলাম আমার বাড়ির বিছানায় আমাকে ঘিড়ে অনেক লোক দাড়িয়ে আছে। সন্ধা নামবে নামবে ভাব আমি সবাইকে চলে যেতে বললাম আমার মা,বাবা আর রুহুল আমিনের সঙ্গে ঘটনাটি শেয়ার করলাম আমিন খুব ভয় পেল। সেদিনের পর থেকে আমি আর মাছ ধরতে যাইনি এমনকি দিনের বেলাতেও না। এই ছিল আমার সাথে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর একটি ঘটনা। ধন্যবাদ সবাই ভালো থাকবেন।
আসসালামু আলাইকুম
TᕼᗩᑎK YOᑌ
Email- [email protected]
orginal content writting - @rabibulhasan71
free image source - www.pexels.com

You got a 100.00% upvote from @votemypost Send any amount of Steem to @votemypost with your post link in the memo for a proportional upvote. Earn a passive income by delegating Steem Power to @votemypost
If you are looking to earn a passive no hassle return on your Steem Power, delegate your SP to @votemypost by clicking on one of the ready to
delegate links:
25SP | 50SP | 75SP | 100SP | 250SP | 500SP | 1000SP | 2500SP | 5000SP
Another Amount
You will earn 85% of the voting bot's earnings based on your delegated SP's prorated share of the bot's SP each day! You can also undelegate at anytime.