জামাইষষ্ঠী (প্রথম পর্ব )
নমস্কার বন্ধুরা,
সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন আরো একটি গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
২০ শে জুন ছিল জামাইষষ্ঠী। এই দিন জামাইদের শ্বশুরবাড়ি নিমন্ত্রণ থাকে। আমার শাশুড়ি মা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী জামাইদের বিভিন্ন পদের রান্না করে খাওয়ান। এই বছর আমাদের প্রথম জামাইষষ্ঠী ছিল। তাই দাদা আগের সপ্তাহে এসে আমাদের নিমন্ত্রণ করে গিয়েছিল। তবে এই বছর প্রথমবার, তাই মাসির বাড়ির থেকেও বোন এসে নিমন্ত্রণ করে গিয়েছিল। তাই নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে আমাদের দুই বাড়িতেই যেতে হতো।
তাই জামাইষষ্ঠীর দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সকাল সকাল স্নান করে রেডি হয়ে শাশুড়ি মায়ের সাথে চলে গিয়েছিলাম বট তলায় পুজো দিতে। প্রতিবছর শাশুড়ি মা একা যান সেখানে। এ বছর উনি একজন সঙ্গী পেয়েছিলেন আমাকে। বটতলায় আরো অনেক মানুষ আসেন পুজো দিতে। সেখানে আমার শাশুড়ি মায়ের দুই ভাই পুরোহিত হিসেবে থাকেন এবং তারাই পুজো করেন। এই পুজো দেখতে বেশ ভালো লাগে। যদিও আমি কিন্তু এর আগে কখনো জামাইষষ্ঠীর দিন বট তলায় যাইনি। তাই এই পুজোর নিয়মকানুন আমি এর আগে কখনও দেখার সুযোগ পাইনি।
এরপর বাড়ি এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করছিলাম আমার বরের জন্য। এর পর শুরু হলো মহাযুদ্ধ। প্রথম বার জামাইষষ্ঠী তে যাবে, তাই বলেছিলাম একটা পাঞ্জাবি পরতে। তবে আমার বর পাঞ্জাবি পরতেই চাইছিল না। অনেক কষ্ট করে ওকে পাঞ্জাবি পরার জন্য রাজি করতে পেরেছিলাম। তারপর দুইজন মিলে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম আমার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে। বাড়িতে দেওয়ার জন্য গিফ্ট এবং এক হাঁড়ি মিষ্টি আগের দিন রাতেই কিনে রেখেছিলাম। এই বছর আমরা ভেবে দেখেছিলাম জামাকাপড় বা শাড়ি না দিয়ে একটা কাজের জিনিস দেব। তাই আমরা অনেক ভেবে একটা induction oven কিনেছিলাম। গ্যাস ফুরিয়ে গেলে অন্তত এটাতে রান্না করতে পারবে।
ওই বাড়ি গিয়ে কিছুক্ষণ বসার পর বৌদি জামাইষষ্ঠীর যা যা আচার অনুষ্ঠান আছে সেগুলো শুরু করেছিল। বৌদি আগেই বটতলায় পুজো দিয়ে এসেছিল। জামাইষষ্ঠীর এইসব নিয়মকানুন বা আচার অনুষ্ঠান আমার মায়ের করার কথা ছিল। কিন্তু মা একমাস হলো কর্ম সূত্রের আবার মুম্বাই ফিরে গেছে তাই সমস্ত কিছু বৌদিকেই করতে হয়েছিল। বৌদিও খুব নিষ্ঠার সাথে সবটা পালন করেছে। দাদা আগের দিন রাতে প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস কিনে এনেছিল। আর মা দূরে থেকেও আমাদের প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করেছে আমি জানি।
এরপর এলো খাওয়া-দাওয়ার পালা। জামাইষষ্ঠীতে সকালবেলায় বৌদি বানিয়েছিল লুচি, নিরামিষ ঘুগনি। তার সাথে আরো দিয়েছিল চিঁড়ে, দই ,খই, মুরখি, মিষ্টি, কলা, পাকা আম ইত্যাদি ।জামাইষষ্ঠী যেহেতু শনিবারে পড়েছে আর শনিবারে আমরা আমিষ খাই না তাই জামাইষষ্ঠীতে এবার কোনরকম আমিষ রান্না করা হয়নি। সকালের জলখাবার খাবার খাওয়ার পর আমরা দুজনে কিছু ফটো তুলেছিলাম। তারপর অল্প কিছুক্ষণ বসে আমরা আবার বেরিয়ে পড়েছিলাম মাসির বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে। যেহেতু বোন মানে মাসির মেয়ে নিজে এসে নিমন্ত্রণ করে গিয়েছিল তাই সে নিমন্ত্রণ তো রক্ষা করতেই হবে। তাই বেশি সময় নষ্ট না করে আমরা আবার মাসির বাড়ির জন্য রওনা হয়েছিলাম। যেহেতু মাসির বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় 15-16 কিলোমিটার দূরে তাই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়েছিলাম।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। মাসির বাড়ি গিয়ে আমরা কেমন মজা করলাম এবং কী কী খাবার খেলাম তা আমি আপনাদের সাথে আমার পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
Curated by:@wirngo
One day I try this kind india food, here in my forest i have very hard to get and find real idian food 😋👌👌☕☕