প্রবাসীর বিয়ে নাটকের রিভিউ।
আমার প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? সবাইকে আমার আন্তরিক মোবারকবাদ এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনাদেরকে জানাই শুভেচ্ছা।
| প্রবাসীর বিয়ে নাটকের রিভিউ। |
|---|
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য |
|---|
| নাটকের নাম | প্রবাসীর বিয়ে |
|---|---|
| পরিচালক | জাকারিয়া সৌখিন |
| অভিনয় | মুশফিক আর ফারহান, সামিরা খান মাহি সহ আরো অনেকে |
| ভাষা | বাংলা |
| মুক্তির তারিখ | ০১ অক্টোবর ২০২৪ |
নাটকের নাম দেখেই বুঝে গিয়েছেন যে নাটকটি কেমন হতে চলেছে। আমিও যখন নাটকের নাম দেখতে পাই তখনই ভেবেছিলাম যে নাটকটি ঠিক এরকমই হবে৷ এর পরবর্তীতে যখন নাটকটি শুরু হয়ে যায় তখনই নাটকের সবকিছু আমি খুব ভালোভাবে দেখতে পাই৷ প্রথমে যখন নাটকটি শুরু হয় তখন এখানে নায়কের মা তার জন্য অনেকগুলো পাত্রীর লিস্ট নিয়ে আসে। সেখানে সবকিছু এত বেশি পরিমাণে ছিল যে নায়ক অনেকটাই রাগান্বিত দিতে হয়ে যায়৷
সে বলে যে এখানে এতগুলো মেয়ের ছবি এবং সবকিছু কিভাবে দেখবে৷ তার জন্য সবকিছু বেঁছে নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছিল৷ তখন তার মা বলে যে সবকিছু বেঁছে এতগুলো হয়েছে৷ আর যদি না বেঁছে না নিতো তাহলে সবকিছু তো আরো অনেক বেশি থাকতো। এর পরবর্তীতে নায়ক ধীরে ধীরে একটি মেয়েকে একের পর এক মেয়েকে দেখতে যায়৷
সেখানে সবাই তার টাকার লোভেই যেন বেশি পড়েছিল৷ সবার কথাবার্তা নায়কের কাছে এতটাই লোভের মনে হয়েছিল যে সে কোনোভাবেই সেখানে বিয়ে করার জন্য রাজি ছিল না৷ এরপর সেখানে একজন মেয়েকে তার পছন্দ হয়৷ সে অনেক ভালো ছিল। নায়কের টাকার প্রতি তার কোন ধরনের লোভ ছিল না। ফলে নায়ক তাকেই পছন্দ করে।
এরপর নায়ক এবং নায়িকা আলাদা ভাবে কথা বলতে থাকে৷ তখন নায়িকা তাকে বলে যে সে বিদেশে কি কাজ করে৷ তখন নায়ক যখন তার কাজের কথা বলে তখন নায়ক সে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলতে থাকে৷ সেখানে নায়ককে এমন কিছু কথা বলে যে নায়িকাকে যেন সে পছন্দ করবে না এরকম মনে করেছিল৷
সে ভেবেছিল যে সে যদি এই কথাগুলো বলে তাহলে কোনভাবেই নায়ক তাকে বিয়ে করার জন্য রাজি হবে না৷ অনেক ধরনের কথাবার্তা বলার পরবর্তীতে যখন সেখান থেকে বাসায় চলে আসে তখন সে ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে এবং সে বলে যে অবশ্যই নায়িকাকে বিয়ে করবে৷ যখন নায়িকা এই কথা শুনে তখন সে একেবারে অবাক হয়ে যায়৷ কারণ নায়িকা তাকে তার বয়ফ্রেন্ডের কথা বলে এবং অনেক ধরনের কথাবার্তা বলছিল যাতে করে নায়িকাকে তার পছন্দ না হয়৷
তবে এখন যেহেতু তাকে পছন্দ হয়ে গিয়েছে এখন নায়িকাকেই সে বিয়ে করবে৷ যখন সে এখানে নায়িকাকে বিয়ের কথাবার্তা বলার জন্য আসে তখন তার মা-বাবা অনেক জনের কথাবার্তা বলতে থাকেন। সবকিছুই অনেক ভালোভাবে এগোতে থাকে৷ তখন নায়িকা একদিন তার বয়ফ্রেন্ডের কাছে নায়ককে নিয়ে যায়৷ সেখানে তাকে বলে যে সে যদি নায়িকাকে বিয়ে করতে হয় তাহলে তার বয়ফ্রেন্ডকে মারতে হবে৷ তখন নায়ক তাকে মেরে দেয়৷ এরপর সেখানে নায়িকার আর কিছুই বলার থাকে না। তারা দুজনে সেখান থেকে চলে যায়।
এরপর নায়িকা বলে যেহেতু তার সাথে বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে এখন তার সকল ধরনের মেডিকেল জাতীয় যে কোন সমস্যা সে দেখবে৷ যদি কোন ধরনের সমস্যা তার থেকে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে তাদের অনেক সমস্যা হতে পারে৷ তাই নায়িকা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখানে তাদের দুজনের সবকিছু টেস্ট করানো হয় এর কিছুদিন পরে সেই টেস্টের রেজাল্ট বের হয়৷ সবকিছু একেবারে স্বাভাবিক ছিল৷
এরপর নায়ক এবং নায়িকার যা কিছু করার প্রয়োজন ছিল সবকিছু করা হয়েছিল৷ নায়িকার যা কিছু যাচাই বাছাই করার কথা ছিল সব কিছু সে যাচাই বাছাই করেছিল৷ সেখানে নায়কের প্রতি তার ভালোবাসা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর পরবর্তীতে অনেক সময় পর যখন তাদের বিয়ে সহ সবকিছু একেবারে ভালোভাবে সম্পন্ন হয়ে যায় এবং কিছুদিন পরে বিয়ে ঠিক হয়ে যাবে তখন নায়ক একটি কথা নায়িকাকে বলে৷
যাতে করে সবকিছু একেবারে উলটপালট হয়ে যায়৷ সে ছিল আমেরিকার গ্রিণ কার্ড হোল্ডার৷ সে বলে সেখানকার একজন মেয়েকে বিয়ে করার ফলে এই কার্ড পেয়েছে৷ এর কথাটি শুনে নায়িকা একেবারে রাগান্বিত হয়ে যায় এবং সে সেখান থেকে চলে যায় এবং বিয়ে ভেঙে যায়৷
তবে নায়ক এটি পরীক্ষা করার জন্যই করেছিল এবং সে যখন সবকিছু আবার সত্য বলে দেয় এবং সবকিছু সত্যতা যখন সে বলে তখনই নায়িকা বুঝতে পারে আসলে নায়ক তার কাছ থেকে সবকিছু পরীক্ষামূলকভাবেই করেছিল৷ কারণ নায়ককে সে একের পর এক পরীক্ষা করছিল এবং সবকিছু যখন নায়ক ফাঁস করে যাচ্ছিল তখন নায়ক শুধুমাত্র একটি কথা বলে দেখেছিল আসলে তাকে নায়িকা কতটুকু বিশ্বাস করে তবে শেষ পর্যন্ত যখন সবকিছু ঠিক হয়ে গেল তখন তাদের মধ্যে মিল হয় এবং এভাবে নাটকটি শেষ হয়।
আমার ব্যক্তিগত মতামত।
**খুবই সুন্দর একটি নাটক এটি৷ প্রবাসীর বিয়ে নাটকের নামের মধ্যে সবকিছু খুব ভালোভাবে ফুটে এসেছে৷ কারণ প্রবাসী ব্যক্তিদের কাছে অনেক বেশি টাকা থাকে যা আমরা সকলেই জানি৷ ঠিক নায়কের কাছেও এরকম অনেক বেশি টাকা ছিল৷ সে সেখানকার গ্রীন কার্ড হোল্ডার ছিল৷ যার ফলে তার এলাকার অনেক মেয়ে তার জন্য পাগল ছিল৷ তাকে বিয়ে করার জন্য সকলের একটা স্বপ্ন ছিল। এরপর যখন নায়ক একের পর এক মেয়ে দেখতে থাকে তখন তার তাদেরকে পছন্দ হয় না৷
কারণ তাদের কথাবার্তা গুলো একেবারে লোভী প্রকৃতির ছিল৷ তারা শুধুমাত্র বলছিল যে টাকাগুলো দিয়ে কি করবে৷ টাকা দিয়ে এই কাজ করব ওই কাজ করব এরকম অনেক ধরনের কথা বলছিল৷ যার ফলে নায়ক এগুলোকে লোভ হিসেবে ধরে নেয়৷ তবে শেষ পর্যন্ত একজন মেয়েকে তার পছন্দ হয়৷ সে লোভী ছিল না। তবে সে একটু অন্য প্রকৃতির ছিল৷ কারণ সে নায়ককে পছন্দ করেনি৷ নায়ককে সে বিদেশী কামলা হিসেবে পরিচয় দেয়৷ যার ফলে নায়িকা অনেকটাই রাগান্বিত থাকে৷ সে প্রতিনিয়ত নায়িকার সাথে কথাবার্তা বলার চেষ্টা করত।
এভাবেই যখন ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক অনেকটা ভালোভাবে তৈরি হয়ে যায় তখন এখানে নায়িকা তাকে অনেক ধরনের কথাবার্তা বলে৷ এরপর তাদের পরীক্ষা করানো হয়৷ সবকিছুতেই নায়ক পাস করে যায়৷ তবে শেষ পর্যন্ত যখন নায়ক একটি পরীক্ষা তাকে দিল তখন সে হেরে গেল৷ সে বলল যে এরকম ব্যক্তিকে সে বিয়ে করবে না।এরপর যখন নায়ক আবার এই সত্যতা বলে দেয় তখন সবকিছু ঠিক হয়ে যায়৷
আসলে আমরা আমাদের বাস্তব জীবনে এরকম অনেক ঘটনা দেখতে পাই। প্রবাসীদের টাকার কারণে অনেক মানুষ তাদেরকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে যায়৷ তবে অনেক সত্যতা এর পেছনে লুকিয়ে থাকে৷ তবে অনেকেই সেই সত্য কথাগুলো গোপন রেখে দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে অনেক ঝামেলা হয়।**
| আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুসারে নাটকের রেটিংঃ |
|---|
৯.৭/১০
সমাপ্ত
ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি।আগামিতে অন্য কোন নাটকের রিভিউ নিয়ে আবারও হাজির হবো।ভালো থাকবেন সবাই।আর কষ্ট করে রিভিউটি যারা পড়ছেন তাদেরকে মনের অন্তস্থল থেকে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আজ আর নয়, আপনার নিকটতম এবং প্রিয়জনদের সাথে সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন, নিজের যত্ন নিন। আপনার দিনটি শুভ হোক।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | নাটক রিভিউ । |
| অবস্থান | বাংলাদেশ |
আমি বাংলাদেশ থেকে ইমদাদ হোসেন নিভলু।আমার স্টিমিট আইডি হল @nevlu123।আমি আমার বাংলা ব্লগের একজন ভেরিফাইড মেম্বার।২০১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আমি স্টিমিট এ কাজ করি।আর এই প্লাটফর্মে জয়েন করি শখের বসে। আর সে থেকেই আজ অব্দি ভালোলাগা থেকেই কাজ করি।জাতিগতভাবে আমি মুসলিম। কিন্তু ভাষাগতভাবে আমি বাঙালি। কারণ আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি।আমার সবচাইতে বড় শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করা।এ পর্যন্ত আমার তিনটি দেশ ভ্রমণ করা হয়েছে যদিও আরও ইচ্ছে রয়েছে অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করার।যাইহোক শখের মধ্যে আরো রয়েছে গান,ভিডিও ইডিটিং, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি,আর্ট এবং টুডি থ্রিডি ডিজাইন এর কাজ।

অনেক সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ আপনি আজকে আমাদের সবার মাঝে শেয়ার করে নিয়েছেন। নাটকটার রিভিউ পড়তে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। সুন্দর সুন্দর নাটকগুলো আমি অনেক পছন্দ করি। নাটকটা না দেখা হলেও রিভিউটা পড়ে ভালো লেগেছে। এত সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
দারুন লাগলো তো এই নাটকটার রিভিউ। এই নায়ক নায়িকাগুলো আমার অনেক বেশি পছন্দের। তাদের নাটকগুলো আমার কাছে অনেক ভালো লাগে দেখতে। তাদের অভিনয় অনেক দারুন হয়ে থাকে। এই নাটকটা অসম্ভব ভালো লেগেছে কিন্তু আমার কাছে। এই নাটকের কাহিনী একটু বেশি সুন্দর। এই নাটকটা দেখা না হলেও রিভিউ পড়ে কাহিনীটা জেনে নিতে পারলাম। আর আমি নাটকটা দেখার জন্য ও চেষ্টা করবো।
ভাইয়া আপনি দারুন একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন।আমার কাছে মুশফিক আর ফারহানের নাটক গুলো দেখতে ভীষণ ভালো লাগে।যাই হোক আপনার শেয়ার করা নাটকটি আমি অনেক আগে দেখেছি।আজকে আপনার পোস্টে নাটকের রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।