জমির আলীর সংসার
আসসালামু আলাইকুম,হ্যালো গ্রুপ মেম্বার আপনারা কেমন আছেন।
আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি।
💘💘আজকে আমি আপনাদের সাথে সত্য ঘটনা অবলম্বনে একটি গল্প শেয়ার করছি। 😢 😢
জমির আলীর জন্ম হয়েছিল অত্যন্ত মধ্যবিত্ত পরিবারে। তিনি একটি বেসরকারি কারখানায় কাজ করতেন। তার কোল জুড়ে বছরখানেক পরপর ছয়টি সন্তান আসলো। ছয়টি সন্তানের মধ্যে পাঁচ ছেলে এক মেয়ের জনক হলেন জমির আলী। এর মধ্যে চতুর্থ ছেলেটা শারীরিকভাবে অসুস্থ। মেয়েটা সবার বড়। খুব আনন্দ আর হাসি মুখর পরিবেশে তার সংসার চলছিল। হঠাৎ একদিন কারখানায় কাজ করতে গিয়ে তার দুটি হাত মেশিনে কাটা পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে তার জীবনের মোড় ঘুরে গেল। সংসারের অভাব আর নিজের অক্ষমতা জমির আলীর আর ভালো লাগছিল না।
কিছুদিন পর তার স্ত্রীর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ল। সংসারে নেমে আসলো কঠিন ঝড়। অভাবের তাড়না এবং তার স্ত্রীর মনের ভাবনা ছিল যে, সে মারা গেলে তার ছেলেমেয়েদেরকে কে দেখাশোনা করবে। তাই কোন উপায়ান্তর না পেয়ে তার স্ত্রী সিদ্ধান্ত নিল বাচ্চাদেরকে দত্তক দিয়ে দিবে।
ছোট ছেলের বয়স যখন ৮ মাস তখন তাকে দত্তক দিয়ে দিল। কারণ ছোট বাচ্চার খরচ একটু বেশি,যত দ্রুত ছেলেকে দত্তক দিয়ে দিবে ততই তার জন্য মঙ্গল হবে। ছোট ভাইয়ের চলে যাওয়া দেখে অন্য ভাই বোন গুলো কান্নায় ভেঙে পড়ল। কিন্তু তারা জানত যে তাদেরকেও যেতে হবে।
দুই ছেলের স্বপ্ন ছিল একজন পুলিশের ইন্সপেক্টর হবে আর একজন ব্যারিস্টার হবে। তা আর হয়ে উঠল না। দুই ভাইকে দত্তক দিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু ভালো মানুষের কাছে যেতে না পারায় তাদেরকে ছিনতাইয়ের কাজে লিপ্ত হতে হয়েছে। এভাবে সে পাঁচ সন্তানকে দত্তক দিয়ে দিল।
চতুর্থ ছেলেটা মাকে বলল মা আমাকে কেউ নিবে না। কারণ আমি যে অসুস্থ, আমাকে তোমার কাছেই থাকতে দাও। মা বললো না বাবা সব ঠিক হয়ে যাবে। এভাবে কিছুদিন চলে গেলে কেউ তাকে নিতে আসে না।যার ফলে তাকে একটা এতিমখানায় পাঠিয়ে দিল। ছেলেটি অনেক কান্নাকাটি করল মায়ের কাছে থাকার জন্য কিন্তু কিছু করার নেই, মা একেবারেই নিরুপায়।
জমির আলীর স্ত্রীর মৃত্যুর দিন ঘনিয়ে আসলো,তখন সে চিন্তা করলো মৃত্যুর আগে একবার বাচ্চাদের দেখতে যাবে। তাই সে নিজেই প্রত্যেকের জন্য কাপড় বানাতে বসলো।পাঁচ জনের কাপড় বানানো শেষ আরো একজনের বাকি ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে সে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ল। আল্লাহকে ডেকে বলছে আল্লাহ তুমি আমাকে আর একটু সময় দাও, না হলে আমার একটা সন্তানের মনে কষ্ট থেকে যাবে।
পরেরদিন তার স্ত্রী সিদ্ধান্ত নিল দুজনে মিলে বাচ্চাদের দেখতে যাবে। জমির আলী বলল ঘরে যা টাকা আছে তাতে করে একজন মাত্র যেতে পারবো, তাহলে তুমি যাও। তার স্ত্রী কাপড় নিয়ে বাচ্চাদের দেখতে গেল ছোট ছেলেটা তাকে চিনতেই পারলো না।
অতঃপর তার স্ত্রী মৃত্যুবরণ করল। মৃত্যুর সময় অনেক তৃষ্ণার্ত গলায় পানি দিতে বলল। কিন্তু জমির আলী অনেক চেষ্টা করেও পানি দিতে পারলো না । কারণ তার দুটি হাত নাই।
অভাব মানুষকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করে --কিন্ত
😢একজন মা কখনো সন্তানের অমঙ্গল চায়না💔
🔰ধন্যবাদ সবাইকে♻️