সাকুলেন্টের পাতা থেকে নতুন চারা করার পদ্ধতি
আশা করি সবাই ভালো আছেন |
|---|
আপনি কি গাছ ভালো বাসেন? নিজের শখের কোন বাগান আছে? সামনে বাগান করার চিন্তা আছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আপনি ঠিক লেখাটিই পড়তে বসেছেন। আশা করি সম্পূর্ণ শেষ করবেন। কথা না বাড়িয়ে চলে যাই মেইন টপিকে।
আমার মত যারা সবুজ ভালোবাসে তাদের বাড়িতে,ছাদে অথবা ছোট্ট বেলকনিতে শখের ছোট একটি বাগান থাকে। যেমনটা আমার আছে। আমার ছোট বেলকনীতে প্রায় ৭০-৮০ টা ক্যাকটাস, ১০-১২ টা সাকুলেন্ট, মানি প্ল্যান্ট, নয়নতারা, পুইশাক, এবং পেয়াজ পাতার গাছ রয়েছে। আমি প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় এদের যত্ন নেই। মানসিক প্রশান্তির জন্যেই মূলত আমার এই শখের বাগান করা।
বাগানপ্রেমী বিশেষ করে যারা ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট ভালোবাসে তাদের প্রধান শখ থাকে নতুন নতুন প্রজাতির ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট সংগ্রহ করা। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। গতবছর ফেসবুক পেজ থেকে ক্যাকটাস কিনেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ সেগুলো এখন আমার বাগানের ক্যাকটাস কর্ণারকে আলোকিত করেছে। এবার হাত দিয়েছি নতুন একটি কর্ণার বানানোর। এখানে আমি বেশ কিছু প্রজাতির সাকুলেন্ট গ্রো করবো। সেই ধারণা থেকেই কালকে জান্নাত ইসলাম নামের এক আপুর কাছ থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে ২০ প্রজাতির সাকুলেন্ট এর ২০ টি পাতা সংগ্রহ করি। কি ভাবছেন পাতা দিয়ে কি করবো? সাকুলেন্ট এর পাতার মাধ্যমে চারা করে বংশবৃদ্ধি করা যায়, তাই পাতা সংগ্রহ করা। আমাদের বাংলাদেশে এক একটা সাকুলেন্ট এর মাঝারি চারার দাম প্রায় ২০০-৩০০ টাকা। তাই আমি চারা না কিনে পাতা কিনেছি। ৩০ দিন এর মধ্যেই এই পাতা থেকে চারা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এই ২০ টি সাকুলেন্ট এর পাতা কিনতে আমার খরচ পড়েছে
| Product Name | Taka (BDT) | Steem | USD |
|---|---|---|---|
| 20 succulent leaf | 200 | 8.18 | 1.81 |
জান্নাত আপু খুব সুন্দর করে প্যাকেট করে কুমিল্লা থেকে আমার ঠিকানায় পাঠিয়েছেন।
প্যাকেট খুলে আমি অবাক খুব সুন্দর পাতাগুলো। একদম মনের মতো।
সাকুলেন্ট এর পাতা থেকে চারা করার জন্যে শীতের শুরুর সময়টা সবথেকে বেস্ট। এই সময় গরম কমে আসে, রোদের তাপ অনেক কম থাকে, বাতাসে আদ্রতা বাড়ে, তাই খুব সহজে এই সময় পাতা থেকে চারা তৈরি করা যায়। আমি গতসপ্তাহে মিডিয়া বানিয়ে রেখেছিলাম। অন্যান্য গাছের থেকে সাকুলেন্ট এর মাটি করাটা একটু আলাদা। সাকুলেন্টের জন্যে বালি,কোকোপিট,ইটের গুড়া, ধানের চিটা দিয়ে মিডিয়া বানাতে হয়। ঝুরঝুরে না হলে যদি পানি জমে যায় তাহলে সাকুলেন্ট মারা যাবে। তাই মিডিয়াকে এমন ভাবে বানাতে হবে যেন পানি না জমে। পানি দেয়ার সময় অতিরিক্ত পানি যেন বের হয়ে যায় সেরকম পট নিতে হবে।
এখন পাতা গুলোকে লম্বাভাবে টবের মিডিয়ায় বসিয়ে দিবো। নিচের ছবিটি লক্ষ্যকরুণ বুঝতে সুবিধে হবে।
এভাবে পাতা বসাতে হবে
আমি একটি টবে প্রায় ১২ টির মত পাতা বসিয়ে দিলাম। যেহেতু আমি মাটির রাউন্ট পট ব্যাবহার করছি তাই পাতা গুলো বসানোর পর দেখতেও সুন্দর লাগছিল। অন্য পাতা গুলি ছোট পটে বসিয়েছি।
এখন প্রথম করনীয় হচ্ছে শুধু অপেক্ষা করা। তবে হ্যাঁ, এই সময় অবশ্যই পাতার পটটিকে সূর্য থেকে সরাসরি আলো এসে পড়ে না এমন জায়গায় রাখতে হবে। ৭-৮ দিনের মাথায় পাতা থেকে শেকড় ছারবে, তখন মাঝে মাঝে পানি স্প্রে করতে হবে।
এর আগেও আমি এই মাসের শুরুতে কয়েকটি সাকুলেন্ট পাতা বসিয়েছিলাম। অলরেডি সেগুলো থেকে চারা হয়ে গেছে।
পাতা থেকে চারা হয়ে গেলে প্রয়োজন পড়বে সে গুলোকে আলাদা পটে স্থানান্তর করা, যেটিকে বলা হয় রিপটিং। নেক্সট পর্বে রিপটিং ও এর পরের পরিচর্যা নিয়ে হাজির হয়ে যাবো। আশা করি সেই পর্বটিও আমার বাগানপ্রেমী বন্ধুরা মিস করবেন না। কেমন লাগলো আমার আজকের ব্লগটি? অবশ্যই আপ্নাদের মতামত জানাবেন।
🌹🍁 ধন্যবাদ সবাইকে 🍁🌹
🌹🍁 ধন্যবাদ সবাইকে 🍁🌹
এই গাছটি আমার বারান্দায় অনেক অযত্নে বড় হয়ে ওঠে ।এবং আমি তুলে তুলে ফেলে দিই। আমি মনে করেছি এটা অপ্রয়োজনীয় গাছ। যদিও এই গাছটা সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা নেই ।আজকে আপনার পোস্ট পড়ে এই গাছটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর পোস্ট করার জন্য।
আপু এখানে ২০ টি পাতা আলদা আলাদা গাছের। আপনার বাসায় হয়তোবা সিডাম সাকুলেন্ট আছে।
হতে পারে।
একটি অজানা বিষয় আমাদেরকে জানার সুযোগ দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনি একটি কথা ঠিক খুব ভালো বলেছেন যে,নিজ হাতে গড়া বাগানের পরিচর্যা করলে মানসিক প্রশান্তি মেলে। আমি আপনার এই কথাটির সাথে পুরোপুরি একমত।
সাকুলেন্টের পাতা থেকে চারা করার পদ্ধতি ধাপে ধাপে খুব সুন্দর ভাবে আমাদের কাছে উপস্থাপনা করেছেন। আপনার লেখা থেকে যে কেউ এই পাতা থেকে চারা তৈরি করতে পারবে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি আর্টিকেল আমাদের কাছে উপস্থাপনা করার জন্য।
আপ্নাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া
সাকুলেন্টের পাতা থেকে নতুন চারা করার পদ্ধতি দেখে মনে হচ্ছে এটা খুবই সহজ ৷ আর এটাও প্রথম দেখলাম এই গাছের পাতা থেকে খুব সহজেই চারা উৎপন্ন করা যাচ্ছে ৷ অনেক সুন্দর ভাবে চারা কিভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে তা উপাস্থাপন করেছেন ৷
ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷
আওনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্টে মন্তব্য করার জন্যে
আপনার সাকুলেন্ট পাতার পরিচর্চা ও নতুন পাতা জন্মানোর পদ্ধতি টি খুব ভালো লাগলো।
আর ফটোগ্রাফি গুলো ও দারুন হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাকেও ধন্যবাদ।
Welcome
আপনি খুবই কার্যকারী একটি পোস্ট করেছেন যেখানে দেখিয়েছেন কিভাবে সাকুলেন্টের পাতা থেকে নতুন চারা করার পদ্ধতি করতে হয়।। আমার এই বিষয়ে কোনো ধারনাই ছিল না আপনার পোস্ট করে বেশ ধারণা পেলাম খুবই ভালো লাগলো।।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সাথে এতো সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য ।আপনার এই পোস্ট টি ধারা আমরা সবাই অনেক উপকৃত হলাম বলে মনে করি।আর কারো উপকার না হলেও আমার হয়েছে তাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।এই রকম আরও ভালো ভালো পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করবেন।
আপনাকে ধন্যবাদ
এই পৃথিবীতে কত প্রকারের উদ্ভিদ আছে সেটা হয়তোবা আমি নিজেও জানিনা। আজকে আপনার পোস্ট পরিবেশন করার মাধ্যমে সাকুলেন্ট পাতা সম্পর্কে জানতে পারলাম। কিভাবে এই পাতা থেকে নতুন গাছ জন্মানো যায়। সেই বিষয়টা আপনি খুব চমৎকারভাবে আমাদের সাথে উপস্থাপন করেছেন।
আজকে আপনার পোস্ট পরিদর্শন করার মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদ। এবং পাতা থেকে কিভাবে চারা আনা যায়। সেই বিষয়টা বিস্তারিত জানতে পেরেছি, ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।