আমার ছেলেবেলা বই এর রিভিউ @mukitsalafi

in Incredible India3 years ago

""শুরু করছি পরম করুনাময় সৃষ্টিকর্তার নামে""

আসসালামুয়ালাইকুম

সবাইকে আমার শুভেচ্ছা ও অনেক অনেক ভালোবাসা জানিয়ে আমি @mukitsalafi শুরু করছি। জীবনে আজকে ২য় বারের মত বুক রিভিউ দিতে বসেছি। তবে আজকে একপ্রকার দু:সাহসিক কাজে নেমেছি। যার বই পড়ে ছোট থেকে বড় হয়েছি, যাকে মনে মনেক নায়ক ভেবেছি, যিনি না লিখলে হয়তো বই পড়ার নেশা আমাকে পেয়ে বস্তো না তিনি আর কেউ নন, আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় সাহিত্যিক স্যার হুমায়ুন আহমেদ। আজকে তারই আত্মজীবনী মূলক বই "আমার ছেলেবেলা" এর রিভিউ দিতে বসেছি। জানিনা আপনাদের কেমন লাগবে। তবে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

আমার ছেলেবেলা -হুমায়ুন আহমেদের আত্মজীবনী মূলক বই। এই বইয়ের শুরুর দিকে লেখক নিজে দেখিয়েছেন একজন আদর্শ বাবা হতে হলে তাকে কেমন হতে হয়। একবার লেখকের মেয়ে ভাত খাব্র না বলে জিদ করে। তখন হুমায়ুন আহমদের মেয়েকে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এতেও কাজ না হলে তিনি একটি বুদ্ধি করেন। মেয়েকে বলেন একটা গেইম খেলি। আমি তোমাকে একটা গল্প বলবো। গল্প শুনে যদি তুমে হেসে ফেল তাহলে তুমি হেরে যাবা, তখন তোমাকে ভাত খেতে হবে। আর যদি তুমি না হাসো তাহলে জিতে যাবা, তখন তোমাকে আর ভাত খেতে হবে না। অত:পর মেয়ে এই গেইম খেলে এবং গল্প শুনে হেসে দেয়। বাধ্য হয়ে তাকে ভাত খেতে হয়। নিশচই অবাক হচ্ছেন। বাঙালি বাবারা এমন হয় নাকি? উনারা ধমক দিয়ে বলবে ভাত খা, না খেলে হাডডি মাংস এক করে দিবো। কিন্তু লেখক কতটা মহান বাবা ছিলেন তা এই ছোট্ট ঘটনা পড়েই বুঝতে পারছেন নিশ্চই।

এই বইয়ের একদম শুরুর দিকে শোনা কথা নামে একটি পর্ব আছে। সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার গুল নিয়ে লেখা অত্যন্ত হাস্যরসাত্মক গল্প গুলো লেখক তার মনের মাধুরি মিশিয়ে এত স্যন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন যে এই বই না পড়ে আপ্নারা সেটা বুঝবেন না। লেখকের এখানে লিখেছেন, আগের দিনে জন্মের পর বাচ্চা না কাদলে তাকে চড় থাপ্পড় মারা হত। লেখক নিজেও এই থাপ্পড় খেয়েছেন। উনার জন্মের পর উনি কান্না না করায় দাইমা উনার ডান গালে জোড়ে চড় মারেন। চড় খেয়ে সাথে সাথেই চিল্লানি দিয়ে উনি কাদতে থাকেন। বিষয়টা কাল্পনিক মনে হলেও আপনি অনেক মজা ভাবেন। পাশাপাশি এটা ভাব্বেন যে সদ্য জন্ম নেয়া শিশুটি এত কিছু কিভাবে মনে রেখেছে।

লেখক তার বাবার পরিচয় ও বর্ণনা এমন ভাবে দিয়েছেন যে বই টি পড়ে আপনার মনে হবে এই বইটির নায়ক লেখক নয়, বরং উনার বাবা। উনার বাবাও বই পাগল ছিলেন। তাইতো পুলিশের চাকুরি করলেও বাসায় চার হাজারের বেশি বই এর লাইব্রেরি গড়েছিলেন। যেখানে লেখক সহ উনার ভাইদের সাহিত্যের হাতেখড়ি। বাবা ফয়জুর রহমান প্রকৃত পক্ষেই একজন নায়ক বাবা। যিনি সন্তানদের কবিতা মুখস্ত করতে দিনেত বিনিময়ে ১পয়সা পুরস্কার দিতেন। কেউ ভালো করলে বোনাস হিসেবে আরো ৩-৪ পয়সা দিতেন।

এই বইয়ে লেখক একটা মজার কাহিনি শেয়ার করেছেন। একবার উনার এক বন্ধুকে তার মা বলে যদি পরীক্ষায় পাশ করে তাহলে ফুটবল কিনে দিবে। এই শুনে তার বন্ধু লেখকের বাসায় এসে লেখজে দায়িত্ব দেয় যেন তার বন্ধুকে পাশ করিয়ে দেয়। লেখক মহা বিপদে পড়ে যায়, কারণ উনি স্কুলের পড়ালেখা করতে পছন্দ করতেন না, কিন্তু আবার ফুটবল টা তাদের খুব দরকার। লেখক বন্ধুকে পড়াতে গিয়ে নিজেও পড়তে শুরু করেন। যথারীতি পরীক্ষার রেজাল্ট দেয় এবং লেখক ১ম হয় কিন্তু উনার বন্ধুটি ফেল করে। এতে লেখক রেজাল্ট কাড নিয়ে কাদতে কাদতে তার বাবাকে এসে ঘটনা বলেন। কাদছেন কারণ তাদের আর ফুটবল পাওয়া হলো না। কতটা অবুঝ বালক ছিলেন।

আমার ছ্রলেবেলা বইটি মাত্র ৯৪ পৃষ্টার একটি ছোট্ট বই। কিন্তু প্রতিটা লাইনের পড়তে পড়তে পাবেন অনেক অনেক জীবন নিয়ে লেখা শিক্ষামূলক লাইন। পড়ার সময় নিজে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাবেন। আত্মজীবনীমূলক বই যে এত ছোট হয় আবার তা যে এতটা হাস্যরসাত্মক ও একই সাথে শিক্ষামূলক হয় তা এই বই না পড়লে কেউ বুঝবেন। আমি আশ করবো সবাই জীবনে একবার হলেও এই বইটি পড়বেন।


সবগুলো আলোকচিত্র আমার নিজের ক্যামেরায় ধারন করা

আজকে এখানেই শেষ করছি। জানিনা আপনাদের কেমন লাগবে। আপনাদের ভালো লাগা খারাপ লাগাগুলো অবশ্যই শেয়ার করবেন। আমি সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমার পরবর্তী লেখা লিখার সাহস পাবো।

image.png
সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার লেখাটি পড়ার জন্যে
image.png

"Newcomers' Community" Achievement Verified Link :

Achievement-1

Sort:  
Loading...
 3 years ago 

আপনার ছোটবেলার বইয়ের রিভিউ পড়ে আমার কাছে অনেক ভালো লাগলো আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি রিভিউ আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 61656.65
ETH 1638.79
USDT 1.00
SBD 0.41