আমাদের বিয়ের কিছু মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, কেমন আছেন আশা করি ভাল আছেন। আমি ভেরিফাইড হয়েছি আজ থেকে আমি প্রথম লেখা শুরু করছি। আমি অনেকদিন ধরে ভাবছিলাম যে কাজ শুরু করব । আজ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হল তাই আমি খুব খুশি। আজ প্রথম দিনই ভাবলাম আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করি আমার বিয়ের গল্প।
আমি প্রথমেই জানিয়েছি, ইন্ট্রোডাকশনে যে আমি মামার বাড়ি থেকে বড় হয়েছি। আমি জন্ম থেকেই মামার বাড়িতে থাকি। আমার পড়াশোনা শেখানো, আমার বড় হয়ে ওঠা, আমার স্কুল কলেজ সব মামাদের হাত ধরে। আমি গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করার পর ,আমার শ্রীমন্ত - র সাথে পরিচয় হয়। আমরা দু'বছর সম্পর্কে ছিলাম। এরপর দুই বাড়িতেই জানিয়ে ছিলাম। তখন দুই বাড়ি থেকে সবাই রাজি হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে।
আমার মামার বাড়ি থেকে ওদের বাড়ি বেশি দূরত্ব ছিল না। আমাদের বিবাহিত জীবন দেখতে দেখতে চার বছর হয়ে গেল। আমার বিয়েটা হয়েছিল মামার বাড়ি থেকে। যেহেতু আমি ছোট থেকে মামার বাড়িতে থেকেই বড় হয়েছি। তাই মামারাই সব খরচ করে বিয়ে দিয়েছিল।
কিন্তু ওদের বাড়ি তরণিপুর। ও পড়াশোনার সূত্রে কৃষ্ণনগর এসেছিল। সাথেই ওর বাবা কৃষ্ণনগরে চাকরি করতো। ওরা বেশ কিছু বছর কৃষ্ণনগরেই আছে। পরে কৃষ্ণনগরের থাকার জন্য একটা বাড়ি কিনেছে। কিন্তু ওর বিয়েটা হয়েছিল গ্রামের বাড়ি থেকে ।মানে তরণীপুর থেকে। আমাদের বিয়ে হয়েছিল ১১-১২-২০১৯ এ।
যে বাড়িতে প্রথম ওরা থাকতো, সেখানে ওরা ভাড়া করে থাকতো। তারপর ঈশাদের বাড়ির পাশেই আমরা বাড়ি কিনে নিই। তবে আমার ঈশার উপর ভীষণ রাগ রয়েছে। কারণ ওদের পরিবারের সাথে আমাদের অনেক কালের সম্পর্ক। আমার মামার বাড়ির মানুষজন ওর বাবাকে খুব ভালো করেই চেনে। যেহেতু একই পাড়াতেই বাড়ি। বিয়ের সময় ওদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঈশার পিসতুতো দাদার বিয়ে থাকাতে ও আসতে পারেনি। আর এখন বিবাহ বার্ষিকীর সময় প্রত্যেক বছর আমাকে সাহায্য করে সমস্ত কিছু গোছাতে।
আমি বাড়িতে শশুর শাশুড়ির সাথেই থাকি আমার বর কাজের সূত্রে দেশের বাড়িতেই থাকতে বাধ্য হয়। ছুটির দিনগুলোতে ও আবার এখানে আসে। তাই আমার সারাটা দিন শ্বশুর শাশুড়ির সাথেই কেটে যায়।
আমি আমার বর কে পেয়ে যতটা না কৃতজ্ঞ, তার থেকেও বেশি কৃতজ্ঞ শশুড় শাশুড়িকে পেয়ে ।কারণ এনারা একেবারেই আলাদা। আজকালকার দিনে এরকম শ্বশুর-শাশুড়ি পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। আমার শাশুড়ি একজন স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন এবং আমার শ্বশুর বি ডিও অফিসে চাকরি করতেন। তাই দুজনেই পড়াশোনা দিকটা খুবই ভালোভাবে গুরুত্ব দেন। এখনো সারাদিন বাড়িতে পড়াশোনার চর্চা করেন।
আমার শাশুড়ি ভালো গানও গাইতে পারেন। আমার বিয়ের পর শাশুড়ি আমাকে গান শেখানোর অনেক চেষ্টা করেছিলেন। যা আমার দ্বারা সম্ভব হয়নি।
ওনারা কখনোই আমাকে সাংসারিক কাজে বেশি জোর করেন না। আমাকে সবসময় উৎসাহ দেন যাতে আমি পড়াশোনার দিকে আগ্রহ রাখি এবং নিজের ইচ্ছামত কাজ করি।
আমার কাছে মনে হয় আমার শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে নিজের মা বাবার থেকেও বেশি ভালোবাসে, যে আদরটা আমি মা বাবার কাছে পাইনি ।আমি সেই আদর এখানে পাই। দেরি করে ঘুম থেকে উঠলেও শাশুড়ি আমাকে কিছু বলে না। বাড়ি রান্নাবান্না থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ এর ব্যাপারে কখনোই শাশুড়ি আমাকে জোর দেন না। ওনারা আমার খুব খেয়াল রাখেন।
আমার শ্বশুর ভীষণ রসিক মানুষ। উনার সাথে আমার আড্ডা ইয়ার্কি চলতেই থাকে। আমি আমার শ্বশুরমশাইয়ের সাথে নির্দ্বিধায় সব কথা শেয়ার করি ।বিকেল বেলায় যখন দুজন মিলে এক জায়গায় ছাদে হাঁটাহাঁটি করি ,তখন কত রকমের গল্প হয়। আমি এনাদের দুজনকে পেয়ে খুবই ভাগ্যবতী মনে করি নিজেকে। এমনকি জামা কাপড়ের ব্যাপারেও এনাদের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। নিজের একটা মেয়ে থাকলে হয়তো যেমন আচরণ করতো ,ঠিক তেমনটাই আমার সাথে করে। আর আমি ওনাদের ভীষণ পরিমাণে ভালোবাসি।
প্রথমেই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের পরিবার তথা স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার জন্য। আজকে আপনি আমাদের সাথে আপনার বিয়ে এবং আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে শেয়ার করেছেন। আসলে সৃষ্টিকর্তা কখনোই কোন মানুষকে কষ্ট দিয়ে, এই পৃথিবীতে রাখেন না। সর্বদাই চেষ্টা করেন ভালো রাখার জন্য।
আপনার মামার বাড়িতে বড় হওয়ার পর আপনার বিয়ের পর থেকে, আপনি এ পর্যন্ত আপনার জীবনটা খুব সুন্দর ভাবে উপভোগ করেছেন। কেননা আপনার শশুর শাশুড়ি খুবই ভালো মানুষ। তারা সর্বদাই চেয়েছে আপনি ভালো থাকুন। তাই হয়তো বা তাদের ইচ্ছে গুলো আপনাকে দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করেছে। যেমনটা আপনার শাশুড়ি করেছিল গান শেখানোর মাধ্যমে।
সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই প্রার্থনা করি, আপনার জীবনের এই সুন্দর মুহূর্ত গুলো জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত থাকুক। সব সময় ভালো থাকুন পরিবার নিয়ে, এবং প্লাটফর্মে আপনার আগামী দিনের পথ চলা অনেক বেশি সুন্দর হোক। অনেক দূর এগিয়ে যান ভালো থাকবেন।
অনেক ধন্যবাদ দিদি । আমার পোস্টটি কে এত ভালোভাবে পড়েছেন । আপনি আশীর্বাদ করেন যাতে আমি আরো ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারি।
ইনশাল্লাহ অবশ্যই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি চেষ্টা করুন, প্রতিনিয়ত কাজ করুন, দেখবেন আপনি একদিন অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবেন। এবং অনেক কিছু করতে পারবেন।
We support quality posts and good comments posted anywhere and with any tag.
Curated by : @patjewell
আমাদের কমিউনিটিতে আপনাকে স্বাগতম।আজকে আপনি আপনার বিয়ের স্মৃতি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন।
দুই বছর সম্পর্কে থাকার পরে আপনাদের বিয়ে হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমাদেরকে।
আপনাকে বিয়ের সাজে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে।
ভালো শশুড় -শাশুড়ি পাওয়াটা অনেক টা ভাগ্যের ব্যাপার।। টাকাও নস্ট হতো না।
জেনে খুশি হলাম যে তারা আপনাকে নিজের মেয়ের থেকেও বেশি ভালোবাসেন।
ভালো লাগলো আপনার লেখা পড়ে। আরো সুনদর লেখা পড়ার প্রত্যাশায় রইলাম।
শুভকামনা রইলো আপনার জন্য
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার পোস্টটি এতো মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য। এটা ছিল আমার প্রথম পোস্ট। আমার শ্বশুর, শাশুড়ি সত্যিই খুব ভালো মানুষ। আমাকে ওরা নিজের মেয়ের মতো ভালো বাসে। এই ভাবেই আমার পাশে থাকবেন।
আপনাদের দুজন ভালই বড় ভাগ্যবান আপনাদের ভালোবাসেন তো পেয়েছে এবং চার বছর অতিবাহিত করেছেন আরো ভালো লাগলো আপনার শ্বশুর শাশুড়ি একজন আলাদা মানুষ। আপনার পোস্টটি পড়ে একটা বিষয় জানতে পারলাম আপনার শাশুড়ি সুন্দর গান গাই এবং আপনাকে শিখানোর চেষ্টা করেছে। দোয়া করি আপনাদের বিবাহিত জীবন আরও সুন্দর হোক ইনশাল্লাহ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন
আমাকে এতো ভালো কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এইভাবেই আমার পাশে থাকবেন। আমার শ্বশুর, শাশুড়ি আমার না পাওয়া গুলো পূরন করতে চায়।হ্যাঁ শাশুড়ি খুব সুন্দর গান গাইতে পারে।