আম
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
এ বছরে আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে প্রত্যেকটি গাছে আম ফলে ছিল। সাধারণত প্রত্যেক বছর যে গাছ গুলোতে সচরাচর সহজে আম ধরে না সেই গাছ গুলোতে ও গাছ ভর্তি আম ধরতে দেখেছিলাম। ঠিক তেমনি এ বছরে প্রচুর পরিমাণে আম খেয়েছি এছাড়াও আম দিয়ে বিভিন্ন রকমের রেসিপি তৈরি করেছি। কিছু রেসিপি আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম।অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরে যেন একটু বেশিই আমাদের বাড়িতে আম এসেছিল। গ্রামের বাড়িতে বেশ কয়েকটি আমগাছ রয়েছে সেই গাছগুলোতে একেকটা গাছে, একেক রকমের আম ধরে। আম গুলোর বিভিন্ন রকমের নাম রয়েছে ।কোন আম কেমন সেটা আমি শ্বশুর মশাই এর কাছ থেকে শুনেছি। আমার শ্বশুরমশাই খুব ভালো বাজার করতে পারেন ।এমনকি কোন আম গুলো ভালো হবে সেগুলো বাজার থেকে কিনে আনতেন। আজ পর্যন্ত ওনার বাজার থেকে আনা আম কোনদিন ও টক হয়নি। প্রত্যেকটি আম ভীষণ সুস্বাদু।
শ্বশুর মশাইয়ের বাজার করা দেখে আমের সময় অনেকেই শ্বশুরমশাইকে আম আনতে দিতেন ।উনি আম সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন। ওনার কাছ থেকে বিভিন্ন আমের নাম এমন কি আম সম্পর্কে আমি শুনেছি। এর আগে কখনো সেভাবে আম সম্পর্কে আমি জানতাম না।শুধু খেতে হয় খেয়েছি। যাই হোক উনার মুখ থেকে বিভিন্ন রকমের আমের বর্ণনা শুনে বেশ ভালো লাগলো ।সেগুলোই আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। আমাদের গ্রামের বাড়িতে প্রত্যেকটি আমগাছ আম খেয়ে আঁটি ফেলার পর গাছ গুলো হয়েছে। সেই গাছ গুলোতে এখন গাছ ভর্তি করে আম হয়। যেমন বিশ্বনাথ আম, ফজলি আম,আম্র রুপালি , হিমসাগর আম এই আম গাছ গুলো আমাদের গ্রামের বাড়িতে রয়েছে। এছাড়াও আমার বোনের বাড়িতে বিভিন্ন রকমের আমের গাছ রয়েছে। আমার বোনের বর বিদেশী আম গাছগুলো বাড়িতে যত্ন করে লাগায়। এমনকি গাছ গুলো ছোট থাকতে থাকতে গাছগুলোতে প্রচুর আম ধরে।
আমি গ্রামের বাড়ি থেকে আনা বেশ কিছু আমের ছবি সংগ্রহ করে রেখেছিলাম সেটাই আপনাদের মাঝে আজকে শেয়ার করব।
বিশ্বনাথ আম:-এই আম দেখতে লম্বা আকৃতির হয়। কাঁচা অবস্থাতে খুব টক হলেও যখন আম পাকলে তখন খেতে খুবই মিষ্টি হয়। আমের ভিতরে কোন ছিবড়ে প্রকৃতি কোন জিনিস থাকে না। কেটে খাওয়ার সময় আটিতে কোন অংশ লেগে থাকে না সম্পূর্ণটাই খেয়ে নেওয়া যায়। আম পাকলে হলদেটে ভাব হয় না। সাধারণত সবুজ রঙেরই থাকে।
আম্র রুপালি আম:- আম্র রূপালী আম একটু লম্বা আকৃতির হয়। আম্র রুপালি আম কাঁচা অবস্থাতে ভীষণ টক ।আর পাকলে খুবই মিষ্টি হয়। তবে এই আমগুলো বেশি পেকে গেলে একদমই খাওয়া যায় না।একটু বেশি পেকে গেলে পোকা হয়ে যায়। এই আমগুলো পাকলে হলুদ হয় না ।পাকা অবস্থায় সবুজ থাকে।
হিম সাগর আম:-হিমসাগর আম দেখতে গোলাকৃতি। এই আম পাকলে খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু।
মল্লিকা আম সাইজে অনেকটাই বড় হয় ।এগুলোকে দেখতে অনেকটা লম্বা আকৃতির হয়। এই আমগুলো একটু দেরিতে পাঁকে। বাজারে সব আম ফুরিয়ে গেলে সবশেষে এই মল্লিকা আম কিনতে পাওয়া যায়।। খেতে খেতে অত্যন্ত মিষ্টি প্রকৃতির।
প্রত্যেক বছর আম খেলে আমার স্কিনের বিভিন্ন রকমের প্রবলেম দেখা দেয়। কিন্তু আমার সবথেকে প্রিয় ফল। তাই না খেয়ে একদমই থাকতে পারিনা। এবছরে গ্রামের বাড়ি থেকে যত আম এসেছে কিছুটা পাড়া-প্রতিবেশী এছাড়া মামার বাড়িতে দিয়েছিলাম। তাছাড়া বাদবাকি সমস্ত আম আমি একাই খেয়েছি। আমাদের বাড়িতে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি, বর কেউ অতটা খেতে পছন্দ করে না। যাই হোক এখন আম একদমই শেষের মুখে সিজনের আমার সেই রকম বাজারে বিক্রি হয় না। এছাড়াও আমি এখন প্রচুর দাম। এখন বাজারে বেশিরভাগ বাইরের আমগুলো বিক্রি হচ্ছে। কোন আম কেমন খেতে? আপনারা হয়তো সকলেই জেনে থাকবেন। শেষের তিনটি আমের নাম জানা নেই। যে কয়েকটি আমের ছবি আমার কাছে আছে সেগুলোই আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
আজ এই পর্যন্তই ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
SPOT-LIGHT TEAM: Your post has been voted from the steemcurator07 account.
Thank you 🙏
অনেক সুন্দর একটি লেখা আপনি আমাদের মাঝে উপস্থাপনা করেছেন দেখে অনেক ভালো লাগলো এবং এটা জানতে পেরে ভালো লাগলো যে আম এবছর অনেক বেশি হয়েছে অবশ্যই আমি জানিনা আমার দেশে আম কেমন হয়েছে কারণ আমি তো বাংলাদেশের নাই যাই হোক আপনাদের ওখানে আম অনেক ভালো হয়েছে এটা আনন্দের বিষয় এবং আপনার শ্বশুর মশাই আম সম্পর্কে অনেক কিছু জানে এটা জানতে পেরে ভালো লাগলো এবং আপনার শ্বশুর মশাই আম সম্পর্কে হয়তো জানে তার অভিজ্ঞতা আছে সেই বিষয়ে বলে মনে হয় আমার।