গল্প- অচেনা অতিথি||
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি। মাঝে মাঝে গল্প লিখতে অনেক ভালো লাগে। তাই গল্প লেখার চেষ্টা করি। আজকে হঠাৎ করে মনে হলো একটি গল্প লিখে আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো। তাই গল্প লিখতে চলে এলাম। আশা করছি আমার লেখা গল্প সবার ভালো লাগবে।
অচেনা অতিথি:
Source
অয়ন সবেমাত্র ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। বন্ধু বান্ধবী তার একদমই নেই বললেই চলে। গ্রামের সহজ সরল ছেলেটি যখন শহরের বুকে পা রেখেছে তখন তার মনটা খুব একটা ভালো ছিল না। বন্ধু-বান্ধবী কেউ পাশে ছিল না। কারণ শহরের মানুষগুলো যে বড্ড বেশি আলাদা। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে তারা। কেউ কারো সাথে বন্ধুত্ব করতে চায় না। কিংবা কেউ কারো সাথে দুই মিনিট কথা বলতে চায় না। যে যার কাজে ব্যস্ত সময় কাটায়। কেউ ব্যস্ত থাকে চাকরি নিয়ে কেউবা পড়াশোনায়।
ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর অয়ন ভীষণ একাকীত্ব ফিল করতো। গ্রামের ফেলে আসা বন্ধু বান্ধবীদের কথা অনেক বেশি মনে পড়তো। তাদেরকে খুব বেশি মনে পড়তো তার। ছোটবেলার দিনগুলো থেকে শুরু করে কলেজ জীবনের দিনগুলো পর্যন্ত সেই মানুষগুলো তার পাশে ছিল তাদেরকে খুবই মনে পড়তো। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল তার দিনগুলো। হঠাৎ একদিন অচেনা একটি ফোন নাম্বার থেকে তার ফোনে এসএমএস এর মাধ্যমে মিষ্টি একটি বার্তা আসে। যদিও ইন্টারনেটের যুগে এসএমএস এখন খুব একটা কেউ দেয় না। তবে হঠাৎ করে অচেনা নাম্বার থেকে পাওয়া মিষ্টি কবিতাটি অয়নের অনেক ভালো লাগে।
একাকিত্বের মাঝে সময় কাটছিল অয়নের। তাই সময়টা নিজের মতো করে কাটানোর চেষ্টা করছিল অয়ন। কবিতার কিংবা মিষ্টি কথার বিনিময়ে তাকেও দু চার লাইন কবিতা পাঠাতো অয়ন। এভাবেই চলছিল তাদের কথোপকথন। সরাসরি তাদের কথা হয়নি। দেখতে দেখতে কেটে যায় আরো কিছুদিন। অয়ন তার জীবনের অচেনা অতিথি কে পেয়ে বেশ ভালোই আছে মাঝে মাঝেই তাদের এসএমএসে কথা হয়। অয়ন কেন জানি আজকাল সেই অচেনা অতিথির কথা অনেক বেশি মনে করে। হয়তো তাকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছে।
ধীরে ধীরে তার ভালোবাসা যেন আরো বেশি বেড়ে চলছিল। মেয়েটি তার সাথে কখনো কথা বলেনি। শুধু তার নামটি বলেছিল। যেটা ছিল তার ছদ্মনাম। অয়ন ধীরে ধীরে মেয়েটির প্রেমে পড়ে যায়। অচেনা অতিথির আগমনে অয়নের জীবনে প্রেমের ফুল ফোটে এবং সে নতুনভাবে নিজেকে চিনতে শেখে। বারবার আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আর নিজেকে দেখে। আসলে প্রেমে পড়লে হয়তো এমনই অনুভূতি হয়। সময়ের সাথে সাথে তাদের কথা যেন বেড়েই চলছিল। একে অন্যের এসএমএসের জন্য অপেক্ষা করতো। হঠাৎ একদিন সব শেষ হয়ে গেল। সেই অচেনা নাম্বারটি থেকে এসএমএস আসা বন্ধ হয়ে গেল। এরপর বাধ্য হয়ে অয়ন সেই নাম্বারটিতে ফোন করে। অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে কেউ একজন তার ফোন রিসিভ করে। পরে অয়ন জানতে পারি সে মেয়েটির বোন।
কান্না জড়িত কন্ঠে তার কথাগুলো শুনে অয়নের ভেতরটা শেষ হয়ে যায়। আসলে এতদিন যার সাথে কথা বলছিল সে আর কেউ নয় তার ছোটবেলার স্কুলের এক বান্ধবী ছিল। সে ছোট থেকেই তাকে পছন্দ করতো। কিন্তু কখনো বলতে পারেনি। অচেনা অতিথি হয়ে অনেকদিন পর তার জীবনে এসেছিল। কিন্তু সে তার জীবনে অতিথি হয়েই থেকে গেল। কারণ যখন মেয়েটি জানতে পেরেছে তার জীবনের সময় ফুরিয়ে এসেছে তখন সে তার জীবনের শেষ দিনগুলো তার ভালোবাসার মানুষটির সাথে একটু সময় কাটাতে চেয়েছিলাম। তাই তো সে এসএমএসে কথা বলতো। এরপর এসব শুনে অয়ন গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু তাদের দুজনের দেখা যে এতটা নির্মম হবে অয়ন বুঝতে পারেনি। শেষবারের মতো তার মুখটি দেখার সৌভাগ্য তার হয় না। অবশেষে তার কবরে দুমুঠো মাটি দিয়ে তার জীবনে আসা অচেনা অতিথি কে চিরকালের মতো বিদায় জানায় অয়ন।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
https://x.com/Monira93732137/status/1899107249412608403?t=7jE7QMwBAvgxPSYEdTIMLw&s=19
অয়নের ছোটবেলার স্কুলের সেই বান্ধবীর উচিত ছিলো, সুস্থ থাকা অবস্থায় অয়নকে সবকিছু খুলে বলা। আসলে ভালোবাসা কখন কিভাবে হয়ে যায়, সেটা টের পাওয়া যায় না। তবে কাউকে ভালোবেসে না বলতে পারলে,ভীষণ কষ্ট লাগে। যাইহোক মেয়েটি মৃত্যুর আগে এসএমএস এর মাধ্যমে তার ভালোবাসার মানুষ অর্থাৎ অয়নের সাথে কিছুটা হলেও সময় কাটাতে পেরেছে। গল্পটা পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো। এতো চমৎকার একটি গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মাঝে মাঝে ভালোবাসা গুলো অপূর্ণ থেকে যায়। হয়তো চাইলেও মনের কথা প্রকাশ করা হয়ে ওঠে না ভাইয়া।