জেনারেল রাইটিং-যৌতুকপ্রথা ও অসহায়ত্ব||আমার বাংলা ব্লগ

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার


আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজ আমি "আমার বাংলা ব্লগ" সম্প্রদায়ে একটি ব্লগ তৈরি করতে যাচ্ছি। লেখালেখি করতে আমার অনেক ভালো লাগে। তাই সময় পেলে লেখালেখি করার চেষ্টা করি। আসলে সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিয়ে লিখতে বেশি ভালো লাগে। মাঝে মাঝে লিখতে গিয়েও চোখে জল চলে আসে। তেমনি আজকে আমি যৌতুকপ্রথা ও অসহায়ত্ব নিয়ে কিছু কথা আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে চলে এসেছি। আশা করছি আমার লেখাগুলো পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে।


যৌতুকপ্রথা ও অসহায়ত্ব:

india-g1ac0e58bb_1920.jpg

Source


যৌতুক প্রথার ভয়াবহতায় নিঃস্ব হয়ে যায় একটি অসহায় পরিবার। নিঃস্ব হয়ে যায় সেই মধ্যবিত্ত পিতা-মাতা। হয়তো যৌতুকের তাড়নায় নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেয় তারা। তবুও কি তার সন্তানের সুখ কিনতে পারে কখনো? হয়তো ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় নিজের সর্বস্ব দিয়ে সন্তানের সুখ কেনার চেষ্টা করে। দিন শেষে সেই লোভী মানুষগুলোর কাছে তার সন্তান কতটুকু ভালো থাকে সেটা বুঝতেই পারেনা। অসহায় বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে তার আদরের কন্যার হৃদয় ফেটে যায়। হয়তো নিজের চিকিৎসার জন্য জমিয়ে রাখা টাকা দিয়ে মেয়ের সুখ কেনার চেষ্টা করে সেই বাবা। হয়তো নিজের চিকিৎসা করানো আর হয়ে ওঠেনা। মেয়ের সুখ দেখার জন্য সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যায় বাবা।


মেয়েটির বাবা মরেছে বছর দুইয়েক আগে। ভাইয়ের সংসারে মা মেয়ে যেন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুরু হয়েছে তার বিয়ের তোড়জোড়। ভাইরা যেন কারো হাতে তাকে তুলে দিতে পারলেই বেঁচে যায়। তার বিনিময়ে নাকি তাকে তার বাবার সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে। নিজের বাবার কাছ থেকে পাওয়া সম্পদ ভাইদের হাতে তুলে দিতে হয় তার। এভাবে নিঃস্ব হয়ে যায় পিতৃহারা সেই মেয়েটি। এরপর তিলে তিলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় তার হৃদয়। একদিকে হারিয়ে ফেলে নিজের বাবাকে। একদিকে হারিয়ে ফেলে নিজের বাবার শেষ স্মৃতিটুকু। তার বিনিময়ে খুঁজে পায় শুধুই লাঞ্ছনা। সে বিয়ের পরে আপন করে পায় এমন একটি পরিবার যারা কিনা মেয়ের বাবার সম্পত্তির আশা করেছিল। যখনই তারা জানতে পারে সে শূন্য হাতে এই বাড়িতে এসেছে তখনই শুরু হয়ে যায় তার জীবনের বাস্তব নির্মমতা।


আজ তার গায়ে হলুদ। অনেক স্বপ্ন নিয়ে একটি মেয়ে স্বামীর ঘরে যায়। নিজের মাকে হারিয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। মায়ের দেওয়া গহনা গুলো যত্ন করে তুলে রেখেছে তার বাবা মেয়েকে দিবে বলে। গহনা গুলো সযত্নে রেখেছিল। দেখতে দেখতে বিয়ে হয়ে যায়। মেয়েটি পদার্পণ করে নতুন জীবনে। নতুন জীবনে নতুন স্বপ্ন আশা নিয়ে নতুন জায়গায় প্রবেশ করে। বিয়ের পর দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় তাকে নিয়ে কটু কথা। কেউ একজন শুনিয়ে শুনিয়ে বলে পুরনো দিনের গহনা দিয়ে মেয়েকে গছিয়ে দিয়েছে। গহনা দেবার কথা বলে পুরনো কিছু পাতলা গহনা পরিয়ে দিয়েছে। এসব কথাগুলো যখন মেয়েটির কানে বাজে তখন দু চোখের কোনায় পানি চলে আসে। হয়তো চিৎকার করে কাঁদতে পারেনা। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। হয়তো এভাবেই যৌতুকপ্রথার কারণে হাজারো মেয়ের স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙে যায়। হয়তোবা মায়ের দেওয়া শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে পারে না। হয়তো সেই স্মৃতির গহনা গুলো বিক্রি করে তাদের হাতে তুলে দিতে হয়। মেয়েটির স্বপ্নের সাথে সাথে যেন মায়ের স্মৃতিগুলো হারিয়ে যায়। আর হারিয়ে ফেলে জীবনে বেঁচে থাকার ইচ্ছে গুলো।


দিনমজুর বাবার ঘরে জন্ম নেয়া মেয়েটি প্রতিদিন বাবাকে বলে আমাকে নিয়ে তুমি আর ভেবো না। বাবা অবাক চোখে মেয়েটির দিকে তাকায়। আর মনে মনে ভাবে তোকে একটা ভালো ছেলের হাতে তুলে দিতে পারলেই আমি সার্থক। কিন্তু হায় এই সমাজের মানুষগুলো লোভী প্রকৃতির। বিয়ের কথা হতে না হতেই যৌতুকের কথা আগে বলতে শুরু করে যে লোকটি দিন অনেক দিন খায় তার জন্য যৌতুকের টাকা জোগাড় করা যে কতটা কষ্টের সেটা শুধু সেই ভাব জানে। তবুও মেয়ের সুখের কথা ভেবে দিনরাত পরিশ্রম করে হয়তো মেয়ের সুখ কেনার জন্য বাবার এতটুকুই প্রচেষ্টা। ধার দেনা করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেয়। তবুও কি তার মেয়ে ভালো আছে? হয়তো ভালো আছে কিংবা বাবাকে খুশি রাখার জন্য মিথ্যা অভিনয় করছে।


যৌতুক প্রথার কারণে হাজারো বাবা ঋণগ্রস্ত হয়ে পরছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শেষ বয়সে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকে তারা। হয়তো তারা কাউকে বুঝতে দেয় না। হয়তো মেয়েকে খুশি করাই যেন তাদের জীবনের সার্থকতা। কিন্তু এভাবেই না বলা কথাগুলো বাবার মনে চাপা পড়ে থাকে। হয়তো নিরবে নিভৃতে চোখের জল মোছে। কিংবা সবার আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এভাবেই হয়তো যৌতুক প্রথা একটি পরিবারকে অসহায় করে তোলে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত মানুষদের কাছে যৌতুক প্রথা এক প্রকারের অভিশাপ। সেই অসহায় পিতার মুখের দিকে তাকালে হৃদয় থেকে চিৎকার চলে আসে। সেই অসহায় বাবার চিৎকার হয়তো কেউ দেখে না। হয়তো সবাই দেনাপাওনার হিসাব করে। কিন্তু সেই অসহায় পিতার কষ্টের হিসাব রাখে না। ভেতরে হাজার কষ্ট নিয়ে তৃপ্তির হাসি যার মুখে ফুটে উঠে সেই হচ্ছে বাবা।


যৌতুক প্রথার ভয়াবহতার কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কেউ হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে চাই না। কেউ কখনো সেই অসহায় পিতার অবস্থান বুঝতে চায় না। কেউ কখনো সেই পরিবারের সমস্যা বুঝতে চায় না। শুধুমাত্র মুখে বলি যৌতুকপ্রথা আমাদের জীবনের অভিশাপ। কিন্তু আমরা যদি এই বিষয়ে সোচ্চার হই এবং সেসব মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই তাহলে হয়তো হাজারো অসহায় পিতা-মাতা ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে মুক্তি পাবে। কিংবা দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারবে। হয়তো ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকা যায়। কিন্তু ভালোভাবে বেঁচে থাকা যায় না। আমরাই পারি সেসব মানুষকে শান্তিতে বাঁচতে দিতে। এজন্য প্রয়োজন সবার মাঝে সচেতনতা। সবার মাঝে যদি সচেতনতা থাকে এবং প্রতিবাদ করার স্পৃহা থাকে তাহলে একদিন সমাজ বদলাবে। আমার লেখাগুলো আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে জানিনা। তবে আমি চেষ্টা করেছি জীবনের বাস্তবতা থেকে কিছু কথা লিখে উপস্থাপন করার জন্য।


❤️ধন্যবাদ সকলকে।❤️

Sort:  
 3 years ago 

ঠিক বলেছেন আপু আমরা শুধু মুখে বলি যৌতুক প্রথা অভিশাপ কিন্তু কাজে কেউ কখনো করে দেখায়নি। আমরা সচেতন নাগরিক নই তারজন্য আজও যৌতুক প্রথা বন্ধ হচ্ছে না। এই সমাজকে যৌতুক প্রথার হাত থেকে মুক্ত করতে চাইলে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। যৌতুক প্রথার জন্য একটি মেয়ের জীবন যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি একটি পরিবারের স্বপ্নও শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনার এই পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন আপু আমরা শুধু মুখে বলি যৌতুক প্রথা আমাদের জীবনের অভিশাপ। কিন্তু আমরা কাজে কর্মে তা করে দেখাই না। তবে এভাবে হাজারো পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এখন থেকেই আমাদের নিজ দায়িত্বে সোচ্চার হওয়া উচিত।

 3 years ago 

যৌতুক আমাদের সমাজে এখনো আছে অতীতেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে এর থেকে কোন রেহাই পাওয়া যাবে না। যৌতুকের কারণে আমাদের দেশে হাজার হাজার নারী বিয়ে দিতে পারছে না। তাছাড়া যাদেরকে বিয়ে দেওয়া হয় প্রচুর যৌতুকের বিনিময়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যারা যৌতুক দিয়ে বিয়ে করে তারা কখনো সংসার জীবনে সুখী হতে পারেনা। এমন অসহায়ত্ব থেকে আমাদের সমাজ কখনো পরিত্রাণ পাবে না এমন মনে হয়। অনেক সুন্দর লিখেছেন আপু ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন আপু যৌতুক প্রথা আগে যেমন ছিল ঠিক এখনো সেই আগের মতই আছে। হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে। অসহায় পরিবার গুলো এর ভয়াবহ তা থেকে মুক্তি পাবে না। যদি আমরা যৌতুক প্রথার নির্মমতা সবার মাঝে উপস্থাপন করি তাহলে হয়তো সেই অসহায় পরিবারগুলো রক্ষা পাবে।

 3 years ago 

যৌতুক প্রথা একটি ব্যাধি। আমি বিয়ে করেছি একদম ফ্রি মাইন্ডে তবুও আমার একটু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে পাড়ার মিথ্যার রটেছিল কোন এক খারাপ সমাজ। যারা বলেছিল আমি নাকি যৌতুক নিয়েছি পরবর্তীতে আমার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে এবং যারা উপস্থিত ছিল তারা বলছে না এই ছেলেটা এই কাজ করে নি। আমি যৌতুক প্রথাকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করি। আমি চাই আমাদের সমাজ থেকে এই খারাপ কার্যকলাপগুলো দূর হয়ে যায়।

 3 years ago 

কিছু কিছু মানুষ আছে অন্যের সম্পর্কে মিথ্যা কথা রটায়। আসলে কিছু কিছু মানুষের স্বভাব এমন। তবে যাই হোক ভাইয়া আপনি যৌতুক প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে বিয়ে করেছেন জেনে সত্যিই ভালো লাগলো। আপনার দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা রইলো ভাইয়া।

 3 years ago 

আসলে আপু আমরা দিন দিন আমাদের মানবিক গুণাবলী হারিয়ে ফেলছি। যার কারণে যৌতুকপ্রথা আমাদের সমাজে আজও বিদ্যমান।যৌতুক প্রথা আমাদের জন্য একটি অভিশাপ। এই যৌতুক প্রথার কারণে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হচ্ছে এমনকি অর্থনৈতিকভাবে একেবারেই ভেঙে পড়ছে। আমাদের সকলের উচিত যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং জোরালো অবস্থান নেওয়া। খুবই সময়োপযোগী একটি বিষয় নিয়ে দারুণ একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন ভাইয়া আমরা সময়ের সাথে সাথে নিজেদের মানবিকতা হারিয়ে ফেলছি। আসলে লোভের কারণে সমাজের এই অবস্থা। আমরা যদি নিজেদের জায়গা থেকে সংযত হই তাহলে আমাদের পরিবার যেমন রক্ষা পাবে তেমনি অন্য একটি অসহায় পরিবার রক্ষা পাবে।

 3 years ago 

আসলে আমাদের সমাজে অনেক মেয়ে আছে, যারা যৌতুকের জন্য প্রতিনিয়ত শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। এতে করে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমাদের সবার উচিত যৌতুকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। যাইহোক এমন সচেতনতা মূলক একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.078
BTC 61583.79
ETH 1637.38
USDT 1.00
SBD 0.41