গল্প-সুহাসিনীর গল্প||
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি। মাঝে মাঝে গল্প লিখতে অনেক ভালো লাগে। বিশেষ করে যখন গল্প লিখতে অনেক ভালো লাগে তখনই গল্প লিখার চেষ্টা করি। সত্যি কথা বলতে গল্প লিখতে গেলে মানসিক প্রস্তুতি অনেক বেশি দরকারি। জানিনা আমার লেখা গল্পটি আপনাদের কেমন লাগবে। আশা করছি ভালো লাগবে।
সুহাসিনীর গল্প:
Source
সুহাসিনী আজ নিজেকে মুক্ত পাখির মত মনে করছে। অনেক দ্বিধাদ্বন্দের মাঝে বেঁচে ছিল এতদিন। কাউকে কিছু বলতে পারেনি। নীরবতায় ভেতরটা তার শেষ হয়ে যাচ্ছিল। ভেতরের চাপা কষ্ট তাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিল। কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারেনি। অবশেষে তার সব ক্লান্তি যেন শেষ হলো। তার ভেতরের দ্বিধাদ্বন্দ্ব যেন আজ মুক্তি পেল। সুহাসিনী বড্ড হাসিখুশি একটি মেয়ে। গ্রামের সহজ সরল সুহাসিনী সবাইকে মাতিয়ে রাখত। মেয়েটি দেখতে যেমন মিষ্টি তেমনি তার মিষ্টি হাসি। পরিবারের সবার অনেক আদরের সুহাসিনী।
হঠাৎ করেই তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। সুহাসিনী তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তো। বয়সটা তার খুবই অল্প। ডানপিটে মেয়ে এগ্রাম ওগ্রাম ঘুরে বেড়াতো। খেলাধুলা আর নাচ গানে মেতে থাকতো। তার জীবনের চঞ্চলতাই যে একদিন তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ালো। সুহাসিনী তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। সকালবেলায় আম কুড়াতে গিয়েছিলাম মেয়েটা। তার যে আম কুড়াতে ভীষণ ভালো লাগে। ভোরের আলো আঁধারের মাঝে মেয়েটা ছুটে চলে গিয়েছিল গ্রামের ওই প্রান্তরের আম গাছের তলায়। সেই হালকা আঁধারের মাঝে যে তার জীবনেও আঁধারের নেমে আসবে বুঝতেই পারেনি মেয়েটি।
সুহাসিনী যখন আম কুড়াচ্ছিল তখন তার পাশ দিয়ে পাশের বাড়ির এক মুরুব্বী যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে সুহাসিনী অনুভব করে কেউ একজন তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরেছে। সুহাসিনী ভয়ে আতকে উঠেছে। হয়তো সেই বয়সটাতে ভূতের ভয় বড্ড বেশি ছিল। কিন্তু মানুষ রুপী জানোয়ার যে আরও বেশি ভয়ংকর সেটা সুহাসিনী কিছুক্ষণ পরেই বুঝতে পেরেছিল। তার মুখ চেপে ধরে রেখেছিল লোকটি।। চিৎকার করার মত শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল মেয়েটি। দুচোখ দিয়ে জল পড়ছিল অঝরে। ভোরের আলো আঁধারীর মাঝে সুহাসিনী তার সতীত্ব হারিয়ে ফেলে।
সেদিনের পর থেকে যেন সুহাসিনী হাসতে ভুলে গিয়েছিল। কাউকে কিছু বলতে ভুলে গিয়েছিল। অজানা আতঙ্ক যেন তাকে শেষ করে দিয়েছিলো। তার ভেতরের ভয় যেন তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। সেই লোকটি তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল। তাই ছোট্ট মেয়েটি কাউকে কিছু বলতে পারেনি। তার ভেতরের কষ্টটা ভিতরে চাপা রেখেছিল। কিন্তু সেই কষ্ট তাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিল। মেয়েটি বেঁচে থেকেও যেন মরার মত হয়ে গিয়েছিল। হাসতে ভুলে গিয়েছিল, খেলতে ভুলে গিয়েছিল। কাউকে দেখলেই যেন সে ভয়ে আতকে উঠতো। কারো সাথে ঠিকমতো কথাও বলত না।
দেখতে দেখতে কেটে যায় কয়েকটি বছর। সুহাসিনী দশম শ্রেণীতে পড়ে। কেটে গেছে বেশ কয়েক বছর। মেয়েটি হয়তো নিজেকে স্বাভাবিক করে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেই দ্বিধা আজও তার মনে বেঁচে আছে। তাই সে তার সব দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে চায়। পরিবারের সবাইকে ডেকে তার সাথে হয়ে যাওয়া অন্যায়ের ঘটনাটি সবাইকে খুলে বলে। পুলিশ লোকটিকে ধরে নিয়ে যায়। পুলিশের কাছে সবকিছু স্বীকার করে লোকটি। অবশেষে সুহাসিনী তার হাসি ফিরে পেয়েছে। তার আত্মসম্মান ফিরে পেয়েছে। সে আবারও দ্বিধাহীন ভাবে বাঁচতে শুরু করেছে।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
https://x.com/Monira93732137/status/1895406764562252147?t=oAiezO4NdM-523VGb5q2ng&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপু আপনি খুব সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করেছেন। আপনার লেখা গল্প পড়তে খুব ভালো লাগে। সুহাসিনীর জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা সবাইকে বলে সে আজ মুক্ত স্বাধীন হয়েছে। এই পৃথিবীতে ভূতের ভয়ের চেয়ে বর্তমানে কিছু মানুষ নামের পশুর ভয় বেশি রয়েছে। সুহাসিনী হয়তো ছোট ছিল বলেই এতটা ভয় পেয়েছিল। যারজন্য সে এতদিন চুপ ছিল। তবে অবশেষে সে লোকটি কে শাস্তি দিয়ে নিজেকে স্বাধীন করেছে এটা সত্যিই সুহাসিনীর জন্য স্মরনীয় একটি দিন। বাস্তবে প্রতিটা মেয়ে যদি এভাবে অপারাধীদের ধরিয়ে দিতো তাহলে হয়তো এই পৃথিবীটা অপরাধ মুক্ত থাকতো। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করার জন্য।
সমাজে এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। তবে মেয়েদের ভয় না পেয়ে সত্য বলার মানসিকতা থাকতে হবে। তবেই মুখোশধারী জানোয়ারগুলো বেরিয়ে আসবে। সুহাসিনী অবশেষে তার হাসি ফিরে পেয়েছে জেনে বেশ ভালো লাগলো।
বর্তমান সমাজে এরকম ঘটনা অনেক বেশি ঘটছে। নারীরা এখনো পর্যন্ত স্বাধীন হতে পারেনি। যেখানে সেখানে নির্যাতিত হচ্ছে তারা। মানুষরূপী জানোয়ারদের কাছে নারীরা হেরে যায়। তাদেরকে শেষ করে দিয়ে সে জানোয়ার গুলো চলে যায়। সুহাসিনী শেষ পর্যন্ত বন্দী একটা জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে।। এই জানোয়ারটাকে পুলিশের ধরে নিয়েছে দেখে ভালো লাগলো। আমি মনে করি তাকে উচিত তিলে তিলে মেরে ফেলা।
সুহাসিনীর গল্প পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আসলে আপু পুলিশের সহয়তায় হয়তো সুহাসিনী নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ পেয়েছে। তাই সুহাসিনী আবার নতুন জীবন পেয়েছে। ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটা গল্প আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
মানুষরূপী অমানুষ গুলো এই ধরনের জঘন্য কাজে লিপ্ত হতে পারে। সুহাসিনীর জন্য সত্যিই খুব খারাপ লাগলো। কিন্তু সে পরবর্তীতে সবকিছু খুলে বলেছে এবং লোকটার বিচার হয়েছে, এটা জেনে খুব ভালো লাগলো। বেশ ভালো লাগলো গল্পটা পড়ে। এতো চমৎকার একটি গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।