গল্প-অনুরাধার গল্প||
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি। গল্প লিখতে ভালো লাগে। তাই মাঝে মাঝে গল্প লিখি। আজকেও নতুন একটি গল্প আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।
অনুরাধার গল্প:
Source
অনুরাধা ভাবতেও পারিনি আজ তার জীবনের এই পরিণতি হবে। বড্ড হাসিখুশি মেয়েটা ধীরে ধীরে কেন জানি মলিন হয়ে গেল। বিষন্নতা তার জীবনটাকে শেষ করে দিল। অনুরাধা বনেদি বাড়ির মেয়ে। ঘটা করে বিয়ে হয়েছিল তার। বড় ঘরে বিয়ে দিয়েছিল তার বাবা-মা। বর তার বড় ব্যবসায়ী। বয়সের তফাৎটাও অনেক বেশি। পৈতৃক সম্পত্তি আর ব্যবসা সবকিছু মিলিয়ে কোন কিছুর কমতি ছিল না। অনুরাধার তখন খুব একটা বয়স নয়। কিশোরী অনুরাধা অনেক স্বপ্ন বুকে নিয়ে স্বামীর ঘরে প্রবেশ করেছিল। ভালো-মন্দ বুঝে ওঠার বয়স খুব একটা হয়নি তার। কেটে যাচ্ছিলো তার দিনগুলো।
নতুন সংসার, নতুন পরিবেশ সবকিছুর সাথে অনুরাধা নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। বাবা-মা, ভাই-বোন আর খেলার সাথীদের কথা বড্ড বেশি মনে পড়তো তার। তাই মন চাইতো ছুটতে চলে যেতে সেই মাঠের প্রান্তরে। কিন্তু সময় যে বদলে গেছে। অনুরাধা নিজের বুকে কষ্ট চেপে রাখতে শিখে গেছে। মন খারাপের মাঝেও ভালো থাকা খুঁজে নিয়েছে। দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি বছর। অনুরাধা নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। সবকিছু মেনে নিয়েছে বাস্তবতা বুঝতে শিখেছে। এখন আর মন খারাপ হলেও চোখের পানি পড়ে না। নিজের কষ্ট লুকাতে শিখে গেছে সে।
দিনগুলো ভালোই কাটছিল তার। ধীরে ধীরে সময় যত যেতে লাগলো অনুরাধা যেন সংসারের মায়ায় নিজেকে আষ্টেপিষ্টে বেঁধে ফেললো। কিন্তু তার এই মায়ার বাঁধন একদিন ছিন্ন হয়ে গেল। মরন ব্যাধিতে আক্রান্ত হল অনুরাধার স্বামী। অর্থ, সম্পত্তি কিংবা প্রতিপত্তি কোন কিছু অভাব ছিল না তাদের। ডাক্তার, কবিরাজ, ঔষধ সবকিছুই চলছিল সময় মত। কিন্তু তাকে আর ফেরানো গেল না। অল্প বয়সে বিধবা হয়ে গেল অনুরাধা। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই বেছে নিল সাদা শাড়ি। সিথি রাঙানো লাল টুকটুকে সিঁদুর আর নেই তার কপাল জুড়ে। মেয়েটা জীবন্ত লাশ হয়ে গেল।
বিধবা নারীর ঠাঁই হলো বাড়ির এক ছোট্ট কুঠিরে। যে বাড়িতে তার স্বামী নেই সেই বাড়িতে তার যেন কোন মূল্যই রইলো না। সবাই যেন তাকে অপয়া অলক্ষী উপাধি দিতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ছোট্ট অনুরাধা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ল। ছোট্ট কুঠিরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করলো। চার দেয়ালের আধারের মাঝে অনুরাধা যেন নিজের জীবন বন্দী করে নিল। কিন্তু এভাবে কি আর বাঁচা যায়? এভাবে চলতে চলতে একদিন অনুরাধা ভীষণ অসুস্থ হয়ে গেল। বাবার ঘরে ঠাঁই হলো তার। বৃদ্ধ বাবা অনুরাধাকে বাড়ি নিয়ে গেলেন ঠিকই কিন্তু তার ভাবি যে তাকে বাড়িতে ঠাঁই দিতে নারাজ।
অনুরাধা বুঝে গেল বাবার ঘরেও ঠাঁই হবে না তার। বৃদ্ধ বাবার কিছুই করার ছিল না। ভাই ভাবির ঘরে এসেও সে বড্ড অবহেলিত। তার জীবনের পরিণতি সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। বেরিয়ে পড়ল অজানা গন্তব্যে। গন্তব্যহীন জীবনে যেন অনুরাধা বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই হারিয়ে ফেলেছে। অসুস্থ শরীরে সে ভীষণ ক্লান্ত। স্বামীর কথা তার বড্ড বেশি মনে পড়তে লাগলো তার। ফিরে গেলো স্বামী ঘরে। সেখানেও কম কথা শুনতে হয়নি তাকে। স্বামী হারালো, সংসার হারালো, আপন জনের কাছ থেকে অবহেলা পেল, সবকিছুই যেন তাকে শেষ করে দিচ্ছিল। অসুস্থতা দিনে দিনে বাড়তে লাগলো। শুরু হয়ে গেল রক্তবমি। ছোঁয়াচে রোগ ভেবে কেউ তার ঘরে গেলো না। সেই ছোট্ট কুঠিরে তিলে তিলে শেষ হয়ে গেল একটি ফুলের মত মেয়ে। শেষ হয়ে গেল অনুরাধার জীবনের গল্প।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
https://x.com/Monira93732137/status/1924081723131953284?s=19
https://x.com/Monira93732137/status/1924084374318018887?t=2124DmVAsEAIc2JWL8iqyg&s=19
https://x.com/Monira93732137/status/1924084818570317855?t=HrrOWtWuhCm9mYkO-zDT8w&s=19
https://x.com/Monira93732137/status/1924085554104434962?t=MAtHoMRwbTu7KmEQA5yPHg&s=19
https://x.com/Monira93732137/status/1924085878831669383?t=8tNHlwUQVX4t0b-3ORxb7w&s=19
অনুরাধার গল্পটি পড়ে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠলো। সমাজের এক নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে আপনি অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন। ভাষার সরলতা ও গভীর আবেগ গল্পটিকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। অনুরাধার নিঃসঙ্গতা, কষ্ট আর অবহেলা যেন চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠলো। এমন মানবিক ও সমাজমনস্ক গল্প উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।