জেনারেল রাইটিং- দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অসহায়ত্ব||আমার বাংলা ব্লগ [10% shy-fox]

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার


আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজ আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটিতে জেনারেল রাইটিং এর উপর একটি পোস্ট শেয়ার করতে যাচ্ছি। আমরা সবসময় হয়তো পোষ্টের মাঝে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করি। তাইতো আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট তৈরি করে আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আমরা সবাই লক্ষ্য করছি। আর এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জন্য আমাদের মত সাধারন মানুষের মাঝে অসহায়ত্ব কতটা বেড়ে গেছে সেটা কখনো কেউ বুঝতেই পারেনা। সেই বিষয় নিয়ে কিছু কথা আজকেও উপস্থাপন করতে যাচ্ছি।


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অসহায়ত্ব:

old-man-g87d636444_1920.jpg

Source


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ছোঁয়া লেগেছে বাজারে। বাজারে গেলেই যেন মানুষের মাঝে অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে। আমাদের মত সাধারন মধ্যবিত্ত মানুষরা এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কষাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে। আর বেড়ে যাচ্ছে অসহায়ত্ব। হয়তো সেই অসহায়ত্বের হাহাকার কেউ দেখে না। কিংবা বোঝার চেষ্টা করেনা। আসলে এই সমাজের মানুষগুলো যে যার মত। কে না খেয়ে আছে এটা দেখার সময় নেই কারোর। যারা দুবেলা ভাতের জোগাড় করতে পারেনা তারা দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির মাঝে টিকে থাকবে কি করে এটা কখনো কেউ ভেবেই দেখেনা। যেই অসহায় মানুষগুলো দুবেলা লবণ দিয়ে ভাতের জোগাড় করতে পারেনা তাদের কাছে মাছ কেনার স্বপ্ন দেখা বিলাসিতা।


একজন অসহায় পিতা যখন বাজারে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসে তখন তার পরিবারের মুখে যেমন হাহাকার ফুটে ওঠে তেমনি সেই অসহায় পিতার হৃদয় ভেঙে যায়। হয়তো সে হাজারো চেষ্টা করেও তার পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারেনি। হয়তো তার সামর্থ্য অনুযায়ী এক মুঠো ভাতের জোগাড় করতে পেরেছে। ছোট্ট ছেলেটা মাছ খেতে চেয়েছিল। সেই মাছের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। আর সেই অসহায় পিতা সেই আগুনে নিজের হৃদয় পুড়ে ফেলেছে। নিজের সন্তানের ইচ্ছে পূরণ করতে পারেনি সেই অসহায় পিতা। আর সেই সাথে সেই পিতার হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। হয়তো তার ছোট্ট সন্তানের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর মত মুখ নেই তার। তবুও যেন হাসি মুখে আবারও আশ্বাস দিয়ে বলছে কালকে তোমার জন্য মাছ এনে দেবো। আসলে সে আশ্বাস শুধুই মিছা আশ্বাস।


একজন মা নিজের সংসার চালানোর জন্য দিনের পর দিন না কাটাচ্ছে। দুমুঠো চাল যদি ঘরে না থাকে তাহলে উপবাসেই হয়তো তাদের দিন কেটে যায়। তাইতো নিজে না খেয়ে এক মুঠো করে চাল জমিয়ে রাখছে পরের দিনগুলোর জন্য। নিজের সন্তানদের মুখে যেন খাবার তুলে দিতে পারে সেই চিন্তা সারাক্ষণ বিষন্ন করে রাখে তাকে। সবকিছুই যেন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব। এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। এমনকি পাশে এসে বলেলি তারা খেয়েছে কিনা। কিংবা বলেনি কালকের জন্য চাল আছে কিনা। যারা দুমুঠো ভাতের জোগাড় করতে হিমশিম খায় তারা কি করে এক বেলা মাছ ভাত খাবে সেটা ভাবতেই অবাক লাগে।


একজন বৃদ্ধ পিতার দায়িত্ব কেউ নেয়নি। সন্তানরা যে যার মত সংসার বেঁধেছে। তারা নিজেদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে তারা কি করে বৃদ্ধ পিতা মাতার দায়িত্ব নেবে এটা তাদের কথা। আসলে শেষ বয়সে এসে সেই মানুষগুলোকে বেঁচে থাকার লড়াই করতে হয়। আর বেঁচে থাকার লড়াই করা যখন তাদের কাছে এতটা কঠিন তখন তারা কি করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে টিকে থাকবে এবং বেঁচে থাকবে এটা ভাবতেই অবাক লাগে। মাঝে মাঝে যখন বিষন্ন সেই বৃদ্ধ লোকের মুখের দিকে তাকাই তখন মনের অজান্তেই তার মনের কথাগুলো বুঝে ফেলতে ইচ্ছে করে। তবুও যেন আমরা অসহায়। কারণ আমরাও যে মধ্যবিত্ত। হয়তো মধ্যবিত্তদের গল্প গুলো এমনই হয়।


একজন দিনমজুর বাবা নিজে অক্লান্ত পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য খাবারের যোগান করেন। যেখানে তার পারিশ্রমিক বাড়েনি সেখানে কি করে সে তার পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিবে। চাল কিনতে যখন সব টাকা শেষ তখন কি করে ডাল কিনবে এটা কখনো কেউ ভেবে দেখে না। হয়তো সে বেঁচে আছে তার পরিশ্রমের ফলে। যেদিন শরীর নিস্তেজ হয়ে যাবে সেদিন হয়তো কেউ খবর নিয়েও জানতে চাইবে না আজ তুমি কি খেলে। আর তোমার পরিবার না খেয়ে আছে কিনা। দিনমজুরের ছোট্ট মেয়েটা বায়না করেছে লাল জামা কিনবে বলে। যেখানে একজন দিনমজুর চাল ডাল কিনতে ব্যর্থ সেখানে কি করে মেয়ের জন্য লাল জামা কিনবে এই কথা ভাবতেই তার দুচোখ জলে ভিজে যায়। আর ঘামের গন্ধ মাখা কাঁধের গামছা দিয়ে দু চোখের জল মুছে।


বাজারে গেলে একজন মধ্যবিত্ত পিতার অসহায়ত্ব দেখে হৃদয় কেঁপে ওঠে। অনেক যাচাই বাছাই করেও যখন পরিবারের জন্য ভালো কোন খাবার কিনতে পারেনা তখন তার মুখে বিষন্নতার ছায়া পড়ে যায়। মনে হয় যেন সে তার পরিবারের জন্য কিছুই করতে পারল না। বাজার থেকে ফেরার সময় হয়তো তার বাজারের ব্যাগ শূন্যই রয়ে যায়। আর বাড়ি গেলে তার ছোট্ট মেয়েটি দৌড়ে এসে বলবে, বাবা আমার জন্য কি আমার পছন্দের পুতুলটা এনেছো? তখন বাবা বিষন্ন মুখে একটুখানি হাসি এনে বলবে কালকে এনে দেবো। মেয়ের মন খারাপ দেখে বাবার হৃদয় ভেঙ্গে যায়। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে যেখানে সংসার চালানো মুশকিল সেখানে মেয়ের ছোট্ট চাওয়া পূর্ণ করাও একজন মধ্যবিত্ত অসহায় পিতার কাছে বড়ই কঠিন।


এভাবেই হয়তো প্রতিনিয়তই অসহায়ত্ব প্রকাশ। আর দিনে দিনে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েই যাচ্ছে। সাধারণ মানুষরা নিজেদের পরিবার নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। হয়তো না বলা কথাগুলো কখনো কাউকে বলতে পারেনা তারা। কিংবা কেউ শুনতেও চায় না। এভাবেই কেটে যাচ্ছে আমাদের মত মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন।


❤️ধন্যবাদ সকলকে।❤️

Sort:  
 3 years ago 

অসাধারণ লিখেছেন আপু।আমাদের মত নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষদের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। এই দু:খ দেখার কেউ নেই। কত কত পিতামাতার চাপা কান্না দেখার কেউ নেই। ধন্যবাদ আপু এই চাপা কান্না তুলে ধরার জন্য।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন ভাইয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের ভীষণ কষ্ট হয়েছে। হয়তো সেই কথাগুলো কাউকে বলতে পারেনা। তবে ভিতরে জমা চাপা কান্না গুলো চোখের জলে ঝরে পড়ে। ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্ট পরিদর্শন করার জন্য এবং মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

অনেক মূল্যবান কথাগুলো লিখেছেন আপু পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আসলে বর্তমান সময়টাই এমন খারাপ যাচ্ছে বলার মতো না যারা দিনে আনে দিন খাই তাদের অবস্থা আরো খারাপের দিকে। এমন পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে একসময় দেশের মধ্যে দুর্ভিক্ষ চলে আসবে।মানুষ যদি আগে থেকে সচেতন না হয় তাহলে অনেক কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে।

 3 years ago 

আপু আমি চেষ্টা করেছি বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপট এবং দ্রব্যমূল্যের দামের উপর ভিত্তি করে সমাজের মানুষের অবস্থা নিয়ে লেখার জন্য। সত্যি আপু পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপের দিকে যাচ্ছে। সবাইকে সচেতন হওয়া উচিত।

আপনি যে প্রসঙ্গগুলো তুলেছেন এখানে, সবগুলোই যুক্তিযুক্ত এবং সঠিক কথা। এই দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতির বাজারে মানুষ এখন হিমশিম খাচ্ছে বেচেঁ থাকতে। নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদের অবস্থা বেশ কাহিল। আপনার আজকের লেখাটা বেশ সুন্দর একটা টপিক্সের উপর ছিল। আমি নিজেও বেশ কিছুদিন আগে এরকম একটা বিষয় নিয়ে লিখেছিলাম।

 3 years ago 

আসলে এরকম ঘটনা সব সময় ঘটে যাচ্ছে। তাই তো সেই প্রসঙ্গ গুলো নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি
মানুষ এখন হিমশিম খেয়ে বেঁচে আছে। বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদের অবস্থা আরো বেশি খারাপ। আপনার লেখা আমি পড়েছিলাম কিছুদিন আগে। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।

 3 years ago 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে আসলেই মানুষের দুঃখের সীমা নেই। দিনমজুর এবং খেটে খাওয়া মানুষগুলোর যে কি অবস্থা হচ্ছে সেটা শুধুমাত্র তারা ছাড়া কেউ বুঝতে পারে না। আপনার আজকের বিষয়গুলো একদমই বাস্তবমুখী ছিল। এগুলো নিয়ে কথা বলার লোক আসলে খুব বেশি একটা পাওয়া যায় না।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন ভাইয়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষের দুঃখের শেষ নেই। বিশেষ করে দিনমজুর এবং খেটে খাওয়া মানুষগুলো আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। আমি বাস্তব চিন্তাধারা থেকে লেখাগুলো লিখার চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।

 3 years ago 

আপু খুব সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে আজ পোস্ট শেয়ার করেছেন। খুব ভাল লাগলো। সত্যি সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে বেঁচে থাকা খুব কঠিন।মানুষ আজ খুব অসহায়।কেউ নেই শোনার। কাকে বললে হবে সমাধান,তা কারোই জানা নেই। ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

আপু আমি চেষ্টা করেছি বাস্তব প্রেক্ষাপট এবং অসহায় মানুষের কিছু কথা তুলে ধরার জন্য। আসলে এর সমাধান কেউ দিতে পারবে না। এমনকি কারো কথা কেউ শুনতেও চায় না। ধন্যবাদ আপু মন্তব্যের জন্য।

Hi, @monira999,

Thank you for your contribution to the Steem ecosystem.

Your post was picked for curation by @rex-sumon.


Please consider voting for our witness, setting us as a proxy,
or delegate to @ecosynthesizer to earn 100% of the curation rewards!
3000SP | 4000SP | 5000SP | 10000SP | 100000SP

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.103
BTC 64366.61
ETH 1882.31
USDT 1.00
SBD 0.37