জেনারেল রাইটিং পোস্ট || বর্তমানে ভিক্ষাও একটি পেশা
আসসালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের সকল বন্ধুরা ,আপনারা সবাই কেমন আছেন ? আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি।
প্রতিদিনের মতো আজকেও আমি আপনাদের সামনে আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমি একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। এই পোস্টের টপিক হচ্ছে,বর্তমানে ভিক্ষাও একটি পেশা। কথাটি শুনতে একটু খারাপ লাগলেও,আমাদের দেশের কিছু কিছু মানুষ বর্তমানে ভিক্ষাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। কারণ বাহিরে বের হলেই প্রচুর পরিমাণে ভিক্ষুক দেখা যায়। একেবারে ছোট ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে, বৃদ্ধ বয়সী ভিক্ষুকদের আনাগোনা প্রায় সব জায়গায় দেখা যায়। বিশেষ করে বাস স্ট্যান্ডে তাদের আনাগোনা প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। তাছাড়া মার্কেটের মধ্যেও তাদের আনাগোনা দেখা যায়। আমাদের মদনপুর বাস স্ট্যান্ডে তো প্রায় সবসময়ই ভিক্ষুক দেখা যায়। গাড়ি থেকে নেমে কেউ গাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময়, ভিক্ষুকরা হাত পেতে থাকে। কিন্তু বিগত ২/৩ বছর আগেও এতো ভিক্ষুক আমার চোখে পড়েনি।
তবে কথা হচ্ছে তারা কি আসলেই সত্যিকারের ভিক্ষুক। নাকি মানুষকে বোকা বানিয়ে ভিক্ষুক সেজে টাকা ইনকাম করছে। আমার তো মনে হয় তারা ভিক্ষুক সেজে মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা ইনকাম করছে। কারণ কিছু কিছু ভিক্ষুককে দেখলে মনে হয়, তারা চাইলেই কাজ করে টাকা ইনকাম করতে পারে। কিন্তু তারা কাজ করতে চায় না। কারণ কাজ করতে নাকি কষ্ট লাগে এবং টাকাও কম ইনকাম করতে পারে। তার চেয়ে নাকি ভিক্ষা করে বেশি টাকা ইনকাম করা যায়। তাছাড়া কিছু কিছু মা বাবা, ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে রাস্তায় নামিয়ে দেয় ভিক্ষা করার জন্য। তারা জানে ছোট বাচ্চাদের দেখলে, মানুষের মায়া হবে এবং তাদেরকে বেশি টাকা দিবে। আর সেজন্য তারা এই ধরনের জঘন্য কাজ করাচ্ছে নিজের সন্তানদের দিয়ে। এতে করে ছোট ছোট বাচ্চাদের জীবন নষ্ট হচ্ছে। যা আমাদের মোটেই কাম্য নয়। কারণ আজকের শিশু হচ্ছে আগামীর ভবিষ্যৎ।
যাইহোক আজকে সারাদিন ব্যক্তিগত কাজে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে ছিলাম। তো আমরা যখন লাঞ্চ করতে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করবো,ঠিক তখন এক বয়স্ক মহিলা আমাদেরকে বললো, উনাকে ভাত কিনে দিতে। তবে উনাকে ভাত এবং তরকারি পার্সেল করে দিতে হবে। কারণ উনার মেয়ে নাকি বাসায় না খেয়ে আছে। তাই উনার মেয়েকে খাবার নিয়ে দিবেন। তো আমরা সেই বৃদ্ধ মহিলাকে লাঞ্চ কিনে পার্সেল করে দিলাম। এরপর আমরা সবাই লাঞ্চ করা শুরু করলাম। আমাদের যখন লাঞ্চ করা শেষ হলো,তখন দেখলাম সেই মহিলা আবার আরেকজনকে বলছে লাঞ্চ কিনে দেওয়ার জন্য। তো ব্যাপারটা দেখে আমরা একটু অবাক হলাম। তারপর সেই মহিলাকে বললাম আপনাকে তো আমরা লাঞ্চ কিনে দিলাম। তাহলে আবার কেনো আরেকজনকে লাঞ্চ কিনে দিতে বলছেন। তারপর সেই মহিলা বললো, উনি নিজে খাওয়ার জন্য খাবার চেয়েছেন। তারপর সেই লোকটা খাবার কিনে দিলো।
তো আমরা রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আশেপাশেই সময় কাটাচ্ছিলাম। কারণ উকিল আমাদেরকে অপেক্ষা করতে বলেছিলো। প্রায় ঘন্টা খানেক পর সেই মহিলা আবার আমাদের সামনে আসলো এবং বললো,উনি নাকি লাঞ্চ করবে। তাই আমাদেরকে কিছু টাকা দিতে বললো। তারপর আমি বললাম আপনাকে তো খাবার কিনে দিলাম। তাহলে আবারও টাকা চাচ্ছেন কেনো। তারপর তিনি সামনের দিকে চলে গেলেন। আসলে তিনি আমাদেরকে প্রথমে খেয়াল করতে পারেননি। তো আমরা বেশ অবাক হলাম ঘটনাটি দেখে। যাইহোক বর্তমানে আমাদের দেশের বেশিরভাগ ভিক্ষুক ধান্দাবাজি করে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে। কিন্তু এটা মোটেই উচিত নয়। যার শরীরে শক্তি আছে, সে কাজ করে টাকা ইনকাম করতে পারে। কারণ ভিক্ষা মোটেই সম্মানের কাজ নয়। যাইহোক সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক সেই কামনা করছি।
পোস্টের বিবরণ
| ক্যাটাগরি | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| পোস্ট তৈরি | @mohinahmed |
| ডিভাইস | Samsung Galaxy S24 Ultra |
| তারিখ | ২.১১.২০২৫ |
| লোকেশন | নারায়ণগঞ্জ,ঢাকা,বাংলাদেশ |
বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই। আপনাদের কাছে পোস্টটি কেমন লাগলো, তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আবারো ইনশাআল্লাহ দেখা হবে অন্য কোনো পোস্টে। সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার পরিচয়
🥀🌹আমি মহিন আহমেদ। আমি ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলায় বসবাস করি এবং আমি বিবাহিত। আমি এইচএসসি/ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর, অনার্সে অধ্যয়নরত অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়াতে চলে গিয়েছিলাম। তারপর অনার্স কমপ্লিট করার সুযোগ হয়নি। আমি দক্ষিণ কোরিয়াতে দীর্ঘদিন ছিলাম এবং বর্তমানে বাংলাদেশে রেন্ট-এ- কার ব্যবসায় নিয়োজিত আছি। আমি ভ্রমণ করতে এবং গান গাইতে খুব পছন্দ করি। তাছাড়া ফটোগ্রাফি এবং আর্ট করতেও ভীষণ পছন্দ করি। আমি স্টিমিটকে খুব ভালোবাসি এবং লাইফটাইম স্টিমিটে কাজ করতে চাই। সর্বোপরি আমি সবসময় আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে ইচ্ছুক।🥀🌹
ডেইলি টাস্ক স্ক্রিনশট এবং লিংক:
https://x.com/mohin3242127/status/1982093853214773728?t=mFDEN5MDKW9T6-RDkY1qSw&s=19
X-promotion