নাটক রিভিউ || খুঁজি তোকে
আসসালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের সকল বন্ধুরা ,আপনারা সবাই কেমন আছেন ? আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে একটি নাটকের রিভিউ নিয়ে হাজির হয়েছি। নাটকের নাম হচ্ছে খুঁজি তোকে। এই নাটকটি সপ্তাহ খানেক আগে রিলিজ হয়েছে। যাইহোক এই নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছে ইয়াশ রোহান এবং সাদিয়া আয়মান। এই নাটকটি সত্যিই অসাধারণ,তাই দেখতে খুব ভালো লেগেছে আমার কাছে। মাঝে মধ্যে সময় পেলে আমি বাংলা নাটক দেখি। একসময় হিন্দি মুভি অনেক দেখা হতো, তবে এখন এতোটা সময় নিয়ে মুভি দেখার সময় হয়ে উঠে না। তাই বিনোদনের জন্য অল্প সময়ে বাংলা নাটক দেখা হয়। যাইহোক আপনাদের সাথে এই নাটকের রিভিউ শেয়ার করতে যাচ্ছি। আশা করি আপনাদের কাছে খুব ভালো লাগবে।
ইউটিউব থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে
নাটকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
| নাটক | খুঁজি তোকে |
|---|---|
| রচনা ও পরিচালনা | ইমরাউল রাফাত |
| অভিনয়ে | ইয়াশ রোহান,সাদিয়া আয়মান এবং আরো অনেকে |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| ভাষা | বাংলা ভাষা |
| প্রচার | ১৬ই অক্টোবর ২০২৫ |
| দৈর্ঘ্য | ১ ঘন্টা ১১ মিনিট |
| প্লাটফর্ম | ইউটিউব |
নাটকের সংক্ষিপ্ত কাহিনী নিম্নরুপঃ
নাটকের শুরুতে দেখা যায়, নাটকের নায়ক ইয়াশ রোহানকে পুলিশ তাড়া করে। কিন্তু বাইকে চড়ে ইয়াশ রোহান পালিয়ে যায়। ইয়াশ রোহান মূলত বর্ডার ক্রস বাইক এনে বিক্রি করে এবং গাড়ির গ্যারেজে সময় দেয়। তাদের বড় গ্রুপ রয়েছে। কিন্তু তাদের গ্রুপের মধ্যে ইয়াশ রোহান মূলত রিস্কি কাজ গুলো করে থাকে। সেজন্য পুলিশ তাকে প্রমাণ সহ গ্রেফতার করার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকে সবসময়। কিন্তু তাকে প্রমাণ সহ গ্রেফতার করতে পারে না। যাইহোক ঘটনাক্রমে ইয়াশ রোহানের সাথে সাদিয়া আয়মানের পরিচয় হয় রাস্তায়। অর্থাৎ সাদিয়া আয়মানকে রোহান হেল্প করে। তারপর থেকে তারা টুকটাক কথা বলতে থাকে এবং বাহিরে মাঝেমধ্যে ঘুরাঘুরি করে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। সাদিয়া আয়মানের বাবা হচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলী। যাইহোক ইয়াশ রোহান মনে মনে সাদিয়াকে ভালোবাসতে শুরু করে। কিন্তু সে ভালোভাবেই জানে,সাদিয়া আয়মানের স্ট্যাটাসের সাথে তার স্ট্যাটাস একেবারেই যায় না।
ইউটিউব থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে
তবে সে তার মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সে সাদিয়া আয়মানকে প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলে। একদিন তারা দু'জন নৌকায় চড়ে ঘুরাঘুরি করে। সেদিন রোহান প্রপোজ করে সাদিয়াকে। কিন্তু সাদিয়া বিশ্বাস করে না রোহানের কথা। তাই রোহান পানিতে ঝাপ দেয় তার ভালোবাসার প্রমাণ দেওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত সাদিয়া তার ভালোবাসা গ্রহণ করে। তারপর থেকে তারা চুটিয়ে প্রেম করতে থাকে। তারা দু'জন একদিন খুলনা থেকে বাগেরহাটে ঘুরতে যায় এবং সেখানে গিয়ে রোহানের বাইক নষ্ট হয়ে যায়। তাই সাদিয়ার বাসায় ফিরতে অনেক দেরী হয়। এদিকে সাদিয়ার বাবা পুলিশের মাধ্যমে সাদিয়াকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। এমন সময় সাদিয়া এবং রোহান বাসায় ঢুকে। তারপর রোহানকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করে সাদিয়ার বাবা। রোহান তাদের তুলনায় গরীব বলে,সাদিয়ার বাবা রোহানকে অনেক অপমান করে। তাছাড়া সাদিয়া, ইয়াশ রোহানের ভালোবাসা অস্বীকার করে। সে বলে তারা শুধুই বন্ধু। এতে করে রোহান খুব কষ্ট পায় এবং তারপর থেকে তাদের আর দেখা হয় না।
ইউটিউব থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে
এদিকে সাদিয়ার বাবা তার পরিবার নিয়ে ঢাকা চলে যায়। কিন্তু সাদিয়া বাসা থেকে পালিয়ে খুলনা আসতো রোহানের খোঁজে। কিন্তু সে রোহানের খোঁজ পায় না। এমনকি রোহানের বন্ধুও বলে,সে কিছু জানে না। অর্থাৎ রোহানকে নাকি সেও খুঁজছে। সাদিয়ার বাবা এবং মা সাদিয়ার বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লাগে। পুলিশের এসপির সাথে সাদিয়ার বিয়ে ঠিক করে। সাদিয়াও রোহানের খোঁজ না পেয়ে, বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ করে দেখা যায়, রোহান কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে বের হয়। পরবর্তীতে রোহান তার বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারে, রোহানের বন্ধু, সাদিয়ার বাবা এবং পুলিশের এসপি প্ল্যান করে, রোহানকে জেলের মধ্যে আটকে রাখে। রোহানের বন্ধু নিজের লাভের আশায় রোহানের সাথে বেঈমানী করে। আর পুলিশের এসপি সাদিয়াকে বিয়ে করার জন্য এসব করে। যাইহোক সাদিয়ার বিয়ের দিন, রোহান সাদিয়ার বাসায় যায় এবং সাদিয়াকে সবকিছু খুলে বলে। যাইহোক এরপর কি হলো সেটা জানতে হলে আপনাদেরকে অবশ্যই নাটকটি দেখতে হবে।
ইউটিউব থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে
নাটকের লিংক👇👇
ব্যক্তিগত মতামত
আসলে ভালোবাসা কখনো পারিবারিক স্ট্যাটাস দেখে হয় না। কখন কাকে ভালো লেগে যায় এবং ভালো লাগা থেকে ভালোবাসার সৃষ্টি হয়ে যায়, সেটা কেউ বলতে পারে না। এই নাটকেও এমনটা দেখা যায়। অর্থাৎ সাদিয়া আয়মান মন থেকে ভালোবেসে ফেলে রোহানকে। কিন্তু রোহানের পারিবারিক স্ট্যাটাস তেমন ভালো নয় বলে,সাদিয়ার পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয় না। আসলে এই ধরনের কাহিনী বাস্তবে অহরহ ঘটছে। কিন্তু প্রতিটি মা বাবার উচিত, সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করা। তারা ভাবে যে, টাকা পয়সা বেশি থাকলেই সুখী হওয়া যায়। কিন্তু তারা পুরোপুরি ভুল। টাকা পয়সা মানুষকে সুখী করতে পারে না। তাই সবার উচিত মানুষকে মানুষ হিসেবে যাচাই-বাছাই করা। অর্থের মাপকাঠিতে নয়। তবে সত্য কখনো চাপা থাকে না। এই নাটকের শেষে আমরা সেটাই দেখতে পেয়েছি। অর্থাৎ সত্যের জয় হয়েছে এবং ভালোবাসারও জয় হয়েছে। সবমিলিয়ে নাটকটি বেশ উপভোগ করেছি। সবাই বেশ ভালো অভিনয় করেছে।
আমার রেটিং
পোস্টের বিবরণ
| ক্যাটাগরি | নাটক রিভিউ |
|---|---|
| স্ক্রিনশট ক্রেডিট | @mohinahmed |
| ডিভাইস | Samsung Galaxy S24 Ultra |
| তারিখ | ২৪.১০.২০২৫ |
| লোকেশন | নারায়ণগঞ্জ,ঢাকা,বাংলাদেশ |
বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্তই। আপনাদের কাছে পোস্টটি কেমন লাগলো, তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আবারো ইনশাআল্লাহ দেখা হবে অন্য কোনো পোস্টে। সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার পরিচয়
🥀🌹আমি মহিন আহমেদ। আমি ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলায় বসবাস করি এবং আমি বিবাহিত। আমি এইচএসসি/ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর, অনার্সে অধ্যয়নরত অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়াতে চলে গিয়েছিলাম। তারপর অনার্স কমপ্লিট করার সুযোগ হয়নি। আমি দক্ষিণ কোরিয়াতে দীর্ঘদিন ছিলাম এবং বর্তমানে বাংলাদেশে রেন্ট-এ- কার ব্যবসায় নিয়োজিত আছি। আমি ভ্রমণ করতে এবং গান গাইতে খুব পছন্দ করি। তাছাড়া ফটোগ্রাফি এবং আর্ট করতেও ভীষণ পছন্দ করি। আমি স্টিমিটকে খুব ভালোবাসি এবং লাইফটাইম স্টিমিটে কাজ করতে চাই। সর্বোপরি আমি সবসময় আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে ইচ্ছুক।🥀🌹
ডেইলি টাস্ক স্ক্রিনশট এবং লিংক:
https://x.com/mohin3242127/status/1981443920551874561?t=NFxjHUsbxTAqXUwwjO6uoQ&s=19
X-promotion
বাহ আপনি তো দারুন একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন। ইয়াস রোহানের অভিনয় আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।আপনার পুরো নাটকের রিভিউটি পড়ে খুব ভালো লাগলো।ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
ইয়াশ রোহান সত্যিই খুব ভালো অভিনয় করে। এতো চমৎকার মন্তব্য করার জন্য আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।