আমরা যখন বেশি পাপ করি তখন আল্লাহ আমাদের উপর নারাজ হন।
আজ- ৭ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, পাওয়া-না পাওয়া, ভালো-মন্দ সবকিছুই মিশে থাকে। আমরা ভুল করি, আবার শুদ্ধ হই। আমরা পাপ করি, আবার ক্ষমা চাই। কিন্তু একটা বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই—আমরা যখন বেশি পাপ করি তখন আল্লাহ আমাদের উপর নারাজ হন।
আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন শুধু দুনিয়ার জীবন উপভোগ করার জন্য নয়, বরং ইবাদতের জন্য। তিনি আমাদের দিয়েছেন সঠিক-ভুল বোঝার ক্ষমতা, পাঠিয়েছেন কুরআন ও রাসূল (সা.)-কে পথপ্রদর্শক হিসেবে। কিন্তু তবুও আমরা অনেক সময় শয়তানের প্ররোচনায় কিংবা নিজের প্রবৃত্তির কারণে আল্লাহর আদেশ অমান্য করি। কেউ নামাজ ফেলে রাখি, কেউ মিথ্যা বলি, কেউ সুদ খাই, কেউ অন্যকে কষ্ট দিই। ছোট ছোট পাপ আমরা গুরুত্ব দিই না, কিন্তু সেই ছোট ছোট পাপ জমতে জমতে একসময় আমাদের জীবন থেকেই বরকত উঠিয়ে নেয়।
আল্লাহর নারাজ হওয়ার মানে এই নয় যে তিনি আমাদের ঘৃণা করেন। বরং তাঁর ভালোবাসার কারণেই তিনি আমাদের বারবার সতর্ক করেন। যখন আমরা পাপে লিপ্ত হই, তখন জীবনে অশান্তি বাড়ে, মনে প্রশান্তি থাকে না। এমনকি রিজিক থেকেও বরকত চলে যায়। হয়তো অনেক অর্থ আসছে, কিন্তু শান্তি নেই। হয়তো বাহ্যিক সুখ আছে, কিন্তু ভেতরে শূন্যতা। এগুলো আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সংকেত—তুমি ভুল পথে যাচ্ছো, ফিরে এসো।
কুরআনে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন—“আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না, তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।” অর্থাৎ যখন আমরা অন্যায় করি, মানুষকে কষ্ট দিই, আল্লাহর হুকুম অমান্য করি, তখন আল্লাহ আমাদের প্রতি নারাজ হন। আর আল্লাহ যখন নারাজ হন, তখন তাঁর রহমত আমাদের থেকে দূরে সরে যায়।
তবে এখানে আশার আলোও আছে। আল্লাহর সবচেয়ে বড় গুণ হলো তাঁর অসীম দয়া। তিনি বলেছেন—“হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন।” (সূরা আয-যুমার, ৩৯:৫৩)। এর মানে হলো, যত বড় গুনাহই করি না কেন, যদি আন্তরিকভাবে তওবা করি, আল্লাহ তা ক্ষমা করবেন।
তওবা মানে শুধু মুখে বলা নয়—বরং হৃদয়ে সত্যিকার অনুতাপ জাগানো, সেই ভুলের জন্য লজ্জিত হওয়া এবং আর কখনো না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এই সুযোগ খোলা। আল্লাহর দরজা কখনো বন্ধ হয় না, কেবল মানুষই নিজে থেকে দূরে সরে যায়।
আমরা যখন বেশি পাপ করি, তখন শুধু আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দুর্বল হয় না, মানুষের সাথেও সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। কারণ পাপ মানুষের চরিত্রকে কলুষিত করে, হৃদয়কে শক্ত করে দেয়। তখন ভালো কাজ করতে ইচ্ছে করে না, দান-খয়রাত করতে ভালো লাগে না, ইবাদতে মন বসে না। একসময় মনে হয় দুনিয়ার লোভই আসল। অথচ সত্য হলো, দুনিয়ার সবকিছু ফেলে একদিন আমাদের আল্লাহর কাছেই ফিরতে হবে।
তাহলে আমাদের করণীয় কী? প্রথমত, প্রতিদিন নিজের কাজের হিসাব নেওয়া—আজ আমি কী ভালো করেছি, কী খারাপ করেছি। দ্বিতীয়ত, ছোট ছোট পাপকেও গুরুত্ব দেওয়া। আমরা ভাবি, “এইটুকু করলে কী হবে?” অথচ সামান্য ফোঁটা ফোঁটা পানি যেমন কলস ভরে দেয়, তেমনি ছোট ছোট পাপও জমতে জমতে পাহাড় হয়ে যায়। তৃতীয়ত, আল্লাহর কাছে কান্না করে দোয়া করা। কারণ আল্লাহ কখনো সেই বান্দার দোয়া ফেরান না, যে বান্দা আন্তরিকভাবে কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চায়।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community
দারুণ একটি টপিক নিয়ে পোস্ট শেয়ার করেছেন ভাই। আসলেই আমরা যখন অনেক পাপ করে ফেলি,তখন আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর একেবারে নারাজ হয়ে যান। তাই আমাদের উচিত পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালো ভালো কাজ করা। সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক সেই কামনা করছি।