অভিমান শব্দটা আসলে ভালোবাসারই আরেক রূপ....
আজ -৩য় আষাঢ় | ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল |
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
অভিমান শব্দটা অনেক ছোট, কিন্তু এর ভেতরে লুকানো থাকে এক বিশাল অনুভব। অনেকেই অভিমানকে রাগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে, ভাবে এটা একধরনের অভিযোগ, বিরক্তি বা দোষারোপ। কিন্তু আমি বলি, অভিমান আসলে ভালোবাসারই আরেক রূপ। কারণ যার প্রতি আমাদের গভীর ভালোবাসা থাকে, তার দিকেই তো আমরা অভিমান করি। যাকে একটুও গুরুত্ব দেই না, তার কোন কথায় বা ব্যবহারে আমাদের কীই বা আসে যায়?
আমি বারবার বুঝেছি, অভিমান হয় সেই মানুষটার প্রতি, যার কাছ থেকে আমরা কিছু একটা আশা করি। হয়তো সে কথা রাখেনি, হয়তো খেয়াল করেনি, হয়তো মনটা বুঝতে পারেনি — কিন্তু তার জন্যই তো মন খারাপ হয়, চোখ ভিজে ওঠে। অভিমান আসলে এক ধরনের অব্যক্ত প্রত্যাশা, একরাশ চুপচাপ অভিশ্বাস, কিংবা নিজের চাওয়া-পাওয়ার নীরব প্রকাশ।
অনেক সময় মানুষ বলে, “তুমি কেন এত অভিমান করো?” আমি বলি, “এই অভিমানটাই তো প্রমাণ করে, আমি এখনও ভালোবাসি, এখনও তার কাছে আমার কিছু চাওয়া আছে।” ভালোবাসা যদি শুধু হাসি-আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে সম্পর্কগুলো এত গভীর হত না। সম্পর্ক মানেই তো কাছাকাছি আসা, মান-অভিমান, রাগ-অনুরাগ — সব মিলিয়ে একটা সুন্দর যাপন।
মাঝে মাঝে এমন হয়, আমি কিছু বলি না, কিন্তু মনটা ভারী হয়ে থাকে। চোখে পানি জমে, গলা ভার হয়ে যায়, অথচ ঠোঁট চেপে ধরি, কিছু না বলার জন্য। সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়, সে যদি একটু বুঝত! একটু এসে জিজ্ঞেস করত, “তুমি ঠিক আছো?” এই ছোট্ট প্রশ্নটাই হয়তো সব অভিমান গলিয়ে দিতে পারত।
আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসায় অভিমান থাকবেই। তবে সেটাকে বুঝে নিতে হয়, সময় দিতে হয়। অনেকেই ভুল করে ভাবেন, “সে তো আমার সঙ্গে কথা বলছে না, মানে সে আর আগের মতো নেই।” কিন্তু হয়তো সে ঠিক ওই সময়টায় চুপ করে বসে আছে, ভাবছে, “তুমি যদি একটু এসে কথা বলতে, আমি সব ভুলে যেতাম।”
মানুষ যতো বেশি কাছে আসে, অভিমানও ততো বেশি হয়। দূরের মানুষের প্রতি তো আমাদের এই অনুভূতি থাকে না। তাই অভিমানকে ভয় না পেয়ে, বরং ভালোবাসার অংশ হিসেবেই দেখানো উচিত। অভিমান মানেই তো আমরা এখনও একে অপরকে প্রয়োজন মনে করি, এখনও গুরুত্ব দেই, এখনও হৃদয়ের ভিতরে একটা জায়গা ধরে রেখেছি।
আমার মনে পড়ে, একবার খুব প্রিয় একজন মানুষকে একটা ছোট্ট কারণে অভিমান করে দিন দুয়েক কথা বলিনি। তারপর একদিন সে এসে একটুকু হাসিমুখে বলেছিল, “চল না, চা খেতে যাই।” এই একটা বাক্যে যেন সব কিছু গলে গেল। আমি বুঝলাম, অভিমান যত গভীরই হোক, ভালোবাসা থাকলে সব ঠিক হয়ে যায়।
অনেক সময় যারা মুখে কিছু বলেন না, তারাই সবচেয়ে বেশি অভিমান পোষে। তারা প্রকাশ করতে পারেন না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে কষ্টে পুড়ে যান। তাদের বোঝার জন্য দরকার অনুভব। শুধু বলার নয়, শোনারও প্রয়োজন হয়।
অভিমান হলে চুপ করে বসে থাকি না। বরং একটু এগিয়ে গিয়ে বলি, “তুমি আছো তো?” কারণ আমি জানি, সম্পর্কগুলো ভাঙে না অভিমানে, ভাঙে যদি কেউ বুঝে না নেয়, ছুঁয়ে না দেখে সেই নীরবতা।
সবশেষে বলি, অভিমান যদি হয় ভালোবাসার, তবে তার সমাধানও ভালোবাসাতেই। একটুখানি সময়, একটুখানি মনোযোগ, আর একটুখানি আন্তরিকতা — এই তিনটুকুই যথেষ্ট একজন অভিমানী মনকে জড়িয়ে ধরার জন্য।
ভালোবাসা মানেই তো বোঝা, অনুভব করা, আর মাঝে মাঝে নিরবে পাশে দাঁড়ানো।
অনেক সুন্দর বিষয় নিয়ে লিখেছেন ভাইয়া।আসলে যেখানে অভিমান নেই সেখানে ভালোবাসাটা ঠিক জমে না গভীরভাবে।ভালোবাসার মানুষগুলোই বোধহয় বেশি অভিমান করে থাকে।যাইহোক সুন্দর ব্যাখ্যা করেছেন ভালো লাগলো পড়ে, ধন্যবাদ আপনাকে।