চাঁদনী রাত।steemCreated with Sketch.

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago (edited)

আজ - ৫ই আষাঢ় |১৪৩০ বঙ্গাব্দ, | বর্ষা-কাল |


আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।





কেমন আছেন সকলে? আশা করি ভাল আছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। ঈদুল আযহা প্রায় চলেই এলো। আর মাত্র কিছুদিন বাকি আছে ঈদুল আযহার। খবরে শুনলাম চাঁদ দেখা গিয়েছে ২৮ তারিখে ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হবে। কিছুদিনের মধ্যেই রাস্তাঘাট গুলো ভরে উঠবে পুরো ঈদুল আযহার আমেজে। বিভিন্ন জায়গায় কিংবা মাঠগুলোতে অস্থায়ী কিছু গরুর হাট বসবে। তখন পুরো পরিবেশটাই যেন অন্যরকম হয়ে উঠবে। চারপাশে দেখা যাবে শুধু গরু আর গরু।

ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারি ছুটিগুলোর এখনো বেশ কিছুটা সময় আছে। ছুটি গুলো শুরু হলে দেখা যাবে শহরটা একেবারে ফাঁকা হয়ে গিয়েছে । কেননা প্রত্যেকেই নিজ নিজ গ্রামে ছুটবে কাছের মানুষগুলোর সাথে ঈদ উদযাপন করতে।

আমার খুব ভালো লাগে ওই সকল মানুষগুলোকে যারা কিনা জীবনের তাগিদে শহরে বসবাস করার পরে ও প্রত্যেক ঈদ কিংবা বিশেষ কোনোদিনে ছুটে চলে যায় পরিবার-পরিজনদের কাছে।

যাইহোক, গ্রামের বাড়ি নিয়ে কথা উঠতেই আমার মনে পড়ে গেল কিছুদিন আগে গ্রামে কাটানোর সেই সকল মুহূর্তগুলোর কথা। আমি আজকে মূলত গ্রামে থাকাকালীন সুন্দর একটি স্মৃতি আপনার সাথে ভাগ করে নিব। আসলে এই সুন্দর সময় গুলো জানিনা জীবনে আর কখন ফিরে পাবো কিনা তবে যখন জীবনে এই মুহূর্তগুলো পেয়েছি তখন সেইগুলোকে স্মৃতির পাতায় রেখে দিয়ে আজীবন মনে রাখতে চাই।

আর এই ব্লগিং প্লাটফ্রমটাতে আমরা যেহেতু আমাদের অনুভূতি আবেগগুলোকে নির্দ্বিধায় শেয়ার করতে পারি তাই আমরা সব সময় সুন্দর সুন্দর অনুভূতি কিংবা ভালো লাগার মুহূর্তগুলোই আমরা এখানে শেয়ার করি। আর আসলে এই বিষয়টা আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। এছাড়াও এই ব্লক চেইনে কিছু রাখলে কখনো কোন কিছু মুছে যায় না। এসব কিছু থেকে যায় সবসময়ের জন্য। তাই যখন অনেক অনেক বছর পরে এই সকল ব্লগিং গুলো দেখবো তখন পুরনো এই সময় গুলোর কথা মনে পড়ে যাবে ।

যাই হোক, কিছুদিন আগে গ্রামে গিয়েছিলাম যারা আমার নিয়মিত ব্লগিং গুলো পড়েন তারা নিশ্চয়ই এই বিষয়টি জানেন। আসলে গ্রামে গিয়েছি কিছুদিন আগে বলে ভুল হবে বরং সপ্তাহ কয়েক আগে গ্রামে যাওয়া হয়েছে। গ্রামে থাকাকালীন কিছু সুন্দর সুন্দর স্মৃতি আপনাদের সাথে ইতিমধ্যে শেয়ার করা হয়ে গিয়েছে। আর আজ এসেছি নতুন আরেকটি সুন্দর মুহূর্ত আপনার সাথে ভাগ করে নিতে।

IMG_20230601_221719.jpg

গ্রামে যে কয়েকদিন ছিলাম ওই কয়েকদিনের ওয়েদার ছিল প্রচন্ড গরম। টিনের ঘর তার উপরে লোডশেডিং সব মিলিয়ে একেবারে নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের তুলনা গ্রামে ইলেক্ট্রিসিটি অবস্থা আরো ভয়াবহ । একবার ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে দেখা যেতে ৩-৪ ঘন্টা পরে আসা হতো। প্রতিদিন নিয়ম করে দুই থেকে তিনবার একটি ইলেকট্রিসিটি চলে যেত। বেশিরভাগ সময় ইলেকট্রিসিটি যেতো রাতে এবং সকালের দিকে। রাতে যখন ইলেকট্রিসিটি চলে যেত তখন আমরা সকলেই মিলে চেয়ার, টুল ও হাত পাখা নিয়ে চলে যেতাম উঠানে। উঠান বলতে বাড়ির সামনের ওই জায়গাটিকে বুঝাই। বাড়ির সব ছেলেরা মিলে আমরা ওখানে বসে আড্ডা দিতাম। রাত হলেও কিন্তু বাহিরে খুব একটা অন্ধকার থাকত না চাঁদের আলোয় পুরো সবকিছু উজ্জ্বল হয়ে থাকতো। চাঁদের আলো সবকিছু এতটাই উজ্জ্বল থাকতো যে আলাদা করে লাইট এর প্রয়োজন হতো না।

আসলে বেশ অনেকগুলো বছর পর এভাবে খোলা আকাশের নিচে চাঁদ দেখতে পেয়ে মনে মনে অন্য এক জগতে হারিয়ে যেতাম। খোলা আকাশের নিচে চাঁদের আলো সকলে বেশ গল্প আড্ডা গুজবে মেতে উঠতাম। আর সেই সাথে গাছের ফ্রেশ ডাব তো ছিলোই।

ঐ উজ্জ্বল চাঁদের আলোয় বসে আড্ডা দেওয়ার সময় ভাবলাম এই সুন্দর মুহূর্তটাকে ক্যামরা বন্ধ করে রাখি। কেননা জানিনা জীবনে আর কখনো এই মুহূর্তগুলো ফিরে পাবো কিনা। আমার মনে হয় জীবনের কোন বিশেষ মুহূর্তগুলোকে বিশেষভাবে মনে রাখার জন্য ক্যামেরা বন্দি করে রাখাটা প্রয়োজন। আর এখন যেহেতু ব্লগিং প্রফেশনটাতে আছি তাই সব সময় আরও বেশি করে বিশেষ মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখার চেষ্টা করে ।

যাইহোক, আজ আর বেশি কিছু লিখছি না, সকলে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে পরবর্তী দিন অন্য কোন বিষয় নিয়ে। আল্লাহ হাফেজ।

সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  
 3 years ago 

ঈদ উপলক্ষে শহরে বসবাসকারী মানুষেরা প্রায় অনেকেই গ্রামের বাড়িতে চলে আসে তার প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপন করার জন্য। আর আপনি আপনার জীবনের চমৎকার একটি স্মৃতি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। আসলে গ্রাম অঞ্চলে লোডশেডিং এর প্রভাব টা তুলনামূলক বেশি। আর চাঁদনী রাতে খোলা আকাশের নিচে বসে চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং গল্পগুজব করার মজাই আলাদা। অসাধারণ একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য প্রিয় ভাইয়া আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

জীবনের সুন্দর মুহূর্ত গুলো ক্যামেরাবন্দি করা তো আবশ্যক,এই আধুনিক যুগে।কেননা মুহূর্ত চলে গেলেও ছবিগুলোর মাধ্যমে পুনরায় স্মরণ করা সম্ভব হয়।মনের অনুভূতি গুলো ব্লকচেইনে আজীবন থেকে যাবে ,এটা ভাবতেই ভালো লাগে।অনেক বছর পর এগুলো রিভিউ করা সম্ভব হবে।গ্রামে বিদ্যুৎ চলে গেলে উঠানে চাঁদনী রাতের আড্ডা আসলেই অনেক ভালো লাগে।সুন্দর ছিল ছবিটি।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

আমাদের জীবনের সকল মুহূর্তগুলো আমার বাংলা ব্লগের ব্লকচেইনের একবার কিছু দিলে তা কখনো মুছে যায় না। এ যেন আমাদের কাছে একটা স্মৃতির পাতা। ঈদ উপলক্ষে সুখে দুঃখে পাশে থেকে তাদের প্রিয় পরিবারের সাথে ঈদ করা এ যেন এক মহা আনন্দ।শহরের মানুষগুলো সবাই গ্রামে চলে যায় তাদের প্রিয় পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে। তাইতো এই সময়টা শহর একদম ফাঁকা হয়ে থাকে। আর লোডশেডিং এর কথা কী বলবো ভাই সব জায়গায় একই অবস্থা। খোলা আকাশের নিচে চাঁদের আলোয় সকলে গল্পগুজবে মেতে উঠেছেন অনেক আনন্দ করেছেন যেনে অনেক ভালো লাগলো। সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 60713.70
ETH 1556.06
USDT 1.00
SBD 0.50