শুরুতে আমরা সবকিছুই মেনে নেই, পরে কেন পারি না মেনে নিতে ।
আসসালামু-আলাইকুম। আদাব - নমস্কার। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
মানুষের জীবনের সবচেয়ে জটিল দিকগুলোর একটি হলো মানিয়ে নেওয়া। আমরা যখন কোনো সম্পর্ক, কাজ কিংবা পরিস্থিতির মধ্যে প্রথমবার প্রবেশ করি, তখন সাধারণত সবকিছুই মেনে নেওয়ার মানসিকতা নিয়ে যাই। শুরুতে মনে হয়—“ঠিক আছে, এটা আমি সামলে নেবো, এটা আমি মেনে নেবো।” কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দেখা যায়, সেই একই বিষয় যা প্রথমে সহজ মনে হয়েছিল, পরে তা সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তখন প্রশ্ন আসে—কেন শুরুতে মেনে নিতে পারি, কিন্তু পরে আর পারি না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে দেখা যায়, এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করে। প্রথমত, আমাদের প্রত্যাশা। মানুষ যখন কোনো নতুন কিছুর মুখোমুখি হয়, তখন তার মধ্যে আশার আলো বেশি জ্বলে। মনে হয় সবকিছু ভালো হয়ে যাবে, সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। সেই আশার জোরেই আমরা অনেক কিছু মেনে নিই। যেমন ধরুন, একটি নতুন সম্পর্কের শুরুতে আমরা প্রিয়জনের অনেক ভুল, অভ্যাস বা সীমাবদ্ধতাকেও গুরুত্ব দিই না। কারণ আমাদের চোখে তখন শুধু ভালোবাসার ছবি থাকে। কিন্তু সময় যত এগোয়, সেই একই ভুল যদি বারবার সামনে আসে, তখন তা আর সহ্য হয় না।
দ্বিতীয়ত, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতা বদলাতে থাকে। শুরুর উত্তেজনা বা নতুনত্ব যখন কমে যায়, তখন বাস্তব দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমরা তখন আর আগের মতো চোখ বুজে মানতে পারি না। জীবনের কঠিনতা, দায়িত্ব আর সমস্যাগুলো যখন সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন মেনে নেওয়ার জায়গাটাও সঙ্কুচিত হয়ে যায়। শুরুতে সহজ মনে হওয়া বিষয়গুলো তখন কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
তৃতীয়ত, মানুষ স্বভাবতই পরিবর্তনশীল। আমাদের আবেগ, চিন্তাধারা, এমনকি সহ্যক্ষমতাও সময়ের সাথে পাল্টে যায়। যে মানুষটি একসময় ছোটখাটো সমস্যাকে পাত্তা দিত না, সে হয়তো পরবর্তীতে সেই একই সমস্যায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই পরিবর্তনকে আমরা প্রায়ই উপলব্ধি করি না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তা আমাদের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। ফলে শুরুতে মেনে নেওয়া বিষয়গুলো পরে অসহনীয় মনে হয়।
চতুর্থত, মানুষের মধ্যে অভ্যেস বা সহনশীলতার সীমা থাকে। শুরুতে আমরা কোনো ব্যাপারকে নতুন বলে বা সাময়িক ভেবে সহ্য করি। কিন্তু যদি সেই ব্যাপারটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তখন তা অসহনীয় হয়ে ওঠে। যেমন—একজন সহকর্মীর অভ্যাস, পরিবারের কোনো সদস্যের আচরণ বা প্রিয়জনের কিছু খারাপ দিক। বারবার একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি আমাদের মেনে নেওয়ার সীমা ভেঙে দেয়।
পঞ্চমত, মেনে নেওয়া আর চুপ করে সহ্য করা এক নয়। শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম আমরা মেনে নিচ্ছি, কিন্তু আসলে আমরা সহ্য করছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে করতে একসময় ভেতরের অসন্তোষ বিস্ফোরণের মতো বেরিয়ে আসে। তখন আর কিছুই মেনে নিতে পারি না।
এখানে একটা বড় শিক্ষা আছে। তা হলো, জীবনের শুরুতে যদি আমরা অন্ধভাবে সবকিছু মেনে নেই, তবে পরে সমস্যা বাড়বে। তাই শুরুতেই উচিত সঠিকভাবে নিজের সীমা, চাওয়া-পাওয়া আর স্বভাবের মিল-অমিল যাচাই করা। কেউ যদি শুরুতেই নিজের কথা স্পষ্টভাবে বলে, তবে পরে মেনে নেওয়া বা না নেওয়ার প্রশ্ন এতটা জটিল হয় না।
তবে এর মানে এই নয় যে সবকিছু নিয়ে কঠোর হতে হবে। জীবনে মানিয়ে নেওয়া খুব দরকারি, কিন্তু অন্ধভাবে নয়। যেখানে প্রয়োজন সেখানে আপোস করতে হবে, আবার যেখানে প্রয়োজন সেখানে না বলতে শিখতে হবে। কারণ সম্পর্ক, কাজ বা জীবনের যেকোনো পর্যায়ে মেনে নেওয়া আর নিজের সত্তা হারিয়ে ফেলা এক জিনিস নয়।
শেষমেশ বলা যায়, শুরুতে আমরা সবকিছুই মেনে নিই কারণ তখন আমাদের চোখে আশার আলো থাকে, মনের মধ্যে নতুনত্ব থাকে, আর হৃদয়ে ভালো লাগার আবেগ কাজ করে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বাস্তবতা সামনে আসে, সহ্যক্ষমতার সীমা ভেঙে যায়, আর আমাদের আবেগ বদলে যায়। তাই মেনে নেওয়ার জায়গা তখন ছোট হয়ে আসে।
জীবনে শান্তি আর সুখী থাকার জন্য আমাদের উচিত ভারসাম্য রক্ষা করা। যা সত্যিই মেনে নেওয়া যায় তা মেনে নিতে হবে, আর যা আমাদের আত্মসম্মান বা শান্তির বিরুদ্ধে যায় তা শুরুতেই সীমারেখা টেনে দিতে হবে। তাহলেই আমরা শুরুতে যেমন মেনে নিতে পারি, তেমনি পরেও স্বচ্ছন্দ থাকতে পারব।
সকলকে ধন্যবাদ অনুচ্ছেদ টি পড়ার জন্য।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community