নিশিকথন

in #funny8 years ago

রাত যত গভীর হচ্ছে মাথাটাও তত গরম হচ্ছে। পরশুদিন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষা। অথচ মাথায় কিছু ঢুকছেনা। একেকটা অংক যেন ম্যারাথন রেস! ভাবছি একটু রিফ্রেশমেন্ট দরকার। কই যাই? যার সাথে কথা বলতাম সেও এখন বিগত। মরে নাই, চলে গেছে।
অবশ্য দোষটা পুরোপুরি ওরও না। দেশে একটি মাত্র মোবাইল কোম্পানী। বাপের হোটেলে খেয়ে এক লাখ দশ হাজার টাকায় মোবাইল কেনার সাধ্য আমার নাই। তাই লামিয়াদের বাসার টিএনটি ফোন আর আমাদের হলের কয়েন বক্সটাই ভরসা। তাও আবার কথা বলতে গেলে লাইনে দাঁড়াতে হয়। যাইহোক, ভালোই চলছিল।
কিন্তু নায়ক নায়িকার মাঝখানে ভিলেন উপস্থিত হওয়ায় প্রেমের সমাধি ঘটলো। ব্যাপারটা আরেকটু ক্লিয়ার করে বলি। একদিন ফোনে কথা বলতে গিয়ে সে তার বাপের হাতে কট খাইছে! তারপর প্রেমের যবনিকাপাত, সাথে আমার নিশিকথনেরও। তাই ইদানিং পরীক্ষার আগের রাতে মাথাটা একটু বেশিই গরম হয়। তবে কেন জানি মনে হয় কট খাওয়ার গল্পটা ওর বানানো!
ভীষণ ক্ষুধা লেগেছে। ভাবছি চাংখারপুল গিয়ে নীহারি দিয়ে নান রুটি খেয়ে আসি। পকেটে হাত দিয়ে দেখি দুইটামাত্র পঞ্চাশ পয়সার কয়েন অবশিষ্ট আছে। এই মূহুর্তে সাথেও কেউ নাই যার উপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া যায়। প্লাবণের রুমে গিয়ে দেখি শালা এক পা মাটিতে আরেক পা বিছানায় দিয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।
যাকগে, ওর মানিব্যাগে কিছু থাকলেই হয়! কিন্তু শালা ফকিরেরও বড় ফকির! মানিব্যাগে একটা প্রেমপত্র ছাড়া কিছুই পেলামনা।
মনে মনে ভাবছি কি করা যায়! লামিয়া তো কথা বলবেনা, ওর বড়লোক বাপের সাথে একটু গ্যাজাইয়া আসি!
নিচে এসে দেখি কয়েন বক্সের আশেপাশে কেউ নাই। রিসিভার উঠিয়ে লামিয়াদের বাসার নাম্বারটা ডায়াল করলাম। প্রথমবার কেউ ধরলোনা। এত রাতে সবাই খুব করে ঘুমাচ্ছে! আবার ডায়াল করতেই একটা মধ্যবয়সী কন্ঠ শুনতে পেলামঃ
-হ্যালো!
-জি স্লামালেকু্ম, কেমন আছেন?
-জি ভালো আছি, কে বলছিলেন?
-ভাই আপনি তো আমাকে চিনবেন না, কিন্তু আমি আপনাকে চিনি।
-তো কি বলবেন বলেন।
-ভাই ঘুমাচ্ছিলেন নাকি!
-এতো রাতে কি গান গাইবো?
-ভাইজান মনে হয় রাগ করেছেন?
-এতো রাতে ফোন করে একজনকে ডিস্টার্ব করার মানে কি?
-না মানে একটা প্রশ্ন জানার ছিলো।
-কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলেন।
-ভাই আপনি কি ঘুমানোর আগে হিসু করে ঘুমাইছিলেন?
-কি সব আবোল তাবোল বলছেন!
-এত রাতে আবোল তাবোল ছাড়া আর কি বলা যায় বলুন!

উনি ফোন রেখে দিলেন। পকেটে হাত দিয়ে দেখি প্যাকেটে দুইটা মাত্র সিগারেট আছে। সুখটানটা শেষ করে আবার ডায়াল করলামঃ
-হ্যালো!
-ভাইজান কিছু মনে করবেন না আবার একটু বিরক্ত করলাম।
-মানে কি!
-মানে আমি বুঝতে পেরেছি আমি আপনাকে বিরক্ত করছি। আমার শেষ একটা প্রশ্ন ছিলো?
-আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে যাবো কেনো?
আমি পাত্তা না দিয়ে বলা শুরু করলামঃ
-ভাইজান আমি বুঝতে পেরেছি আপনি হিসু করে ঘুমাইছিলেন। তো ভাইজান হিসু করে কি পানি লইছিলেন?
-এই এই কে আপনি!
-আগেই বলেছি আপনি আমাকে চিনবেন না। যাইহোক, আমার পরিচয় দিচ্ছি।
-বলেন।
-আমার একটা হবু শশুর ছিলো যিনি এখন এক্স হয়ে গেছেন। আর আজকে তিনি ঘুমানোর আগে হিসু করে ঘুমিয়েছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা তিনি হিসু করার পর পানিও ব্যবহার করেছেন।
এবার আমি আস্তে করে রিসিভারটা নামিয়ে রেখে প্যাকেটের শেষ সিগারেটটা ধরালাম। মনে মনে ভাবছি কাল সকালে লামিয়ার কপালে শনির দশা আছে!

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.075
BTC 64465.86
ETH 1681.46
USDT 1.00
SBD 0.42