ক্যাম্পিং 🏕️ শেষ পর্ব।

in Incredible India2 years ago

পরম করুণাময়! অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

শুভ সকাল

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন এবং সুস্থ আছেন। আমার নাম মোঃ শাহিন আপনাদের সাথে যুক্ত রয়েছি মালয়েশিয়া থেকে। মানসিক শান্তির জন্য কিছু কিছু সময় নিজেকে সবকিছু বাইরে রাখতে হয়। ক্যাম্পিং বিষয়টা ঠিক আমার কাছে এরকমই লাগছে কেননা খোলা আকাশের নিচে মুক্ত বাতাসে যেখানে কোন কর্ম ব্যস্ততার ভিড় নাই ইন্টারনেট অথবা বিদ্যুৎ আছে কিনা সেটাও জানার কোন প্রয়োজন হয় না।

যদি সহজ ভাষায় আমি বলি তাহলে বলব যে মানসিক শান্তি মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজন আর এই মানসিক শান্তি তখনই আসে যখন নির্জন জায়গায় প্রকৃতির সাথে মিশে কিছু সময় আমরা অতিবাহিত করি । নিজেকে প্রশ্ন করি নিজের ভেতর থেকেই উত্তর খুঁজে বের করি।

আমি অনেক গল্প পড়েছি ক্যাম্পিং নিয়ে যারা প্রতি সপ্তাহে কোন না কোন জায়গায় ক্যাম্পিং করে রাত কাটায় তাদের চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায় । এমনকি বড় বড় লেখকরা তারা নির্জন জায়গায় বসে ভাবতে ভাবতেই যে কোন বিষয় লিখতে পারে। আবার যারা গবেষণা করে তারাও নির্জন জায়গা খোঁজে যেখানে তাকে কেউ বিন্দু পরিমাণ ডিস্টার্ব করবে না। পাহাড়ি ঢলের পানি একটি খাল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে উপর দিকে বিভিন্ন পাখির ডাক রাত হলেই কানে ভেসে আসছে ক্রিকেট পুকা মাকড়ের গুনগুন আওয়াজ। মাঝে মাঝে মাটির উপরে থাকা ব্যাঙের ডাক কানে ভেসে আসে।

কোন বিছানা ছাড়াই মাটির উপরে শুধুমাত্র পাতলা একটি কম্বল বিছিয়ে রাত কাটানো মানে এটা নয় যে সে ব্যক্তি আরামে বাসায় ঘুমাতে পারবে না মাটির সংস্পর্শ মানুষের মন নরম হয়ে যায় অনেক গবেষণায় উঠে এসেছে। আমরা মাটির মানুষ মাটির সংস্পর্শে থাকলে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আমি এটা বিশ্বাস করি তাই তো মানুষ নির্জনে কিছু সময় ক্যাম্পিং করে কাটাতে চাই। মনের অনুভূতিগুলো এভাবে বলতে থাকলে রাত পার হয়ে যাবে।‌ তাই শেষের দিকে কিছু কথা বলবো ফ্যামিলি নিয়ে ক্যাম্পিং করাটা আমাদের খুবই জরুরী।

আধুনিক এই প্রযুক্তির যুগে আমাদের ছেলে মেয়ে বড় হচ্ছে ডিভাইসের উপরে ভর করে। তাদের শারীরিক মানসিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে না শুধুমাত্র ডিভাইস মুখে হওয়ার কারণে। আমাদের সন্তানগুলো তাদের শারীরিক একটিভিটিস হারাচ্ছে । একটু পরিশ্রম করলেই হাঁপিয়ে যাচ্ছে , তারা এনার্জি বৃদ্ধি করতে পারছি না। শুধু যে খাবারের খেলেই এনার্জি বৃদ্ধি পায় এটা কিন্তু নয়। এনার্জি বৃদ্ধি পাই প্রতিদিনের কিছু কার্যক্রমের ভেতর দিয়ে।

যদি আমরা বাচ্চাদের না শিখাই তাহলে কখনোই তারা সেই বিষয়ে পারদর্শ হবে না এবং সেই বিষয়ে এক রকম ভয় থেকে যাবে । যেমন পানিতে সাঁতার কাটা স্রোতের বিপরীতে কিভাবে হাঁটতে হবে তা শিখা খুবই জরুরী। সকাল ১১ টা নাগাদ আমার চোখে পড়লো ক্যাম্পিংয়ে আসা কয়েকটি ফ্যামিলি তাদের বাচ্চাদের নিয়ে ঝরনার পানির ধারে এসেছে। এবং তাদেরকে পানিতে খেলতে বলছে এবং বিভিন্ন খেলনাও দিয়েছে। হঠাৎ করে আমার চোখে পড়লো ছোট্ট একটি মেয়ে বয়স আনুমানিক ৫ থেকে ৬ বছর হবে বাবা মেয়েকে বলছে পানিতে নামতে মেয়ে ভয়েতে নামছে না। জোরে জোরে কান্না করছে অথচ ওই একই বয়সের ছেলে, মেয়েরা দিব্যি পানিতে খেলাধূয়া করছে।

বাবা পানির ধারে মেয়েকে রেখে উপরে উঠলো বলল যে এবার খেলো মেয়েটা তবুও ভয় পাচ্ছে তারপর বাবা মেয়েটার কাছে গিয়ে হাত ধরে পানিতে নামানোর চেষ্টা করছে অর্থাৎ তার মনের ভেতরে যে ভয় সেটা কমানোর চেষ্টা করছে। আমি বসে বসে খেয়াল করছি ছোট ছোট বাচ্চাদের একটিভিটিস প্রথমে পানিতে নেমে কিছু সময় সাঁতার ঘটলো একে একে অনেক বাচ্চারা এক জায়গায় হল তারপর একসাথে গোসল করছে সাঁতার কাটছে।

একপর্যায়ে দেখতে পেলাম যে পানির স্রোত বিপরীতমুখী করার জন্য কিছু ছেলে মেয়ে তারা একত্রিত হয়ে কিছু পাথর সংগ্রহ করছে যাতে করে পানি স্রোত তাদের মত করেই অন্য সাইট দিয়ে নিতে পার। তবে তারা যেভাবে পাথরগুলো একের পর এক হাত বোতল করে সামনে দিচ্ছে সেটা দেখার মত ছিল তাদেরকে কেউ বলে দেই নাই যে এভাবেই পাথরগুলো সামনে নিয়ে যেতে হবে অর্থাৎ তারা যে কাজটি করছে এটা হল সম্মিলিত কাজ অর্থাৎ টিম ওয়ার্ক। আমি মনে করি আমাদের বাচ্চাদের এভাবেই মানুষ করা উচিত যাতে করে তারা যদি কোন বিপদে পড়ে তাহলে তারাই সে বিপদের মোকাবেলা করবে নির্ভয়ে।

DeviceName
AndroidGalaxy A34
LocationMalaysia 🇲🇾🇲🇾
Short by@mdsahin111

তো বন্ধুরা এই ছিল শেষ পর্বের ক্যাম্পিং সম্পর্কে শেষ মন্তব্য। আজকের মত আমি এখানে বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশাই করি। হয় আল্লাহ সবার মঙ্গল করুন।

Posted using SteemMobile

Sort:  
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.092
BTC 63308.53
ETH 1777.94
USDT 1.00
SBD 0.39