ফটোগ্রাফি পোস্ট- " নার্সারী হতে কিছু ফুলের ফটোগ্রাফি যাত্রা ’’

in আমার বাংলা ব্লগ9 months ago (edited)

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন সবাই ? আশা করি আপনারা সবাই বেশ ভালো আছেন। চলে গেল ঈদ। সেই সাথে চলে গেল পবিত্র রমজান মাস। আবার এক বছর পর আমরা ফিরে পাবো এই রমজান মাস। জানিনা কে কতটুকু নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতে পেরেছি। যাই হোক প্রতিদিনের মত করে আজও চলে আসলাম আপনাদের মাঝে আমার আরও কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য। আসলে চলতে ফিরতে এত এত ফটোগ্রাফি করেছি যে প্রতিটি ফটোগ্রাফি আমার মোবাইলে জমে একেবারে মোবাইল কে হ্যাংঙ করে দিয়েছে। এই ফটোগ্রাফি করে শেষ হবে কে জানে।

আমার কাছে ফটোগ্রাফি করা একটি আর্ট। আর সেই ফটোগ্রাফি যদি করা যায় মনের মনের মাধুরী মিশিয়ে তাহলে কিন্তু ফটোগ্রাফি হয়ে উঠে বেশ আকর্ষনীয় এবং দৃষ্টিনন্দন। অবশ্য সবার পক্ষে সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করা হয়ে উঠে না। তবে আমরা যদি ক্যামেরার লেন্স এবং ফোকাস বুঝে একটু সময় নিয়ে ফটোগ্রাফি করতে পারি তাহলে কিন্তু আমরাও একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার হতে পারবো। আর নিজেদের দক্ষতাকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারবো। তাই আমাদের উচিত হবে সুন্দর এই শিল্পটিকে সুন্দর করে শিখে নেওয়া।

image.png

কিছুদিন আগের কথা মনে পড়ছে। আমি গিয়েছিলাম মতিঝিলের আরাম বাগের ফুলের নার্সারীতে। সেদিন আমার উদ্দেশ্য ছিল শুধু কিছু ফুলের ছবি তোলা। শহরের ভেতরেও এমন একটি জায়গায় হাজারও রকমের ফুল একসাথে সাজানো থাকে তা ভেবে আমার ভীষণ ভালো লাগছিল। ভেতরে ঢুকেই যেন মনে হলো আমি এক অন্য জগতে চলে গেছি। চারপাশে রঙিন ফুলের বাহার আর তার সঙ্গে ছিল পাখির ডাক আর বাতাসে মাটির গন্ধ। এক এক করে যখন ফুলগুলো দেখছিলাম তখন মনে হচ্ছিল প্রতিটি ফুলের ভেতরেই আলাদা গল্প লুকিয়ে আছে। আমি সেদিন অনেকগুলো ছবি তুলেছিলাম। প্রায় পাঁচশো ছবির মতো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছিল চন্দ্রমল্লিকা আর ডালিয়া ফুল। এই ফুল দুটি যেন পুরো নার্সারীর সৌন্দর্যকে আলাদা মাত্রা দিয়েছিল। চন্দ্রমল্লিকার দিকে তাকালে মনে হয় যেন ছোট ছোট হাসিমুখ সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। সাদা হলুদ বেগুনি কত রঙের যে চন্দ্রমল্লিকা সেখানে ছিল তা বলে শেষ করা যাবে না। প্রতিটি গাছ যেন ভরে উঠেছিল ফুলে। মনে হচ্ছিল যদি হাত বাড়াই তবে গোছা গোছা ফুল ছিঁড়ে নিতে পারব। যদিও আমি কেবল ছবির জন্যই সেখানে গিয়েছিলাম তাই হাত দিয়ে কিছুই ছুঁইনি।

WhatsApp Image 2025-09-08 at 23.15.36_8fad97a4.jpg

WhatsApp Image 2025-09-08 at 23.15.36_f70f4cb5.jpg

ডালিয়া ফুলের সৌন্দর্যও কম নয়। বড় বড় পাপড়ি মেলে তারা যেন রাজকীয় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। কারো রঙ লাল কারো গোলাপি কারো আবার হালকা হলুদ। প্রতিটি ফুল যেন আলাদা রঙের ক্যানভাস। সূর্যের আলো যখন তাদের গায়ে পড়ছিল তখন রঙগুলো আরও ঝলমল করে উঠছিল। ক্যামেরার লেন্সে যখন সেই দৃশ্য ধরছিলাম তখন মনে হচ্ছিল এতো সুন্দর রঙের মেলবন্ধন শুধু ফুলের মধ্যেই সম্ভব। ফুলের ভেতর ঘুরতে ঘুরতে আমি অনেক সময় ধরে ছবি তুলছিলাম। একটি ফুলের কোণ থেকে আরেকটি ফুলের ভঙ্গি সবই আমার চোখে ধরা পড়ছিল। ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডারে যখন সেই ছবি ফুটে উঠছিল তখন মন ভরে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল প্রতিটি ছবি যেন এক একটি চিরন্তন স্মৃতি হয়ে থাকবে। যদিও আমি জানি ছবি কখনো আসল সৌন্দর্য পুরোপুরি ধারণ করতে পারে না। তবুও আমি চেষ্টা করেছিলাম ফুলের সঠিক রূপ তুলে ধরতে।

WhatsApp Image 2025-09-08 at 23.15.37_c5c3f010.jpg

নার্সারীর ভেতরে হেঁটে চলার সময় একটি বিষয় খুব ভালোভাবে অনুভব করেছিলাম। আর তা হলো ফুল মানুষকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। ফুল শুধু দেখলেই নয় তার গন্ধেও মনে এক ধরণের শান্তি আসে। চারপাশে এত রঙ এত গন্ধ মিলে আমি যেন কিছুক্ষণের জন্য পুরো পৃথিবীর দুশ্চিন্তা ভুলে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল যদি প্রতিদিন এমন জায়গায় কিছুটা সময় কাটানো যায় তবে জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। চন্দ্রমল্লিকার মধ্যে যে বৈচিত্র্য তা আমাকে ভীষণ আকৃষ্ট করেছে। ছোট ছোট ফুলগুলো যখন গুচ্ছ গুচ্ছ হয়ে ফোটে তখন পুরো গাছটাই যেন একটি ফুলের ঝাড় হয়ে যায়। প্রতিটি রঙের ভিন্ন ভিন্ন আবেশ আছে। সাদা রঙের ফুলে মনে হয় সরলতা লুকিয়ে আছে। হলুদ রঙে পাওয়া যায় উচ্ছ্বাস আর বেগুনি রঙের ভেতরে যেন লুকিয়ে থাকে এক ধরণের রহস্য। আমি যতই ছবির ভেতর এই বৈচিত্র্য ধরে রাখতে চেয়েছি ততই মনে হয়েছে ফুলগুলো আরও কাছে টেনে নিচ্ছে।

WhatsApp Image 2025-09-08 at 23.15.37_afd25b8e.jpg

অন্যদিকে ডালিয়া ফুলের সৌন্দর্য যেন একেবারে ভিন্ন। বড় বড় আকারে যখন তারা ফোটে তখন এক নজরেই সবার দৃষ্টি কাড়ে। কিছু ডালিয়া ফুল এত বড় যে মনে হচ্ছিল তারা যেন ছোট্ট একটি সূর্য। পাপড়ির পর পাপড়ি এমনভাবে সাজানো যেন এক শিল্পী ধৈর্য ধরে প্রতিটি রেখা এঁকেছেন। ছবি তোলার সময় বারবার মনে হচ্ছিল এতো সুন্দর সৃষ্টিকে যদি প্রতিদিন দেখা যেত তবে জীবন অনেকখানি আনন্দে ভরে যেত। আমি যখন ছবিগুলো তুলছিলাম তখন লক্ষ্য করলাম অনেক মানুষও সেই নার্সারীতে আসছিল। কেউ ফুল কিনছিল আবার কেউ শুধু দেখতে এসেছিল। সবার চোখেই ছিল একধরনের আনন্দের ঝিলিক। ফুল মানুষকে এত সহজেই খুশি দিতে পারে তা সেদিন আবার নতুন করে অনুভব করলাম। ছোট ছোট বাচ্চারা ফুল দেখে হাত বাড়াচ্ছিল আর হাসছিল। তাদের সেই আনন্দ আমারও আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

WhatsApp Image 2025-09-08 at 23.15.35_4d1d3be2.jpg

ফটোগ্রাফি করার সময় আমি বারবার থেমে যেতাম কারণ ফুলের সৌন্দর্য একবারে ক্যামেরায় ধরা পড়ে না। কখনো আলো বদলাচ্ছিল আবার কখনো বাতাসের ছোঁয়ায় ফুল দুলে উঠছিল। এসব মুহূর্ত ঠিকমতো ধরতে না পারলেও সেগুলো আমার মনে গেঁথে গেছে। মনে হচ্ছে প্রতিটি মুহূর্তই একেকটি কবিতা হয়ে গেছে। ফিরে এসে যখন ছবিগুলো একে একে দেখলাম তখন মনে হলো সেদিনের পুরো সময়টাই আসলে এক উৎসবের মতো কেটেছে। প্রতিটি ছবি যেন আমাকে আবারও নার্সারীর ভেতর ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। প্রতিটি চন্দ্রমল্লিকা আর ডালিয়া ফুল যেন আমার দিকে তাকিয়ে আবারও হাসছিল।

WhatsApp Image 2025-09-08 at 23.15.36_5b455410.jpg

ফুলের প্রতি আমার ভালোবাসা অনেকদিনের। ছোটবেলা থেকেই রঙিন ফুল দেখলে মন ভরে যেত। কিন্তু সেদিনের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। এতগুলো ফুল একসাথে দেখে মনে হচ্ছিল প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি মেলবন্ধন ঘটছে। ফটোগ্রাফি করার জন্য গেলেও মনে হচ্ছিল আমি যেন প্রকৃতির এক অংশ হয়ে গিয়েছি। এখনও যখনই মন খারাপ হয় আমি সেই ছবিগুলো দেখি। প্রতিটি ছবি যেন মনে শান্তি আনে। প্রতিটি রঙিন ফুল যেন মনে করিয়ে দেয় জীবন যত কঠিনই হোক তবুও এর ভেতরে আছে অনেক সৌন্দর্য। ফুলের মতো মানুষকেও হাসতে শিখতে হয় আর দুঃখের মাঝেও আনন্দ খুঁজে নিতে হয়। এই কথাগুলো লিখতে বসে আবারও মনে পড়ছে সেই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত। নার্সারীর ভেতরে কাটানো সময়গুলো আমার মনে চিরস্থায়ী হয়ে গেছে। হাজারো ফুলের ভিড়ে দাঁড়িয়ে যে প্রশান্তি পেয়েছিলাম তা ভাষায় পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব নয়। শুধু বলা যায় ফুল মানুষকে অন্যরকমভাবে বাঁচতে শেখায়। আজ আমি সেই অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করলাম। হয়তো এই লেখা পড়তে গিয়ে অন্য কারোও মনে হবে ফুলের মাঝে কিছু সময় কাটানো দরকার। কারণ ফুল শুধু চোখের জন্য নয় মনের জন্যও অনেক বড় ঔষধ।

WhatsApp Image 2025-09-08 at 23.15.37_dd85bb6c.jpg

জানিনা আমার আজকের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে। আমার কাছে কিন্তু প্রতিটি ফটোগ্রাফি বেশ ভালো লেগেছে। আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীফটোগ্রাফি
ক্যামেরাVivo y18
পোস্ট তৈরি@maksudakawsar
লোকেশনঢাকা , বাংলাদেশ

আমার পরিচিতি

আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।


3W72119s5BjVs3Hye1oHX44R9EcpQD5C9xXzj68nJaq3CeF5StuMqDPqgYjRhUxqFbXTvH2r2mDgNbWweA4YGBo825oLh4oqEqeynn5EZL11LdCrppngkM (1).gif

VOTE @bangla.witness as witness

witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

1000206266.png

1000206267.png

❤️❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️❤️

Sort:  
 9 months ago 

ওয়াও আপনি তো নার্সারি থেকে দারুণ দারুণ কিছু ফুলের ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে উপহার দিয়েছেন। আপনার তোলা ফুলের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে মুগ্ধ হলাম।সবগুলো ফটোগ্রাফি আমার অনেক ভালো লেগেছে আপু।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 9 months ago 

খুবই সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফির মধ্য দিয়ে আজকে আপনার পোস্ট সাজিয়ে তুলেছেন৷ যেভাবে এখানে আপনি নার্সারি থেকে এত সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি করেছেন এবং আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন তা দেখে অনেক বেশি ভালো লাগছে৷ এখানে এই ফটোগ্রাফি গুলো যখন আপনি শেয়ার করেছেন তা দেখে একেবারে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম৷ অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.083
BTC 61221.02
ETH 1642.72
USDT 1.00
SBD 0.42