জেনারেল রাইটিং- নিজের অবস্থান কখনো ভুলে যেতে নেই।
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন। সৃষ্টিকর্তার রহমতে আমিও আছি ভালোই। তবে ব্যস্ত এ নগরে কতটুকু সময় ভালো থাকতে পারবো সেটা বলা মুশকিল। শত ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয় যান্ত্রিক জীবন। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছুকে বন্ধ করে দিয়ে দূরে কোথাও সবুজ গাছের ছায়ায় নিজেকে একটু স্বস্থির ছায়া দিতে। কিন্তু ঐ যে বাস্তবতা, সেটা তো বড়ই নিষ্ঠুর আর নির্মম। কোন কিছুতেই ছাড় দিতে চায় না। সে যাই হোক বাবা । চলুন মূল পোস্টে ফিরে যাওয়া যাক।
প্রতিদিনই চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের মানুষগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো কে আমার লেখার যাদুতে আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে। জানিনা কতটুকু আপনাদের মাঝে নিজের মনের কথা গুলো কে শেয়ার করতে পারি। আজ চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল রাইটিংটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।
সবকিছু ঠিক থাকার মানেই শান্তি নয়। অনেক সময় বাইরে থেকে কারও জীবন দেখে মনে হয় সে খুব শান্তিতে আছে, সব কিছুই তার নিয়ন্ত্রণে। সে হয়তো হাসছে, কথা বলছে, কাজ করছে, পরিবার সামলাচ্ছে, কিন্তু তার ভিতরে এক অদ্ভুত নীরব যুদ্ধ চলে। এই যুদ্ধের শব্দ কেউ শোনে না, কেউ বোঝেও না। বাইরে থেকে দেখা হাসিটা হয়তো মিথ্যে নয়, কিন্তু তার আড়ালে থাকে অসংখ্য না বলা কষ্ট। মানুষ এমনভাবেই বেঁচে থাকে, যেন সবকিছু ঠিক আছে, অথচ ভিতরে ভিতরে সে নিজেকে সামলাতে হিমশিম খায়। এই নিঃশব্দ যুদ্ধটাই জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই, কারণ এখানে শত্রু কেউ অন্য নয়, নিজের ভিতরের কষ্ট, ভাঙা স্বপ্ন আর অজানা ভয়।
জীবনের প্রতিটি মানুষই কখনো না কখনো এই নীরব লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়। কেউ সেটা প্রকাশ করে, কেউ করে না। যারা করে না, তাদের জীবনটা বাইরে থেকে সবচেয়ে সুন্দর মনে হয়। কিন্তু তারা প্রতিদিন ভিতরে ভিতরে নিজেকে বোঝায় যে সব ঠিক আছে। তারা ভাবে, অন্যকে কষ্ট না দিয়ে নিজের কষ্টটা নিজের মধ্যেই রাখাই ভালো। কিন্তু আসলে সেই চেপে রাখা কষ্টই এক সময় জমে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে যায়। তখন হাসিটাও কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়, কথা বলাও ভার মনে হয়, এমনকি নীরব থাকাও যন্ত্রণা হয়ে ওঠে। তবু মানুষ বেঁচে থাকে, কারণ তার দায়িত্ব আছে, ভালোবাসার মানুষ আছে, আশা আছে, যাদের জন্য সে নিজের কষ্ট গোপন করে রাখে।
নীরব কষ্টের সবচেয়ে কঠিন দিক হলো, এটি কাউকে বোঝানো যায় না। কেউ যদি তোমার হাতে ব্যথা পায়, সেখানে ব্যান্ডেজ লাগানো যায়, মানুষ বুঝতে পারে তুমি আহত। কিন্তু যদি তোমার মনে ব্যথা হয়, সেই জায়গাটা কেউ দেখতে পায় না। তুমি শুধু নীরবে সেটা বহন করো। সমাজ এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, মানুষ মনে করে সবসময় শক্ত হতে হয়, কান্না দেখানো মানে দুর্বলতা। তাই অনেকে কষ্ট পেলেও চুপ করে থাকে, হাসি মুখে সব সহ্য করে। কিন্তু কেউ জানে না, সেই হাসির আড়ালে কতটা ক্লান্তি লুকিয়ে আছে, কতটা ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের টুকরো মিশে আছে।
আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়ি, যখন সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও ভিতরে একটা ফাঁকা জায়গা থেকে যায়। সেই ফাঁকাটা হয়তো ভালোবাসার অভাব থেকে, হয়তো অপূর্ণ ইচ্ছা থেকে, হয়তো প্রিয় কাউকে হারানোর যন্ত্রণা থেকে। বাইরের জগৎ হয়তো দেখে, আমরা ব্যস্ত আছি, কাজ করছি, কথা বলছি, কিন্তু ভিতরের নিস্তব্ধতা কেউ শুনতে পায় না। কেউ বুঝতে পারে না সেই অদ্ভুত ভারী নীরবতা কতটা কষ্টের।
মানুষের মনে অনেক অনুভূতি জমে থাকে, যা সময়ের সাথে সাথে পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। প্রথমে হয়তো কষ্টটা তীক্ষ্ণ লাগে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটা অভ্যাসে পরিণত হয়। কিন্তু অভ্যাস মানে ভুলে যাওয়া নয়, অভ্যাস মানে মেনে নেওয়া। মানুষ তখন নিজের যন্ত্রণাকে নিজের জীবনের অংশ বানিয়ে নেয়। সে বুঝে নেয়, কিছু কষ্ট কখনো মুছে যায় না, শুধু মনের গভীরে লুকিয়ে থাকে। কেউ যদি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখে, তবেই হয়তো সে সেই কষ্টের ছায়াটা খুঁজে পাবে কারও চোখে, কারও নিঃশ্বাসে, বা কারও নীরবতার মধ্যে।
এই নিঃশব্দ যুদ্ধটা কখনো খুব একা করে দেয় মানুষকে। বাইরে অনেক মানুষ থাকলেও, ভিতরে এক অদ্ভুত একাকিত্ব জেগে ওঠে। সেই একাকিত্বের সঙ্গে কথা বলা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়। অনেক সময় মানুষ এমন অবস্থায় পড়ে, যখন সে চায় কেউ একটু বুঝুক, কেউ একটু পাশে থাকুক, কিন্তু আশেপাশের মানুষরা তখন ব্যস্ত থাকে নিজেদের জীবনে। কেউ ভাবে তুমি তো হাসছো, তোমার সব ঠিক আছে, তাহলে সমস্যাটা কোথায়। কিন্তু কেউ জানে না, সেই হাসির পেছনে কতটা কান্না চেপে রাখা আছে।
তবু জীবন থেমে থাকে না। মানুষ প্রতিদিন নতুন ভোরে জেগে ওঠে, কাজ করে, হাসে, অন্যকে সাহস দেয়। সে নিজের ভেতরের যুদ্ধটা লুকিয়ে রাখে, কারণ সে জানে, থেমে গেলে চলবে না। এই লড়াইটাই তাকে ধীরে ধীরে শক্ত করে তোলে। হয়তো আজ সে কাঁদে, কিন্তু কাল সে আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। কষ্ট যতই গভীর হোক, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ শিখে যায় কষ্টের সঙ্গে বাঁচতে। সে শিখে নেয়, শান্তি মানে সব ঠিক থাকা নয়, শান্তি মানে নিজের ভিতরের অস্থিরতাকে মেনে নেওয়া।
কখনো কখনো এই নিঃশব্দ কষ্টই মানুষকে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে। যে নিজে ব্যথা পেয়েছে, সে জানে কষ্ট কতটা ভারী, তাই সে অন্যের প্রতি নরম হয়ে ওঠে। সে বুঝে যায়, সবার মুখে হাসি মানে সুখ নয়, সবার জীবনের আলো মানে উজ্জ্বলতা নয়। তাই সে অন্যকে আঘাত দিতে চায় না, বরং চায় একটু বুঝতে, একটু পাশে থাকতে। এইভাবেই নীরব কষ্ট মানুষকে পরিণত করে, তাকে গভীর করে তোলে।
অনেক সময় রাতে যখন সব চুপচাপ হয়ে যায়, তখন এই নিঃশব্দ কষ্টটা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। তখন মনে হয় সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু মনের মধ্যে এক অজানা শূন্যতা ঘুরে বেড়ায়। কেউ থাকে না শোনার জন্য, কেউ থাকে না বুঝার জন্য, তখন মানুষ নিজের সাথেই কথা বলে। সে ভাবে, যদি কেউ বুঝতো, যদি কেউ একবার বলতো “তুমি একা নও”, তাহলে হয়তো কিছুটা শান্তি মিলতো। কিন্তু সবসময় এমন কেউ আসে না। তাই মানুষ নিজেই নিজের বন্ধু হয়ে যায়, নিজের কষ্টের সঙ্গী হয়ে যায়।
জীবনের এই নিঃশব্দ যুদ্ধ চলতেই থাকে। কখনো সেটা কমে যায়, কখনো আবার বেড়ে ওঠে। তবু মানুষ থেমে যায় না। কারণ সে জানে, অন্ধকার যত গভীর হোক, একদিন না একদিন আলো আসবেই। সেই আশাটাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। প্রতিটি ভোরে মানুষ নতুন করে নিজের মনকে বোঝায়, আজ হয়তো ভালো কিছু ঘটবে, আজ হয়তো কষ্টটা একটু কম লাগবে। হয়তো এই বিশ্বাসই মানুষকে টিকিয়ে রাখে, এই ছোট্ট আশাগুলোই তাকে জীবনের বড় দুঃখের মাঝেও হাসতে শেখায়।
সবশেষে বলা যায়, সবকিছু ঠিক থাকার মানে শান্তি নয়। শান্তি আসে তখনই, যখন আমরা আমাদের কষ্টকে অস্বীকার না করে তাকে মেনে নিই। যখন আমরা বুঝতে শিখি, জীবন মানেই উত্থান-পতন, মানেই ভালো-মন্দের মিশ্রণ। নিঃশব্দ যুদ্ধ থামানো যায় না, কিন্তু তার সঙ্গে বাঁচা শেখা যায়। প্রতিটি মানুষ নিজের মতো করে সেই লড়াইটা চালিয়ে যায়। কেউ চোখের পানিতে, কেউ নীরবতায়, কেউ আবার নতুন আশায়। হয়তো এই লড়াইয়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের আসল সৌন্দর্য—যেখানে আমরা বারবার ভেঙে গিয়ে আবার গড়ে উঠি, হারিয়ে গিয়ে আবার নিজেদের খুঁজে পাই, কষ্ট পেয়ে আবার ভালোবাসতে শিখি। এই নিঃশব্দ যুদ্ধটাই আমাদের শক্তি, আমাদের মানুষ হয়ে ওঠার গল্প।
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy