জেনারেল রাইটিং- 💫 এখনকার যুগে চারদিকে শুধু চোরে চোরে মাসতুতু ভাই
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন। সৃষ্টিকর্তার রহমতে আমিও আছি ভালোই। তবে ব্যস্ত এ নগরে কতটুকু সময় ভালো থাকতে পারবো সেটা বলা মুশকিল। শত ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয় যান্ত্রিক জীবন। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছুকে বন্ধ করে দিয়ে দূরে কোথাও সবুজ গাছের ছায়ায় নিজেকে একটু স্বস্থির ছায়া দিতে। কিন্তু ঐ যে বাস্তবতা, সেটা তো বড়ই নিষ্ঠুর আর নির্মম। কোন কিছুতেই ছাড় দিতে চায় না। সে যাই হোক বাবা । চলুন মূল পোস্টে ফিরে যাওয়া যাক।
প্রতিদিনই চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের মানুষগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো কে আমার লেখার যাদুতে আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে। জানিনা কতটুকু আপনাদের মাঝে নিজের মনের কথা গুলো কে শেয়ার করতে পারি। আজ চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল রাইটিংটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।
চোরে চোরে মাসতুতু ভাই কথাটি বেশ পুরোনো একটি প্রবাদ বাক্য। আমরা এই প্রবাদ বাক্যটি সেই ছেলেবেলা হতেই শুনে আসছি। প্রকৃত পক্ষে দুজন ব্যাক্তি যখন অন্যায় কাজের সহযোগিতায় একে অপরকে সহায়তা করে তখনই আমরা বলি চোরে চোরে মাসতুতু দেখা যায় সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে, যারা হয়তো একে অপরের আত্মীয় নয়, কিন্তু কাজের কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঠিক তখনই আমরা এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে বলি চোরে চোরে মাতুতু ভাই। আমাদের সমাজে ভালো-মন্দ, সৎ-অসৎ সব ধরনের মানুষই আছ।। আমরা প্রায়ই দেখি, যারা অন্যায় কাজ করে তারা একে অপরকে রক্ষা করতে ব্যস্ত থাকে।
যেমন ধরা যাক কোনো অফিসে যখন সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকে তখন তারা কেউ বিপদে পড়লে একজন আর একজন কে বাচাঁতে এগিয়ে আসে। আর সে কারনেই বাহিরের মানুষ সেই বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারে না। এই বিষয়টি কেবল চুরি বা অপাধের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সামাজিক, রাজনৈতিক বা দৈনন্দিন জীবনের নানা জায়গাতে দেখা যায়। রাজনীতি, সমাজ, পরিবার এবং কর্মক্ষেত্র সব জায়গায় যেন আজকাল এমন নীতিতেই চলছে। সব জায়গাতেই নিজের অন্যায় কে ঢাকতে অন্যায়ের সাথে আপোষ করে চলছে মানুষ। বিষয়টি একদিকে যেমন মজার, আবার অন্যদিকে আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ও বটে।
আমরা যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করি, তাহলে বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ আসলে নিজের মত মানুষকেই বেশী বিশ্বাস করে। অন্যায়কারী সবসময় অন্যায়ের পক্ষে থাকে। আবার সৎ বা ন্যায়পরায়ণ মানুষ সব সময় ন্যায়ের পক্ষে থাকে। একজন অপরাধি সব সময় এই বলে অন্যায় কাজ বেশী করে যে, তার পাশে কেউ না কেউ আছে। যার কারনে সে অন্যায় কাজ করতে কখনও ভায় পায় না। আর সে কারনেই অন্যায়কারী নিজের বন্ধু হিসাবে আর একজন অন্যায়কারী কে বেছে নেয়। যার কারনে মানুষ অন্যায় কে ন্যায় ভেবে এগিয়ে চলে দিনের পর দিন।
তবে সমাজে যদি ভালো মানুষরা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, যেমন খারাপরা দাঁড়ায়, তাহলে সমাজ অনেক সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সৎ মানুষরা অনেক সময় একা পড়ে যায়, তারা একে অপরকে ততটা সহযোগিতা করে না, যতটা অসৎ মানুষরা করে। ফলে সমাজে অসৎ লোকেরা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আমাদের চারপাশে এই প্রবাদের প্রমাণ প্রতিদিনই দেখা যায়। কেউ যদি পরীক্ষায় নকল করে, সে একা নকল করতে ভয় পায়। কিন্তু পাশে কেউ একই কাজ করলে সে সাহস পায়। আবার কোনো জায়গায় কেউ অবৈধভাবে টাকা কামাচ্ছে, তখন দেখা যায় তার মতো আরও কয়েকজনও একই কাজ করছে।
ভালো মানুষ ভালোদের সঙ্গে যুক্ত হয়, আর খারাপ মানুষ খারাপদের সঙ্গে। কিন্তু সমাজে ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে ভালোদের মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি। যদি ভালোরা একসঙ্গে থাকে, একে অপরকে উৎসাহ দেয়, তাহলে খারাপের প্রভাব কমে যায়। কিন্তু যদি তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে চোরে চোরে মাসতুতু ভাইয়েরা সমাজের নেতৃত্ব নিয়ে নেয়। মানুষ তার মতো মানুষকেই কাছে টানে। যেমন চোর চোরের বন্ধু, তেমনি সৎ মানুষ সৎ মানুষের সঙ্গেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের সমাজে অসৎ মানুষরা একে অপরকে যেমন রক্ষা করে, তেমনি তারা নিজেদের জন্য সুযোগ তৈরি করতেও অন্যায়কারীর সাথে আপোষ করে। এই কারণেই অনেক সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলা মানুষরা পিছিয়ে যায়।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে ভাবার মতো। আমরা প্রায়ই অন্যের দোষ দেখি, কিন্তু নিজের ভুলগুলো দেখি না। হয়তো আমরা সরাসরি চুরি করি না, কিন্তু সুযোগ পেলে অন্যেরটা মেরে দেই। সত্যি বলতে চোরে চোরে মাসতুতু ভাই শুধু পেশাদার চোরদের নিয়ে নয়, বরং সেই সব মানুষদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজ্য যারা স্বার্থের জন্য বিবেক বিসর্জন দেয়। জীবনের নানা ক্ষেত্রে আমরা যদি এই প্রবাদটি মনে রাখি, তাহলে বুঝতে পারব কাকে বিশ্বাস করা যায় আর কাকে নয়। কারণ, যাদের উদ্দেশ্য খারাপ, তারা যতই ভালো কথা বলুক, তাদের আসল উদ্দেশ্য থাকে নিজের লাভ।
সবশেষে বলা যায়, চোরে চোরে মাসতুতু ভাই বাক্যটি ছোট হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে জীবনের গভীর সত্য। এটি আমাদের সমাজ, রাজনীতি, কর্মজীবন, এমনকি পারিবারিক জীবনের নানা দিককে স্পর্শ করে। মানুষ কেমনভাবে নিজের মতো মানুষকে খুঁজে নেয়, কেমনভাবে খারাপ কাজে একে অপরকে রক্ষা করে, আর সেই বন্ধন কীভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে সবকিছুই এই এক প্রবাদে ফুটে উঠেছে।
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy