পুজো পরিক্রমা ২০২৩ : গড়িয়াহাট হিন্দুস্তান ক্লাব
নমস্কার বন্ধুরা,
চতুর্থীর দিন দক্ষিণ কলকাতার পুজো দেখা শুরু করেছি ভবানীপুর থেকে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে কালীঘাট, আলিপুর, মুদিয়ালি, বালিগঞ্জ পর্যন্ত দক্ষিণ কলকাতার যে সমস্ত পুজো দেখেছি তা সবই আপনাদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছি। বালিগঞ্জ এলাকায় আমার দেখা শেষ পুজো মণ্ডপ ত্রিধারা সম্মিলনীর পুজো। সেই মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে রাতের অন্ধকারে কলকাতার গলিতে হারিয়ে গেলাম। অনেক হাঁটাহাঁটি করবার পর শেষমেষ দেশপ্রিয় পার্ক ক্লাবের পেছন দিকটায় গিয়ে পৌঁছালাম বটে কিন্তু দেশপ্রিয় পার্কের লাইন দেখে গড়িয়াহাটের দিকে যাওয়া শ্রেয় মনে হলো।
বিকেল থেকে হাঁটার কারণে খুব খিদে পেয়ে গিয়েছিলো তাই কলকাতার বিখ্যাত চিকেন রোল হাতে উঠিয়ে নিয়ে পৌঁছে গেলাম দক্ষিণ কলকাতার মধ্যিখানে গড়িয়াহাটে। গড়িয়াহাটে মূলত চারখানা পুজো, যার সবকটিই একে অপরের পাশাপাশি। চারটি পুজোর মধ্যে প্রথম পেলাম, গড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাবকে। ৬১ বছরে পদার্পণ করা গড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাবের পুজোর এবারের ভাবনা "দরিয়া পার"। আমাদের জীবন নদীর মতো। নদী যেমন ভীষণ বর্ষায় উথাল পাথাল হয়ে যায় আবার কখন খুবই শান্ত। আমাদের জীবনটাও সেরম নানা উথাল পাথালে পরিপূর্ণ। জীবনের এই দিকটাকে কেন্দ্র করে এবছরে হিন্দুস্তান ক্লাবের পুজোর ভাবনা।
গুগল ম্যাপসের দিকে তাকিয়ে পৌছে গেলাম হিন্দুস্থান ক্লাবের পুজোতে। মণ্ডপের ভাবনায় ফুটে উঠেছে নদীর নানান রূপ, যা আদপে আমাদের জীবনের অনুরূপ। পুরো মণ্ডপের কাজ বাঁশের উপরে। নদীর বিভিন্ন তরঙ্গ বাঁশকে নানা আকৃতি ফোটানো হয়েছে, কেন্দ্রবিন্দুতে আমাদের জীবনের চড়াই উতরাই। নৌকা আকৃতি পেয়েছে মন্ডপের অন্যান্য কাজে। যা রাতের আলোক সজ্জাতে আরো সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। মন্ডপের প্রতি অংশ পরিবেশের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে।
নৌকা যেমন নদীর যেকোনো রূপে আমাদের পেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। জগৎ জননী মা দুর্গা তেমনই জীবনের কঠিন সময় গুলোতে আমাদের শান্ত ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন। আমাদের জীবনের চড়াই উতরাই গুলোর তিনিই রক্ষাকর্তী।
গড়িয়াহাটের চারখানা পুজোর সবকটিই একে অপরের পাশাপাশি হওয়ায় আপনার মনে হয় সুবিধেই হয়েছে।এতে করে আপনি একটির পর একটি পুজো দেখে যেতে পেরেছেন। বেশ সুন্দর করে গুছিয়ে আজকের পর্বটি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আশা করি আগামী পর্বও এমন করেই উপস্থাপন করবেন।
দাদা চতুর্থীর দিনই এত ভিড়? পুজা শুরুর পর তো সত্য সত্যই জন দরিয়া হয়ে যাবে। ভাবতেই অবাক লাগতেছে।থিমটি সত্যিই অনেক সুন্দর।একবার পুজা দেখতে ইন্ডিয়া যেতেই হবে৷ অনেক ভাল লাগল আপনার ঘোরাঘুরি ও প্যান্ডেলের সৌন্দর্য দেখে।ধন্যবাদ দাদা শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ দাদা আপনার শেয়ার করা বিভিন্ন জায়গার পূজার আয়োজনের ফটোগ্রাফি দেখেছি। খুব ভালো লেগেছে সেই পোস্ট গুলো দেখে। যাইহোক দেশপ্রিয় পার্কের লাইন দেখে গড়িয়াহাট হিন্দুস্তান ক্লাবে গিয়েছেন,এটা বেশ ভালো হয়েছে। গড়িয়াহাট হিন্দুস্তান ক্লাবের থিম এবং আয়োজন এককথায় দুর্দান্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ আয়োজন ছিলো চোখে পড়ার মতো। ফটোগ্রাফি গুলো দেখে সত্যিই ভীষণ ভালো লেগেছে। যাইহোক এতো সুন্দর মুহূর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।