মতির অসহায় জীবন- শেষ পর্ব

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

আসসালামু আলাইকুম!
আমি ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে @kawsar


আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন, আর আমিও ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আমি আপনাদের মাঝে আরও একটি পোস্ট শেয়ার করতে চলে এসেছি। আপনাদের মাঝে আমি যে গল্পটি পর্ব আকারে দিচ্ছি তারই আজকে শেষ পর্ব দেব। আসলে এই গল্প আমি একটা বাস্তব জীবন থেকে নিয়ে লিখেছি। আর আশাকরি আপনাদের কাছে আমার এই গল্পটি খুবই ভালো লেগেছে। তো আর চলুন কথা না বলে গল্পটি লেখা শুরু করে।


flower-887443_1280.jpg

Image source: copyright & royalty free pixabay.com


মতি যখন তার স্বামীর সংসার ছেড়ে তার তার বাবার বাড়িতে চলে এসেছিল এবং সে একটি তার ভাই যে হোটেলের কারিগর ছিল, সেই হোটেলে হোটেলের কাজ পেয়েছিল। এ থেকে কিন্তু তার জীবনটা খুব ভালো কাটছে ছিল। মোটামুটি সে তার মেয়েদের ভালোভাবে জীবন পরিচালনা করতে পেরেছিল এবং নিজের জীবনটাকে মোটামুটি ভালো চালাচ্ছিল। যদি ও নিজের কাজ করতে প্রথম একটু কষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু সে মানিয়ে নিয়েছিল।

এর মাঝেও সে কিছু টাকা জমা করেছিল। মোটামুটি এ কয়েক বছরে সে ভালো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরই মাঝে তার ভাই খুব বিপদে পড়ে এবং তার ভাই তার কাছে সেই টাকা চায়, ধার হিসেবে পরে দিয়ে দিবে। আর ভাই যখন বিপদে পড়ে আর যখন টাকাগুলো চায় তখন আসলে সে না দিয়ে পারে না। আর তখনই টাকাগুলো দিয়ে দেয়। কিন্তু ভাই আসলে যতই আপন হোক বিয়ের পরে তার যখন সংসার হয় তখন কখন অতটা আপন থাকেনা।

হয়তো এটা সবার ক্ষেত্রে নয় অনেক ভাইরাই আছে অনেক ভালো। কিন্তু ওর ভাই ছিল সার্থপর। টাকাগুলো নিয়েছে কিন্তু যখন ওর লাগবে বলে চেয়েছে তখন আর দেয়নি। এই কথাটা আসলে বলা যায় যে দুঃখী জীবনে আরে দুংখী করে দিয়েছে। তো এক সময় মতি আর এই চাকরিটা করে না ছেড়ে দেয়। এরপর কিছুদিন বাড়িতে থাকে। থাকার পরেও অন্য জায়গায় বিয়ে হয় মানে ভাই এবং বাবা মিলে আরেক জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয়।

বিয়ে দিয়ে দেওয়ার পরে আগে যে দুই মেয়ে ছিল মেয়েটা মোটামুটি বড়ই হয়ছে তারা তার নানীর কাছে থাকে। বাচ্চু মিয়া এখন বৃদ্ধ তাই তার ছোটো ছেলে তার নাতনিদের কে দেখা শুনা করে। সেই তাদেরকে লালন-পালন করে এবং খরচ দেয় এবং মোতির যে বড় বোন ঢাকা থাকে সেও তার মেয়ের খরচ গুলো মোটামুটি ভালোভাবেই দেয়। মতির বিয়ে হওয়ার পরে সেইখানে যে স্বামী ছিল সে মোটামুটি ভালই ছিল। নেশা করে না তবে মোটেও ভালো ব্যবহার করে না মাঝে মাঝে মারে।

তবে আগে যে স্বামী ছিল তার থেকে এই স্বামী অনেকটাই ভালো- যে কারণে একটু হয়তো অত্যাচার করে তবুও তা মতির কাছে এটা কিছু মনে হয় না। আগে যে স্বামী ছিল সে এর থেকে অনেক বেশি অত্যাচার করত। এই যে ঘরে যেখানে মতির এখন বিয়ে হয়েছে সেখানে একটি মেয়ে হয়েছে মেয়েটাও দেখতে খুবই সুন্দর। সে তার এই মেয়েকে নিয়ে এই ঘর এই অত্যাচার সহ্য করেই কাটিয়ে যেতে চায়। আসলে মতি ছিল খুবই ঠাণ্ডা ধরনের একটি মেয়ে।

সে কোনো ঝগড়াঝাঁটি পছন্দ করতোনা। জীবনে খুবই কম কথা বলতো তাই হয়তো তার ভাগ্য এটাই এনেছে। তবে তার পরবর্তী জীবনে কি হবে কেউ জানে না একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। তবে আমি দোয়া করি যেন এরকম যে মেয়েগুলো আছে তাদেরকে যেন আল্লাহ সবসময় বিপদ মুক্ত রাখে, ভালো রাখে। এই ছিল আমার আজকের পোস্ট আশা করি আমার এই গল্পটি আপনাদের কাছে অনেক ভাল লেগেছে সবাই সুস্থ থাকবেন ভালো থাকবেন।



image.png


ধন্যবাদ সবাইকে পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য।
@kawsar

Sort:  
 4 years ago 

মতির আগকার পর্ব গুলো মিস করে গেছি। মনে হচ্ছে ভাল একটি গল্প মিস করে ফেলেছি। তবে সময় পেলে আগের পোস্ট দেখে নিব। ধন্যবাদ আপনাকে

 4 years ago 

ভালো লাগলো আপনার কমেন্ট। ধন্যবাদ প্রিয় ভাই

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 60785.45
ETH 1557.47
USDT 1.00
SBD 0.47