
Photo edited by canva
আজ আপনাদের মাঝে অন্য রকম একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আমি আশাবাদী আপনাদের বেশ ভালো লাগবে, তো চলুন শুরু করছি।

আজকের পোস্ট টা একটা অন্য রকম হওয়ার কারণ হলো, আমি আজ গিয়ে ছিলাম আমার দাদা শশুরের বন্ধুর, ছেলের বউ মারা গিয়েছে এবং হিন্দু ধর্মে মারা যাওয়ার কিছু দিন পরে অনুষ্ঠান করা হয়, আর ওই অনুষ্ঠানের দাওয়াতে গিয়ে ছিলাম। যাওয়ার কথা শুনে আমি একটু উত্তেজিত ছিলাম কারণ, এর আগে আমি কখনো এরকম অনুষ্ঠানে দাওয়াতে যায় নি। বলা যায় এটা এই ছিল প্রথম বার। তাই আমার কাছে একটা ভালো লাগা কাজ করছিলো ।

তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক টা বহু বছর আগে থেকে যে কোন অনুষ্ঠানে তারা আমাদের দাওয়াত করতেন এবং আমার শশুর বাড়ির লোকজন ও করতেন, মূলত আমার দাদা শ্বশুর সুতার ব্যবসা করতেন আর সেই ব্যবসার সূত্রে এই তার বন্ধুর সাথে পরিচয় হয়েছিলো আর সেই থেকে এখন পর্যন্ত এ সম্পর্ক টা আছে। এটা আত্মার সম্পর্ক তবে, আমার কাছে মনে হয় রক্তের সম্পর্কের চেয়ে ও অনেক বেশি শক্তি শালী।

আজ সকাল বেলা আমার শ্বশুর বললো আমাদের সেখানে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এবং। যেতে এই হবে, শুধু আমাদের না আমার চাচা শ্বশুরের পরিবার কে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে, মানে আমার দাদা শশুরের দুই ছেলে এবং দুই ছেলের পরিবার সহ দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

তাই শাশুড়ি আমি এবং আমার মেয়ে মিলে ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে নিলাম। প্রথমে ভেবে ছিলাম শাড়ি পড়ে যাবো পরে, আর পড়া হয় নি কারণ এত পরিমাণে গরম পড়ে দেখা যাবে, শাড়ি সামলাতে গিয়ে কিছুই খেতে পারব না। তাই বোরখা পড়ে নিলাম, যেহেতু ওখানে মুসলমান ধর্মের জন্য অন্যভাবে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাই বোরখা পড়ে এবং মেয়েকে রেডি করিয়ে শাশুড়ি আমি সহ আমাদের পূরণ বাড়িতে চলে আসি।

আমার চাচা শ্বশুরের ছেলে আগে থেকে এই একটা অটো গাড়ি ঠিক করে রেখে ছিলেন কারণ, দুই পরিবারের লোক একসাথে হলে একটা অটো গাড়ি লাগবে। আমরা ঐ বাড়িতে গিয়ে দেখলাম গাড়ি চলে এসেছে, তাই একটু আগে গিয়ে বসলাম কারণ আমি আবার মাঝখান টা তে বসতে একটু পছন্দ করি।

আমারে চালাকি দেখে, সবাই দৌড়ে এসে তাড়াতাড়ি বসে পড়লো, যেখানে অনুষ্ঠান তাদের ওই গ্রাম টা তে আমি আগে কখনো যাই নি। আমার একদম অপরিচিত তাই, আমি মনে মনে একটু আনন্দিতে ছিলাম নতুন জায়গায় যাইতেছি এই ভেবে। এইতো এরপরে সবাই আনন্দ করতে করতে চলেও আসলাম।

এখানে এসে জানতে পারলাম উনারা ১৭০০ লোকের আয়োজন করেছেন। যাওয়ার সাথে সাথে এই তারা আমাদের বরণ করে নিলেন। ধান,এবং ফুল দিয়ে এরপর আমরা তাদের সাথে কুশল বিনিময় করলাম। যেহেতু মুসলিম ধর্মের জন্য অন্য জায়গায় আয়োজন করা হয়েছে, যদিও তাদের বাড়িতে এই এরপর আমরা সেখানে চলে গেলাম সবাই মিলে ।

এবং সেই বাড়িতে গিয়ে আমি তো পুরাই অবাক কি সুন্দর পরিবেশ এবং খুব সুন্দর ব্যবহার। প্রথমে এই একটা অন টাইম থালা দিয়ে দিলো, এরপরে বাসমতি চালের সাদা ভাত, সেই সাথে একটা গলদা চিংড়ি পাশে একটু খানি ঝোল, এরপরে দিলো বড় এক পিস রুই মাছ, রুই মাছ টা সম্পূর্ণ করতে জানো পেট ভরে আসছিলো, এরপরে দিলো আলু দিয়ে মাছের মাথা কষা, পেটে আর জায়গা ছিল না তবুও একটু খানি ঘন ডাল নিয়ে নিলাম।

ও হ্যাঁ ভুলে গিয়েছি খুব মজাদার একটা চাটনি ছিলো যেটা এর আগে আমি কখনো খাইনি। অনেক ধরনের ফল এবং টক জাতীয় খাবার দিয়ে, সবশেষে দিল বড় সাইজের একটা রসগোল্লা তার সাথে দুই চামচ দই, রসগোল্লা টা এত বেশি ভালো ছিল মুখে দিয়ে হালকা চাপ দিতে এই মিলিয়ে গেলো। সবশেষে জায়গা থেকে মনে হয় আর উঠতেই পারছিলাম না। কারণ, খাবারের পরিমাণ টা অনেক খানি বেশি হয়ে গিয়েছে।

আমার জানা ছিল না এরকম অনুষ্ঠানে এত ধরনের আইটেমের খাবার দেওয়া হয়, এবং প্রতিটা খাবার বেশ সুস্বাদু ছিলো, সেই সাথে তাদের ব্যবহার টা চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। এরপর একটু কষ্ট করে উঠে পান খাওয়ার সেক্টরে গেলাম, এবং হালকা মিষ্টি জর্দা দিয়ে একটা পান নিলাম।

খেতে খেতে পুরো শরীর টা যেন একদম গরম হয়ে উঠেছিল, এরপরে আর দাঁড়িয়ে না থেকে যাদের বাসায় দাওয়াত খেতে এসেছি তাদের কাছে বলে বিদায় নিয়েছি, ও হ্যাঁ যাওয়ার সময় আমাদের হাতে এক টাকা দক্ষিণা দেওয়া হয়েছিলো, এটা নাকি হিন্দু ধর্মের কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার অনুষ্ঠানের শেষে দিতে হয়।

এরপরে একটু কষ্ট করে হেঁটে হেঁটে গাড়িতে এসে বসে পড়ি। এরপরে গাড়িটা ছেড়ে দিলো আহ্ কি ঠান্ডা বাতাস,, প্রাকৃত দৃশ্য দেখতে দেখতে এবং খুব মজা করতে করতে বাড়ি চলে আসি, ভীষণ ভালো লেগেছে আমার। প্রথমে এই অনুষ্ঠানে আমি আসতে চাইনি তবে, এখন মনে হচ্ছে না আসলে আমি অনেক কিছু এই মিস করতাম।

যাইহোক, আজ আমার ভালো লাগার একটা বিষয় নিয়ে লিখেছি এবং চেষ্টা করেছি সম্পূর্ণ টা শেয়ার করার। যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে প্লিজ ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন, ধন্যবাদ সবাইকে।
আপনি আজ আপনার দাদা শশুরের বন্ধুর ছেলের বাড়িতে একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। আর যেকোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে আমাদের মধ্যে একটা আনন্দ কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া এরকম অনুষ্ঠানে এটাই ছিলো আপনার জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা তাই হয়তো একটু বেশি ভালো লাগা কাজ করছিলো।।
ধন্যবাদ আপনাকে আপনার সুন্দর মুহুর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।।।
একদম তাই আমার তো নতুন কোথাও যাওয়ার কথা শুনলেই একটা আনন্দ কাজ করে এবং ভালো লাগে।। আরে অভিজ্ঞতাটা আমার কাছে বেশ ভালো ছিল।
আপু আজ আপনি নেমন্তন্ন খাওয়ার দারুণ কিছু মহুর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। খুব আনন্দ করেই পরিবারের সবার সাথে আপনি গিয়েছিলেন নেমন্তন্ন খেতে। সত্যি বলতে এমন আনন্দঘন মহুর্ত সবাই কামনা করে। এছাড়াও আপনার ফটোগ্রাফিগুলো দারুন ছিলো। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।
ধন্যবাদ জেনে ভালো লাগলো ফটোগ্রাফি গুলো সুন্দর হয়েছে, সত্যি বলতে বাচ্চা কে নিয়ে খুব সুন্দরভাবে ফটোগ্রাফি তুলতে পারেনি যদি ও হাতের কাছে না থাকতো তাহলে আরও বেশি সুন্দর করে করতে পারতাম।।
বিয়ে মানেই একটি আনন্দ এবং সুন্দর মূহুর্ত ৷ আপনাকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে আপু ৷ বিয়ের বাড়ির মত মজা হয়তো আর নেই অনেক আত্নীয় স্বজন আসবে দেখা হবে গল্প হবে ৷
যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে আপনার সারাদিনের কার্যক্রম গুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ৷
ভাইয়া আপনি হয়তো পোস্টটি পড়েন নি কারণ, আমি ওখানে বিয়ে বাড়ির কোন কথাই লিখিনি,,,
আমি গিয়েছিলাম আমার দাদা শশুরের, বন্ধুর ছেলের বউ মারা গিয়েছে ওইটারই নেমন্তন্ন খেতে।।
আপনি হিন্দু ধর্মের নেমন্তন্ন খাওয়ার দারুণ কিছু মহুর্ত আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন।এবং তারা আপনার দাদা শশুরের বন্ধুর ছেলে ছিলো তাদের বাড়িতে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।
এরকম অনুষ্ঠানে আপনার জীবনে এই ফাস্ট গেলেন। ছবিগুলো দেখে মনে হচ্ছে খেতে খেতে একদম অস্থির হয়ে পড়েছেন এবং খাওয়ার শেষে পানও খেলেন।
থ্যাংক ইউ আপু আপনার সারাদিনের ডাইরি গেমটা খুব সুন্দর ভাবে আমাদের সাথে শেয়ার
করলেন।
আজকে আপনি হিন্দুদের বাসায় দাওয়াত খাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন।। আমি এখন পর্যন্ত হিন্দুদের বাসায় কোন দাওয়াত খাইনি।। আসলে ভালো লাগলো বেশ ভালোভাবে খাইয়েছে।। আসলে বন্ধুত্ব যেকোনো ধর্মের সাথে হতে পারে আর সেই বন্ধুত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
সারাদিনে কার্যলিপি পড়ে মনে হল খুব ব্যস্ততার মাঝে দিন পার করেছেন। আপনি আপনার দাদা শশুরের ছেলের বউ মারা গিয়েছে সেখানে নেমন্তন্ন খেতে গিয়েছেন। এবং সেখানে যাওয়ার মুহূর্তগুলো আমাদের মাঝেও শেয়ার করেছেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
একদম ঠিক প্রচন্ড ব্যস্ত দিন কেটেছে আমার,, তবে ওইদিন আমি বেশি আনন্দ করেছিল নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার।।