লাইফস্টাইল : রাতের খেলাঃ শীতের আমেজে ব্যাডমিন্টন খেললাম।
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের সদস্যবৃন্দ। আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। আজকে একটি লাইফস্টাইল রাইটিং লিখতে বসেছি। আজকের টপিক হচ্ছে রাতের খেলা: শীতের আমেজে ব্যাডমিন্টন খেললাম। আজকে শনিবার, ২৩ নভেম্বর, বাংলা ৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।
ব্যাডমিন্টন আমাদের দেশের সবচেয়ে প্রিয় খেলাগুলির মধ্যে একটি, বিশেষ করে শীতের মাসগুলিতে। মনে হয় ঋতু নিজেই ব্যাডমিন্টন খেলার সমার্থক। শীতকালে অন্তত একবার ব্যাডমিন্টন খেলেননি বা দেখেননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। খেলাটি বয়স এবং লিঙ্গকে অতিক্রম করে, পুরুষ এবং মহিলা, যুবক এবং বৃদ্ধকে এর আনন্দে অংশ নিতে একত্রিত করে। সংকীর্ণ আশেপাশের গলি থেকে বিস্তীর্ণ শহরের মাঠ, আলোকিত ব্যাডমিন্টন নেট এবং প্রাণবন্ত গেমগুলি শীতের সন্ধ্যাকে আলোকিত করে।
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে খেলার মাঠ উজ্জ্বল আলোর নিচে জীবন্ত হয়ে ওঠে, খেলোয়াড়দের হাসি ও উল্লাসে প্রতিধ্বনিত হয়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আমাদের ভার্সিটিতে প্রতিটি হলের সামনেই ব্যাডমিন্ট কোর্ট আঁকা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে সবুজ গাছগাছালি আর শিতল পরিবেশের এক টুকরো শান্তির ঠিকানা। আসলে বাড়ি ছেড়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি প্রায় পাঁচ বছর ধরে। তাই এখন এই জায়গাটি অনেক প্রিয় হয়ে উঠেছে। আমাদের হলের সামনেও ব্যাডমিন্টন কোর্ট আঁকা হয়েছে। সারাদিনের ক্লাস আর ব্যস্ততার পরে রাতে যখন সব নিস্তব্ধ হয়ে আসে তখনই ব্যাডমিন্টন মাঠ গুলো জীবন ফিরে পায়। সন্ধ্যার পর থেকে ব্যাডমিন্টন কোর্ট গুলোতে ভীর শুরু হয়। আজকেও এর ব্যাতিক্রম নয়।
আজ রাতে আমিও গিয়েছিলাম ব্যাডমিন্টন খেলা খেলতে। আসলে খেলাধুলা আমাদের জন্য খুবই জরুরি, ক্লাস করার ফাঁকে আমাদের কায়িক পরিশ্রম করাই হয়না বলা যায়, তাই খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের শরীরও ফিট থাকে। আসলে শীতের মধ্যে রাতের বেলায় ব্যাডমিন্টন খেলা খুবই জনপ্রিয় খেলা।গ্রাম-শহর কোথাও এমন পাওয়া যাবে না যেখানে ব্যাডমিন্টন খেলা হয় না। আমাদের হলের সামনেও ব্যাডমিন্টন কোর্ট আঁকা হয়েছে আর প্রতিদিনই খেলা হয়, ব্যাডমিন্টন খেলা যেনো রাতেই সুন্দর তাই এটিকে বলা যায় রাতের খেলা। কুয়াশা পরছে আর সাথে শীতল বাতাস গায়ে লেগে বুঝিয়ে দিচ্ছে শীতের আমেজ চলে এসেছে। হলের সামনে জ্বালানো আলো আর সাথে খেলায় টানানো লাইট পরিবেশটাকে আরও আলোময় করে তুলেছে।
আসলে এই কোর্টি বানানো হয়েছে হলের সামনের একটি বড় আম গাছের নিচে, আলোয় গাছটিকেও বেশ সুন্দর লাগছে।
খেলার একটি পর্ব শেষ হওয়ার পরে আমি ও আমার বন্ধু শিজান একদিকে খেলতে উঠলাম আর অন্য পাশে উঠলো আমারই ক্লাসমেট সোহাগ ও ইফতি। আসলে খেলার মাঠে জমে ওঠা আড্ডা, হাসি, এবং উল্লাস যেন প্রতিদিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। ক্লাস আর সারাদিনের ব্যস্ততার পর এই সময়টিকে আমরা খুব ভালোভাবে উপভোগ করছিলাম।
শিজান খেলা নিয়ে খুবই কনফিডেন্ট, আমায় বলে আমি শুধু র্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেই হবে, বাকিটা সে সামলে নিতে পারবে। যদিও আমি শিজানের কথায় হেসে বললাম, “দাঁড়িয়ে থাকলে তো খেলার মজা হবে না।” তাই আমি সামনের বলগুলো মারছিলাম, আর শিজান পেছনের বল সামলাচ্ছিল।আসলে আমি তো শুধু দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না তাই সামনের গুলো আমি খেলছিলাম আর সে আমার পিছনের বল গুলো অপরপ্রান্তে পাঠিয়ে দিচ্ছিলো।
আমরা ভালোই খেলছিলাম তবে আমার বল বারবার নেটে আটকে যাচ্ছিলো। কোর্টের পাশে অনেকেই বসে আছে, দাঁড়িয়ে আছে খেলা দেখার জন্য, আর চারজন অপেক্ষা করছে আমাদের খেলা শেষ হলে তারা খেলতে উঠবে। ইফতি আর সোহাগও ভালো খেলছিলো তবে ইফতির কয়েকটি শট মিস হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে যায় আর আমরা মজা করে বললাম এই মিসের কারণেই আমরা জিতে যাবো। আশেপাশের দোকান থেকে কোলাহলের আওয়াজ, রাস্তা দিয়ে যাওয়া রিক্সার আওয়াজ আর অনেকের দূর থেকে ভেসে আসা গানের সুরে পুরো পরিবেশটাই যেন জীবন ফিরে পেয়েছে।
অবশেষে আমাদের ম্যাচ শেষ হলো আমরা হেরে গেলাম। আসলে হারজিত খেলায় থাকবেই। আমি মন খারাপ করিনি কারণ আমি হেরে গেলেও উপভোগ করতে পারি। খেলা চলতে থাকলো আবার নতুন ম্যাচ শুরু হলো। আমরা চা খেতে গেলাম মনির ভাইয়ের দোকানে আসলে রাত বাড়লেও ক্যাম্পাসের দোকান গুলো খোলা থাকে মনির ভাইকে চারটি চায়ের অর্ডার দিয়ে আমরা গল্প করছিলাম। একসময় আমাদেরও ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে তবে এগুলো আমাদের মাঝে স্মৃতি হয়ে থাকবে।
আমার গল্পটির আজ এখানেই শেষ করছি। অন্য একদিন নতুন গল্প নিয়ে হাজির হব সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।
আমার পুরোনাম জোনায়েদ আহমদ । স্টিমিট আইডি @junaidahmed।
বাসা নেত্রকোনা সদর নেত্রকোনা । আমি অর্থনীতি বিভাগে অনার্স কমপ্লিট করেছি, বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আছি। আমার প্রকৃতির ছবি তুলতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।বিভিন্ন বিষয়ে গল্প লিখতেও ভালো লাগে। হলের বারান্দায় আমার কিছু গাছ আছে এগুলোর সাথে মাঝে মাঝে সময় কাটাই। আমি স্টিমিটে জয়েন করি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। আমার এই স্বল্প সময়ে আমার বাংলা ব্লগে ক্যারিয়ার শুরু করতে পেরে খুবই আনন্দিত অনুভব করছি। আপনাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
Twitter promotion - https://x.com/Junaid_2208/status/1860634459021914404
Today's task
শীতকাল মানেই বিভিন্ন ধরনের খেলা ধুলা করার উৎসব। শীতকাল চলে আসলেই বিভিন্ন ধরনের খেলার আমেজ উঠে। তবে, শীতকালে ব্যাট মিন্টন খেলা একটু বেশি হয়ে থাকে।আর রাতের বেলা ব্যাট মিন্টন খেলা খেলতে বেশ ভালোই লাগে আমার কাছে।রাতে আপনার ব্যাট মিন্টন খেলা দেখে বেশ ভালো লাগলো।
হ্যাঁ ভাই ঠিক বলেছেন, শীতকালে এমন কোনো পাড়া বা মহল্লা পাওয়া যাবে না যেখানে ব্যাডমিন্টন খেলা হয় না, আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
শীতের সময় খেলাধুলার আমেজ একটু বেশিই থাকে। শীতের সময়ের লক্ষ্য করে দেখা যায় যেকোনো ফাঁকা জায়গায় ব্যাডমিন্টন এর কোট কেটে রাতে বেলা সবাই খেলাধুলা করে।ব্যাডমিন্টন খেলতে আমারও অনেক ভালো লাগে। প্রত্যেকবার শীতে আমরা ভাই বোনেরা মিলে বাড়ির ছাদে ব্যাডমিন্টন খেলতাম খুব মজা হতো। রাতে আপনারা ব্যাডমিন্টন খেলেছেন। আপনার পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলো। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ আপু মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য। আপনি ভাই বোনদের সাথে ছাদে ব্যাডমিন্টন খেলতেন শুনে আমারও ভাইয়া আপুর কথা মনে পরে গেলো, কতদিন বাড়ি যাওয়া হয় না। আসলে আগের মতো এখন ভাই বোনদের সাথে দেখাই হয় না, সবাই সবার কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছি। আপনার নিশ্চয়ই ভাই বোনদের সাথে এরকম আরও ভালো ভালো স্মৃতি আছে। আপনাকে ধন্যবাদ আপনার এরকম স্মৃতিময় মন্তব্যের জন্য।
শীতকাল মানেই ব্যাডমিন্টন খেলা।বিশেষ করে রাত্রে।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আপনার হলের সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার খুব সুন্দর অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।আপনার শেয়ার করা আজকের এই জেনারেল রাইটিং পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
আপনি আমার পোস্টটি পড়েছেন শুনে ভালো লাগলো, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার এই লিখাটি পড়ার জন্য।
ব্যাডমিন্টন শীতের রাতে একটি ভালো খেলা। আপনি সেই খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন দেখে ভালো লাগছে। আলো জ্বালিয়ে কোর্ট বানিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলার মত আনন্দ আর কিছুতে নেই। আর শীতের দিনে গা গরম করতে এর কোন বিকল্প হয় না। ভালো লাগলো ছবিগুলো দেখে।
আসলে শরীর ফিট রাখার জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাছাড়া খেলাধুলা করলে মন-মানসিকতাও খুব ভালো থাকে। ব্যাডমিন্টন খেলা আমারও খুব পছন্দ। যদিও ৩/৪ বছর ধরে ব্যাডমিন্টন খেলা হচ্ছে না আমার। যাইহোক বেশ ভালো লাগলো পোস্টটি দেখে। খেলায় হারজিত থাকবেই। পরবর্তীতে অবশ্যই জিতবেন ভাই। আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।
ধন্যবাদ ভাইয়া