""অসুস্থতায় ছেয়ে গেছে পুরো পরিবার ""
আসসালামুআলাইকুম/আদাব
সরকারি হাসপাতালে সবকিছু বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও। এখানে দুর্নীতি দিয়ে ভরে আছে। টিকিট কাটতে ও টাকা নিল। আবার ইনজেকশন ওখান থেকেই দেওয়ার কথা থাকলেও আমাদের কে কিনে আনতে বলে দোকান থেকে। নিরুপায় কিছু করার নেই, গেলাম দোকানে। গিয়ে দেখি দোকানে অনেক ভিড়। প্রতিটি মানুষ প্রায় এই ইনজেকশন কিনতে এসেছে। এটা তাদের এক ধরনের ব্যবসার মতো হয়ে গেছে। ইনজেকশন কিনে এনে দিলাম। সেখানে ভ্যাকসিন দেওয়া শেষ হলে, তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেই রেস্ট করার জন্য বিকালে ভালো হার্টের ডাক্তার দেখানো হবে।অবশেষে আমি আর আমার বোন দুজনে চলে গেলাম বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে। দুইজনেরই যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে। ঢুকতেই দেখলাম হাসপাতাল টা অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর মনোরম পরিবেশ। বাসায় একটা বড় জায়গা আছে যেখানে ছোট একটা বাগান আছে। এখানকার পরিবেশটা অনেকটা ঠান্ডা। ভিতরে দেখলাম লম্বা একটা লাইন। গ্রাম থেকে অনেক বৃদ্ধ মাঝ বয়সী মহিলারা এসে সকাল থেকে লাইন দিয়ে রেখেছে। আমরাও লাইনে দাঁড়ালাম। যেহেতু আমার মেজো বোন একটু বেশি অসুস্থ তাই ওকে বললাম সাইডে দাঁড়াতে আমি একাই লাইনে দাঁড়ালাম। প্রায় দেড় ঘন্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর অবশেষে আমার টিকিট দিল। টিকিট নিয়েই উপরে চলে গেলাম যেখানে ডাক্তার রোগী দেখছেন। উপরে গিয়ে দেখলাম ওমা! এত বড় সিরিয়াল। আমাদের দুই বোনের সিরিয়াল নাম্বার ছিল ৮২ এবং ৮৩। এখানেও প্রায় ২ ঘন্টা বসেছিলাম। আমি এবং আমার ছোট বোন দুজনে প্রায় বিরক্ত হয়ে গেছিলাম। অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত সেই সময় এসে হাজির হলো। আমাদের সিরিয়াল নাম্বার আসলো, ভেতরে চলে গেলাম। প্রথমে আমার ছোট বোনকে দেখলো। সমস্যার কথাগুলো ডাক্তার খুব মন দিয়ে শুনলেন। অবশেষে ডাক্তার বলল, সামান্য ঠান্ডা লেগেছে যেহেতু আবহাওয়া এখন পরিবর্তন হচ্ছে। আর বুক ব্যথা, পেট ব্যথা এগুলো আসলে তার পেটে সমস্যা। আই ভি এস হয়েছে। এটা আসলে একটা দীর্ঘ মেয়াদী পেটের অসুখ। শাকসবজি, দুধ এবং দুধ জাতীয় যে কোন খাবার, মসলাযুক্ত খাবার, ডাউল এ ধরনের খাবার গুলো সহ্য করতে পারে না। তারপরে হালকা পেট খারাপ থাকবে মাঝে মাঝেই। এই রোগের দ্রুত চিকিৎসা না করলে ভবিষ্যতে খারাপের দিকে যাবে। ওষুধ দিয়ে দিলেন। তারপর আমাকে দেখলেন। আমাদের পরিবারের আমার দাদীর ব্রংকাইটিস ক্যান্সার হয়েছিল। অল্প বয়সে মারা গিয়েছেন। তাই আমাদের পরিবারের মানুষের এই একটু ঠান্ডা বেশি লেগে থাকে। এটি আসলে বংশগত সমস্যা। এর কোন নিরাময় নেই। নিয়ম মেনে চললেই ভালো থাকা যাবে। আমাকেও কিছু ঔষধ লিখে দিলেন ঠান্ডার জন্য। সরকারিভাবেও কিছু ওষুধ দিয়ে দিলেন। ঔষধ গুলো নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলাম। আমার বোনকে খুব সাবধানে চলতে বলেছে। ফুটানো পানি ছাড়া কোন ধরনের পানি খাওয়া যাবে না। দুশ্চিন্তা করা যাবে না এবং সময় মত খাবার খেতে হবে। সকালে ব্যায়াম করতে হবে। তাহলেই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে। রিক্সায় উঠে আমি আমার বোনকে এগুলো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলছিলাম। বাসায় এসে দুজনে রেস্ট নিলাম।এইতো এভাবেই চলছে। আজ এখানেই শেষ করছি, আবার অন্য কিছু নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। এ পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জে অবস্থান করছি ।
ক্যামেরা Redmi note 9 মডেল note-9 ক্যাপচার @jannat0499 অবস্থান সিরাজগঞ্জ -রাজশাহী- বাংলাদেশ।
আমি মোছা: জান্নাতুল ফেরদৌস। বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার সদরে বসবাস করি। আমি একজন সৃজনশীল মানুষ ।ছবি আঁকতে, নতুন কিছু বানাতে আর সময় পেলে ঘোরাফেরা করতে আমি খুবই ভালোবাসি।সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হই।ভ্রমণ করার পাশাপাশি আমি বাগান করতে খুব ভালোবাসি।অবসর সময়ে আমি রঙ তুলি নিয়ে বসে যাই নতুন উদ্ভাবনায়।বই পড়তে আমার খুবই ভালো লাগে বিশেষ করে উপন্যাস।এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আপনারা সবাইআমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট দিয়ে উৎসাহিত করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে।🌼💖🌼
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/JannatulF57996/status/1848951208737931380?t=ty8LLM-oFr40wCeaKRPr7Q&s=19
আপনি থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে আপনার পুরো পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে যায়, এটা জেনে বেশ খারাপ লাগলো। আসলে আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য হয়তো এমনটা হয়েছে। আশা করছি আপনি সহ আপনার পুরো পরিবারের সদস্যরা খুবই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে। সকলের জন্য দোয়া রইল।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপু আপনি সহ আপনার পরিবারের সকল সদস্য অসুস্থ জানতে পেরে সত্যি আমার খুবই খারাপ লাগলো। আপনার পরিবারের জন্য আমার পক্ষ থেকে দোয়া রইল অতি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে। আসলে আমাদের দেশে এখন আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে তাই সকলকে একটু সতর্ক থাকা উচিত তা না হলে সকলের এরকম অসুস্থতায় ভুগতে হবে। সুন্দরভাবে পোস্টটি আমাদের মাঝে গুছিয়ে লেখার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপু।
জ্বী ভাইয়া। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাদের পুরো পরিবারের সবার এত অসুস্থতার কথা শুনে সত্যি অনেক খারাপ লাগলো। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তখন নিজেরাও অনেক বেশি চিন্তায় থাকতে হয়। আপনি আর আপনার বোনসহ ডাক্তারের কাছে গেছেন এটাই ভালো হলো। আর ডাক্তারের কাছে গেলে আসলে সিরিয়ালের জন্য বসতেই অনেক বেশি বিরক্ত লাগে। আমি নিজেও আজকে আমার মাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। বসতে বসতে অবস্থা খারাপ। আপনি যেন সুস্থ হয়ে যান এটাই কামনা।
জি আপু ধন্যবাদ।
বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। তবে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করি, আপনার পরিবার যেন খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে।