জোনাকিতে জোনাকি
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। কিছুদিন আগে আমি একটি সুন্দর কেক বানিয়েছিলাম। এটি একটি বিশেষ দিনের জন্য বানিয়েছিলাম সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। এর সাথেও সেই দিন উপলক্ষে একটি কবিতাও আমার পোস্ট করা আছে। সেই বিশেষ দিনটি কিভাবে সেলিব্রেট করলাম, তা আপনাদের সাথে আজকে শেয়ার করে নিতে চাই।
কেক কাটিং |
|---|
প্রত্যেক বছর এই দিনটিতে আমরা দুজনই চেষ্টা করি, একটু অন্যভাবে সেলিব্রেট করার। আমরা দুজনেই খুব খাদ্য রসিক। তাই খাওয়া-দাওয়াটা বিশেষ করে প্রায়রিটি থাকে।
আমার বানানো কেক |
|---|
আমাদের কৃষ্ণনগর শহরের মধ্যে একটি দুর্দান্ত জায়গা রয়েছে। কৃষ্ণনগরের মধ্যে যে এত সুন্দর একটা ক্যাফে আছে তা ভাবাই যায় না। ক্যাফেটার নাম জোনাকি। আর জোনাকি সত্যিই আমাকে কিছু বছর আগে জোনাকি দিয়েছিল। যাইহোক প্রতিবছর আমরা চেষ্টা করি জোনাকি ক্যাফেতে আমাদের দিনটিকে সেলিব্রেট করার। কারণ কিছু বছর আগে যখন আমাদের দেখা হয় তখন আমরা ওই ক্যাফেতেই দেখা করেছিলাম।
স্টিম মোমো |
|---|
আসলে সেদিন ছিল নবমী। আর আমরা সব বন্ধু বান্ধব মিলে অনেক বছর পরে মিট করছিলাম। সব বন্ধুদের মতনই ওর সাথে আমার অনেক দিন পর দেখা। আর আমরা সবাই মিলে ওই ক্যাফেতে মিট করেছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই ওই জায়গাটি আমার কাছে খুব স্পেশাল।
চেলো কাবাব |
|---|
যাইহোক এবারে কিছু কাজের জন্য এবং কিছু পার্সোনাল কারণেই কিছুতেই সময় ঠিক করতে পারছিলাম না। দিনের দিন না করতে পারলেও সেলিব্রেশান পরে আমরা আর সময় মত করে নিয়েছি। সাথে ছিল আমার বানানো কেক। প্রথমেই গিয়ে দুজন মিলে পছন্দমতো খাবার অর্ডার করলাম। ওখানকার স্টাফ দাদারাও জানেন আমরা প্রতিবছর ওই টাইমে যাই। যাইহোক কেক কাটার পরে, আমরা সবাইকে শেয়ার করলাম। আর তারপরে অনেক আড্ডা দিলাম।
চিকেন কষা আর পোলাও |
|---|
খাওয়া-দাওয়া শুরু হল এক এক করে। আমাদের মধ্যে রীতিমতো খাওয়া-দাওয়া নিয়ে মারপিট বেঁধে যায়। কে কতটা খাবে সেটা নিয়ে। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে কেউ কারোর সাথে কম্প্রোমাইজ করি না। আর এই ব্যাপারটা আমরা দুজনেই খুব এনজয় করি। আমরা প্রথমে অর্ডার করেছিলাম স্টিম মোমো। ওখানকার মোমো, এত সুন্দর হয়, বলে বোঝাবার নয়। প্রত্যেকবার গিয়ে প্যান ফ্রায়েড মোমো ট্রাই করি। এবারে অন্য কিছু ট্রাই করলাম।
তারপরে এই অর্ডার করেছিলাম চেলো কাবাব। এই কম্বোটার মধ্যে অনেক কিছু থাকে। রাইস থেকে শুরু করে কাবাব, তন্দুরি চিকেন, আরো অনেক কিছু। যদি ওইটা পুরোটাই ওই খেয়েছে। কারণ আমার ইরানিক ডিস অতটা ভালো লাগে না। আমি নিজের জন্য আলাদা করে নিয়েছিলাম পোলাও এবং চিকেন। দুজনে মিলে ভাগাভাগি করে মোটামুটি সব খাবার শেষ করে দিয়েছি। সবশেষে খাবার হজম করার জন্য একটা মজিত অর্ডার করেছিলাম। কিন্তু সেটার নাম এখন আমার মনে পড়ছে না।
দুজন মিলে প্রায় হাজার টাকার খাবার খেয়েছি। কিভাবে এত তাড়াতাড়ি এত কিছু খেয়ে ফেললাম নিজেরাই বুঝতে পারিনি। যাইহোক খাওয়া দাওয়া অসাধারণ ছিল। আর প্রত্যেক বছরের মত এবারেও যে সুযোগ করে দিনটিকে ভালোভাবে সেলিব্রেট করতে পেরেছি। এটাই অনেক। সবকিছু সুস্থ থাকুক। জোনাকি আরো আরো আলো দিক।
আমার কাছে মনে হয় প্রত্যেকটি সম্পর্কের সবথেকে বড় উপহার হল সময়। আমরা আমাদের কাছের মানুষদের সাথে কতটা সময় কাটাচ্ছি, এটাই সব থেকে বড় কথা। শুধুমাত্র ভালবাসার সম্পর্কে নয়, যেকোনো বন্ধুত্ব কিংবা ভাই বোন, বাবা মা, সবার সাথেই আমরা যে সময় অতিবাহিত করি। সেটাই সব থেকে বড় উপহার। ভালো সময় খারাপ সময় একসাথে চলতে পারা ,এটাই হচ্ছে জীবনের সবথেকে বড় উপহার।
কিছু সম্পর্ক খারাপ সময় কেটে পড়ে। আবার কিছু সম্পর্ক খারাপ ভালো মিলিয়ে সারা জীবন সাথে থেকে যায়। ঠিক আমাদের বাবা-মা যেমন আমাদের আগলে রাখে সব সময়, সে রকম। তাই ভালোবাসার মানুষদের সাথে আমাদের সময় কাটানো ,আমার কাছে সব থেকে বড় উপহার বলে মনে হয়।।
আজকে এখানেই শেষ করছি। সকলে সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন।জোনাকি ক্যাফের লোকেশন লিংক নিচে দেওয়া হলো ।
লোকেশন
আহা !কি সুন্দর একা একা দুজনে লুকিয়ে লুকিয়ে সেলিব্রেশন করলে ।বৌদিকে একবার বললেও না। এটা নিয়ে দু বছর আমাকে ফাঁকি দিলে। নিজের হাতে কেক তৈরি করে নিয়ে গিয়ে একা একাই খেয়ে নিলে। আজকে ছবিটা না দিলে জানতেও পারতাম না। এইভাবেই দুজনে খুব হাসি খুশি থেকো ।এটাই আমি চাই। তোমাদের দুজনের জন্যই শুভকামনা রইল।
বাঃ! দারুণ ব্যাপার তো। তোর সাথে একটা বিষয়ে মিল খুঁজে পেলাম সেটা হল আমার যিনি বন্ধু কাম বয়ফ্রেন্ড রয়েছে তার সাথেও ফার্স্ট টাইম ঐ ক্যাফেতেই গিয়েছিলাম আরও কিছু বন্ধু-বান্ধবের সাথে। তবে পার্সোনালি আমার মনে হয় ওই ক্যাফেতে কোয়ালিটি ভালো হলেও কোয়ান্টিটি খুব কম দেয়। ambiance টাও খুব ভালো।