কালীপুজোর আগে একটু কেনাকাটা
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে ভূত চতুর্দশী। কিন্তু আমি কোন ভূত বিষয়ক কিছু আজকে লিখব না। আজকে সকাল থেকে আমার যেভাবে পরিশ্রম গেছে আমার আর লেখার এনার্জি নেই। কিন্তু তাও ভাবলাম আপনাদের সাথে কিছু মুহূর্ত শেয়ার করি। না হলে ছবি জমতে জমতে গ্যালারি ভর্তি হয়ে যাবে।
প্রতিবছর কালীপুজোর আগে মা আমাকে অনেক কিছু কিনতে বাজারে পাঠায়। আর বেরোনোর নাম শুনলেই আমি এক কথায় রাজি হয়ে যাই । কালীপুজোর কেনাকাটা বলতে থাকে লাইট, নানারকম প্রদীপ, এছাড়া মোমবাত, আরো অনেক কিছু।
পুজোর জামা কাপড় বলতে দুর্গাপূজার আগেই কেনাকাটা হয়ে যায়। তাই নতুন করে কালী পূজার আগে কোন কেনাকাটা হয় না। কালীপুজো আমাদের শহরে ধুমধাম করে দু তিন দিন ধরে পালন করা হয়।। এই ধরুন গতকাল থেকেই বেশ শুরু হয়ে গেছে।। আর আজকের দিনে তো রাস্তায় প্রচুর ভিড়। কালকে তো আবার অমাবস্যা। কালকে আরো ভিড়।
আমি প্রতিবার কালীপুজোর ঠাকুর দেখা নিয়ে কোনরকম প্ল্যান করি না।। যখন সুযোগ সময় পাই বেরিয়ে পড়ি। এই ধরুন আজকেও বেরোনোর ইচ্ছা ছিল, কিন্তু বেরোনোর উপায় নেই কারণ আমার শরীর ভালো লাগছে না। শরীর ঠিক লাগলে এতক্ষণে আমি হয়তো বেরিয়ে পড়তাম।
আসলে আমাদের বাড়ি থেকে হাঁটা পথে পাঁচ মিনিট দূরত্বেই রয়েছে একটা বড় মাঠ। মাঠে অনেক বড় করে পূজো হয়।
যাইহোক আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি কালীপুজোর আগে আমার কিছু শপিং। আমি তো বাজার বলতে আমাদের কৃষ্ণনগরের অনেক পুরনো বাজার গোয়ারি বাজারে গিয়ে থাকি। ওই বাজার যেহেতু আমার বাড়ি থেকে বেশ কাছে হয় তাই আমি ওখান থেকেই বাজার করি পুজোর সমস্ত কিছু।
বাজারে এবারে গিয়েছিলাম আমার ভদ্রলোকের সাথে। তিনি অনেকদিন পর আমার সাথে দেখা করলেন। তারপর আমরা প্রথমেই বাজারে ঢোকার আগেই আমাদের প্রিয় আইসক্রিম পার্লারে বসে আইসক্রিম খেলাম। ওর সাথে গল্পে গল্পে আইসক্রিমের ছবি তুলতে ভুলে গিয়েছি। কিন্তু স্ন্যাপচাটে একটা ছবি তুলেছিলাম, সেটাই এখানে পোস্ট করলাম।
আইসক্রিম খেলাম গল্প করলাম আর তারপরেই চলে গেলাম বাজার করতে। বাজারে ঢুকেই মায়ের জন্য ৫০ টা প্রদীপ কিনলাম। এর আগেও ৫০ টা প্রদীপ মা আমার এই ভদ্রলোককে দিয়ে আনিয়েছে। আমার মা এত প্রদীপ নিয়ে যে কি করবে আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। যাইহোক তারপরে আরো সুন্দর সুন্দর প্রদীপ মা কিনতে বলেছিল।
বাজারে ঢুকতেই পরপর দোকানে সাজানো অনেক সুন্দর প্রদীপ গুলো দেখে আমারও নিজের খুব ভালো লাগলো। আমিও পছন্দমত সপ্ত প্রদীপ, আর একটা বড় থালার প্রদীপ কিনলাম। পঞ্চ প্রদীপ বাড়িতেই বানানো হয় তাই সেটা নিলাম না। পদ্মফুলের মতন দেখতে প্রদীপ ছিল সেটাও কিনে নিলাম।। এর সাথেই ৫০টা মত ছোট মোমবাতি কেনা হলো। আর 4 প্যাকেট মাঝারি ধরনের মোমবাতি কেনা হলো।
গোয়ারিবাজারে এর থেকে বেশি কিছু কেনাকাটা ছিলনা। লাইটের কেনাকাটা আমার বাবা নিজে করবে বলেছিল। তাই আমি সোজা চলে গিয়েছিলাম জুতোর দোকানে। আমার অনেকদিন ধরেই ঘরে পড়ার জুতোটা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই জুতো কিনতে হবে। এর সাথেই প্রিয় মানুষকে জুতো দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। যদিও এটা ওর জন্মদিনের উপহার। তাও পুজোর সময় পড়বে বলে, আমি ওকে আগে থেকেই দিয়ে রাখলাম।
দুজন মিলে চলে গিয়েছিলাম কৃষ্ণনগরের একটি জুতোর দোকানে। বাটা কোম্পানির জুতো খুব বিখ্যাত। সেই দোকানেই চলে গিয়েছিলাম। ওখান থেকে আমার ঘরে পড়ার জুতো এবং ওর জুতো নিয়ে নেওয়া হলো। আবার ওখান থেকে চলে গেলাম সান্যাল মার্কেটে। কৃষ্ণনগরের এই সান্যাল মার্কেটে মেয়েদের সব রকম জুয়েলারি থেকে শুরু করে যাবতীয় মেকআপ এর জিনিস পাওয়া যায়।
আমার নেল রিমুভার প্রয়োজন ছিল, তাই সেটা নিয়ে নিলাম। আমি বিশেষ করে পুজোর দিনগুলোতে পায়ে লাল বা মেরুন নেল পলিশ পড়তে পছন্দ করি। তাই সেরকম রং এর তিনটে নেলপলিশ নিলাম।
মোটামুটি সমস্ত কেনাকাটার পর বুঝতে পারলাম কতটা টাকা খরচ হল। পুজোর সময় গুলোতে পকেট থেকে টাকা ক্রমাগত খরচ হতে থাকে। যাইহোক কিছু করার নেই। বছরের এই পূজোর সময় গুলো টাকা খরচ করার জন্যই হয়তো আসে। এই সময়গুলোতে মন মত নিজের জন্য জিনিস কিনতে পারা যায়। বিশেষ করে কালীপুজোর আগে ঘর সাজানোর জন্য কত কিছু কেনা হয় ।
আপনাদের সাথে আমার কেনাকাটার মুহূর্ত টা শেয়ার করতে পেরে আমার নিজেরও ভালো লাগলো। সকলে ভাল থাকবেন। আজ এখানেই শেষ করলাম।
বাঃ কেনাকাটা তো জম্পেশ হয়েছে দেখছি। আর তোদের বাড়ির থেকে কালবেলা মাঠ সত্যিই অনেক কাছে। কৃষ্ণনগর এর সবচেয়ে বড়ো মেলা তো ঐ খানেই বসে। আর গতকাল দাদা রা বেড়িয়েছিল, কিছু ভিডিও করেছিল, সেখান থেকেই বুঝলাম ভিড়ের মাত্রাটা ঠিক কতটা ছিল।
আমার হবু শ্বশুর বাড়ি থেকে গোয়ারি বাজার খুবই কাছে তাই ভবিষ্যতে আমাকেও ঐখান থেকেই বাজার করতে হবে। ঐ বাড়ির বাজার গোয়ারি বাজার থেকেই করা হয়। আর পুজোর জিনিস ওখানে সবই পাওয়া যায়।
তোর ব্লগ পড়ে জানতে পারলাম অনেক প্রদীপ কিনেছিল। কাকিমা তো পুজো করতে খুব ভালো বাসে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা কোনো ঋতুতেই ওনার রুটিনের কোনো পরিবর্তন হয় না। আগে যখন পড়াতে যেতাম দেখতাম কনকনে শীতের মধ্যেও সেই সকাল বেলাতেই স্নান সেরে পুজোয় বসে পড়েছে। তাই প্রদীপ দিয়ে নিশ্চয় সারা বাড়ি সাজিয়ে ছিল।
আর প্রিয় মানুষের কাছ থেকে গিফ্ট পেতে যেমন ভালো লাগে ঠিক তেমনি তাকে গিফ্ট দিতেও অনেক ভালো লাগে। তাই তুই তোর প্রিয় মানুষকে জুতো গিফট করেছিস দেখে ভালো লাগলো।
আমিও দুইদিন আগেই সান্যাল মার্কেট থেকে অনেক কিছু শপিং করে নিয়ে এসেছে। ঐখানকার কালেকশন এত ভালো যেন যা দেখি তাই নিতে ইচ্ছে হয়। শপিং এর মাঝে তোরা আইসক্রিম পার্লারেও গিয়েছিলিস সেটা জেনে ভালো লাগলো।
তোকে অনেক অনেক ধন্যবাদ তোদের এত সুন্দর খুশির মুহূর্ত গুলো আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।