আধেক ঘুমে || কভার

in Incredible India2 years ago (edited)

নমষ্কার বন্ধুরা। বেশ অনেকদিন পর আমি আরও একটি গান নিয়ে হাজির হলাম। কত গান গাওয়া হয় ,কিন্তু রেকর্ড করা হয়ে ওঠে না। গানের তো আর শেষ নেই। কিন্তু আমি রেকর্ড করে উঠতে পারি না। নানান পরিস্থিতির চাপে, এবং এর সাথে রেকর্ডের সময় গুলো আমার সময়ের সাথে ঠিকঠাক ম্যাচ খায় না। আমি এর আগেও বলেছি যখন সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে থাকে। তখন রেকর্ড করাই ভালো।

আজকে হঠাৎ করেই ভাবলাম একটা গান পোস্ট করি। এই রেকর্ডটা অনেকদিন আগেই করে রেখেছিলাম ,আজকে কি পোস্ট করব বুঝতে পারছিলাম না। ফোনের গ্যালারি ঘাটতে ঘাটতে ভিডিওটিতে পেলাম। তাই ভাবলাম পোস্ট করে দিই ।

গানটি আমি কোন সময় কোনদিন কোন পাবলিক জায়গায় গাইনি ।এই প্রথমবার আমি ইউটিউবে ছাড়লাম। হারমোনিয়ামে গানটি না গেয়ে ,আমি শুধুমাত্র তানপুরা ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করেছি। জানিনা আপনাদের কেমন লাগবে ।তবে গানটির মধ্যে একটি হালকা দোলন ভাব রয়েছে। যেন হালকা হাওয়া বইছে এবং সেই হাওয়ার দোলায় আমরা ভাসছি।

ভিডিও

Lyrics

আধেক ঘুমে নয়ন চুমে স্বপন দিয়ে যায়।
শ্রান্ত ভালে যূথীর মালে পরশে মৃদু বায়॥
বনের ছায়া মনের সাথি, বাসনা নাহি কিছু--
পথের ধারে আসন পাতি, না চাহি ফিরে পিছু--
বেণুর পাতা মিশায় গাথা নীরব ভাবনায়॥
মেঘের খেলা গগনতটে অলস লিপি-লিখা,
সুদূর কোন্‌ স্ময়ণপটে জাগিল মরীচিকা।
চৈত্রদিনে তপ্ত বেলা তৃণ-আঁচল পেতে
শূন্যতলে গন্ধ-ভেলা ভাসায় বাতাসেতে--
কপোত ডাকে মধুকশাখে বিজন বেদনায়॥


গানটা আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি গান। ছোটবেলায় যখন প্রথম রবীন্দ্র সংগীত শুনছি ।তখন এই গানটি আমি শুনেছিলাম ।আমার এখনো মনে আছে সংগীতশিল্পী শ্রাবণী সেন ওই সময় আমার খুব পছন্দের ছিলেন। তাঁর গলায় এই গানটি আমি তখন শুনতাম। এখনো আমার এই গানটি শুধুমাত্র ওনার গলাতেই ভালো লাগে।

বাকিদের আমি শুনে দেখেছি ,কিন্তু আজকালকার গানগুলোতে এত পরিমাণে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে যে রবীন্দ্রসঙ্গীতের মর্যাদা হারিয়ে যায়। যদিও এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত ।এই মতামত ধরে কেউ আবার কিছু মনে করে বসবেন না দয়া করে ,এটাই আমার অনুরোধ রইলো ।

তখনকার সময় মোবাইল এত ব্যবহার হত না ।আমি আমার ছোটবেলাকার কথা বলছি। মোবাইল ছিল ।কিন্তু সেখানে শুধু রিংটোনটাই ঠিক করা যেত। সেই টাওয়ার দেওয়া মোবাইল গুলোর কথা আমি বলছি। তাই আমার বাবা আমাদের ডিভিডি প্লেয়ারের জন্য অনেক সিডি কিনে আনত। রবীন্দ্রসঙ্গীতের আমার কাছে প্রচুর প্রচুর এরকম সিডি ছিল ।শ্রাবণী সেন , স্বাগতা লক্ষ্মী - এনাদের মতো আরো অনেক বিশিষ্ট শিল্পীর গানগুলোর সিডি ছিল।

ছোটবেলা থেকে আমি রবীন্দ্র সংগীত নিয়ে বড় হয়েছি। আমার পাশের বাড়ির ঠাম্মা যাকে, আমি ছোট্টবেলা থেকে আন্টি বলে ডাকতাম। সে এখনো আমার কাছে আন্টি। তার বয়স এখন প্রায় সত্তরের কাছাকাছি হতে যায়। কিন্তু এখনো রবীন্দ্রসঙ্গীত তাঁর রন্ধ্রে ।আন্টি যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়িতেই এখন আমাদের মৌসুমী বৌদিরা থাকে ।

অর্থাৎ আমি যখন মাধ্যমিক দেব, ওই সময় আন্টির দুই ছেলে মেয়ের চাকরির সূত্রের বাইরে চলে যেতে হয় এবং তারা এই বাড়িটা বিক্রি করে দেয়। ওরা এখন সবাই কলকাতায় থাকে ।কিন্তু এখনো আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করে। ছোটবেলা থেকে আন্টির কোলে পিঠে আমি মানুষ হয়েছি। আন্টি ভীষণ ভালবাসে রবীন্দ্র সংগীত শুনতে।রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি প্রেম আমার, তার কাছ থেকেই জন্ম নিয়েছে।।

ছোটবেলা থেকে যতবার মা আমাকে ওদের বাড়িতে রেখে আসত। আমি চুপচাপ নাকি রবীন্দ্র সংগীত শুনতাম। আমার বাড়িতে এত পরিমাণে লোকজন থাকতো। আমি এর আগেও বলেছি আমার মায়ের খুব একটা খাটনি করতে হতো না। তারপরে আবার এই পাশের বাড়ির ঠাম্মা। আমাকে এত পরিমাণে ভালোবাসতো আমি সকাল থেকে বিকেল অব্দি ওখানেই থাকতাম ।আমার স্নান খাওয়া-দাওয়া আন্টি করিয়ে দিত। আমার মাকে বেশি পরিশ্রম করতেই হতো না।

আজও আমি যখন রবীন্দ্র সংগীত গাই। আমার দুজন মানুষের কথা খুবই মাথায় থাকে। একজন হল আমার বাবা আর একজন হল আন্টি। আমার বাবা আমাকে যেভাবে রবীন্দ্র সংগীতের প্রতি উৎসাহিত করেছে বা করে যাচ্ছে, আমি এর জন্য ভগবানের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
এর সাথেই আমি যে ছোটবেলায় এরকম একটা রবীন্দ্র সংগীতের পরিবেশ পেয়েছিলাম আন্টির মাধ্যমে ।এটাও আমি কখনোই ভুলবো না। আজ আমি যেটুকু গান শিখতে পেরেছি ,যেটুকু আমার গানের প্রতি প্রেম এসেছে সবই এনাদের আশীর্বাদে।

1000078382.jpg

ছোটবেলাকার কথা মনে পড়লে খুবই ইমোশনাল হয়ে যাই ।কারণ তখনকার দিনে এই ফোন মত বাজে গ্যাজেট টা সত্যিই ছিল না। তখনকার সময়টা ছিল ভাবার সময়। এখনকার প্রত্যেকটি মানুষ কতটুকু নিজের সৃজনশীলতা নিয়ে চিন্তা করতে পারে ।সারাদিন এই ফোন মত গ্যাজেটটাকে হাতে রেখে সকলের চিন্তা কমে যায়। আমি নিজেও খেয়াল করে দেখেছি আমি যদি ফোন ছাড়া কিছু মুহূর্ত থাকি, তাহলে আমার ভাবনার জগত কতটা খুলে যায়।

ওই সময় এত ছোটবেলাতেই আন্টি আমাকে প্রত্যেকটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের গান শোনাতেন এবং সাথে মানে গুলো বুঝিয়ে বুঝিয়ে দিতেন। রবীন্দ্রনাথের লেখা যে কতটা গভীর তা হয়তো আমি মুখে চেষ্টা করেও বলে বোঝাতে পারবো না আর আমার সেই স্পর্ধা নেই। আমি গুরুদেবকে ভীষণ পরিমাণে শ্রদ্ধা করি এবং গুরুদেবের সৃষ্টির কিছুটা ছোঁয়া যে আমার জীবনে আমি পেয়েছি ,এজন্য আমি ভগবানের কাছে অনেক ধন্যবাদ জানাই।

আশা করছি আমার এই উপস্থাপনা আপনাদের ভালো লাগবে। কেমন লাগলো তা অবশ্যই আপনারা কমেন্টে জানাবেন। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আপনাদের সাথে এতগুলো কথা শেয়ার করতে পেরে আমার নিজেরও খুবই ভালো লাগলো।ধন্যবাদ।

@isha.ish

Sort:  

TEAM 3
Congratulations! This post has been upvoted through Curation Team#3. We support quality posts, good comments anywhere and any tags.


E2B8942F-2C4D-4C68-B6DD-56A383CD87E3-1.png

Curated by : @pea07

 2 years ago 

সত্যি কথা বলতে আপনার কন্ঠে যে কোন গান অসাধারণ লাগে। সেটা রবীন্দ্র সংগীত হোক বা আধুনিক গান গানটা অসাধারণ হয়েছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা গান আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য। ভালো থাকবেন। আপনার পরবর্তী গান শোনার অপেক্ষায় রইলাম।

Loading...
 2 years ago 

তোমার গান শুনে সত্যিই মনটা ভরে ওঠে। তোমার গলায় যে কোন গানেই অসাধারণ। তোমার গলায় রবীন্দ্র সংগীত শুনতে আমার বেশি ভালো লাগে। তোমার গানটা সত্যি খুব সুন্দর হয়েছে। তোমার পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম। ভালো থেকো।

 2 years ago 

গানটা আপনি চমৎকার গেয়েছেন। আপনার গলায় যে কোন গান শুনতে সত্যিই অসাধারণ লাগে। আপনার গলায় এই গান শুনে আমিও হাওয়ার দোলায় ভেসে গেলাম। এইরকম ভাবেই সুন্দর সুন্দর গান আমাদের সাথে শেয়ার করবেন।

 2 years ago 

এক কথায় অসাধারণ,

  • যেমন আপনার গানের গলা 👌 ঠিক তেমন গানের মাঝে যে কথাগুলো গেয়েছেন সব মিলিয়ে খুব সুন্দর একটা গান পরিবেশন করেছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.078
BTC 60993.71
ETH 1618.63
USDT 1.00
SBD 0.42