নববর্ষ - এর দিন ||বর্ষবরণ
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। ভীষণ পরিমাণে গরম পড়ছে। এই গরম আমার একেবারেই সহ্য হয় না। আমি গরমকাল ভীষণ অপছন্দ করি। হয়তো আপনাদের মধ্যেও আমার মতনই অনেকেই আছেন যারা গরমকাল পছন্দ করেন না। সকলের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলব সকলে নিজেদের খেয়াল রাখবেন। খবরে যেটুকু শুনেছি সেই অনুযায়ী ২২ তারিখের মধ্যে তাপমাত্রা আরও বেশি বেড়ে যাবে। তাই সকলে বেশি করে জল খাবেন। ঠান্ডা জাতীয় সমস্ত রকম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। যারা বাইরে বাইরে সারাদিন থাকেন, তারা নিজেদের কাছে ইলেকট্রোল রাখতে পারেন, সকলের ছাতা ব্যবহার করুন। আর যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে থাকা যায় ততটাই চেষ্টা করুন।
আমি আর আমার ছোট্ট ভাই ঈশান
যাই হোক আজ আমি আপনাদের সাথে আমার নববর্ষের দিনটি কেমন কাটলো সেই নিয়েই বলবো। নববর্ষের দিন আর কটা দিনের মতনই হয়ে থাকে। আমি যতদূর জানি বাংলাদেশে নববর্ষ ভীষণ সুন্দরভাবে পালন করা হয়।। সকাল থেকেই নানা জায়গায় নানান ধরনের অনুষ্ঠান হয়। এখানেও নববর্ষ পালিত হয় কিন্তু এতটা বড় ভাবে নয়। শুধুমাত্র সন্ধ্যেবেলা থেকে মার্কেট চত্বরে পা রাখার উপায় থাকে না। কারণ সকলেই হালখাতার জন্য বেরোয়। মার্কেটের সব দোকান সেজে ওঠে আর প্রচুর মানুষজন ভিড় করে।
পহেলা বৈশাখের দিন হালখাতার ব্যাপারটা আমি এর আগের পোস্টে আপনাদের জানিয়েছি। তাই নতুন করে হালখাতা ব্যাপারটা আজ আর লিখছি না। চলুন এবার নিজের কথা বলি। নববর্ষের দিন সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসে পড়লাম। তারপরে পড়া হয়ে যাওয়ার পর স্নান সেরে আমি ঠাকুর ঘরে আলপনা দিতে শুরু করলাম। আমি খড়িমাটি দিয়েই আলপনা দিয়েছি। আমি নিজেও ভাবতে পারিনি এত সুন্দর আলপনা দিয়ে ফেলবো। আসলে এই দুদিন ধরে আমাদের এলাকায় আলপনা দেখে দেখে হয়তো আমিও কিছুটা রপ্ত করে ফেলেছি।
যাইহোক আলপনা দিতে বেশ অনেকটা সময় লাগলো। আমি প্রত্যেকদিন শুধু আমি বলে নয়, আমার পরিবারের সকলে স্নানের পরে তুলসী গাছে জল দি ই। সাথে আমাদের বাড়ির ঠাকুর ঘরে কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ রয়েছে। তো শিব ঠাকুরকেও আমরা স্নান করাই। এটা কোন বিশেষ দিন উপলক্ষে নয় আমরা প্রত্যেকদিন এই কাজটি করে থাকি। মা সকালে পুজো সেরে নেয়, কোন কোন দিন আমি পুজো করি। কিন্তু তাও আমরা প্রত্যেকদিন সবাই এই দুটো কাজ অন্তত পালন করি। স্নান সেরে ঠাকুর প্রণাম আমাদের প্রত্যেকদিনের নিয়ম।
যাইহোক আমি নববর্ষের দিন সকালেও স্নান সেরে ঠাকুর প্রণাম করার পরে, তুলসী গাছে জল দিলাম। আমাদের বৈশাখ মাসের প্রথম দিন থেকে তুলসী গাছের উপরের দিকে একটি কলসি বেঁধে রাখা হয়। কলসির ভেতরে একটা ছিদ্র করে ওর ভেতরে একটা কাপড় দিয়ে রাখা হয়। এবং কলসি ভর্তি জল সবসময় থাকে। আর ওই কাপড় দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে থাকে তুলসী গাছে। এইজন্য তুলসী গাছের মাটি সবসময় ভিজে থাকে। অর্থাৎ এত তাপে গাছ যাতে শুকিয়ে না যায় এবং তুলসী গাছের মাটি যাতে সবসময় ভিজে থাকে এই কারণেই এইটা করা। আমার বাবা এবারে আমার কিনে আনা মাটির কলসিতে সুন্দর করে ডিজাইন করে দিয়েছে।
সাদা তুলসী মন্দিরের সাথে সাদা কলসি সুন্দর দেখতে লাগছে। যাইহোক নববর্ষের দিন আমাদের বাড়িতে আমিষ হয়নি। নিরামিষ রান্না হয়েছিল। এছাড়াও আমরা বেশিরভাগ নিরামিষই খাই। মাছ মাংসের প্রতি ভক্তি আমাদের চারজনের কারোরই নেই। সব জায়গাতেই নিরামিষ হলেই আমাদের মন ভরে যায়। আরে এত গরমে মাছ-মাংস খেতে আমারও ভালো লাগেনা। আমি তো একেবারেই মাছ পছন্দ করি না। মাংস হয়তো এক পিস কি দু পিস খাই।
যাইহোক সারাদিন সেরকমভাবে আর কোন কাজ করিনি। পড়াশোনা মধ্যেই ব্যস্ত ছিলাম, সাথে গান গাইছিলাম। এত রোদের মধ্যে কোথাও বেরোনোর কোনরকম প্ল্যানও ছিল না। এছাড়া ঈশানের পরীক্ষা সামনে তাই ঈশান ও পড়াশোনার মধ্যে ব্যস্ত ছিল। ঈশান আমার ছোট ভাই।
বিকেলবেলা হয়ে যাওয়ার পর যখন গরমটা একটু কমে আসে তখন আমরা ঠিক করলাম বেরোবো। ভাইয়ের পড়া হয়ে যাওয়ার পরে তখন প্রায় সন্ধ্যে সাতটা বাজে, আমি ভাই কে নিয়ে মার্কেটের দিকে বেরোলাম। আমার বাবা ভিড়ের মধ্যে হালখাতা করতে একদম পছন্দ করে না। তাই যবে থেকে আমি বড় হয়েছি মার্কেটের যে সমস্ত দোকানগুলিতে আমাদের নিমন্ত্রণ থাকে, আমি একাই ভাইকে নিয়ে চলে যাই। আর যেসব জায়গায় একটু ফাঁকা জায়গা, ভিড় কম হয় সেখানে বাবার সাথে যাই।
আমার পছন্দের জামা কাপড়ের দোকান, আমাদের এক খুব পরিচিত স্বর্ণকারের দোকান, এবং আরেকটি কাপড়ের দোকানে আমি আর ভাই মিলে হালখাতা করলাম।এই দোকানগুলিতে আমাদের কোন ধার দেনার সম্পর্ক নেই, শুধুমাত্র আমরা এনাদের ডেইলি কাস্টমার বলে এনারা আমাদের প্রত্যেকবার নেমন্তন্ন করে থাকেন।
এই তিনটে দোকানে হালখাতা করতে গিয়েই আমি হাপিয়ে উঠেছিলাম। কারণ মার্কেটের মধ্যে এত ভিড়। রাস্তায় টোটো গাড়ি কিংবা বাইক কোন ভাবেই নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। আর কেউ যদি নিয়ে গিয়েছে তার ক্ষেত্রে আধঘন্টা মত জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।ওই ভিড়ের মধ্যে দিয়েই তিনটে দোকানে হালখাতা করার পর আমি একেবারেই বিরক্ত হয়ে উঠেছিলাম। ওই যে বললাম আমার গরম একদম সহ্য হয় না।
আমার বন্ধুদের সাথে দেখা করার একটা প্ল্যান হয়েছিল। যদিও প্ল্যানটা হঠাৎ করেই হয়। তাই তিনটে দোকানে হালখাতা সেরে আমরা কাছেই একটা রেস্টুরেন্ট , নাম রান্না বাটি, সেখানে গেলাম। রান্না বাটিতে ঢুকে এসির হাওয়াতে কিছুটা স্বস্তি পেলাম। আমার বন্ধুরাও একে একে আসলো। তারপর আমরা সবাই মিলে চিলি মাশরুম, আর ক্রিসপি চিলি বেবিকর্ন অর্ডার করেছিলাম। সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খেলাম। যেহেতু সবারই বাড়িতে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপার ছিল তাই ভারি কিছু খাইনি।
নববর্ষের দিন বন্ধুদের সাথে দেখা করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগলো। আমার ভাই ও পরীক্ষার আগের দিন ঘোরাঘুরি করে বেশ একটা এনার্জি পেল। রাত যখন নটা তখন আমি আর ভাই বাড়ি ফিরলাম। তারপর একটু রাত হবার জন্য বাবার কাছে বকুনিও খেতে হল।
বাড়িতে এসে তিনটে দোকানের যা হালখাতা করেছি এবং ওনারা যা দিয়েছেন সেই মিষ্টিগুলোর ছবি তুলেছিলাম সেগুলোই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। এছাড়াও আমার বাবা আরো দু তিনটে জায়গায় হালখাতা করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেই গুলোর ছবি তোলা হয়নি। আমি কিন্তু মিষ্টি খেতে ভীষণ ভালোবাসি। আর এত মিষ্টি দেখে আমি সত্যিই অনেক খুশি।
সকাল থেকে দিনটা কোনরকম কাটলেও সন্ধ্যে থেকে আমার সময়টা বেশ ভালো কাটলো। আশা করছি আপনাদের ও নববর্ষের দিন ভালো কেটেছে। আজকে এখানেই শেষ করছি। সকলে সুস্থ থাকুন।
সত্যি কথা বলতে আপনার গানের গলা যেমন সুন্দর। ঠিক তেমনি আপনি খুব সুন্দর ভাবে আলপনা করেন। আপনার আলপনা থেকে তো চোখ ফেরাতে পারলাম না, এত ভালো লাগছিল। ভাইকে নিয়ে সন্ধ্যা বেলা ঘুরতে বের হয়েছেন। আসলে অতিরিক্ত ভিড় থাকলে হালখাতার সময় আরো বেশি খারাপ লাগে। যাইহোক আপনারা খুব সুন্দর ভাবে বন্ধুদের সাথে দেখা করার সহ, ভাইকে নিয়ে খুব সুন্দর মুহূর্ত পার করেছেন। ধন্যবাদ নববর্ষের দিনটা এত সুন্দর ভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য। ভালো থাকবেন।
নববর্ষের প্রথম প্রহর আলপনা সাজিয়ে কাটিয়ে দিলেন। আর আপনাদের ওখানে নিরামিষটা বেশ চলে। আমাদের এখানে তো নববর্ষ মানেই পান্তা আর ইলিশ। তবে আপনার লেখাটি পড়তে বেশ ভালই লাগলো। বিকেলবেলা ভাইকে নিয়ে ঘুরতে গেছেন এবং তিনটি হালখাতা অনুষ্ঠানে গেছেন। হালখাতা মানেই মিষ্টির সমাহার। আমিও সুযোগ পেলে গয়নার দোকানে হালখাতায় যাই। খুব ভালো লাগলো আপনার নববর্ষের এই লেখাটি পড়ে।
I will like to say I really love the design of those ceramics. They are really looking so good and great. They must have spend quite a lot in those types of ceramics