পুজোর বাজার - দ্বিতীয় দিন
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলের সুস্থ আছেন। আমি গতকাল বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে আমার বাড়ির নারায়ণ পূজোর বাজার করার কথা শেয়ার করেছিলাম।। আমি শেয়ার করেছিলাম যে আমাকে দুদিন ধরে বাজার করতে হয়েছিল নারায়ণ পূজোর জন্য। প্রথম দিনের বাজারে কি কি কিনেছিলাম এবং কেমন আনন্দ করেছিলাম তা আপনাদের জানিয়েছি, আজ দ্বিতীয় দিনের কথা অর্থাৎ ২২ তারিখের বাজার করার কথা নিয়ে চলে আসলাম।
যেহেতু ফলমূল আগে থেকে কিনে রাখলে পঁচে যেতে পারে, তাই পুজোর আগের দিন কেনার কথা ঠিক করেছিলাম। আর এখন যা উটকো গরম পরছে, তাতে সবই খারাপ হয়ে যাবে। মা আমাকে পরের দিন আবার ফর্দ লিখে দিয়েছিল। সেই ফর্দমত আমি বেরিয়ে পড়েছিলাম ।
এইবার আমার সাথে ঈশান ছিল। ঈশান আমার ছোট ভাই, তা হয়তো এতদিনে আপনারা জানতে পেরেছেন। ওর সেদিনকে টিউশন ছুটি ছিল। তাই ও জেদ করছিল আমার সাথে বাজার করতে যাবে। প্রতি বিকেলে ও খেলতে যায়, সেটাও বন্ধ করেছিল ও।
মানে মাঠে খেলা বন্ধ করে আমার সাথে বাজার করতে গিয়েছিল ।মা আমাকে যা ফর্দ লিখে দিয়েছিল, সে অনুযায়ী আমাকে আনতে হয়েছিল নিচের এই সকল জিনিসপত্র -
| সেদিনের ফর্দ |
|---|
১. ঘটের ডাব
২. শসা - ১কেজি
৩.ফুটি
৪.আপেল
৫. কলা - ৩৫টা
৬.পান - ২০ টা
৭.সবেদা
৮.আখের গুড় - ১কেজি ২৫০ গ্রাম
৯. তরমুজ
১০.আঙ্গুর
১১.ফুলের মালা
১২. বৃহস্পতিবারের ফুল এর ব্যাগ দুটো
১৩. পদ্ম
১৪. মিষ্টি - ১০ রকম ১০ টা
১৫. রসগোল্লা , ক্ষীরপুলি মিষ্টি টোটাল - ৬০ টা
বাড়িতে কিছু ফল আগে থেকেই কিনে রাখা ছিল ।যেমন আম, মৌসম্বি লেবু ,কাজু ,কিসমিস, খেজুর। পুজো সংক্রান্ত আরো কিছু জিনিসপত্র আগে থেকেই বাড়িতে কেনা ছিল। এতগুলো কলা দেখে আপনারা ভাবতেই পারেন, এতগুলো কলা কেন লাগবে। কলা এত বেশি লাগার কারণ -নারায়ণ পূজোর সির্নি তৈরি করার জন্য।
পুজোর আগের দিন বাজারে প্রচুর পরিমাণে ভিড় হয় আর সাথে দাম থাকে আকাশছোঁয়া। সে তুলনায়, আমি তার আগের দিনই গিয়েছিলাম ,দাম কিন্তু সেরকম ছিল না। আর ভিড়ও ছিল না সেরকম । কিন্তু পুজোর আগের দিন গিয়ে দেখি এতটা ভিড় ফলের দোকানে। আমাকে মোটামুটি তিরিশ মিনিট অপেক্ষা করে তারপরে কিনতে হয়েছে ,মানুষ যেহারে এসছিল পাগল হয়ে যাচ্ছিল ওই দোকানদার।
আমরা যতবার এই গোয়ারী বাজারে ফল কিনতে আসি, এই দাদাটার দোকান থেকেই ফল কিনে থাকি। এই দাদাটা এই গোটা গরমকাল জুড়ে আমাকে তরমুজ সাপ্লাই করেছে। আর প্রত্যেকটা তরমুজ খেতে এত মিষ্টি। তাই এই দাদাটার দোকান থেকেই আমি সমস্ত ফলমূল কিনেছিলাম।
ফল কেনা হয়ে যাবার পরে চলে গিয়েছিলাম ফুলের দোকানে, ফুলের দোকান আমাদের কৃষ্ণনগরে প্রচুর জায়গায় রয়েছে। আমাদের কৃষ্ণনগরে পোস্ট অফিসের মোড়ে ফুল পট্টি বলে এমন একটা জায়গাও আছে। যেখানে খালি ফুল পাওয়া যায়। সেখানে খালি ফুলেরই দোকান রয়েছে।
কিন্তু আমি ফুল পট্টি অব্দি অতটা যাই নি। তার আগেই রাস্তার পাশে দু চারজন বসে ফুলের মালা এবং ফুলের জিনিস নিয়ে বিক্রি করে। যেহেতু বৃহস্পতিবার পড়েছিল নারায়ণ পূজোর দিন ,তাই মায়ের পুজোর ধুমধাম আরও বেশি ছিল। দুই পূজো সামলাতে এবং সেগুলোর সমস্ত কিছু কিনতে পরিশ্রম তো হবেই।।
মায়ের কথা মতো বৃহস্পতিবারের জন্য ফুল আলাদা এবং নারায়ণ পূজার জন্য ফুল আলাদা কিনলাম ।পদ্মফুল কিনলাম। আমাদের বাড়িতে পদ্ম গাছ থাকা সত্ত্বেও পদ্মফুল না ফোটায়, পদ্মফুল আমাকে ১৫ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এর জন্য প্রতি সপ্তাহে ফুলের ব্যাগ ফুলের দোকানে আগে থেকে রেডি করা থাকে ।সেই ফুলের ব্যাগে আম পাতা, বেল পাতা, তুলসী পাতা, পান পাতা, দোপাটি, জবা, নীলকন্ঠ , দূর্বা ,কলা এরকম অনেক কিছু দিয়ে একসাথে ওরা রেডি করে রাখে ব্যাগ গুলো ।এরকম ব্যাগ দুটো কিনেছি। এক একটা ব্যাগের দাম কুড়ি টাকা করে নেয় ওরা। তারপর আমাকে কিনতে হয়েছিল মালা।
আমি সমস্ত কিছু কেনাকাটা হয়ে গেলে চলে গেলাম আমার পছন্দের সেই আইসক্রিমের দোকানে আবার। আপনারা ভাবতেই পারেন আমাকে পাগল যে পরপর দুইদিন আমি একই দোকানে যাচ্ছি। কিন্তু আমি মুখে বললে হয়তো আপনারা বিশ্বাস করবেন না ,তবে আমি সত্যি আইসক্রিম খেতে খুবই ভালোবাসি।
আবার ওখানে গিয়ে আইসক্রিম অর্ডার করে ফেললাম। ঈশান ওর পছন্দ মতো আইসক্রিম অর্ডার করে ফেলল ।ওর আইসক্রিমে ছিল তিনটে স্কুপ -একটা ম্যাংগো, একটা পেস্তা ফ্লেভার, আরেকটা ভ্যানিলা । আর আমি নিয়ে নিলাম আমার পছন্দমত আরেকটি আইসক্রিম।
তারপর আইসক্রিমের দোকানে কিছুটা সময় কাটিয়ে, আইসক্রিম খেয়ে মজা করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সাড়ে সাতটা বেজে গিয়েছিল। বাজার করার শেষ হলেও পুজোর বাজার বাকি থেকেই যায়। পুজোর দিন সকালে আমার বাবাকে গিয়ে কিছু জিনিস আবার কিনে আনতে হয়েছিল। পুজোর সমস্ত মুহূর্তগুলো আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করব পরের দিন। আজকে এখানেই শেষ করছি।
তুমি এত সুন্দর গুছিয়ে বাজার করতে শিখে গেছো দেখে ভালো লাগলো। কিন্তু আমি থাকলে হয়তো একটু হেল্প হত। হয়তো আমি ছিলাম না বলেই ঈশানকে নিয়ে বাজার করতে বেরিয়েছিলে। তোমার পোস্টটি পড়ে সত্যি খুব সুন্দর লাগলো। হয়তো সেদিন তোমার সাথে যেতে পারলে, আমারও একটু আইসক্রিম খাওয়া হতো। আমি মিস করে গেলাম।
তুমি থাকলে তোমাকে সাথে নিয়ে যেতাম বৌদি। আইসক্রিমের ওই দোকানটাতে তুমি মনে হয় আমার সাথে যাওনি কোনো বার। পরেরবার নিয়ে যাব।
ঈশান আপনার সাথে গিয়ে ভালো করেছে। না হলে পূজোর সব জিনিসপত্র আপনাকে একাই বয়ে নিয়ে বাড়িতে আসতে হতো। এত পরিশ্রম করে বাজার করার পর আইসক্রিমের ট্রিট তো বানতা হ্যায়। ধন্যবাদ পুজোর বাজারের মুহূর্ত গুলি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ভাই তো খুব ছোট। ওর হাতে কোন ব্যাগ দেওয়ায় হয়নি। তবে হ্যাঁ ও যাওয়াতে আমার ভালো লাগছিল। কারণ একা একা বাজার করার থেকে সাথে কেউ থাকলে ভালো তো লাগবেই।