আজ আমার ছোট্ট ভাইয়ের জন্মদিন
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলে ভালো আছেন ।
আজকের দিনটা খুব খুশির একটা দিন এবং আমার কাছে এই দিনের গুরুত্ব মুখে প্রকাশ করার মত নয়।কারণ আজকের এই দিনটিতে আমার ছোট্ট ভাই আমাদের বাড়িতে এসেছিল।
ছোট থেকেই বাড়ির আমি একমাত্র ছোট মেয়ে। আমার বড় দাদা দিদিরা এতটাই বড় যে তাদের সকলের এখন বিয়ে হয়ে ,বাচ্চা হয়ে ,সেই বাচ্চারা অনেক বড়। তাই সকলের আদরের ছোট্ট মেয়ে ছিলাম আমি। সবার আদরে পেয়ে পেয়ে আমি ছোটবেলা থেকেই একদম একা থাকতে পছন্দ করি না ।সব সময় মানুষজন আমার চারিপাশে থাকবে, বাড়িতে হইহই হবে, মানে বলতে গেলে একটা যৌথ পরিবার ,সেরকমভাবে আমি বড় হয়েছি।
কিন্তু তারপরে যে যার নিজের কাজের সূত্রে বাইরে চলে যায়। দিদি দাদাদের বিয়ে হয়ে যায় ।তারাও এখন এই বাড়ির আবডালে আর থাকতে পারে না ।স্বাভাবিক একটা সময় পর সবাইকেই নিজের নিজের জায়গায় চলে যেতে হয়। আসলে ছোটবেলা থেকেই আমার পিসিরা এবং পিসির মেয়েরা মাঝেমধ্যেই আমাদের বাড়িতে এসে থাকতো। ওদের কাছে মামার বাড়ি নিজের বাড়ির মতনই ছিল। সাথে আমার জেঠুর বাড়ির সবাই ছিল। সব মিলিয়ে সারা বাড়ি গমগম করত ।
আমার মাকে বেশি আমার পেছনে পরিশ্রম করতে হয়নি। বাড়িতে এত লোকজন থাকায় আমি কান্নাকাটি করলে বা আমাকে দেখাশোনা করার জন্য কেউ না কেউ অলওয়েজ থাকতো। আমি সবার কোলে কোলেই মানুষ হয়েছি।
তাই হয়তো আমি, এত কথা বলতে ভালোবাসি। আর এত লোকজন পছন্দ করি। আর বাড়ির সবাই আমাকে ভীষণ ভালোবাসে।
কিন্তু আমার মনের মধ্যে একটা ক্ষোভ ছিল ,সকলের দেখতাম ভাই বা বোন রয়েছে। নিজের একটা ভাই বোন থাকলে সত্যিই অনেক ভাগ্যের। এই আফসোসটা তখন যতটা বুঝতে পারতাম ।এখন তার থেকে বেশি বুঝতে পারি কারণ ভাইয়ের থেকে কিছুদিন যখন আমি দূরে থাকি, আমি ভীষণ ভাইকে মিস করি। কিছু বছরের জন্য যখন আমাকে কলকাতা থাকতে হলো, আমি ঈশানকে খুব পরিমাণে মিস করতাম।।
যাইহোক সবার ভাই বোন দেখে আমার কান্না আসত। ভাই ফোটার সময় আমি আমার জেঠুর ছেলে এবং পিসতুতো দাদাদের ভাইফোঁটা দিতাম। ওদের সাথে খেলাধুলা করতাম ।ছোট থেকেই মাকে বলতাম, আমার ভাই বোন এনে দাও। মা বলতো , তোকে মেলা থেকে কিনে এনে দেবো।
তো বেশ অনেক বছর পর প্রায় ১২ বছর পর অর্থাৎ আমি যখন ১২/১৩ বছর বয়স এর, তখন ঈশান হয় অর্থাৎ ঈশান আমার থেকে ১২ বছরের ছোট। ও হওয়ার আগেই আমি মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম মেয়ে হলে নাম দেবো ঈশানি এবং ছেলে হলে ঈশান।
মা বাবার ভীষণ ইচ্ছা ছিল যে ছেলে হোক । কারণ এটা সত্যিই যে, ছেলে ও মেয়ে , দুই ধরনের। তাই সন্তান হিসেবে যদি কারোর ছেলে মেয়ে উভয়েই থাকে। মা বাবার অভিজ্ঞতাও দুরকম হয়।
দেখতে দেখতে আমার ছোট ভাই ১২ বছর পূর্ণ করল আজ। আমার ভাই এর ভালো নাম জিষ্ণু। ওকে আমি আদর করে ঈশান বলে ডাকি। মা বলে পুচকি।। আর আমার বাবা আমাদের দুই ভাই বোনকেই বাবা বলে ডাকে ।কখনো কখনো আমাকে ঈশু বলে। আর রাগ হলে তো দুজনেরই নাম ধরেই । ঈশান যখন আসলো, বাড়িতে শুধু আমার ঠাম্মা ছিল। আর কেউ না।
আমি যেমন সবার মাঝে বড় হয়েছে, ঈশান সেই পরিবেশ পায়নি। তাই আমি ওকে যতটা পারি আদরে রাখি। সবার আদর যাতে ও কোনরকম ভাবে মিস না করে। একেবারেই মাথায় করেই রাখি। তাতে মানুষ যাই বলুক, আমার কোনো সমস্যা হয়না । ও ঈশ্বরের অনেক বড় উপহার । আমাদের পরিবারে ও না থাকলে, আজ বাড়ি চুপ হয়ে থাকতো। বাড়িতে বাচ্চা থাকলে কত যে হৈচৈ হয়। আমি ওকে খুব ভালোবাসি।ওর দুষ্টুমি তে আমিও ওকে বকি, একটু আধটু মার ও পরে। কিন্তু ও আমার কাছে খুব আদরের।
আমি চাই, ও সুস্থ থাকুক। আর ভগবান যেন সবসময় ওর পাশে থাকে। আর ও যেন ভালো মানুষ তৈরি হয়। আর ওর দিদি সারাজীবন ওর জন্য আছে। আপনারাও ওকে আশীর্বাদ করবেন আজকের দিনে।
আপনারাও ভালো থাকুন। আজ এখানেই শেষ করছি।
ভাইয়ের জন্মদিন কিভাবে পালন করলাম তা পরবর্তী পোস্টে জানাবো। আর এখানে আমি যা ছবি ব্যবহার করেছি। সবই পুরনো ছবি। আমার নিজের ফোন থেকে ও আমার বাবার ফোন থেকে তোলা।
শুভ জন্মদিন ঈশান। আপনাদের ভাই বোনের ভালোবাসা দেখে খুবই ভালো লাগলো। আমারও একটি ছোট ভাই আছে। আমি জানি বড় ভাই বা বোন হওয়ার আনন্দটা।দেখতে দেখতে সময় পেরিয়ে যায় চোখের সামনেই। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আপনার আদরের ঈশানের জন্য অনেক অনেক আশীর্বাদ রইলো।
সবার প্রথমে আপনার ছোট ভাইকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা শুভ জন্মদিন ঈশান। এটা শুনে ভালো লাগলো আপনি যৌথ পরিবার পছন্দ করেন এবং যৌথ পরিবারের সাথে বড় হয়েছে কাজের জন্য সবারই বাসা থেকে বের হতে হয়। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন
অনেক অনেক ধন্যবাদ। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। হ্যাঁ যৌথ পরিবার ভালো লাগার কারণ এটাই যে যৌথ পরিবারে থাকলে শিশুরা অনেক কিছু শিখতে পারে। অন্তত তাদের ভেতরে স্বার্থপর মনোভাবনা তৈরি হয় না।
প্রথমেই আপনার ভাইয়ের জন্য জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।🎉 ভাই বোনের ভালোবাসা সত্যিই অসাধারণ, যেটা কখনো ভুলে থাকা সম্ভব নয়। আপনি যখন একা ছিলেন তখন আপনার ইচ্ছে ছিল ভাই অথবা বোন আপনার জন্য নিয়ে আসা হোক। তাই হয়তোবা সৃষ্টিকর্তা আপনার মনের ইচ্ছা পূরণ করেছেন।
আপনাদের ভাই বোনের ভালোবাসা আজীবন এভাবেই থাকুক এটাই কামনা করি। আপনার ভাইয়ের আগামী দিনের পথ চলা অনেক বেশি সুন্দর হোক। ধন্যবাদ ভাইয়ের জন্মদিনের উপলক্ষে এত সুন্দর একটা টপিক আমাদের সাথে আলোচনা করার জন্য। ভালো থাকবেন।
এত শুভকামনা দেখে আমি নিজেও স্বস্তি ফিল করছি। আসলেই ও আমার খুব আদরের একজন। ও সব সময় সুস্থ থাকুক এটাই আমার চাওয়া। আপনার এত সুন্দর কমেন্ট দেখে আমার খুবই ভালো লাগলো। আপনিও সুস্থ থাকুন। আপনার পরিবারও অনেক ভালো থাকুক। আপনার জন্য আমার অনেক শুভকামনা রইল।