মার্বেলস ও টাইলস কেনার অভিজ্ঞতা
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন ।ইদানিং সূর্যের তাপ এতটাই বেড়েছে যে বাইরে বেরোনো দুঃসাধ্য ।প্রায় তিন চার দিন যাবত তাপমাত্রা সব থেকে বেশি বলে খবরেও দেখা যাচ্ছে। আমিও যতটা পারছি বাড়িতেই থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু সমস্যা এটাই যে প্রায় জ্বর সর্দি লেগে যাচ্ছে সবার।কারণ কারোরই এই আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো শরীরের অবস্থা তৈরি হয়নি। কবে যে বৃষ্টির ছোঁয়া পাওয়া যাবে, ভগবান জানে।
যাইহোক আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করব আমার একটা নতুন অভিজ্ঞতার গল্প। বেশ কিছু মাস হল আমাদের বাড়ির দোতলা এবং তিনতলার কাজ চলছে। সমস্ত কিছু রেডি হয়ে যাওয়ার পরে এখন রং করা, টাইলস মার্বেলস বসানো এবং ইলেকট্রিকের কাজই বাকি। শীতের সময়টুকু বাবা মিস্ত্রীদের কাজ বন্ধ রেখেছিল ।কারণ শীতের সময় দিন ছোট হয়। গরমকাল পড়ার পর থেকেই আবার আমাদের বাড়িতে হাত দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রে ঘরে কি মার্বেলস আর টাইলস বসবে সেই সংক্রান্ত ব্যাপারে সবাই মিলে আলোচনা হচ্ছিল এবং আমরা ঠিক করি ,আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি মার্বেলসের দোকান আছে সেখানে যাওয়ার।
তো একদিন সময় করে বিকেল বেলার দিকে আমরা সবাই মিলে সেই মার্বেলসের দোকানে গেলাম জায়গাটা দোকান বললে ভুল হবে। একটা বিশাল বড় প্রপার্টি ।তিন তলা বিল্ডিং জুড়ে টাইলসের সেকশন রাখা। শুধু রাখা মানে সাজিয়ে গুছিয়ে ডেকোরেট করে রাখা ।আর তার আশেপাশের গোটা জায়গাটা নানা ধরনের মার্বেলসের শো করে রাখা ।ওখানে গেলে সবারই কোনটা ছেড়ে কোনটা নেব এরকম কনফিউশন হয়ে যাবে।
আমরা বিকেল বেলায় বেরোলেও সন্ধে ছটা নাগাদ পৌঁছলাম এবং আমাদের ওখান থেকে বের হতে প্রায় রাত নটা বেজে গেছে। কারণ এত কালেকশন দেখতেও সময় লাগে। জায়গাটার নাম হচ্ছে দেবনাথ মার্বেলস। আমাদের শহরের আশেপাশে অনেকগুলোই মার্বেলের শোরুম থাকা সত্ত্বেও এনাদের কালেকশন সব থেকে বেশি ,তাই আমরা এখানেই যাওয়ার কথা ঠিক করি।
ওই সময়টুকু জুড়ে আমি আমার ঘরের, ভাইয়ের ঘরের এবং তিন তলার মার্বেলস টাইলস সমস্ত কিছু ঠিক করি ।একেক জনের একেক রকম মত ,তারপর নানান রকম কনফিউশন এবং অবশেষে একটা শেষ ডিসিশনে এসে তবে বিল এর ব্যবস্থা করা হয়।
এবং ওখান থেকে যা আমরা কিনতে পেরেছি সবকিছুই আমাদের ভীষণ পছন্দ হয়েছে। সবার কথা ঠিকই ছিল যে এখানে কালেকশন বেশি, আমি তো টাইলসের বিল্ডিং টাই উপর থেকে নিচ, তিন তলা ওঠানামা করতে করতেই হাঁপিয়ে গিয়েছিলাম ।প্রত্যেকটি ফ্লোরে আলাদা আলাদা ধরনের ডিজাইন ছিল। অতগুলো ঘরের ডিজাইন প্লাস বাথরুমের ডিজাইন। সিঁড়ি র সমস্ত কিছু দেখতে সময় তো লাগবেই।
ওখানে যাবার পর ওনাদের স্টাফরা আমাদের নিঃসন্দেহে আপ্যায়ন ভালোভাবে করেছেন এবং খুব ধৈর্য ধরে আমাদের সমস্ত কিছু দেখিয়েছেন।
জীবনে প্রথমবার এরকম কোন প্রপার্টি দেখে বেশ ভালো লাগলো। এর আগে আমি কখনোই মার্বেল বা টাইলসের দোকানেও যাইনি। বাবা ই সমস্ত কিছু একাই দেখে ঠিক করে কিনে নিয়ে আসতো। কিন্তু এবারে এরকম জায়গায় গিয়ে বেশ মজা লাগলো।
এত ভারী ভারী মার্বেল ওরা রাজস্থান থেকে এত দূরে নিয়ে আসে এবং সেগুলো রাখা ,দেখভাল করা এবং বিক্রি করা সব কিছুর উপরই প্রবল পরিশ্রম রয়েছে। সবমিলিয়ে আমার খুব মজা হয়েছে সেদিন।
ওরা প্রায় দুদিনের মধ্যেই আমাদের বাড়িতে আমাদের বাছাই করে রাখা সমস্ত জিনিস পাঠিয়ে দিয়েছে। এবং বাড়ির কাজও শুরু হয়ে গেছে।
আমার বাবা সবসময় যে কোন ডিসিশন, বিশেষ করে বাড়ির কাজের ডিসিশনগুলো নেওয়ার আগে আলোচনা করে নিয়ে থাকে ।আর স্বাভাবিকভাবেই এই কারণে বাড়ির কোন জিনিস যেটা লাইফ টাইম থাকবে, সেরকম জিনিস কিনতে যাওয়ার আগে বাবা চেয়েছিল আমরাও যেন বাবার সাথে যাই
কিন্তু আমার মা সব সময় একটা কথা বলে, যেহেতু আমরা মানুষ সবাই আলাদা। তাই আমাদের পছন্দ আলাদা। তাই অত জন মিলে গেলে এক একজনের এক এক রকম পছন্দ অনুযায়ী কথা বলতে গিয়ে, একটা বেশ বড়সড় দ্বন্দ্ব হয়ে বসে। এ কারণে সেদিনকে আমাদের সমস্ত কিছু চুস করতে এত টাইম লেগেছিল। তবে যে আল্টিমেটলি সমস্ত কিছু ভালোভাবে ঠিক করতে পেরেছি এটাই অনেক।
আশা করছি আমার আজকের পোস্ট আপনাদের সকলের ভালো লাগলো। আবার নতুন কিছু নিয়ে পরের পোস্টে হাজির হব।
আপনার মা একদমই সঠিক কথা বলেছেন। যেহেতু প্রতিটা মানুষ ভিন্ন তাই তাদের পছন্দ ও ভিন্ন। এত মানুষ গেলে সত্যিই পছন্দ করে একটি সিদ্ধান্তে আসা কঠিন। টাইলসের ব্যাপারে সত্যিই মাথা অগোছালো হয়ে যায়। কারণ একেক জায়গার জন্য একেক রকম টাইলসের প্রয়োজন হয়। যাক অবশেষে আপনারা পছন্দমত টাইলস কিনতে সফল হয়েছেন এটাই বড় ব্যাপার। ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার একটি বিষয় আমাদের সাথে শেয়ার করে নেয়ার জন্য।