গরীব বাবার গল্প
মেয়ের বিয়ের যৌতুকের টাকা জোগাতে দুপুরে খাবার খায়না আজগর মিয়া,যে কথা বলতে ঝরঝর করে কেঁদেছে।
একটুপর শান্ত হয়ে আসেন আজগর মিয়া। বলেন, ‘বড় দুই মেয়েই তো এখন আমার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড় মেয়েকে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিছি,আর মেজ মেয়েকে
৭তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে দেই। মেজ মেয়ের বিয়েতে ৬০ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু দিতে পারিনি। এজন্য জামাই প্রায়ই মেজ মেয়েকে মারপিট করে আর বলে টাকা যত দিন না আনবি তত দিন মার খাবি।
আমি খেয়ে না খেয়ে কিছু টাকা জমিয়েছি; বাড়ি গিয়ে দেব। কিন্তু টাকা দিয়েও তো ভরসা পাই না। বড় মেয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়ার পরও জামাই প্রায়ই মেয়েকে মারপিট করে আর বলে তোর বাপের কাছ থেকে আরো টাকা নিয়ে আয়।
মেজ মেয়ের শাশুড়ি প্রায়ই মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমি গ্রামের বাড়িতে গেলে মেয়েদের দেখতে যাই। মেয়ের শাশুড়ি বলে আপনার মেয়ে কিছু বোঝে না; কোনো কাজ পারে না। আমি যদি বলি অল্প বয়সের মেয়ে; ওকে একটু বুঝায়ে নিয়েন আর কাজ দেখায়ে দিয়েন। উত্তরে মেয়ের শাশুড়ি বলে, আপনার অল্প বয়সের মেয়ে বিয়ে দিছেন কেন? বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান।’
এসব অত্যাচার সইতে না পেরে কয়েক মাস আগে মেজ মেয়েটি আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল বলেও জানান আজগর মিয়া। বলেন, ‘১০ বছর ফুটপাতে ঘুমিয়ে খেয়ে না খেয়ে টাকা গোছায়ে বড় মেয়ের বিয়ে দিছি।
এখন বয়স হয়ে গেছে আর ফুটপাতে ঘুমাতে পারি না। যার কারণে ছোট মেয়ের ৬০ হাজার টাকা আর গোছাতে পারছি না।বেচাকেনাও নাই তেমন
এসব কথা বলতে বলতে ঝরঝর করে কেঁদে ওঠেন আজগর মিয়া।
অল্প বয়সে মেয়েদের কেন বিয়ে দিয়েছেন জানতে চাইলে আজগর মিয়া বলেন, ‘তখন ভাবলাম ভালো ছেলে পাইছি, বিয়ে দেই। এখন বুঝতে পারছি অল্প বয়সে মেয়ে বিয়ে দিলে কী হয়। তাদের সংসার করার মতো বুদ্ধিই তো হয় না। যার কারণে স্বামী, শাশুড়ি এমনকি ননদের কাছেও মার খেতে হয়।
আমি যদি একটু কষ্ট করে মেয়ে দুইটারে লেখাপড়া করায়ে বড় করে বিয়ে দিতাম তাহলে আমার মেয়েদের এ কষ্ট হতো না। এমনকি একটু বেশি লেখাপড়া করালে ওরা তো ছেলেদের চেয়ে কম নয়।
কারণ মেয়েরাও তো দেখি অনেক বড় বড় জায়গায় চাকরি করে। বড় ছেলে প্রায়ই অসুস্থ থাকে। ওকে একটি জুতার দোকানে কাজ দিয়েছিলাম কিন্তু করতে পারে না।’
দেড় যুগ পার করে দেওয়ার পরও এই শহরে থিতু হতে চান না আজগর মিয়া। আক্ষেপ করে জানান, এত দিন ব্যবসা করেও কোনো টাকা জমাতে পারেননি। তবে তাঁর ইচ্ছে আছে কিছু টাকা জমিয়ে গ্রামে ফিরে যাবেন। সেখানে যেকোনো এক জায়গায় দোকান নিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শান্তিতে বাস করবেন।
আপাতত এই ইচ্ছে নিয়েই শহরে বুকে
এক একেকটি রাত পার করছেন আজগর মিয়া।
মানুষ এর জীবনে এত কষ্ট কেন..?
এই সমাজে এদের কি কোনো জায়গা নেই..?
মেয়েরা কি মানুষ না..?
অনেক কষ্ট লাগে এসব মানুষ এর কাহিনী লিখতে। মেয়েরা মানুষ কিনা এই প্রশ্নের উওরটা আপনারা আমাকে দিবেন।আর এই সব মানুষ সামনে পরলে একটু বাড়িয়ে সহযোগীতা করবেন,এরা মাথা নত করতে চায়না সবার কাছে।
(সংগ্রহীত)
