
ভূমিকাঃ
“আমার বাংলা ব্লগ”- এখন শুধু একটি কমিউনিটির নাম না বরং সকলের নিকট জনপ্রিয় মাধ্যম, নিজের ভাষায় আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসা প্রকাশের। দিন দিন যার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শীর্ষে উঠে আসছে র্যাংকিং এ। আসলে আমার বাংলা ব্লগ এর যাত্রা শুরু হয় মাতৃভাষায় মনের ভাব প্রকাশে স্টিম ব্লকচেইন এ সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে। পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী কমিউনিটিকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে ভাষার প্রতি ভালাবাসা সৃষ্টি করা এবং নিজেদের বন্ধনকে আরো মজবুত করা। আমাদের বিশ্বাস আমরা খুব দ্রুততম সময়ের মাঝে আমাদের লক্ষ্যে পৌছাতে সক্ষম হবো। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে এখন পর্যন্ত ২৫৮৭ জন সদস্য হয়েছেন এবং বর্তমান এ্যাকটিভ পোষ্টের সংখ্যা ২৩৫।
আমরা পুরো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাঙালীদের নিজের মাতৃভাষায় আবেগ, অনুভূতি ও জীবনের গল্পগুলোকে ভাগ নেয়ার সুযোগ করে দিতে চাই। কারন তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ব্লকচেইন সবার মাঝে একটি সেতু বন্ধন তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা এই সুযোগটির পূর্ণ ব্যবহার এবং বাঙালি কমিউনিটির একটি নির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় সহজসাধ্য করতে চাই।
হ্যাংআউট-৪১
সময়ের পূর্বেই ভেসে আসে সেই কণ্ঠ সূর আমার বাংলা ব্লগের এ্যাডমিন
@shuvo35 ভাইয়ের। যেহেতু এটি বিশেষ হ্যাংআউট তাই শুরুর পূর্বে কিছু বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সবাইকে স্বাগতম জানিয়ে হ্যাংআউট শুরু করেন, আপনাদের জন্যই আমাদের হ্যাংআউট, আপনাদের জন্যই আমাদের এই বিশেষ আয়োজন। সব মিলিয়ে আজকের হ্যাংআউটটি আরো বেশী সুন্দর হবে, মজা এবং মাস্তি হবে। একটু ভিন্নভাবে আজকের হ্যাংআউটটি, আপনাদের কথা শুনবো আজ, আপনাদের অনুভূতি শেয়ার করার সুযোগ দিবো। তবে এই বিষয়ের পুরো ক্রেডিটটি হলো আমার বাংলা ব্লগের ফাউন্ডারের, যিনি ছায়ার মতো আমাদের সবাইকে আগলে রেখেছেন।
আসল বিষয়টি হলো সাপোর্ট, চমৎকার ভোটিং সাপোর্ট, পয়সা আছে বলেই আমরা সবাই কাজ করছি এবং এ্যাকটিভ থাকার চেষ্টা করছি। নিজের চেষ্টা, মেধা এবং সৃজনশীলতা প্রকাশের মাধ্যমে সেই আয়টা যেন ভালোভাবে নিশ্চিত করতে পারি, নিজেদের চিন্তা শক্তির আরো বেশী বিকাশ ঘটাতে পারি, তার জন্যই কিন্তু আমার বাংলা ব্লগ। শুধুমাত্র বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করে আজ আমরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছি। আমরা যে চিন্তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, যে লক্ষ্য আমাদের সম্মুখে রয়েছে সেই দরজাটা কিন্তু খুব কাছেই আছে। আমরা ভবিষ্যতে নাম্বার ওয়ানে যাবো এবং আরো বেশী আনন্দ উপভোগ করবো।
এরপর শুভ ভাই আমার বাংলা ব্লগের সকল এ্যাডমিন এবং মডারেটরদের পদবী এবং দায়িত্বগুলো উপস্থাপন করেন, যাতে ইউজাররা তাদের যে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য কাংখিত ব্যক্তিকে নক করতে পারেন। শুরুতেই সিয়াম ভাই আমার বাংলা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা কর্তৃক দায়িত্ব বন্টনের পোষ্টটি শেয়ার করেন তারপর শুভ ভাই সিরিয়াল অনুযায়ী এক এক করে রুল ও দায়িত্বের বিষয়টি পরিস্কার করার চেষ্টা করেন।

তারপর শুভ ভাই বিশেষ হ্যাংআউটের সেগমেন্টগুলো নিয়ে একটু আলোচনা করেন, এরপর আমার বাংলা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা
@rme দাদাকে তার অনুভূতি শেয়ার করার আহবান জানান।
আমার বাংলা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা
@rme দাদা কথা বলেন, বাংলায় ব্লগিং করাটা যেমন কষ্টকর ঠিক তেমনি রিওয়ার্ডস পাওয়াটা আরো বেশী কষ্টকর, কারন কেউ ভোট দিবে না বাহিরের কমিউনিটিগুলো হতে, কোন সাপোর্ট নেই। সেই ক্ষেত্রে দাদা চেষ্টা করে গিয়েছেন ক্রমাগতভাবে, সেই শুরু হতে যখন স্টিমিট প্রথম চালু হয়। তখনই তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন নেড এর সাথে, যদিও শুরুতে এখানে ট্যাগ সিস্টেম চালু ছিলো, ক্যাটাগরি ওয়াইজ পোষ্ট হতো। দাদার ইচ্ছা ছিলো Bengali নামে একটা ট্যাগ নিশ্চিত করার। তারপর বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা নিয়ে আলোচনা, যেটা শুনে নেড খুবই অবাক হয়েছিলেন। কারন এতো সংখ্যক মানুষ এই ভাষায় কথা বলছেন কিন্তু এর কোন চর্চা নেই। এটা সত্যি আমাদের জন্য লজ্জাকর ছিলো।
আমাদের থেকেও অনেক কম সংখ্যক মানুষ কথা বলেন জর্মানী, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, স্প্যানিশ কিন্তু তারা ভাষার চর্চা করেন। অথচ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে লজ্জা পাই, লিখতে লজ্জা পাই। তারপর দাদা কোলকাতার একটা দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন। বড় বড় দেশগুলো চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স এসব দেশে ইংরেজীর খুব বেশী প্রচলন নেই বললেই চলে, সেখানে নিজ দেশের ভাষা চর্চা করা হয়। খুব বেশী হলে এসব দেশে ৫-১০% মানুষ ইংরেজী ভাষায় কথা বলেন। আসলে তারা নিজেদের ভাষায় কথা বলেন, আমাদের মতো অতো বেশী ইংরেজীতে কথা বলেন না। তাদের দেশ এবং মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা আছে। ইংরেজী তারা শুধু মাত্র যোগাযোগ রক্ষার্থে বলে থাকেন। ইংরেজীতে কথা বলতে পারলেই সে বেশী শিক্ষিত আমাদের সকলের ধারনাটা এই রকম। ইংরেজী বলতে পারা মানেই খুব বেশী শিক্ষিত না, কারণ এটা একটা ভাষা। বাংলাও একটি ভাষা, তবে ইংরেজী শেখাটা বেশী সহজ, বর্ণমালা কম তাই।
আমরা যখন ব্লগিং করবো নিজের মনের ভাব প্রকাশ করবো, তখন সেটা নিজের ভাষায় করলে বেশী আনন্দ পাওয়া যায়, অন্য রকম একটা তৃপ্তি আসে। আমাদের কমিউনিটিতে আমরা যেমন বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা এলাউ করি না, সে ক্ষেত্রে
আমরা সব কিছু বাংলা ভাষায় শেয়ার করবো, তবে যারা ইংরেজী জানে তারা অন্য কমিউনিটিতে কাজ করতে পারবেন। কিন্তু আমার বাংলা ব্লগ শুধুমাত্র বাংলা ভাষার জন্য। এর জন্য আমাদের অনেকটা পথ পাড়ি দেয়া লাগছে। অল্প কিছু ইউজারদের নিয়ে শুরু করা হয়েছিলো, তখন পাওয়ারও বেশী ছিলো না, ভোটিং পাওয়ার কম ছিলো। তখন অনেকেই ছিলেন আবার অনেকেই চলে গেছেন। আজকে যারা এ্যাডমিন তালিকায় রয়েছেন তারা কেউ এ্যাডমিন হিসেবে জয়েন করেন নাই বরং সবাই সারাধণ ইউজার হিসেবে জয়েন করেছিলেন।

তবে শুরু হতে এ্যাডমিন হিসেবে শুধুমাত্র ইউংলেস ছিলেন। যারা এখন এ্যাডমিন কিংবা মডারেটর রয়েছেন তারা সবাই নিজেদের যোগ্যতা, আন্তরিকতা, আনুগত্য এবং কমিউনিটির প্রতি ভালোবাসার কারনে তাদের এখানে আনা হয়েছে। আমরা শুরুতে টপে ছিলাম না, সার্চ করলেও অনেক নীচে পাওয়া যেতো কিন্তু টপে ছিলো অন্যান্য কমিউনিটি নিয়ে তাদের সেখানে আমাদের স্থানীয় বাংলা ভাষার মানুষজনই ছিলো বেশী। কিন্তু সেখান হতে তিন মাসের মধ্যে আমরা অনেক দূর আসতে সক্ষম হয়েছি। দাদা সব সময় বিশ্বাস করেন ধীরে ধীরে কিছু শুরু করলে তার ফলাফল ভালো হয়, হুট করে কিছু করলে সেটা ভালো হয় না। দাদা ইচ্ছে করলে প্রথম দিনই লাজুক খ্যাঁক তৈরী করতে পারতেন, পাওয়ার বাড়াতে পারতেন কিন্তু সেটাতো তিনি করেন নাই। ধীরে ধীরে আস্তে আস্তে কিছু করা উচিত সব সময়। এ প্রসঙ্গে দাদা কচ্ছপ ও খরগোস এর গল্পের উদাহরণ দেন। ধীরে ধীরে নিশ্চিতভাবে কাজ করলে সেখানে সফলতা আসবেই।
তারপর শুভ ভাই ফিরে আসেন। সকলের নিকট একটা জিনিষ জানতে চান আমাদের টার্গেট কোথায়, বাংলা ভাষাকে টপে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্য সবচেয়ে বেশী কাজ যে করছেন তিনি হলেন আমাদের দাদা। দাদাকে তার মন হতে কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর আমার বাংলা ব্লগের এক্সিকিউটিভ এ্যাডমিন
@blacks দাদার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শুভ ভাই এবং তার অনুভূতি শেয়ার করার আহবান জানান।
আমার বাংলা ব্লগের এক্সিকিউটিভ এ্যাডমিন
@blacks দাদা শুরুতে শুচ্ছো জানান, আমরা র্যাংকিং দুই নম্বর অবস্থানে রয়েছি এই জন্য আজকের বিশেষ হ্যাংআউট। এটা একটা আনন্দের বিষয়, যে কোন কাজে কি ছুটা সফলতা আসলে সেটাই কাজের স্বার্থকতা। আসলে আমাদের কমিউনিটিটা শুধুমাত্র বাংলা ভাষা নির্ভর, বাংলা ভাষা চর্চা করা হয়। এই চর্চা করার মাধ্যমে আমরা যত সহজেই নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারবো, অন্য কোন ভাষায় সেটা সম্ভব হবে না। যত দক্ষতাই থাকুক আপনার সেভাবে তা প্রকাশ করতে পারবেন না। এই দিক হতে এই জায়গা আমাদের বাঙালীদের জন্য খুবই আদর্শ। আপনি ইংরেজীতে কোন একটা বিষয় লিখতে গেলে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন কিন্তু সেটা বাংলা ভাষায় লিখলে তার চেয়ে অনেক বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। অনেকটা সুন্দর করে নিজের ভাবটা প্রকাশ করতে পারবেন। সেই ক্ষেত্রে আমার বাংলা ব্লগ আদর্শ।

এখন আমরা দ্বিতীয় স্থানে গিয়েছি সেটা শুধুমাত্র রিওয়ার্ডস এর উপর ভিত্তি করে, আসল বিষয়টি হলো কোয়ালিটি, আমাদের যে কোয়ালিটি, কাজের দক্ষতা, এনগেজমেন্ট, সাপোর্ট পলিসি এসব দিক বিবেচনায় অনেক আগ হতেই আমরা এগিয়ে রয়েছি। এখানে অনেক কিছুই দেখা যায়, অনেকেই হয়তো নানা কথা বলবে, এইটা সেইটা বলবে এগুলো আসলেই কিছু না, নিজের মতো করে কাজ করতে হবে। যেটা ঠিক সেটাই করতে হবে। আর ব্লগিং এটা কারো পেশা না, শুধুমাত্র ভালো লাগার জায়গা হতে কিছু করার চেষ্টা করা। এভাবে সবাই নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করে যান। সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে হবে। অনেক সময় আপনার কথা আমার ভালো নাও লাগতে পারে, সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে, কোন বিষয়কে জটিলতার দিকে টেনে নেয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে আমরা একটা পরিবার, একত্রে সুন্দর একটা সময় কাটানোর জন্য এখানে এসেছি, এই দৃষ্টিভঙ্গিটা ঠিক রাখতে হবে।
তারপর শুভ ভাই ফিরে আসেন, প্রসঙ্গক্রমে নিজের অনুভূতি শেয়ার করেন। ব্লাক দাদার একটা উক্তি শেয়ার করেন, কাজ করে যান ভাই, কাজ আপনাকে কোয়ায় নিয়ে যাবে সেটা কল্পনা করতে পারবেন না। এরপর শুভ ভাই নিজের পক্ষ হতে কিছু শেয়ার করেন। ভিন্নভাবে দারুণ কিছু অনুভূতি শেয়ার করেন আমার বাংলা ব্লগ নিয়ে। এরপর প্রিয়ান আপুর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন, ফান্ড রাইজিং এর বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সবাাইকে অনুরোধ করেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য।
সুপার এ্যাকিটভ তালিকা প্রকাশ করেন এরপর, যে যত ভালো কাজ করবে সে ততো এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক। অনেকেই খুব বেশী কমেন্ট করেন কিন্তু সেখানে অনেক বেশী স্প্যামিং থাকে, যেটা একদমই ঠিক না, বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুপার এ্যাকটিভ তালিকা প্রকাশ করেন।
তারপর আমি কিছু কথা বলি এবং আমার বাংলা ব্লগ সম্পর্কে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেই। আমার বাংলা শুরু করার পূর্বে নিজের আগ্রহ এবং ইচ্ছার বিষয়টি প্রকাশ করে। কিভাবে আমার বাংলা ব্লগের সন্ধান পেলাম সেটা উপস্থাপন করি।
এরপর কমিউনিটির এ্যাডমিন এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোলার
@rex-sumon সুমন ভাই কথাবলেন। দাদাকে সব সময় কৃতজ্ঞতা জানাই, তার জন্য আমাদের এই দারুণ সুযোগটা তৈরী হয়েছে। আমার সাথে যাদের পরিচয়, দাদার সাথে পরিচয়, সকলের সাথে যে সম্পর্ক, এসব কিছুই হতো না, কেউ আমাকে চিনতো না, সব হয়েছে এই কমিউনিটির মাধ্যমে, দাদার কারনে, পুরোটাই আমার বাংলা ব্লগের জন্য। এই বিষয়টি সবাইকে চিন্তা করতে বলেন, বাঙালীদের জন্য অনেক গর্বের একটা বিষয়, এই কমিউনিটির পূর্বে বাংলা ট্যাগ দিয়ে কিছু সার্চ করা হলে কনটেন্ট পাওয়া যেতো কিন্তু সেখানে বাংলায় কনটেন্ট থাকতো না। তাই বাংলাকে কেউ গুরুত্ব দিতো না, কমিউনিটি বলেন কিংবা স্টিম টীম বলেন। বাংলা ভাষা যে একটা সম্মানজনক অবস্থান তৈরী করতে পেরেছে এটা আমাদের জন্য অনেক কিছু। দাদার যে নিখূঁত পরিকল্পনা, আমরা সামনে বহুদূর এগিয়ে যাবো।

কমিউনিটির এ্যাডমিন
@winkles ভাই কথা বলেন এরপর, নতুন করে কিছু বলার নেই দাদাতো শুরুতেই সব বলে দিলো, এই কমিউনিটিটা বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য করা হয়েছিলো, সবাই যেন বাংলায় সব প্রকাশ করতে পারেন লিখতে পারেন। সেই চিন্তা থেকেই এটা তৈরী করা হয়েছিলো। বাংলা ভাষাকে কেউ পাত্তা দিতো না, সাপোর্ট দিতো না, তাই এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে এটা তৈরী করা হয়েছিলো। শুরুর দিকে এতো মানুষ ছিলো না, ধীর ধীর সবাই আসলেন। খুব অল্প সময়ে কমিউনিটি এতো সুন্দর একটা পজিশনে আসছে এটা আসলেই গর্বের বিষয়, সকলের সহযোগিতা ও চেষ্ট ঠিক থাকলে আরো বেশী এগিয়ে যাবে কমিউনিটি।
কমিউনিটির এ্যাডমিন
@moh.arif আরিফ ভাই কথা বলেন এরপর, যখন তিনি স্টিম প্লাটফর্মে জয়েন হন তখন ছিলো ২০১৭ সাল তারপর ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি ব্লগিং করেছেন, এরপর সেখান হতে চলে যান। তারপর ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে ২০২১ সালের প্রথমে আবার ব্লগিং শুরু করেন। শুভ ভাইকে জিজ্ঞাসা করেন কিভাবে আবার নতুন করে ব্লগিং শুরু করবেন, শুভ ভাইয়ের মাধ্যমে আমার বাংলা ব্লগের বিষয়টি জানতে পারেন। সেটা আমার বাংলা ব্লগের একদম শুরুর দিকে। এখানে জয়েন করেন, প্রথমে তিনি অনেক কিছুই বুঝতেন না নতুন করে শুরু করতে গিয়ে নতুন নিয়মগুলো মানিয়ে নিতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছিল। আগের নিয়মগুলো পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, দাদা শুরুতে অনেক সহযোগিতা করেন তাকে। প্রধানত ইংরেজী কিংবা অন্য ভাষায় নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা কষ্টকর। যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা বাংলা, যদি আমরা বাংলায় লিখি, তাহলে যে কোন ভাব সহজেই প্রকাশ করা যায়। এই জন্যই এখানে কাজ করা।
এরপর
@alsarzilsiam ভাই বলেন, প্রথমে বড় দাদা এবং ছোট দাদাকে ধন্যবাদ জানান, এতো সুন্দর একটা কমিউনিটি ওপেন করার জন্য। প্রথম দিকের কথা বলেন, তখন সব কমিউনিটি ছিলো ইংরেজীতে, অন্য ভাষায় মনের ভাবটা পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায় না। এই কমিউনিটি যখন ওপেন করা হয় তার ৪-৫দিনের মাঝে এখানেই চলে আসেন এবং জয়েন করেন। মাতৃভাষা লেখার যে আনন্দ সেটা অন্য কোন ভাষায় নেই। লেখা লেখির ক্ষেত্রে তিনি বাংলাকে প্রদান্য দেন সব সময়। দাদাকে ধন্যবাদ জানান এতো সুন্দর একটা সুযোগ তৈরী করার জন্য, এই কমিউনিটি না থাকলে এতো সুন্দর একটা সম্পর্ক তৈরী হতো না সকলের সাথে।
এরপর
@rupok ভাই কথা বলেন, আসলেই আজকে উদযাপনের দিন, অনেক কথাই মনে আসছে কিন্তু সুযোগ নেই বলার। ২০১৮ তে শুরু করেন তারপর গ্যাপ হয়ে যায় মাঝে, ২০২১ সালে আবার শুরু করেন। আমার বাংলা ব্লগ শুরুর মাস খানিক পর তিনি জয়েন করেন তার স্ত্রীর মাধ্যমে এর কথা জানতে পারেন। যত কাজ করেছেন, দক্ষতা ততো বেশী বেড়েছে, নিজের ততো বেশী লাভ হয়েছে। এই ধরনের কোন কমিউনিটি নেই ভবিষ্যতেও তৈরী হবে না। কারন প্যান্টম দাদা একজনই এই রকম আর কেউ নেই। দাদার অবদানই পুরোটা এখানে, আমাদের খুবই সামান্য অবদান। আশা করছি আমরা প্রথম স্থানে যাবো, দাদা যেহেতু আছেন আমরা দ্রুত সেখানে চলে যাবো। আমরা খুব তাড়াতাড়ি নাম্বার ওয়ানে চলে যাবো।

এরপর
@kingporos ভাই কথা বলেন, কোথা হতে শুরু করবো মাথায় আসছে না, আমার বাংলা ব্লগ শুরু করার ১ মাস পর হতে তার কাজ শুরু করেন। যারা শুরু হতে স্টিমিটে কাজ করেছেন তারা জানেন স্টিমিটে কাজ করা একজন বাঙালীর জন্য অনেক কষ্টকর। কিন্তু আমার বাংলা ব্লগে কাজ করা অনেক সহজ। আমার বাংলা ব্লগ শুরুর অল্প কিছু দিনের মাঝে আস্তে আস্তে এখানে এসেছে, হয়তো আমরা র্যাংকিং এ ২য় কিন্তু এ্যাকটিভ পোষ্টের দিক হতে আমরা প্রথম। দাদার যে প্রচেষ্টা, সেটা আজ যতটা সফলতা পেয়েছেন সেটাতে আমি অংশ হওয়ার জন্য গর্ববোধ করছি। তারপর দাদাকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর
@nusuranur আপু কথা বলেন, সকলকে স্বাগতম জানান। প্রথমে বলেন দাদাদের অবদানকে পরিমাপ করা যাবে না কোন মাপকাঠি দিয়ে। আমরা যতটা পারদর্শি হইনা কেন অন্য ভাষায় বাংলা ছাড়া প্রশান্তি আসবে না। প্রতিদিন কিছু না কিছু নতুন শিখিছি, সেটা যে কারো হতে হোক দাদা কিংবা এ্যাডমিন অথবা মডারেটর। সবাই এতোটা মিলে মিশে থাকে যে, সকালটা শরু হয় আমার বাংলা ব্লগের ডিসকর্ড দিয়ে। এখনো বেশী সময় হয় নাই এখানে, পরিবার বলতে আমার বাংলা ব্লগকে আমি বিবেচনা করি, আমার পরিবার তারপর আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। মন থেকে ভালোবাসা দুই দাদার জন্য, সকল এ্যাডমিন ও মডারেটরদের জন্য।
এরপর
@ayrinbd আপু কথা বলেন, আজকে বলার আছে অনেক কিছু, দাদার প্রতি এতোটা ভালোবাসা, এতোতা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেও সবটা প্রকাশ করা যাবে না। ঘুম হতে উঠেই সকালে ডিসকর্ড চেক করেন, যদি নেট না থাকে, যদি কয়েক ঘন্টার জন্য স্টিম হতে বাহিরে আছেন, তার দম বন্ধ হয়ে আসে, সময়টা পার হয় না, এতোটা ভালোবাসা কমিউনিটির প্রতি, দাদার প্রতি। একসাথে থাকতে থাকতে সকলের প্রতি একটা ভালোবাসা ও টান তৈরী হয়ে গেছে। দুই দাদার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন, এতো সুন্দর একটা প্লাটফর্ম তৈরী করে দিয়েছেন, যাতে আমরা সুন্দরভাবে নিজের ভাষায় নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি।
তারপর শুভ ভাই
@tangera আপুর কথা বলেন, কোন ইউজার সাপোর্ট ঠিক মতো পাচ্ছেন কিনা, এই কাজটি দক্ষতার সাথে যে করেন তিনি হচ্ছে
@tangera আপু। তাকে কিছু লিখে কমিউনিটির প্রতি অনুভূতি প্রকাশ করতে বলেন।
@tangera আপু তার অনুভূতি লিখে প্রকাশ করেন।
এরপর শুভ ভাই একটা মিউজিক প্লে করতে বলেন, মিউজিক শেষে শুভ ভাই আবার ফিরে আসেন এবং আমার বাংলা ব্লগের প্রতিযোগিতা নিয়ে কথা বলেন। গতকাল পর্যন্ত যেখানে অংশগ্রহণকারী ছিলেন ১৫ জন আজ সেখানে চেক করার দেখা যায় ৪৫টির বেশী এন্ট্রি, আমরা বিষয়টি নিয়ে অবাক হয়ে যাই। সবাই অনেক সুন্দর গল্প শেয়ার করেছেন, বেশ ভালো লেগেছে সকলের গল্প। তারপর শেষের দিক হতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন এবং তাদের অনুভূতি শেয়ার করার সুযোগ করে দেন।

ফলাফল প্রকাশ করার পর শুভ ভাইয়ের পক্ষ হতে একটি কুইজ ধরা হয়, বিজয়ীকে তার পক্ষ হতে বিশেষ পুরস্কার দেয়া হয়। তারপর আরিফ ভাই ফিরে আসেন এবং যথারীতি কুইজ পর্ব পরিচালনা করেন। শুরুতেই নিয়মগুলো একবার মনে করিয়ে দেন। তাকে সহযোগিতা করি আমি এবং সুমন ভাই। এবার মোট আটটি কুইজ ধরেন আরিফ ভাই তারপর দুটো কুইজ ধরা হয় দাদার পক্ষ হতে।
এরপর শুরু হয় বিশেষ হ্যাংআউটের দ্বিতীয় পর্ব মানে এন্টারটেইন্টমেন্ট পর্ব। হ্যাংআউটের পূর্বেই
@nusuranur আপু সকলের নিকট হতে নাম সংগৃহীত করেছিলেন। তাই শুভ ভাই তালিকা অনুযায়ী সবাইকে সুযোগ দেন।
তারপর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়- শুরুতেই কয়েকজন ইউজার তাদের অনুভূতি শেয়ার করেন কমিউনিটি নিয়ে এবং কমিউনিটির আজকের পজিশন নিয়ে। প্রথমে কথা বলেন
@ferdous3486 ভাই, তারপর কথা বলেন
@shuvo2021 ভাই, এরপর
@hseema আপু এবং সর্বশেষে
@selinasathi1 আপু।
তারপর শুরু হয় গান এবং কবিতার আসর, যারা ইতিপূর্বে নাম জমা দিয়েছিলেন তার মাঝ হতে এক এক করে শুভ ভাই স্টেজে ডাকেন এবং তা শেয়ার করার অনুরোধ করেন। তারপর একে একে
@selinasathi1 আপু কবিতা পাঠ করেন,
@Saymaakter কবিতা,
@razuahmed রেকর্ডকৃত গান শুনান,
@santa14 আপু গান করেন,
@kibreay001 গান করেন,
@jahidulislam01 গান করেন,
@milonroy গান করেন,
@hseema আপু কবিতা পাঠ করেন,
@munna101 গান করেন,
@gorllara আপু গান করেন,
@amitab গান করেন,
@mrnazrul কবিতা পাঠ করেন,
@fensi গজল পাঠ করেন,
@hsiddiqui79 গান করেন,
@rita135 গান করেন,
@saifulraju কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং
@sshifa আপু কবিতা পাঠ করেন।
এরপর সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভ ভাই হ্যাংআউটের সপ্তাপি ঘোষণা করেন।
YouTube Link:
স্পেশাল হ্যাংআউট সত্যি অনেক স্পেশাল ছিলো। সবাই অনেক ভালো গান ও কবিতা শুনাইছে। আর বিশেষ করে দাদার কথাগুলো শুনে খুবই ভালো লাগছে। অনেক ধন্যবাদ ভাই এতো সুন্দর ভাবে লিখিত আকারে সব কিছু উপস্থাপন করার জন্য। ভালোবাসা আমার জন্য 💕।
বিশেষ হ্যাং আউট সত্যিই বিশেষ ছিল।সবার অনুভূতি কবিতা গান আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।সেই সাথে দুই দাদার মূল্যবান কথাগুলো আমার কাছে আরও অনেক বেশি ভালো লেগেছে।এই বিশেষ হ্যাংআউট উপলক্ষে আমি নিজেও একটি বিশেষ কবিতা লিখেছি এবং পাঠ করেছি।কমিউনিটির সকল এডমিন এবং মডারেটরদের নিয়ে।পুরো বিষয়টি খুবই সুন্দর করে প্রতিবেদন আকারে নিয়ে আসার জন্য আপনার প্রতি ভালোবাসা অবিরাম♥♥
স্পেশাল হ্যাংআউট সত্যিই অনেক স্পেশল ছিল। আসলে আমরা সকলে মিলে প্রতিটি মুহূর্ত অনেক উপভোগ করেছি। সন্মানীত এডমিন ও মডারেটরগণের গুরুত্বপূর্ণ কথা এবং আমাদের প্রিয় দাদাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত সবকিছু মিলে মিশে প্রতিটি মুহূর্ত অনেক ভালো কেটেছে। ভাইয়া আপনার দক্ষতা সব সময় প্রশংসনীয়। কারণ আপনি আপনার দক্ষতা ও মেধায় দারুণভাবে এই হ্যাংআউট রিপোর্ট উপস্থাপন করেছেন। একেবারে প্রতিটি বিষয় খুব সুন্দর করে ও নিখুঁত ভাবে বর্ণনা করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া দারুণভাবে এই রিপোর্ট প্রকাশ করার জন্য।
স্পেশাল হ্যাংআউট সত্যিই অনেক স্পেশল ছিল। আসলে আমরা সকলে মিলে প্রতিটি মুহূর্ত অনেক উপভোগ করেছি। সন্মানীত এডমিন ও মডারেটরদের গুরুত্বপূর্ণ কথা এবং আমাদের প্রিয় দাদাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত সবকিছু মিলে মিশে প্রতিটি মুহূর্ত অনেক আনন্দে কেটছে।দোয়া করি এমন দিন যেন বারবার ফিরে আসে আমাদের মাঝে।
এত সুন্দর ভাবে পুরো হ্যাং আউটের মিনিটস্ টি লিখেছেন । ভাই আপনি সত্যি অনেক পরিশ্রমী। আসলে মাঝে মাঝে অবাক হই আপনার কাজ করার গতি দেখে। ভাল লাগে সব সময় আমার বাংলা ব্লগ কে আপ টু ডেট রাখেন আপনি। ধন্যবাদ ভাই। শুভেচ্ছা রইল অন্তরের অন্তস্থল থেকে।
এই সপ্তাহের বিশেষ হ্যাংআউট টা অসাধারণ ছিল। বিশেষ করে দাদার বাংলা ভাষা নিয়ে বলা কথাটুকু আমার হৃদয় ছুয়ে গেছে। আমি বাঙালি বাংলা আমার মায়ের ভাষা আমি কেন বাংলা বলতে লজ্জা পাব। এবং আমার জন্য স্পেশাল ছিল কারণ আমি গ্রীষ্মকালীন ফলের গল্প প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছি। এই অনূভুতি বলে বোঝাবার না
দেখতে দেখতে ৪১ তম হ্যাংআউট চলে গেল! এইবারের হ্যাংআউট খুবই স্পেশাল ছিল। কারন আমার বাংলা ব্লগ এখন স্টিমিটে টপ ২ তে অবস্থান করছে। একমাত্র কমিউনিটি যেখানে বাংলা ভাষাভাষী জনগণ যেখানে আমরা বাংলায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে পারি।
কালকের হ্যাংআউটটি সত্যি খুবই উপভোগ করেছি আমি। কালকের হ্যাংআউট টি সত্যিই স্পেশাল ছিল। সবাই আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর সুন্দর গান এবং কবিতা উপস্থাপন করেছে যা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিল। বিশেষ করে আমাদের প্রিয় দাদার কথা গুলো আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর এবং গোছালোভাবে ৪১ তম হাংআউট এর রিপোর্ট আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য।
আমাদের স্পেশাল হ্যাংয়াউট টা সত্যি দারুন ছিল সবার সাথে অনেক দিন ধরে কাজ করা আমাদের কমিউনিটি কে এতোদুর এগিয়ে নেওয়া সবার মুলে আমাদের দাদা।আমাদের কমিউনিটি এখন বিশ্বে ২ এটা সত্যি আমাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া একদিন আমরা বিশ্বে ১ ম হয়ে যাব ইনশাল্লাহ।
আমাদের এই মাইলফলক স্পর্শের অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ। আজ অনেকটাই গর্ব হয় এই বাংলা ব্লগ এ কাজ করার সুযোগ পেয়ে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বিশেষ করে দাদা। এবং সবার প্রতি রইল অসীম ভালবাসা।