জীবনের গল্প || আবেগের সীমানায় হোঁচট
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। হৃদয়ের চঞ্চলতায় নিজেকে আরো বেশী চঞ্চল রাখার চেষ্টা করছি। যদিও সেই সুযোগটা দিন দিন অনেক বেশী সংকোচন করে যাচ্ছে না, পথটা অনেক বেশী সরু হয়ে যাচ্ছে, হয়তো খুব বেশী সময়ের জন্য সেই চঞ্চলতাও হারিয়ে যাবে। দেখুন আমাদের সম্পর্ক, আবেগ কিংবা ভালোবাসা সব কিছুর মূলেই থাকে সেই চঞ্চলতা, আবার সংগ্রাম কিংবা বিপ্লব তার পেছনেও থাকে বিদ্রোহের একটা চঞ্চলতা, যদি সেটা না থাকতো তাহলে হয়তো কোথায় আমরা সচল থাকতে পারতাম না।
এই একটা বিষয় যেখানে কমবেশী আমরা সবাই হেরে যাই, বন্দি হয়ে যাই তারপর নিস্তেজ হৃদয়ে পরাজয় স্বীকার করে নেই। মাঝে মাঝে কখনো আপনার এমন মনে হয় নাই যে, আপনি হৃদয়ের চঞ্চলতায় কল্পনায় অন্যের সীমানায় সুন্দর বাগান সাজানোর চেষ্টা করেছেন, যার সীমানায় ছিলো রংধনু এবং যার আকাশে ছিলো ভরা পূর্ণিমা। কিন্তু একটা সময় পর আপনার মনে হলো সবটাই ছিলো অতি আবেগ এবং হৃদয়ের কল্পনা। আপনি সময় ও আবেগের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন,ব্যর্থতার আঘাতে নিজের হৃদয় ও কল্পনাশক্তিকে নিস্তেজ করে দিয়েছেন, একটু ভেবে দেখুন বিষয়টি, কখনো কখনো এমন হয়ে যায় আমাদের সাথে।
আসল বিষয়টি হলো আমরা আবেগের বসে অনেক কিছু নিয়ে চিন্তা করি, অনেকের সীমানায় বিনা দ্বিধায় প্রবেশ করে নিজের মতো করে তার আকার নির্ধারণ করার চেষ্টা করি, নানা আয়োজন কিংবা অনুভূতি দিয়ে সেটাকে রাঙানোর চেষ্টা করি। কিন্তু একটা সময় পর বুঝতে পারি সেটা আমার বাস্তবতা নয় বরং কল্পনা, সেখানে আমার প্রবেশ অবাধ নয়, আমার অবস্থান সেখানে অবধারিত না, আর তখন আমরা আস্তে আস্তে নিজেকে গুনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি, নিজের ভাবনাগুলোকে দোষারুপ করতে শুরু করি, ব্যর্থতার একটা স্বাদ নতুনভাবে অনুভব করতে থাকি।
সমস্যা হলো আমরা বাস্তবতাকে আড়াল করে কল্পনায় পথ চলতে বেশী পছন্দ করি, আমরা আগে পিছে না ভেবে শুধু চঞ্চলতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি, যার ফলাফল পরবর্তীতে আমাদের নিদারুণভাবে হতাশ করে। অথবা শেষটা দেখে আমরা একদমই ভেঙ্গে পড়ি। আসলে আমরা অনেক ক্ষেত্রে জেনে বুঝে ভুল করি আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি না করেই ভুল ভাবনায় জড়িয়ে পড়ি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আবেগ দিয়ে সব কিছু চলে না, কল্পনা কখনোই বাস্তব হতে পারেনা, আবেগ বেশী হওয়া যেমন খারাপ ঠিক তেমনি কল্পনার আধিক্যও থাকাও বেশ খারাপ।
না কল্পনাকে আমি খারাপ বলছি না, আবেগ না থাকার কথাও আমি বলছি না। কিন্তু আবেগ কিংবা কল্পনা সেটারও একটা সীমারেখা থাকা উচিত বলে আমি বিশ্বাস করি। আবেগ কিংবা কল্পনাকে আমরা ছুড়ে ফেলে দিতে পারবো না। কারণ আমরা তো মানুষ, কল্পনা কিংবা আবেগ ছাঁড়া আমরা বেঁচে থাকতে পারি না, হয়তো একটা সময় পর আমরা হতাশায় আক্রান্ত হয়ে জীবন হতে মুক্তি পেতে চাই, আবেগের অনুভূতি কিংবা কল্পনা চিরতবে বন্ধ করে দিতে চাই, কিন্তু সেটা কি আমরা আদৌ পারি? সময় এবং বাস্তবতা বার বার আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে সেটা বুঝানোর চেষ্টা করে। অবুঝের মতো আমরা সবাই সেখানে বার বার হোঁচট খাই।
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
