অনুভূতির গল্প- হৃদয়ের টানে কলকাতা (পর্ব-৩০)

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো এবং সুস্থ্য আছেন। কলকাতা ভ্রমণের গত পর্বে শপিং এর সূচনা করেছিলাম। বেশ সময় নিয়ে আমরা শপিং করেছিলাম, কারন বাড়িরে যাদের জন্য জুতো কেনা তাদের মাপ ছাড়া কিনে নিয়ে গেলে পড়ে আবার সেগুলোর যন্ত্রনা আমাদেরকেই সহ্য করতে হবে। তাই যথারীতি যে যেভাবে সম্ভব তাদের রুচি এবং মাপ অনুযায়ী কেনার চেষ্টা করলাম। বুঝতেই পারছেন শুরুটায় আমরা বেশ সময় নষ্ট করেছিলাম অনাকংখিতভাবে না বরং কাংখিতভাবে হা হা হা।

আমি বেশ সময় নিয়ে একটা একটা করে ফটো শেয়ার করেছি, পছন্দ হলে সেটার মাপ অনুযায়ী নেয়ার চেষ্টা করেছি। কারন পছন্দ হলে মাপে হয় না আবার মাপে হলে সেটা পছন্দ হয় না, এই এক বিশাল সমস্যা। একটা সময় পর আমাদের ব্যাগগুলোর সাইজ বেশ বড় হয়ে গেলো। তখনই অবশ্য আরিফ ভাই বুদ্ধি করে বিশাল সাইজের একটা লাগেজ কিনে ফেললেন এবং সবগুলো কায়দা করে সেটার ভেতর ঢুকয়ে নিলেন। আর আমরা একাধিক পলিব্যাগে করে সেগুলোকে হোটেলে নিয়ে এসেছিলাম। আমি অবশ্য পলিব্যাগগুলোও বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলাম, একদম ইনট্যাক প্যাকে করে যার যার গিফট তাকে তাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম হি হি হি।

IMG_20230327_132956.jpg

প্রথম দৃশ্যটা দেখে নিশ্চয় আন্দজ করতে পেরেছেন, শ্রী লেদার শপিং সেরে আমরা কোন দিকে গিয়েছিলাম। আসলে কিংপ্রস ভাই আসার পর আমরা পরবর্তী শপিং এর বিষয়টি চুড়ান্ত করে নিলাম। তারপর হালকা খাবার খেয়ে যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম। যেহেতু সারাদিন আমাদের বাহিরে ঘুরতে হবে, এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে ছুটতে হবে তাই বেশী ভারি খাবার খাওয়া যাবে না। কিংপ্রস ভাই বললেন এদিকে কাছেই দারুণ একটা খাবারের দোকান আছে, সেটার নাম শুনেই আমরা সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলাম এবং সেদিকে হাঁটা ধরলাম।

IMG_20230327_132715.jpg

IMG_20230327_132711.jpg

IMG_20230327_133329.jpg

এটা ছিলো কলকাতার জনপ্রিয় ডেকার্স লেন এর চিত্ত বাবুর খাবারের দোকান, সড়কের পাশে দোকান হলেও এর জনপ্রিয়তা বুঝা যায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে। না আমাদের দেশের মতো না, সেখানে গেলেই দেখতে পাবেন সকল শ্রেণীর মানুষ বেশ আগ্রহ নিয়ে তৃপ্তির সাথে সেগুলো খাচ্ছে। আমরা গিয়ে বেশ ভিড় লক্ষ্য করলাম। একটু ফাঁকা হতেই প্রথমে আসন দখল করলাম, তারপর মেন্যু নির্বাচন করে খাবার সংগ্রহের জন্য সিরিয়াল ধরলাম। অবশ্য এখানে কিংপ্রস ভাই ছিলো বলে দ্রুত আমরা খাবার সংগ্রহ করে নিলাম।

IMG_20230327_133543.jpg

IMG_20230327_133736.jpg

IMG_20230327_133755.jpg

তবে যথারীতি আমরা ভুলটা আগেই করে ফেলেছিলাম, চিত্ত বাবুর দোকানে আসার আগেই লেনের শুরু হতে চাউমিন, ফ্রাইড রাইস এবং চিকেন খেয়ে পেট পুরে নিয়েছিলাম। আসলে এখানে অনেকগুলো দোকান রয়েছে, সবগুলো দোকানেই বেশ ভিড় দেখেছি আমরা। বুঝতে পারলাম স্বাদের স্ট্রিটফুডের জন্য ডেকার্স লেনটা এতো বেশী জনপ্রিয়। তাছাড়া সবাই দেখলাম বেশ তৃপ্তির সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাবার নিচ্ছেন এবং খাচ্ছেন, আমাদের মতো বসার কোন তাগিদ নেই তাদের মাঝে।

IMG_20230327_133740.jpg

IMG_20230327_133748.jpg

IMG_20230327_133842.jpg

যার কারনে চিত্ত বাবুর দোকানের খাবারগুলোর স্বাদ নিয়ে আফসোস করতে লাগলাম। কারন দারুন স্বাদ ছিলো প্রতিটি আইটেমে, যদিও আমরা সবগুলো আইটেম চেক করতে পারি নাই। কারন আমাদের পেট ছোট তো, খুব বেশী জায়গা ছিলো না। না হলে দেখিয়ে দিতাম আমরা কত খেতে পারি, হা হা হা। খাবার খেয়েই আমরা পুনরায় শুরু করলাম আমাদের যাত্রা, বিরতিহীন ননস্টপ যাত্রা, পরের পর্বগুলোতে সে অনুভূতি পেয়ে যাবেন।

IMG_20230327_133722.jpg

IMG_20230327_133725.jpg

IMG_20230327_133728.jpg

তারিখঃ মার্চ ২৭, ২০২৩ইং।
লোকেশনঃ ডেকার্স লেন, কলকাতা।
ক্যামেরাঃ রেডমি-৯ স্মার্টফোন।

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png

Sort:  
 2 years ago 

বেশ করেছেন ভাইয়া। কলকাতা হতে ফিরবেন আর চিত্ত বাবুর দোকানের খাবারের স্বাদ নিবেন না তা কি হয়? কিন্তু আমার তো বিশ্বাস হয় না যে আপনারা কম খেয়েছেন। এত এত খাবারের মধ্যে কি করে আপনারা কম খান? তবে ভাবছি প্যাকিং করা সব গুলো গিফটই কি ভাবী দেখেছিল কিনা? নাকি বাহিরে কিছু পাচার হয়েছিল। হি হি হি। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago (edited)

ঠিক বলেছেন এটা কিভাবে হয়? হা হা হা। তবে সত্যি খাবারগুলো বেশ স্বাদের ছিলো। আর ধুর পাচার হয় নাই কিছু হি হি হি। অনেক ধন্যবাদ

Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.

Manually curated by @jasonmunapasee

r2cornell_curation_banner.png

 2 years ago 

আমার কাছে অন্য মানুষের জন্য জুতা কিনতে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত লাগে। কারণ সাইজ মিলাতে ভীষণ কষ্ট হয়ে যায়। যাইহোক তবুও কিছু করার থাকে না, অনেকসময় বাধ্য হয়েই কিনতে হয়। যাইহোক স্ট্রিট ফুড গুলো দেখেই তো খেতে ইচ্ছে করছে। এতো ধরনের খাবার দেখে তো লোভ সামলাতে পারছি না। যাইহোক চিত্ত বাবুর দোকানে খাওয়া দাওয়া করে, আপনারা আবার শপিংয়ের যাত্রা শুরু করেছেন। এরপর কি কি শপিং করলেন পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত জানতে পারবো তাহলে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

Posted using SteemPro Mobile

 2 years ago 

চিত্ত বাবুর দোকানে তো বেশ মজার মজার খাবারই আছে।সত্যি কথা বলতে কলকাতা আমাদের দেশের মতো নয়।ওদের রাস্তার পাশের দোকানগুলোর কোয়ালিটিও অনেক ভালো। ভালো মানের খাবার ই সেখানে পাওয়া যায়। পলি ব্যাগগুলো রেখে ভালো ই করেছেন।সবাইকে গিফট বুঝিয়ে দিতে ও তো ব্যাগের দরকার হয়।ধন্যবাদ ভাইয়া অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 60778.63
ETH 1619.55
USDT 1.00
SBD 0.47