শৈশবের স্মৃতিতে: "হারিয়ে গেছে ছোট্ট ছোট্ট ভাবনাগুলো"

in আমার বাংলা ব্লগlast year

নমস্কার

কেমন আছেন বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন ঈশ্বরের কৃপায়।আমিও মোটামুটি ভালো আছি,আর মাত্র দুইদিন এক্সাম হলেই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচা।কারণ এক্সাম মানেই অফুরন্ত চিন্তার,যাইহোক আজ একটা শৈশবের গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে।

শৈশবের স্মৃতিতে: "হারিয়ে গেছে ছোট্ট ছোট্ট ভাবনাগুলো"

IMG_20250429_155721.jpg
সোর্স

আমরা সবাই ফিরে পেতে চাই আমাদের শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তগুলিকে।কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন স্মৃতি হয়ে যায় যেটির সম্মুখীন আমরা দ্বিতীয়বার হতে চাই না।আবার কিছু মিষ্টি স্মৃতি ফিরে পেতে চাই বারেবারে।আবার কিছু স্মৃতি সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ দেয়,আবার কিছু স্মৃতি ভয়ভীতু করে তোলে।তেমনি একটি মিষ্টি শৈশবের স্মৃতি আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো। আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা শৈশবের ছোট্ট অনুভূতিখানি। চলুন শুরু করা যাক--

যখন আমি খুব ছোট্ট, তখন 5 পয়সা 10 পয়সার চল না থাকলেও চার আনা আট আনার চল ছিল।আমার সময়ে এই চার আনা দিয়ে কি হতো জানেন----ছোট্ট একটা করে চকলেট।অর্থাৎ এক টাকায় চারটি চকলেট,তবে বেশ মজার খেতে।সেটা এখন মিস করলে ও একটি ঘটনার কথা বেশ মনে পড়ে যায়---

আমার বড় জেঠিমা অর্থাৎ বড়মা।তার যে ছোট মেয়ে ছিল সে আমার থেকে 7 মাসের বড় অর্থাৎ আমরা প্রায় সমবয়সী।তো যখন ও দুষ্ঠুমি করতো তখন বড়মা ওকে খুব করে মারতেন।আর যখনই মারতেন তখন ও চিৎকার করে হা করে কান্নাকাটি করতো।আমার আরেক কাকাদের আবার দোকান রয়েছে,বড়মা তখন কাকীর কাছ থেকে একটি চার আনা কিংবা আট আনার চকলেট নিয়ে এসে জোর করে মুখে পুরে যেত তার মেয়ের।যাতে তার হা বন্ধ করে কান্নাকাটি করা থেমে যায়।মানে মারার পর চকলেট খাইয়ে আদর করা যাকে বলে।এটা বেশ মজার বিষয় ছিল।

মাত্র কয়েক বছর আগের কথা।আমার মতো এই কমিউনিটির অনেকেরই হয়তো এই একই সুন্দর স্মৃতির সাক্ষ্য রয়েছে কিংবা তাদের স্মৃতিপটে মনে পড়বে।বিশেষ করে যারা গ্রাম্য এলাকায় মানুষ হয়েছেন তারা।খুব বেশি বছর আগেও নয় এটি,যেখানে আধুনিকতা হু হু করে এগিয়ে চলেছে।কয়েক বছরের মধ্যেই গ্রাম বদলে শহর আর অট্টালিকার সমাবেশে আধুনিকতা তুঙ্গে প্রসারিত হয়েছে।অন্যদিকে জমি,পুকুর ও বড় ভিটার ঘটেছে বিলোপ সাধন।

ছোটবেলায় যখন কান্নাকাটি করা হতো তখন মায়েরা কোলে করে নিয়ে যেতেন দোকানে।তারপর কাপড়ের আঁচলের ভাঁজ থেকে পয়সা বের করে চার আনার চকলেট দিয়ে কান্না থামাতেন আমাদের।আবার যখন আমি একটু বুঝতে শিখেছি তখন এক টাকা দামের বরই/কুলের আচার পাওয়া যেত।কি যে মজার লাগতো খেতে এখনো জিভে যেন লেগে আছে সেই স্বাদ।একটি প্যাকেটে মুড়ানো 4-5 টি বরই থাকতো তার মধ্যে।যেগুলোকে খুবই মিস করি এখন।।


আশা করি আমার আজকের লেখা শৈশবের গল্পটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।

পোষ্ট বিবরণ:

6nSeSEzKEwjJN68tMqgZXvpyk1cf2ihqXgmWESDgXSh21PkpkXyXwzmWEkSA7U2PjRr7VoGxjyzQFnZHCkVBWn57JTVUvY7omc512mhJJX...vDZX3Fcaov38Zxjxq21rAE9wN1b8HnrBKZamZjaRXZMJVUcaVKGLWFRFVNG6MXCo9ptvvGTefY61oasZ4TrQFVwMiYWBFUH8ivxFm1LbtvBRqtkowye4ZCeEyk.png

শ্রেণীজেনারেল রাইটিং
ডিভাইসpoco m2
অভিবাদন্তে@green015
লোকেশনবর্ধমান

3DLAmCsuTe3bV13dhrdWmiiTzq9WMPZDTkYuSGyZVu3GHrVMeaaa5zs2PBqZqSpD3mqpsYSX3wFfZZ5QwCBBzTwH9RFzqAQeqnQ3KuAvy8Nj1ZK1uL8xwsKK6MgDT8xwdHqPK76Y63rPyW9N4QaubxdwM3GV2pD.gif

আমার পরিচয়
আমি রিপা রায়।আমার স্টিমিট ইউজার আইডি @green015.আমি একজন ভারতীয়।আমি বর্ধমান ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি,ইতিহাস বিষয় নিয়ে।বর্তমানে আমি ওখানেই অধ্যয়নরত আছি।এখানে বাংলা ভাষায় মন খুলে লেখালেখি করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।এছাড়া আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি।

IMG_20240429_201646.jpg
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.075
BTC 64482.23
ETH 1686.47
USDT 1.00
SBD 0.42