শৈশবের স্মৃতিতে: "গ্রামে হাতির আগমন"

in আমার বাংলা ব্লগ9 months ago (edited)

নমস্কার

কেমন আছেন বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন ঈশ্বরের কৃপায়।আমিও মোটামুটি ভালো আছি,আর তাই চলে আসলাম ছোটবেলার একটি স্মৃতিচারণ নিয়ে।

শৈশবের স্মৃতিতে: "গ্রামে হাতির আগমন"

pexels-absoluteabhi-31760586.jpg
সোর্স

আমরা সবাই ফিরে পেতে চাই আমাদের শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তগুলিকে।কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন স্মৃতি হয়ে যায় যেটির সম্মুখীন আমরা দ্বিতীয়বার হতে চাই না।আবার কিছু মিষ্টি স্মৃতি ফিরে পেতে চাই বারেবারে।আবার কিছু স্মৃতি সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ দেয়,আবার কিছু স্মৃতি ভয়ভীতু করে তোলে।তেমনি একটি মিষ্টি শৈশবের স্মৃতি আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো।তো আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা শৈশবের ছোট্ট অনুভূতিখানি।তো চলুন শুরু করা যাক----

আগে গ্রামে মাঝে মাঝেই হাতির প্রবেশ দেখা যেত।যখনই গ্রামের একদিক থেকে হাতি প্রবেশ করতো তখনই সারা গ্রাম হৈ-হুল্লোড় পড়ে যেত।গ্রামে হাতি আসা মানেই ছিল এলাহী ব্যাপার।সবাই তো ঘর থেকে বের হয়ে আসতো হাতি দেখার জন্য।হাতি এসেছে,হাতি এসেছে বলেই হই-হুল্লোড় পড়ে যেতো।

হাতির মালিক একটি লাঠি হাতে হাতির পিঠে বসে থাকতো।গ্রামের মহিলারা জড়ো হতো হাতি দেখতে।কেউ কেউ আবার গোটা কলাগাছ নিয়ে হাজির হতো রাস্তায়।কেউ আবার রুটি, গোটা নারিকেল, কলা,বেল ইত্যাদি ফল নিয়ে হাজির হতো।সব আয়োজন হাতিকে খেতে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।আবার কেউ কেউ তো অপেক্ষা করতো হাতি কখন পটি করবে মানে মল ত্যাগ করবে।তখন সেটা কুড়িয়ে নিয়ে বাড়ি যাবে।হাতির মল গরুর গোবরের মতোই তবে বেশ কালচে রঙের হয়ে থাকে।তবে শুনেছি,ওই হাতির গোবর খুবই উপকার বাড়িতে রাখলে।

হাতির আসার খবর পেয়ে তো আমিও ছুটে যেতাম
দেখার জন্য।তো অবাক করার বিষয় যে হাতি গোটা বেল ও নারিকেল শূর দিয়ে খেয়ে আবার গোটা বের করে দিচ্ছে মল ত্যাগ করে।কিন্তু ওই বেল বা নারিকেলের মধ্যে শাঁস গায়েব,ওই ছোট্ট ফুটো দিয়ে কিভাবে সে সব শাঁস যেন অলৌকিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খেয়ে নিয়েছে।

আমার কেউ কেউ তো বায়না ধরে হাতির পিঠে চড়ার জন্য।নির্দিষ্ট জায়গা থেকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চড়িয়ে দিলেই পরিমাণ মতো মূল্য নেবে হাতি,কম নিলে হাতির মালিক পিঠে লাঠির বারি দিতেই সে বুঝে যেত।তারপর টাকার পরিমাণ পছন্দ না হলেই শুর দিয়ে ফু মেরে ফেলে দিতো কাগজের অতীব মূল্যবান নোটটি।

একবার তো আমার কাকার ছেলে হাতির পিঠে চড়বে বলে বায়না ধরলো।যেখানে ওর মা বারণ করছিলো,কিন্তু ও তো নারাজ।হাতির পিঠে চড়েই ছাড়বে সে,যে কথা সেই কাজ।হাতির পিঠে ওঠার জন্য প্রথমে টাকা দিতে হবে।তো যেই না হাতির পিঠে চড়ার মূল্য দিয়েছে, ওমনি হাতি ঘটালো এক কান্ড।(চলবে.......)


আশা করি আমার আজকের লেখা শৈশবের গল্পটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।

পোষ্ট বিবরণ:

6nSeSEzKEwjJN68tMqgZXvpyk1cf2ihqXgmWESDgXSh21PkpkXyXwzmWEkSA7U2PjRr7VoGxjyzQFnZHCkVBWn57JTVUvY7omc512mhJJX...vDZX3Fcaov38Zxjxq21rAE9wN1b8HnrBKZamZjaRXZMJVUcaVKGLWFRFVNG6MXCo9ptvvGTefY61oasZ4TrQFVwMiYWBFUH8ivxFm1LbtvBRqtkowye4ZCeEyk.png

শ্রেণীজেনারেল রাইটিং
ডিভাইসpoco m2
অভিবাদন্তে@green015
লোকেশনবর্ধমান

3DLAmCsuTe3bV13dhrdWmiiTzq9WMPZDTkYuSGyZVu3GHrVMeaaa5zs2PBqZqSpD3mqpsYSX3wFfZZ5QwCBBzTwH9RFzqAQeqnQ3KuAvy8Nj1ZK1uL8xwsKK6MgDT8xwdHqPK76Y63rPyW9N4QaubxdwM3GV2pD.gif

আমার পরিচয়
আমি রিপা রায়।আমার স্টিমিট ইউজার আইডি @green015.আমি একজন ভারতীয়।আমি বর্ধমান ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি,ইতিহাস বিষয় নিয়ে।বর্তমানে আমি ওখানেই অধ্যয়নরত আছি।এখানে বাংলা ভাষায় মন খুলে লেখালেখি করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।এছাড়া আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি।

IMG_20240429_201646.jpg
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.081
BTC 61010.85
ETH 1618.36
USDT 1.00
SBD 0.42