শৈশবের স্মৃতিতে: "কুড়িয়ে পাওয়ার আনন্দ"
নমস্কার
শৈশবের স্মৃতিতে: "কুড়িয়ে পাওয়ার আনন্দ"
আমরা সবাই ফিরে পেতে চাই আমাদের শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তগুলিকে।কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন স্মৃতি হয়ে যায় যেটির সম্মুখীন আমরা দ্বিতীয়বার হতে চাই না।আবার কিছু মিষ্টি স্মৃতি ফিরে পেতে চাই বারেবারে।আবার কিছু স্মৃতি সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ দেয়,আবার কিছু স্মৃতি ভয়ভীতু করে তোলে।তেমনি একটি আনন্দময় শৈশবের স্মৃতি আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো।তো আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা শৈশবের ছোট্ট অনুভূতিখানি।তো চলুন শুরু করা যাক----
ছোট্টবেলাটি অনেক আনন্দের।হয়তো সবার কপালে এই শৈশবের আনন্দ থাকে না তাই সময়ের আগেই তাকে বড়দের মতো হতে হয়।যাইহোক তবে এটি সবসময় ব্যতিক্রম।আর ছোট্ট মন মানেই ফুলের মতো।তাই সামান্য কিছুতেই খুশি থাকা যায়।আর কোনো সামান্য জিনিস কুড়িয়ে পেলে তো কথাই নেই।সেই কুড়িয়ে পাওয়ার আনন্দ সীমাহীন তার সঙ্গে আর কিছুই তুলনা করা সম্ভব নয় যেন।
তেমনি একটি দিন।আমি আমার ছোটবেলায় সেই দিন চলে গিয়েছিলাম কোনো রূপকথার গল্পের জগতে যেন। আমাদের বাড়ির মাঝবরাবর বড় রাস্তা।বাবারা ছয় ভাই,তাই রাস্তার একপাশে বড় তিনভাইয়ের ভিটে-বাড়ি আর বিপরীত পাশে ছোট তিনভাইয়ের ভিটে-বাড়ি।আমাদের বড় বাড়ি যেটা আমি সবসময় বলে থাকি।তাছাড়া সকলের বড় বাড়ির লাগোয়া করে আরেকটি করে ছোট ভিটে রয়েছে।আর আমার মেজো জেঠু চেয়ারম্যান,তাই বাড়িতে ভোররাত থেকে রাত 12 টা অব্দি লোকজনের যাতায়াত লেগেই থাকে।হয়তো অনেকে আমাদের চেনেন কিন্তু আমরা তাকে চিনি না।
সেদিন দুপুরের দিকে আমি যখন আমাদের দ্বিতীয় ভিটের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাচ্ছি।তখন আমাদের বাড়ির মাঝবরাবর পথে আমি একটি ঘড়ি কুড়িয়ে পেয়েছিলাম।এমনিতেই জীবনে আমি পাওয়ার মধ্যে খুব কম জিনিসই কুড়িয়ে পেয়েছি।আর এমনি পাওয়ার আশাও আমি করিনা কখনো,এটা ঠিকও নয়।যাইহোক মজার বিষয় হচ্ছে, আমি পাওয়ার মধ্যে এক টাকা কিংবা দুই টাকার কয়েন পেয়েছি কয়েক বার।যাইহোক সেবার ঘড়িটি হাতে তুলে নিয়ে চারিদিকে লক্ষ্য করলাম কিন্তু কাউকেই দেখলাম না।ভাবলাম ফেলে রাখলে তো অন্য কেউ নিয়ে চলে যাবে তার থেকে কেউ যদি আমার কাছে জিজ্ঞাসা করে তখন দিয়ে দেব তাঁকে।তারপরও ছোট্ট মনে খুবই মজা হচ্ছিলো, মেয়েদের ঘড়ি।তাই নিয়ে হাঁটা শুরু তো করলাম, কিন্তু জেঠুদের একটি বড় গাছতলায় কী যেন দেখলাম চকচক করতে।
হঠাৎ আমি গাছতলায় এগিয়ে গেলাম।গিয়েই দেখলাম একটি ব্লেড যার উপর সূর্যের আলো পড়ে চকচক করছে।কিন্তু ওখানে ব্লেড আসবে কোথা থেকে!আর হাত পা কেটে যেতে পারে ব্লেডটি ওখানে থাকলে তাই মনে হলো গাছের গোড়ায় সামান্য গর্ত খুঁড়ে পুঁতে দিই।কিন্তু হাত দিতেই বুঝলাম একটি গর্ত রয়েছে আগে থেকেই।উপর থেকে সামান্য মাটি সরাতেই আমি কিছু কার্পাস তুলা খুঁজে পেলাম।তারপর তুলাগুলি হাতে নিতেই ইয়া বড় বড় দুটি পেঁয়াজ দেখতে পেলাম।তখন আমি পেঁয়াজ দুটিও কুড়িয়ে নিলাম।ছোট্ট মনে আলাদা একটা আনন্দ কাজ করছিলো।
বাড়ি ফিরে প্রথমেই আমি মাকে দেখালাম আর সবকিছু বললাম।কিন্তু মা তো ভীষণই রেগে গেলেন ঘড়িটি দেখে,বললো কেউ যদি খুঁজতে এসে না পায় তখন তার মন খারাপ হবে।তাই ওটা নেওয়া তোমার ঠিক হয়নি।আর গাছতলায় তুলা ও পেঁয়াজ কুড়িয়ে পাওয়ার আনন্দটা ছিল বেশি ,আমার ছোট্ট মাথায় ওটা একটা রহস্যের মতো ছিল।কিন্তু মা তো শুনেই বুঝে গেল,এটা ঠিক ইঁদুরের কান্ড।ইঁদুর ওই গাছতলায় তুলা দিয়ে বাসা বেঁধেছে আর খাবার হিসেবে পেঁয়াজ দুটি সংরক্ষণ করে রেখেছে। সত্যিই তো,এটা ইঁদুরের-ই কাজ।তবে বিষয়টি আমার কাছে অনেক আনন্দের ছিল।।
| আশা করি আমার আজকের লেখা শৈশবের গল্পটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন। |
|---|
পোষ্ট বিবরণ:
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| ডিভাইস | poco m2 |
| অভিবাদন্তে | @green015 |
| লোকেশন | বর্ধমান |
| আমার পরিচয় |
|---|
টাস্ক প্রুফ:
কমেন্টস লিংক--
https://x.com/green0156/status/1971444664533496054?t=cGjvkjfbGGq8tZHS1qhVvg&s=19
https://x.com/green0156/status/1971445232597377138?t=G5LnT7Bu5B0JM81nSbj2iA&s=19